নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

মৃতযুপথযাএী

তাহসিন ফরিদ

আমি কিছু ই পারি না।

তাহসিন ফরিদ › বিস্তারিত পোস্টঃ

অধিক শোকে 'শক' এ

০৬ ই জুন, ২০১৩ দুপুর ১২:৪৯

৩০ ই ডিসেম্বর আমার ওয়ান এন্ড অনলি বড় ভাইয়ার বিয়ে। প্রস্তুতি হিসেবে ভাইয়ার ফ্রেন্ডরা সহ শপিং করলাম দিন ভর। অনেক ব্যস্ত দিন।

বিয়ের বাকি আর মাত্র ৩ দিন। বাসায় গিয়ে সব গুছিয়ে এরপর বাড়ি যাওয়ার জন্য গোছগাছ করতে হবে। সারাদিন শরীরের উপর বেশ অত্যাচার হয়েছে।

নীলক্ষেত থেকে রাত ৯ টা ৩০ এর দিকে বাসায় ফিরার উদ্দেশ্যে ২৭ নাম্বার উঠলাম । যথারীতি ভিড় বাসে।

যাই হোক কোন মতে একটা সিট জয় করে বসলাম এবং যথারীতি ঘুমিয়ে গেলাম। (এই কাজটা আমার রেগুলার ই হয়। ২-৩ বার উত্তরা চলে গেছিলাম ঘুমাইতে ঘুমাইতে। তবে এখন কন্ডাক্টর কে বলে রাখি)
হঠাৎ সম্বিৎ ফিরে পেলাম কন্ডাক্টর এর ডাকে- '' মামা, শেওড়া বাজার আয়া পরছেন ''

তাড়াহুড়া করে বাস থেকে নেমে রিকশায় বাসায় ফিরলাম। ফ্রেশ টেশ হয়ে আমার টুনিরে ফোন দেওয়ার জন্য ফোন খুঁজতে লাগলাম।

বাট এলাস, কিন্তু হায় প্রিয় মোবাইল টা আর খুঁজে পাচ্ছিনা।

বুঝলাম আমার ফ্রেন্ড এর আলট্রা ন্যারো যেই জিনস এর প্যান্ট টা পরে বের হইছিলাম ওইটার আলট্রা টাইট পকেটটাই নেপথ্যের কালপ্রিট। আমার প্রিয় মোবাইল হয়ত স্থান সংকুলান না হওয়ায় ঘর (পকেট) থেকে বের হয়ে গিয়েছে অথবা বাতাস পাওয়ার জন্য পকেট এর বাইরে উঁকি দিয়ে জিয়াল মাছের মত খাবি খাচ্ছিল। আর কোন কোন পকেট মার দাদা দয়া করে মোবাইলটাকে এই কষ্টের হাত থেকে মুক্তি দিলেন।

যাই হোক, ফ্রেন্ড এর নাম্বার থেকে ফোন দিলাম আমার নাম্বারে। এক ভদ্র লোক ফোন ধরলেন ।

বেশ গম্ভীর স্বরে বললেন - '' হ্যালো ''

আমি সম্ভাব্য সরবোচ্চ পরিমাণ বিনয় নিয়ে (এই সময় গুলোতে মানুষ একটু বেশি বিনয়ী হয়। শব্দ নির্বাচনে অনেক সতর্ক হয়। যদি দাদা আবার রাগ করেন তাইলে ই তো শেষ ) বললাম, ভাইয়া এটা তো আমার ফোন। আপনি ফোনটা কোথায় পেয়েছেন?

ভদ্রলোকঃ আপনি ফোন কোথায় হারাইছেন? ( আমার ভাইয়া আমাকে যেই ভাবে ঝাড়ি দেন ঠিক সেই ঢঙ্গে ঝাড়ি দিয়ে। যেন উনি আমার গার্ডিয়ান।

আমিঃ (ঝাড়ি গিলে) ভাইয়া আমি মনে হয় বাসে ফোন হারাইছি। আপনি কোথা থেকে বলছেন প্লিজ?

ভদ্রলোকঃ আপনার বাসা কই? (সেম ভলিয়ুম অ্যান্ড ইকো)

আমিঃ ভাইয়া জি আমি থাকি নদ্দা বাজার এর কাছে।

ভদ্রলোকঃ আমি ও তো নদ্দা বাজার থাকি। আপনি এখন কোথায়?

আমার মনে খুশির ফোয়ারা

আমিঃ এইত ভাইয়া আমি বাসায়।

ভদ্রলোকঃ ঠিক আছে আপনি কালাচান্দপুর (নদ্দার পাশে) মসজিদ এর কাছে আসেন।

(কালাচান্দপুর মসজিদ নামে কোন মসজিদ আছে কিনা আমি জানতাম ও না। তার পর ও উনাকে জিজ্ঞেস করার সাহস পেলাম না )

আমিঃ ঠিক আছে ভাইয়া আপনি একটু কষ্ট করে অপেক্ষা করেন। আমি এখন ই আসছি।

মনে মনে খুশি হলাম। যাক ঢাকা তে ও জিনিসপত্র হারানো গেলে পাওয়া যায়। আহারে লোকটা নিশ্চয় ই অনেক ভালো। কৃতজ্ঞতা জানানোর জন্য কি কি বলব তা ও ঠিক করে নিলাম।

অতি দয়ালু ভাইয়াকে একটা প্রীতি ভোজ দেয়ার জন্য ৬০০ টাকা সাথে নিয়ে ফ্রেন্ড কে নিয়ে বাসার নিকটবর্তী মসজিদ এর সামনে যাই। আমার নাম্বারে ফোন দিলাম, রিং হচ্ছে কিন্তু রিসিভ করছেন না ভদ্রলোক।
ভাবলাম ভদ্রলোক পথে। কি কষ্ট ই না যে করেছেন।

একটু পরে...........এগেইন ফোন।

নো রিস্পন্স এগেইন। /:)

আমার আশার নদীর তীর ভাঙ্গা শুরু হল।

এরপর আপনারা মনে হয় ব্যাপারটা ধরে ফেলেছেন।

হ্যাঁ, আপনাদের চিন্তার বাইরে কিছুই হয় নি। ভদ্রলোক ফোন টা কে (আসলে সিমগুলাকে) চিরদিনের জন্য বন্ধ করে দিয়েছেন। মনের দুঃখে ২ জন ২ টা সিগারেট ধরিয়ে হিমু ইশটাইলে হাঁটা শুরু করলাম নির্লিপ্ত ভাবে।

ভাইয়া ড্রামা টা ভালোই করেছেন। যদি ও এডভেঞ্চার টা বেশি করেন নি। তবে একটু ট্র্যাজিক করেছেন (আমার জন্য)।

ফোন হারাইছে এইটা একটা দুঃখ, সাথে ছ্যাকা টা দিয়া কাঁটা ঘায়ে নুনের ছিটা। স্যালুট বস, স্যালুট।

আমি 'অধিক শোকে শকে' এই আর কি!!!'

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.