নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

লিখতে ভালো লাগে তাই লিখি।

সুদীপ কুমার

ধূসর পথের যাত্রী

সুদীপ কুমার › বিস্তারিত পোস্টঃ

প্রেম তবু প্রেম নয় (৩য় অংশ)

২২ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১:৩০



নিলয় খুব দ্রুতই হাঁটছিল।শেষ দুপুরের মিষ্টি রোদ খেলছিল কসমস,জিনিয়া আর পিটুনিয়ার উপর।জয়নুল আবেদিন মিলনায়তন পার হবার সময় ও খেয়াল করে চারজন মেয়ে আসছে বেশ উচ্ছল ভঙ্গিতে।মেয়েগুলি কাছাকাছি আসায় নিলয় শুনতে পায় ওদের একজন আর একজনকে বলছে, “একটা ভেড়া”। নিলয় চারপাশে ভেড়ার খোঁজ করে।এরপর নিলয় শুনতে পায় ওরা বলছে,”একটা গরু”।নিলয় খেয়াল করে কোথাও গরু নেই।মেয়েগুলি পাশ দিয়ে চলে যাবার সময় শুধু বলে,”আস্ত একটা গাধা”।মেয়েগুলি চলে যাবার পর নিলয় বুঝতে পারে মেয়েগুলি ওর উদ্দেশ্যেই কথাগুলি বলছিল।ওর ভীষণ হাসি পায়।একবার ভাবে পিছনে ফিরে গিয়ে ওদের কিছু একটা বলে আসে।তবে দ্রুতই সিদ্ধান্ত বদলায়।ও জানে ওর মা আর বাবা মামার বাড়িতে গিয়ে বসে আছে।অপেক্ষা করছে কখন নিলয় ফোন দেবে।প্রতিমাসে চারবার নিলয় টেলিফোনে বাবা-মায়ের সাথে কথা বলে।কার্ডফোনে কথা বলার জন্য নিলয় হল থেকে সুলতানা রাজিয়া হল পার হয়ে টেলিফোন এক্সচেঞ্জে পৌঁছায়।
-হ্যালো কে?
ওপাশ থেকে মামির গলা ভেসে আসে।
-নিলয় কেমন আছো তুমি?
-ভালো মামি।তুমি ভালো আছো?
-হ্যাঁ আছি।এই নাও, দিদির সাথে কথা বল।
-কেমন আছিস বাবা?পড়াশুনা ঠিক মত হচ্ছে তো?
-হ্যাঁ মা,ভালো আছি।পড়াশুনাও ভালো হচ্ছে।কোন চিন্তা করোনা।বাবাকে দাও।
-তোর বাবা আজকে আসতে পারেনি।
-কেন?
-অসুখ বেড়েছে।
-ডাক্তার কি বলছে?
-লাভ নেই।ভারতে নিয়ে গেলে শুধু টাকা নষ্ট।
নিলয় কিছু উত্তর দেবার আগে সময় নেয় নিজেকে সামলানোর জন্য।
-ও আচ্ছা।ভালো থেকো।আবার পরে কথা হবে।
-ঠিক আছে বাবা।
নিলয় টেলিফোন এক্সচেঞ্জ হতে ধীর পায়ে বেরিয়ে আসে।সুলতানা রাজিয়া হলের পাশ দিয়ে এসে বোটানিক্যাল গার্ডেনে ঢুকে নির্জন স্থান দেখে বসে পড়ে।ওর সামনে ব্রহ্মপুত্র নদ।ছোট ছোট ঢেউয়ের মাথায় আলো চমকাচ্ছে।নিলয়ের যখন খুব মন খারাপ হয় তখন ও এইস্থানে চলে আসে।নিলয় টের পায় ওর গাল বেয়ে জল গড়াচ্ছে।
-খুব মন খারাপ।
কৃষ্ণচূড়া প্রশ্ন করে।
নিলয় মাথা ঝোঁকায়।
অনেকগুলি লাল রঙের বাগ ডুমুর গাছের গোড়ায় জড় হয়েছে।নিলয়কে দেখে কয়েকজন এগিয়ে আসে। ওদের মধ্যে একজন নিলয়ের সাথে গল্প শুরু করে।
