নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

যন্ত্রণা, ব্যর্থতা, প্রত্যাখ্যান, ক্ষতি এবং অসম্মানের মধ্য দিয়ে সেই মানুষটি হন, যে বারবার উঠে দাঁড়ায়। পুনর্গঠন করতে থাকেন, মেরামত করতে থাকেন তার সাথে বেড়ে উঠতে থাকেন। নিজের জীবনকে এমন শক্তিতে গড়ে তুলুন, যে কোনো কিছুই আপনাকে ভাঙতে পারবে না।

তাই-ফি

আমি বাংলাদেশের একজন দালাল বলছি !!

তাই-ফি › বিস্তারিত পোস্টঃ

সাফল্য, ব্যর্থতা এবং আমরা।

২৪ শে নভেম্বর, ২০২৫ ভোর ৪:২৪

একটি গল্প দিয়ে শুরু করি। শেষ বিচারের পরে নরকের শাস্তি ভোগ করছে পাপীরা। বড় বড় তেল ভর্তি ড্রাম। সেখানে সাজা প্রাপ্ত ব্যক্তিদের একবার ডুবানো হচ্ছে একবার ভাসিয়ে তোলা হচ্ছে। সবগুলো ড্রামের সামনে পাহারাদার আছে, নাই শুধু একটি ড্রামের সামনে। নরক পরিদর্শনে আসা স্রষ্টার বিশেষ দূত গার্ডদের প্রধান কে জিজ্ঞেস করলেন।

“ কি ব্যাপার? এই ড্রাম এর সামনে কোন পাহারাদার নেই কেন? কোন পাপী যদি সুযোগ বুঝে ড্রাম থেকে পালিয়ে যায় তাহলে কি হবে?”

নরকের পাহারাদার প্রধান হাসতে হাসতে জবাব দিলেনঃ চিন্তা করবেন না স্যার এ ড্রামে শুধু বাংলাদেশের পাপীরা আছে। এখান থেকে কেউ যদি লুকিয়ে বের হতে চায় তাহলে এদের মধ্যে থেকেই কেউ একজন ওর পা ধরে টেনে আবার ভেতরে ফেলে দিবে। নিজে পরিণতি ভোগ করবে অথচ অন্য কেউ মুক্তি পেয়ে যাবে! এটা বাঙালি সহ‍্য করতে পারেনা। তাই এই ড্রামের সামনে কাউকে পাহারাদার রাখার দরকার হয়নি।

নিছক কৌতুক হলেও এই ছোট্ট গল্পের মধ্যেই কিন্তু নিহিত আছে কেন শতকরা ৯০ ভাগ বাঙালি নিজেদের জীবনের সফল হতে পারেনা। পারেনা জীবনের কাঙ্ক্ষিত লক্ষে পৌঁছতে। সাফল্য না পাওয়ার অনেক অনেক কারণ আছে কিন্তু মোটা দাগ খুঁজতে গেলে ইষা, পরস্ত্রীকাতরতা কিংবা ব্যক্তিগত রেষারেষি এই ঘটনাগুলিই খুঁজে পাওয়া যায় বেশি। এই লেখার মাধ্যমে আমরা খোঁজার চেষ্টা করব সেই কারণগুলোকে। যেগুলো বাঙালিকে দূরে রেখেছে সাফল্য থেকে। ব্যক্তিগত বা জাতীয় সাফল্যে বাকিদের চেয়ে কেন আমরা যোজন যোজন পিছিয়ে? দেশ-বিদেশের এডুকেশন সিস্টেম সম্পর্কে যদি আপনার খানিকটা ধারণাও থেকে থাকে তাহলে তাদের সাথে বাংলাদেশের শিক্ষা ব্যবস্থার তুলনা করলে একটা শব্দই আপনার মাথায় আসবে সেটা হচ্ছে “জগাখিচুড়ি”। এমন অদ্ভুত এডুকেশন সিস্টেম দুনিয়ার আর কোথাও পাবেন না। এখানে প্রাথমিক থেকে মাধ্যমিক পর্যন্ত বাংলা মিডিয়াম আছে, ইংরেজি মিডিয়াম আছে, আছে ক্যামব্রিজ এডুকেশনাল সিস্টেম। এর পাশাপাশি প্রতিবছর লক্ষ লক্ষ ছাত্র-ছাত্রী মাদ্রাসায় পড়াশোনা করেন। তারাও আবার একাধিক ধারা আছে। কওমি, নূরানী, আলিয়া, ইফতেদায়ী ইত্যাদি। তাদের শিক্ষাক্রমও আলাদা। এর বাহিরে ছোট্ট একটি অংশ ক্যাডেট কারিকুলামে পড়াশোনা করে। শিক্ষার এত ধারা উপধারা পৃথিবীর আর কোথাও খুঁজে পাওয়া যাবে না। শিক্ষায় বিশ্বের অনেক দরিদ্র দেশও আমাদের ছাড়িয়ে গেছে, জ্ঞান-বিজ্ঞানে প্রভূত উন্নতি লাভ করেছে কারণ তারা তাদের এডুকেশন সিস্টেম খুব উপযোগী করে সাজাতে পেরেছে। এর সুফল তারা ঘরে তুলেছে, আমরা সেটা পারিনি।

