নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

লিখতে ভালো লাগে তাই লিখি।

সুদীপ কুমার

ধূসর পথের যাত্রী

সুদীপ কুমার › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রেম তবু প্রেম নয় (১ম অংশ)

১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৯ সন্ধ্যা ৭:২৭




নিলয় গভীরভাবে তাকায় লীপার চোখের দিকে।কেন যে সুন্দর হয় মেয়েদের চোখ।লীপাও তাকিয়ে আছে নিলয়ের দিকে।লীপার পিছনে ক্লাসরুম।অথচ ক্লাসরুমে কাউকে দেখা যাচ্ছেনা।মোবাইলের শব্দে নিলয়ের ঘুম ভাঙ্গে।
-হ্যালো।
-উঠো।
-উঠি।ওই দুইজন উঠেছে?
-না।প্রাইভেট পড়া নেই।দু’জনেই ঘুমাচ্ছে।
-আচ্ছা রাখি।
প্রিয়তি ফোন রেখে দেয়।প্রতিদিন প্রিয়তির ফোনে নিলয়ের ঘুম ভাঙ্গে।

দাঁত মাজতে মাজতে নিলয় স্বপ্ন নিয়ে চিন্তা করে।১৯৯৮ সাল তো অনেক পিছনে।তবু লীপা স্বপ্ন হয়ে ফিরে এলো।লীপাকে ভুলা যায়না।যেমন ভুলা যায়না রুপাকে,শ্রাবণীকে।রুপা চলে গিয়েছে ভারতে।শ্রাবণী বড় লোকের মেয়ে।বিয়ে হয়েছে বড় ঘরে।
নিলয় একটি বেসরকারি অফিসে চাকরি করে।ঢাকায় থাকে। ফ্যামিলি দেশে থাকে। মাসে কয়েকবার বাড়িতে যায়।আর্থিক কারণে পরিবার থেকে দূরে থাকতে হয়।বারো বছরের চাকুরি জীবনে তিনবার চাকুরী বদলিয়েছে। যে বেতন পায় তা দিয়ে সংসার চলে যায় ভালো ভাবেই।তবে সঞ্চয় শূণ্য।বাধ্য হয়েই বর্তমান নিয়ে বেঁচে থাকার নীতি।

নিলয়ের অফিস সাড়ে নয়টায়।ওর বাসা হতে যেতে সময় লাগে দশ মিনিট।রেডি হয়ে অফিসে চলে যায় নিলয়।কাজের চাপে আজ অফিস হতে এক বারও বেরোয়না সে।দুপুরে একবার ফেসবুকে ঢু মারে।ম্যাসেঞ্জারে নোটিফিকেশন।কঙ্কার বার্তা-“বন্ধু আমার ম্যাসেজ পড়েনা।উত্তর দেয়না”।নীচে মোবাইল নম্বর।এর আগে আর একটি ম্যাসেজ পাঠিয়েছে সে-“আজ রমনায় মেয়েকে নিয়ে আসবো।পাড়লে এসো”।নিলয় অবাক হয়না।কারণ ফেসবুকের কল্যাণে সবাই ঘরের লোক।শুধু নিজের বউ ছাড়া।নিলয় নম্বরটি সেভ করে নিয়ে ফোন দেয়।
-হ্যালো কে বলছেন?
কঙ্কার প্রশ্ন।
-দোস্ত,আজ সকালে ফেসবুকে ঢুকিনি।
-ও!আমি ভাবলাম বন্ধু আমাকে পাত্তাই দিলনা।
-আসলে তুমি ম্যাসেজ পাঠিয়েছো সাড়ে ছয়টায়।আর আমি ঘুম থেকে উঠি আটটায়।তাই ম্যাসেজ পড়া হয়নি।
-বউ কিছু বলেনা?
-অফিস সাড়ে নয়টায়।আর প্রিয়তিই আটটার সময় ফোনে ডেকে দেয়।
-ফোনে কেন?
-ফ্যামিলি দেশে থাকে।
-তোমার বাসা কোথায়?
-মৌচাকের পিছনে।
-রান্না-বান্না কে করে দেয়।
-আমিই করি।
-বাবা,তোমার বউ কি লক্ষ্মী বর পেয়েছে।আমার বর জলও ঢেলে খায়না।
-বাড়িতে গেলে আমিও তাই।
-আমি মেয়েকে নিয়ে আজ রমনা পার্কে গিয়েছিলাম।অনেকদিন ধরেই বায়না ধরেছে রমনা পার্কে যাবে।তাই আজ নিয়ে গিয়েছিলাম ঘুরতে।
-আর একদিন আসলে জানিও।
নিলয় বলে।
-ঠিক আছে বন্ধু।
কথা শেষ হলে নিলয় কিছুটা আশ্চর্য হয়।এই প্রথম নিলয় আর কঙ্কা কথা বললো।ওদের পরিচয়ের সূত্র হলো ফেসবুক আর একই বিশ্ববিদ্যালয়ের সহপাঠি।

অফিস থেকে বেরিয়ে দেখে পিঠা ঘর ভাঙ্গা।পড়ে জানতে পারে সরকার আজ অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদ অভিযানে নেমেছিল।ডা.কামাল হোসেনের বাড়ির অপোজিটে যে ফুলঘর তারও সাটার খুলে ফেলা হয়েছে।তার ঠিক পরদিনই অফিস যাবার পথে নিলয় তাকিয়ে দেখে ফুল ঘরটি মেরামত করে আবার ফুল দিয়ে সাজিয়ে ফেলেছে।আর পিঠাঘরের ওখানে স্থাপনা গড়ে তোলা হচ্ছে।নিলয় মনে মনে ভাবে ধ্বংস আর সৃস্টি পাশাপাশি।

চলবে...

মন্তব্য ৮ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৮) মন্তব্য লিখুন

১| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৮:০১

মা.হাসান বলেছেন: ভালো লেগেছে। পরের পর্বেও আশা করি ভালোলাগা ধরে রাখবেন।

২০ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১২:৪২

সুদীপ কুমার বলেছেন: চেষ্টা থাকবে।ধন্যবাদ।

২| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ৯:০৭

রাজীব নুর বলেছেন: চলুক।

২০ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১২:৪১

সুদীপ কুমার বলেছেন: ২য় পর্ব শেষ।

৩| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১০:২৪

মানুষ বলেছেন: নিলয় কি চাইনিজ?

২০ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১২:৪১

সুদীপ কুমার বলেছেন: ছবি তো একজন চাইনিজেরই।

৪| ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ বিকাল ৪:২০

বোকা মানুষ বলতে চায় বলেছেন: ছোট ছোট পর্ব না হয়ে (১), (২) এভাবে পরিচ্ছেদ আকারে হলে গল্প লড়তে ভাললাগে খুব। সব কয়টা পর্ব পড়ে আসছি আবার।

০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৯ রাত ১১:৩৮

সুদীপ কুমার বলেছেন: ঠিক আছে।পরবর্তি কোন সময় ওভাবে লিখবো।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.