নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

যন্ত্রণা, ব্যর্থতা, প্রত্যাখ্যান, ক্ষতি এবং অসম্মানের মধ্য দিয়ে সেই মানুষটি হন, যে বারবার উঠে দাঁড়ায়। পুনর্গঠন করতে থাকেন, মেরামত করতে থাকেন তার সাথে বেড়ে উঠতে থাকেন। নিজের জীবনকে এমন শক্তিতে গড়ে তুলুন, যে কোনো কিছুই আপনাকে ভাঙতে পারবে না।

তাই-ফি

আমি বাংলাদেশের একজন দালাল বলছি !!

তাই-ফি › বিস্তারিত পোস্টঃ

দুষ্ট হিটলারের প্রিয় বই!!

১১ ই নভেম্বর, ২০২৫ রাত ৮:০১

একটি বই যেখানে জনগণকে নিয়ন্ত্রণ ও প্রভাবিত করার সমস্ত কৌশল সম্পর্কে বলা হয়েছে। বইটিকে বিশ্বব্যাপী মানুষের আচরণকে নিয়ন্ত্রণ করার একটি ম‍্যানুয়াল বলা যেতে পারে। এই বইটি ছিল অন্ধকারের আত্মার (এডলফ হিটলার) প্রিয় বই।
আমি এই বইয়ের সাতটি মূল কৌশল নিয়ে কথা বলার চেষ্টা করবো।

১। জনগণ যুক্তি নয়, সহজ আবেগ অনুসরণ করে, (cowards obey simple emotions not logic)-
জনগন সবসময় যুক্তির চেয়ে আবেগকেই বেশি প্রাধান্য দিয়ে থাকে। সমষ্টিগত মানসিকতা হলো পুরোপুরি আবেগপ্রবণ। জনগণ নিয়ন্ত্রিত হয় ভয়, রাগ এবং উত্তেজনার মাধ্যমে। যেখানে যুক্তিপূর্ণ কথা উপেক্ষিত হয় কিন্তু শক্তিশালী আবেগ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

২। বার বার কিছু বলা হলে তা বিশ্বাসে পরিণত হয় (repetition creates believe)-
জনতার মনে কোন ধারণা প্রবেশ করানোর সবচেয়ে কার্যকর উপায় গুলোর একটি হচ্ছে কোন ব্যাখ্যা বা প্রমাণ ছাড়াই কোন বক্তব্য বারবার পুনরাবৃত্তি করা। বারবার একই জিনিস শুনলে এটি এক সময় জনগণের সম্মিলিত চিন্তায় স্থায়ীভাবে বসে যায়।

৩। চিত্র বা প্রতীক কথার চেয়েও শক্তিশালী (visual symbols overpower words)-
মানুষ শুধুমাত্র ছবি ও প্রতীকের মাধ্যমে চিন্তা করে। তাই এসবের ব্যবহার করে তাদের প্রভাবিত করা হয়। জনগণ জটিল ধারণা বা যুক্তির চেয়ে, চিত্র ও প্রতীকের প্রতি অনেক বেশি প্রতিক্রিয়া দেখায়। তারা যা দেখে সেটাই তারা বিশ্বাস করে।

৪। খ্যাতি বিচার বুদ্ধিকে পঙ্গু করে (Prestige paralyses judgment)-
খ্যাতি মানুষের থেকে বাস্তবতাকে আড়াল করে রাখে। খ্যাতির বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো কোনটি সঠিক আর কোনটি বেঠিক তা আমাদের দেখতে বাধা দেয় এবং আমাদের বিচার বুদ্ধি সম্পুর্ণ পঙ্গু করে দেয়। যখন কোন ব্যক্তি প্রতিষ্ঠান বা ধারণাকে মর্যাদাপূর্ণ হিসেবে দেখা হয়, তখন তা সন্দেহ ও বিচার বিশ্লেষণ করার ক্ষমতাকে অবশ করে দেয়।

৫। নেতারা জনতার ইচ্ছা নিয়ন্ত্রণ করে (Leaders control the will of the people)-
জনগণ নিজেদের ইচ্ছায় চালিত হয় না বরং একজন নেতা দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়। নেতার ইচ্ছাই একসময় জনগণের ইচ্ছায় পরিণত হয়। একজন নেতা মানুষের সাথে তর্ক-বিতর্ক করে না বরং তারা মানুষের আবেগগুলোকে ধারণ করে, আকাঙ্ক্ষাগুলো তীব্র করে এবং শক্তিকে কেন্দ্রীভূত করে। যদি সেই নেতার অভিজ্ঞতা বা যোগ্যতা নাও থাকে এতে কোন সমস্যা নেই।

৬। জনগণ নিশ্চিত বা চূড়ান্ত সিদ্ধান্তকে উপাসনা করে (crowds worship absolute certainty)-
জনগণ কেবল সেই ধারনাগুলোর দ্বারা প্রভাবিত হয়, যেগুলো চূড়ান্ত আপসহীন এবং সরল। সাধারণ মানুষ জটিল বা সূক্ষ্ম ব্যাখ্যা পছন্দ করেনা। তারা সোজা ধারণা গুলো পছন্দ করে। যেগুলো পূর্ণ আত্মবিশ্বাসের সাথে উপস্থিত হয়। সন্দেহ ও জটিলতা মানুষের প্রভাবিত করার ক্ষমতা কে দুর্বল করে।

৭। সত্যের চেয়ে বিভ্রান্তি জনগণকে বেশি আকৃষ্ট করে (illusions seduce crowds more then trust)-
জনগণ কখনোই সত্যকে অনুসন্ধান করে না। যা তাদের পছন্দ অনুযায়ী নয় তারা এমন প্রমাণও উপেক্ষা করে। তারা ভ্রান্ত ধারণাকে আকড়ে ধরে রাখে, যদি সেটা তাদের আকৃষ্ট করে। সেই তথ্যের কোন মূল্য থাকেনা, যদি তা জনতার অনুভূতি বিরোধী হয়। একটি বিশ্বাসযোগ্য বিভ্রান্তি সর্বদাই একটি সত্যকে পরাজিত করে।

এই সমস্ত কিছু প্রকাশ করে যে বইটি সেটি হলো -
“The Crowd: A Study of the Popular Mind” by Gustave Le Bon, written in 1895।

আশরাফুল মাহমুদ তাইফ

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.