একটা দেশের সাফল্য নির্ভর করে সে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়ের উপর, বিজ্ঞানী বা গবেষকদের উপর। অথচ আমাদের দেশের বিশ্ববিদ্যালয় গুলোতে জ্ঞান চর্চা হয় ১% আর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড হয় ৯৯%। আমেরিকা, কানাডা, ইংল্যান্ড কিংবা ফ্রান্সের মতো দেশগুলির কোন বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র রাজনীতি নেই। কিন্তু আমাদের ক্যাম্পাসগুলোতে ছাত্র রাজনীতি টিকিয়ে রাখে দেশের সরকার, কারণ নিজেদের দলীয় ক্যাডার বাহিনী দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো দখলে রাখতে হবে। শুধু ছাত্ররাই নয় শিক্ষকরাও নীল দল, সাদা দলে বিভিন্ন রাজনৈতিক পতাকায় বিভক্ত। দলীয় তোশামদি ছাড়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিসি নিয়োগ দেওয়া হয় না। এদেশে এমনকি শিক্ষক হিসেবে নিয়োগ পেতে গেলেও প্রয়োজন দলীয় পদলেহন। একারনে পাশের দেশ ভারত যখন চন্দ্রা অভিযানে সাফল্য পায়, আমরা তখন বিদেশ থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা দিয়ে স্যাটেলাইট কিনে সেটাকে আকাশে উড়তে দেখে তৃপ্তির ঢেকুর তুলি। উগান্ডা বা হন্ডুরাস এর মত দেশে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যখন ইউনিভার্সিটি টপচার্টে জায়গা করে নেয়। তখন আমরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনে দশ টাকার চা, চপ আর সিঙ্গারার নিয়ে গবে ভেসে যাই।
সাফল্যের দেখা সেই পায়, যে ঝুঁকি নেওয়ার সাহস দেখাতে পারে। যে স্রোতের প্রতিকূলে গিয়ে সাঁতার কাটার চ্যালেঞ্জ নেয়, বিজয়ীর আসন সেই অলংকৃত করে। অথচ ঝুঁকি নেওয়া বা ট্রেডিশনাল পথের বাইরে গিয়ে হাঁটার ব্যাপারে বাঙালি বরাবরই কাঁচা। ব্রিটিশ আমলে অবস্থাপণ্য ঘরের সন্তানেরা বিলেতে পড়তে যেতে চাইতো না কারণ সমুদ্র যাত্রার ঝুঁকি নিতে তারা ভয় পেত অথবা পরিবারই সন্তানকে হাতছাড়া করতে চাইত না। ভারত মহাসাগরের পানিকে বাঙালিরা কালাপানি বলতো। সেই কালাপানি পাড়ি দিয়ে তাদের সন্তান পড়তে যাবে এত কষ্ট করার দরকার কি? তার চেয়ে