-বাবার কি হয়েছে?
-বাবা খুব অসুস্থ এতটুকুই জানালো।
-ও।এখন তবে কি করবে?
-জানিনা।
-চিকিৎসা?
-জানিনা।
-আমার কি মনে হয় নিলয় জানো,এখন তোমার উচিত রাজনীতি থেকে বেরিয়ে আসা।আর পড়াশুনায় মনোযোগ দেওয়া।তোমার রেজাল্ট ভালো।ভালোভাবে পড়লে আরও ভালো ফল পাবে।আর হ্যাঁ,দোনলাটা ফিরিয়ে দাও।তুমি দুর্নীতিবাজ কোনদিন হতে পারবেনা।
-দেখি।
নিলয় কতক্ষণ বসেছিল খেয়াল করেনা।সন্ধ্যা নেমে আসছে দেখে উঠে পড়ে।ইতস্তত ঘুরতে থাকে।দিবার সাথে দেখা হয়।দিবা ওর নতুন প্রেমিককে নিয়ে হাঁটছে রাস্তায়।লাইব্রেরীর পাশ দিয়ে যাবার সময় ও কঙ্কাকে দেখতে পায়।কঙ্কা আর দীনেশ করিডোর ধরে হাঁটতে হাঁটতে অন্ধকারে মিলিয়ে যায়।নিলয় হলে ফিরে আসে।
-কিরে নিলয়, সারা বিকেল তুই কই ছিলি?তোর রুমে গিয়েছিলাম।মতিন ভাই কিছুই বলতে পারলোনা।
সোহেল ঝমঝম করে বলে উঠে।সাথে মিন্টু আর পার্থ।
-গেষ্ট রুমে চল।ফোনকল ফোনকল খেলি চল।
সব কয়জন গেষ্টরুমে ঢুকে।
-কে ফোন করবে?
মিন্টু বলে।
-পার্থ।পার্থ।ও এগুলি বেশ ভালো পারে।
সোহেল বলে।
পার্থ ফোন হাতে নেয়।
-কত নম্বর টিপবো?
পার্থ প্রশ্ন করে।
-৬৩৪৯
সোহেল বলে।
-কেউ হাসবি না।শুধু শুনবি।
পার্থ কথা বলতে বলতে রিং করে।লাউড স্পিকার অন করে।মেয়েলি কন্ঠ ভেসে আসে।
-হ্যালো কে বলছেন?
-জুঁই বাড়ি আছে?
পার্থ খুব মোলায়েম গলায় বলে।
-কে জুঁই?
১ম পর্ব (Click This Link)
২য় পর্ব (Click This Link)
চলবে……….

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ৮:৩৯

সোহাগ তানভীর সাকিব বলেছেন: আসলেই তো, প্রেম তবুও প্রেম নয়!!

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১:১৫

সুদীপ কুমার বলেছেন: ধন্যবাদ।

২| ২২ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:০৬

রাজীব নুর বলেছেন: খুব সুন্দর লিখেছেন।

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১:১৫

সুদীপ কুমার বলেছেন: ভালোলাগা রইলো।

৩| ২২ শে জানুয়ারি, ২০১৯ সকাল ১০:৩০

ঋতো আহমেদ বলেছেন: BAU মনে হচ্ছে। কার্ডফোন মানে ঘটনাকাল কবের? ১৫/২০ বছর আগের? তবে, একটু correction করতে হবে আপনার। প্রকৃতপক্ষে ব্রহ্মপুত্র একটি নদ। নদী নয়। গল্পটি সুন্দর। ভালো লাগলো। ++

২৩ শে জানুয়ারি, ২০১৯ রাত ১:১৬

সুদীপ কুমার বলেছেন: আপনার ধারণা শতভাগ সত্য।সংশোধন করেছি।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.