নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

বসন্ত বাতাসে

অজানাকে ভালোবাসী

সুমনা শাহনাজ

অজানাকে ভালোবাসী

সুমনা শাহনাজ › বিস্তারিত পোস্টঃ

কওমি মাদরাসা, হেফাজতে ইসলাম ও সিটি নির্বাচন

২১ শে জুন, ২০১৩ সকাল ১০:১৭

এই ছোট্ট শহরে যারা পায়ে হেঁটে চলেন তাদের দলে আমিও একজন। হাঁটতে গিয়ে অনেকের সাথেই আলাপ। বিভিন্ন বিষয়। রাজনীতি, অর্থনীতি, সরকারি দল, বিরোধী দল, হেফাজত, নির্বাচন। প্রায় প্রতিটি বিষয়ে হেঁটে চলা মানুষের সাথে আলাপ জমে। আলাপ হয় অতিসাধারণ খেটে খাওয়া মানুষের সাথে। রিক্সা ড্রাইভার, টমটম ড্রাইভার, দিনমজুর। এদেশ যারা চালান এইসব অতিসাধারণ মানুষের আলাপচারিতায় যদিও তাদের কিছু আসে যায় না, কিন্তু নির্বাচনে তাদের ভাগ্য নির্ধারিত হয় এইসব মানুষের ভোটেই। যার ফলশ্র“তি হচ্ছে দেশের চারটি সিটি নির্বাচনে বর্তমান সরকারি দলের করুণ পরিণতি। নিলর্জ্জ পরাজয়। এ বিষয়ে পরে আসছি।



কথা হচ্ছে অতিসাধারণ মানুষের সাথে আলাপচারিতা। আর এই সব আলাপের অভিজ্ঞতা থেকেই বলি, গোটি কয়েক হেফাজতিদের ভোটে যদিও সরকারের পতন হয় না। কিন্তু গোটি কয়েক হেফাজতির বিরুদ্ধে রাতের অন্ধকারের অভিযানে একটি দেশের সাধারণ মানুষের চিন্তা-চেতনার পরিবর্তন হতে পারে। এ দেশের বেশিরভাগ মানুষের আবেগ-অনুভূতির জায়গা হচ্ছে ‘ধর্ম’। তাই এই ধর্ম নিয়ে যথাসম্ভব বাড়াবাড়ি কারো পক্ষে করা উচিত নয়, এই সহজবোধ্য কথাটা অনেকেই বুঝতে চায় না অথবা বুঝার চেষ্টা করে না। ক্ষমতাসীনরা তো ক্ষমতার দাপটে আরো বেশি না-বুঝার চেষ্টা করে। তাই বিগত সাড়ে চার বছর যত না হয়ে রাজনৈতিক দ্বন্দ্ব-সংঘাত তার চেয়ে বেশি হয়েছে ধর্ম নিয়ে। মোল্লা-মুনশিরা রাস্তায় নেমে এসেছেন ‘ধর্মযুদ্ধে’ অথবা ধর্মরক্ষার তাগিদে।



বাউল কবি শাহ আবদুল করিমকে একবার বলা হয়েছিল, ইশ্বর সম্পর্কে বলতে। তিনি ইশ্বর সম্পর্কে যুক্তি-তর্ক না করতে নিষেধ করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইশ্বর হলেন পেঁয়াজের মতো। পেঁয়াজের ভেতরে যেতে চাইলে যেমন কিছুই পাওয়া যাবে না তেমনি বেশি যুক্তি-তর্ক উপস্থাপন করতে গেলে ইশ্বর সম্পর্কে কিছুই পাওয়া যাবে না। ইশ্বরকে বিশ্বাস করতে হয় বিনা বাক্যব্যয়ে।



বাংলাদেশের কওমি মাদরাসাগুলো চলে এদেশের অতিসাধারণ মানুষের অর্থায়নে। মানুষ কখনই কোথাও অর্থায়ন করেন বিনা স্বার্থে। কিন্তু এই একটি জায়গা যেখানে কোন স্বার্থের সীমারেখা ছাড়াই মানুষ বিনিয়োগ করে থাকে। আর এটা হয় ধর্মীয় আবেগে অথবা ধর্মের প্রতি এ দেশের মানুষের জন্মগত একটি দুর্বলতা থেকেই। আমরা সেই ছোটবেলায় দেখে এসেছি, গ্রামের মসজিদ কিংবা মাদরাসায় বৎসরিক একটি দান নির্দিষ্ট করে রাখা হতো। এখান থেকে কোন নড়চড় হতো না সংসারে যতই অভাব-অনটন থাকুক না কেন। এই জায়গা থেকে উঠে আসা সাধারণ মানুষের ভাষা সময়ের তালে খুব পরিবর্তন হয়েছে একথা বলা মুশকিল। কারণ সারা দেশের হাজার হাজার কওমী মাদরাসা যেখানে সরকারের কোন অর্থায়ন নেই সেগুলো চলছে কেমন করে। এই প্রশ্নের উত্তরেই আশা করি বেরিয়ে আসবে উপরোক্ত কথার মর্মার্থ। তাহলে বুঝতে হবে এ দেশের মানুষের ভেতরে এখনও ধর্মীয় আবেগ-অনুভূতি জমে আছে এইসব মাদরাসায়। যার জন্য গ্রাম থেকে শহর আর শহর থেকে গ্রাম চারিদিকে হাজার হাজার মাদরাসা চলছে চোখ বুঝে, নিশ্চিন্তে।