সন্তান থাকুক দুধে ভাতে, মায়ের আঁচলের নিচে। এটাই ছিল ট্রিপিক্যাল বাঙালির মানসিকতা। সে মানসিকতার বদল আজও হয়নি। আজও বাঙালি সাফল্যের জন্য শর্টকাট রাস্তা খুঁজে, পরিশ্রমে তার বড়ই ভয়। এজন্যই তার সঞ্চয়ে টাকা কোন ব্যবসায় না খাটিয়ে, পঞ্জিস্ক্যামে খাটায় কিংবা দুই নাম্বার ই-কমার্সে লাখ লাখ টাকার পন্য কিনে ধরা খায়। কারণ সে পরিশ্রম ছাড়াই ধনী হতে চেয়েছিল। পরিণামে সর্ব শান্ত হয়েছে। বাঙ্গালীদের মধ্যবিত্ত মানসিকতার ব্যাপারটা আরেকটা উদাহরণের মাধ্যমে ভালোভাবে বোঝানো যাবে। বাংলাদেশ থেকে প্রতি বছর প্রায় পঞ্চাশ হাজার শিক্ষার্থী বিদেশে উচ্চ শিক্ষা গ্রহণ করতে যায়। এদের একটা বড় অংশ যায় ইউরোপের বিভিন্ন দেশে। আমেরিকা, কানাডা কিংবা অস্ট্রেলিয়া তে পড়তে যায় উল্লেখযোগ্য একটা অংশ। অথচ এদের মধ্যে সাফল্যের শিখর ছুতে পারে খুব অল্প সংখ্যক শিক্ষার্থী। গুগল, মাইক্রোসফট কিংবা ফেসবুকের মত বড় বড় টেক জয়েন্ট কোম্পানিগুলোতে বাংলাদেশী কারো চাকরি খবর আপনি শুনবেন কালেভদ্রে। অথচ সেই সেক্টরের জায়ান্ট প্রতিষ্ঠানগুলোতে বড় থেকে মাঝারি পদগুলো দখল করে রেখেছে ভারতীয়রা। কেন ভারতীয়রা এমন সাফল্য পাচ্ছে? আর তাদের প্রতিবেশী হয়েও আমরা কেন সেই উচ্চতায় যেতে পারছি না?
একটা তিক্ত সত্যি কথা শেয়ার করা যাক আপনাদের সাথে। বাংলাদেশ থেকে মধ্যবিত্ত পরিবারের একটা ছেলে বা মেয়ে যখন বাইরে কোন দেশে পড়তে যায় নিজের খরচ চালানোর জন্য তাকে কোন না কোন পার্টটাইম জবে ঢুকতেই হয়। সেটাও হতে পারে সুপার শপে এক্সিকিউটিভ এর কাজ অথবা ফুড ডেলিভারির কাজ। মাস শেষে যখন সে দেখে এসব কাজ করেই সে মাসে এক দেড় লাখ টাকা কামিয়ে ফেলছে তখন তার ফোকাসটা নরে যায়। ওই অল্প কয়টা ডলার কামানোকেই নিজের অ্যাচিভমেন্ট বানিয়ে ফেলে। ঠিকঠাক মতো দুই বছরের মাস্টার বা ৫ বছরের পিএইচডি কমপ্লিট করার পরে যে সে কোটি টাকা আয় করতে পারবে, এই ভবিষ্যতে সে দেখতে পারে না কিংবা দেখলেও সে পরিশ্রমটা তারা করতে চায় না। এখানেই ভারতীয়রা আমাদের থেকে এগিয়ে। তার উপর তাদের কমিউনিকেশন স্কিলও আমাদের থেকে অনেক ভালো।

বাঙালির সাফল্যের পথে আরেকটি বড় বাধা হচ্ছে আমাদের আবেগী আচরণ। আর এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ হচ্ছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। জিমবাবুয়ে বা আফগানিস্তানের মতো দলের সাথে জিতেই উল্লাসে আমরা ভেসে যাই। টেস্ট রেংকিং এ কখনো আটের উপর উঠতে না পারলেও নিজেদেরকে নাম দিয়েছি টাইগার। তিন বলে দুই রানের সহজ সমীকরণ আমরা মিলাতে পারি না। বড় টার্গেটের জয়ের লক্ষ্যে নেমে টুকটুক করে উইকেট হাতে রেখে খেলা শেষ করে আসি। এদের জেতার মানসিকতা নেই, ঝুঁকি নেয়া সাহস নেই। অথচ এই ক্রিকেটারদেরকেই আমরা ন্যাশনাল হিরোর মর্যাদা দেই, তাদেরকে আইডল বানাই। যে দলটা আজ পর্যন্ত বৈশ্বিক কোন শিরোপা জিততে পারেনি তাদেরকে নিয়ে আমরা বিশ্বকাপ জেতার অলীক কল্পনা করি। শেষমেষ নামিবিয়া বা স্কটল্যান্ড এর মত দলগুলোর বিরুদ্ধে কোনমতে একটা জয় পেয়ে আনন্দে বগল বাজাই এই ভেবে, যে যাক তারা তো আমাদেরকে হারাতে পারেনি। হোম অ্যাডভান্টেজ নিয়ে কয়েকটি দলকে ঘরের মাটিতে হারিয়ে আমরা গর্জন ছাড়ি। আর বিদেশের মাটিতে খেলতে গিয়ে নিজেদের সত্যিকার অবস্থাটা টের পাই। তবুও আমাদের শিক্ষা হয় না। একই আচরণ আমরা বারবার করি, করতেই থাকি। কখনো ক্রিকেটারদের উপর দোষ চাপাই, কখনো বোর্ডের উপর অথচ আমরা স্বীকার করতে চাই না যে ক্রিকেটে এইটুকুই আমাদের সামর্থ্য। এর চেয়ে ভালো খেলার শক্তি আমাদের নেই। তবুও আমাদের মিথ্যে গর্জন থামেনা। খেলার প্রসঙ্গটা যখন আসলোই তাহলে বাঙালির খাদ্য অভ্যাসে প্রসঙ্গটাও আসবে। এটাও আমাদেরকে পিছিয়ে রেখেছে। ভৌগলিক কারণেই এই অঞ্চলে ধানের উৎপাদন বেশি। ভাত আমাদের প্রধান খাবার। শর্করা জাতীয় এই খাবার শরীরকে অলস করে দেয়, কর্মক্ষমতা কমায়। বাঙালি কাজের চেয়ে আড্ডা দিতে বেশি পছন্দ করে। দুপুরে ভরপেট খেয়ে একটা ঘুম দেয়া তার জন্য আবশ্যক কর্তব্য। দুজন বাঙালি এক হলেই আড্ডার আসর বসায়। আলসেমি তাদের অস্থিমজ্জায় মিশে আছে। বাঙালি পছন্দ করে এমন সব খাবার যেগুলি কিনা স্থূলতা বাড়ায়, ডায়াবেটিস রোগের কারণ হয় কিংবা আয়ু ও কর্ম ক্ষমতা কমায়। এদেশে যে পরিমাণ ঔষধের দোকান আছে তা দুনিয়া আর কোন দেশে নেই। কারণ খাদ্য অভ্যাস এবং জীবন যাপনের ধরনের কারণে বছরের বারোমাসি বাঙালি অসুখে ভোগে এবং ভাতের মতো করে ওষুধ খায়। এই ব্যাপারে বাঙালির কোন প্রতিদ্বন্দ্বী নেই।