কওমি মাদরাসাগুলোতে যদি দেশের সাধারণ মানুষের এই অনুভূতি থেকে থাকে তাহলে কওমি মাদরাসাগুলোতে যে হেফাজতে ইসলামের জন্ম সেই হেফাজতের প্রতি দেশের সাধারণ মানুষের কী সহজাত দুর্বলতা থাকবে না?



অতএব উপসংহারে একথাই বলা যায়, ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়িই এ সরকারের লজ্জাজনক পরাজয়ের মূল কারণ। সাধু সাবধান।

মন্তব্য ৩ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৩) মন্তব্য লিখুন

১| ২১ শে জুন, ২০১৩ দুপুর ১২:৪৬

মামুন,চৌ:হাট বলেছেন: পোষ্টের প্রতিটি অক্ষরে অক্ষরে সহমত।

২| ২১ শে জুন, ২০১৩ দুপুর ২:৫৭

মোমের মানুষ বলেছেন: চরম কিছু সত্য কথা বলেছেন। আমি একজন কওমী মাদরাসার ছাত্র হিসাবে এটা অনেক দেখেছি। আমি দেখেছি কওমী মাদরাসা নিয়ে একদম নিম্মবৃত্ত হতে সর্বোচ্চ শ্রেনী পর্যন্ত সাধারন দ্বিনধার মানুষদের কত ভালবাসা কত ভক্তি। ভক্তি ও ভালবাসার কারনেই উপমহাদেশে ইংরেজ শাসনামলে মাদরাসা গুলোতে সরকারী অর্থায়ন বন্ধ হওয়ার পর থেকে সাধারন মুসলমানদের সহায়তায় কওমী মাদরসা গুলো পরিচালিত হয়ে আসছে সুন্দর ভাবে।

৩| ২১ শে জুন, ২০১৩ রাত ৮:৩৩

শিক্ষানবিস বলেছেন: সুন্দর করে সঠিক বিশ্লেষন করেছেন। অনেক ধন্যবাদ।
আপনার এই পোষ্টের সাথে সহমত পোষণ করে কয়েকটি কথা বলছি :
এক. গত পনের জুন ভোট দিলাম বরিশাল সিটিতে। আমার প্রতিবেশী এক রিকসাওয়ালা। নামাজতো দূরের কথা জুমার নামাজও পড়ে না। ভোটের দিন লাইনে আমার সামনে ভোট দিলো। ভোট শেষে প্রশ্ন করলাম, ভোট কোথায় দিলেন? বলল, আনারসে।
বললাম, হিরন মেয়া তো আপনার অনেক উপকার করছে, শহরের অনেক উন্নয়ন করেছে, তাকে কেন দিলেন না?
বলল, হে আওয়ামী লীগের। আমি মাদরাসায় পড়ি নাই। আমার ছেলেকে মাদরাসায় পড়াই নাই। নামাজ-রোযা করি না। কিন্তু হুজুরদের গুলি করে মারবে এটা আমি সহ্য করতে পারি না।
দুই. হেফাজতের ভোট কম। কিন্তু তাদের প্রতি সহানুভূতিশীলদের সংখ্যা অনেক।
তিন. বাসে সিলেট যাচ্ছিলাম গত মাসের শেষের দিকে। ভৈরবে জ্যাম। এক ভিক্ষুক উঠল বাসে। আমার সামনের সীটে বসা এক হুজুর। তার কাছে ভিক্ষা চাইল। হুজুর বিরক্ত হয়ে বললেন, এই মিয়া মাফ করো বলেছি, শোন না?
ভিক্ষুক বি বাড়িয়ার আঞ্চলিক ভাষায় বলল, হুজুর আপনি আমাকে ধমক দিলেন! আপনাদের জন্য আমরা জান দিতে প্রস্তুত। মতিঝিলে আপনাদের উপর গুলি চালাইল, তখন আমি আমার ছেলে মেয়ে বউ তিনদিন পর্যন্ত কান্নাকাটি করেছে। পুরো একদিন না খেয়ে থেকেছে।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.