বাঙালির বর্তমান কোন অর্জন নেই বললেই চলে। এ কারণেই আমাদের দিন কাটে অতীত যাপন করে। আমাদের মাঠ ভরা ধান ছিলো, গোয়ালভরা গরু, ছিল পুকুর ভরা মাছ এসব স্মৃতির সঙ্গে আমাদের বসবাস। সেই গোয়ালভরা গরু কিংবা পুকুর ভরা মাছ আবার ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে আমাদের কোন পদক্ষেপ নেই। গল্পে কেবল আনন্দ। এ কারণেই দেশের সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বিজ্ঞান ও গবেষণায় উল্লেখযোগ্য অবদান রাখতে না পারলেও, বিশ্বের সেরা ১০০০ বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর তালিকায় থাকতে না পারলেও আমরা তাকে প্রাশ্চাত্যের অক্সফোর্ড খেতাব দিয়ে গতগত হয়ে উঠি। একটা দেশে শীর্ষস্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয় যখন রাজনৈতিক দলীয়করণ দুর্বৃত্তায়নে ডুবে যায় তখন দেশ যে ব্যর্থতায় ফোরজি উপাধিতে ভূষিত হবে তাতে অবাক হবার কোন কিছু নেই।

বাঙালি চরিত্রের একটি বড় অংশ হচ্ছে অন্যের প্রতি হিংসা। বাঙালি নিজে সফল হতে পছন্দ করে। কিন্তু অন্য কেউ যদি তার চেয়ে বেশি সাফল্য পেয়ে যায় তাহলে সেই ব্যক্তির প্রতি ঈর্ষায় তার মন আচ্ছন্ন হয়। সে তখন নিজের থেকে সফল ঐ ব্যক্তিটিকে যেকোনো মূল্যে টেনে নামাতে চায়। কর্পোরেট সেক্টর থেকে শুরু করে সর্বক্ষেত্রে সেই ঈর্ষাকাতর মনোভাব খুব নগ্ন ভাবে বিরাজমান। ডক্টর ইউনুসের কথাই ধরা যাক বাংলাদেশের সবচেয়ে সফল মানুষের তালিকা করলে তার নাম সবার উপরের দিকে থাকবে অথচ তার মত মানুষকে শুধুমাত্র প্রতিহিংসার বসে ভোগান্তির শিকার হতে হয়েছে বছরের পর বছর ধরে। মামলার ঝামেলায় এক কোর্ট থেকে আরেক কোর্টে ধন্য হয়ে ঘুরে বেড়াতে হয়েছে ৮৪ বছর বয়সের এই মানুষটিকে। অন্য কেউ আমাদের চেয়ে বেশি সফল হয়ে যাবে, এই আতঙ্ক থেকে বাঙালি সবার সঙ্গে এমন একটা অসহযোগিতা মূলক মনোভাব বজায় রাখে। এ কারণে বাঙালি প্রপার টিম মেম্বার হয়ে উঠতে পারেনা সহজেই। এটাও যেকোনো প্রতিযোগিতায় আমাদের পিছিয়ে থাকার একটা বড় কারণ। খুব বেশি দূরে যেতে হবে না ভারতের সাথেই তুলনা করলে দেখা যাবে দুই দেশের মানুষের আচার, সংস্কৃতি এবং জীবন যাপনের ধরন অনেকটাই কাছাকাছি। তবুও ভারত যখন চাঁদে মহাকাশচার পাঠাচ্ছে আমরা তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যান্টিনের চা, চপ, সিঙ্গারা নিয়ে গর্ব করছি। কেন তারা এতটা এগিয়ে গেল? কারণ ওরা ওদের শিক্ষা পদ্ধতিকে ঢেলে সাজিয়েছে। আমাদের দেশের যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলিতে অপরাজনৈতিক কারণে কত মায়ের বুক খালি হচ্ছে তখন ভারতের আইআইটি বিশ্ববিদ্যালয় গুলো বিশ্বমানের শিক্ষা দিচ্ছে সে দেশের ছাত্রদের। সেখান থেকে বেরিয়ে তারা বিদেশে ভালো ভালো প্রতিষ্ঠানের সুযোগ পাচ্ছে নিজেদের মেধা, দক্ষতা এবং কমিউনিকেশন স্কিল কাজে লাগিয়ে হেভিওয়েট সব প্রতিষ্ঠানগুলিতে ভালো বেতনে চাকরিতে ঢুকছে। পাশাপাশি অনেকে দেশে ফিরে এসে বিভিন্ন সেক্টরের হাল ধরছে। ভারতের তীব্র ধর্মীয় মেরুকরণ থাকলেও রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের পরিমাণ অনেক কম, এ কারণেই সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে নিয়োগে দুর্নীতি অনেকটাই কম হয়। মেধাবীরে সেখানে সুযোগ পায়, দেশকে এগিয়ে নেয়। আর আমাদের দেশেও বিসিএস পরীক্ষাতে প্রশ্ন ফাঁসের অভিযোগ ওঠে। সামান্য উপসচিব এর ড্রাইভার এর কয়েকশো কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের খোঁজ পাওয়া যায়। আমাদের দেশ তাহলে এগিয়ে যাবে কিভাবে? কাদের হাত ধরে?

এতক্ষণ যে বাঙ্গালীদের কথা বলা হলো তারা সংখ্যাগুরু মোট জনসংখ্যার ৯০% হয়তো তার থেকেও বেশি। কিন্তু এর বাইরেও কিছু বাঙালি আছে যারা এসব ত্রুটি থেকে মুক্ত। তারা পরচর্চা করে না, তারা আলসেমিতে দিন কাটায় না, তারা হুজুগে মেতে থাকে না। আবেগকে একপাশে সরিয়ে, বাস্তবতার জমিনে তারা পরিশ্রম করে সাফল্যের ফসল ফলান। এজন্যই তারা ডঃ ইউনুস হয়ে দারিদ্র্য বিমোচনে নোবেল পুরস্কার জেতেন, তাদেরই মধ্যে কেউ একজন বিশ্বসেরা বিজ্ঞানী ড. জামাল নজরুল ইসলাম হয়ে ওঠেন। আবার কেউ ফজলে হাসান আবেদ হয়ে ওঠেন যার হাতে গড়া ব্রাককে সারা বিশ্বে এনজিওদের গড়ে ওঠার একটা পথিকৃৎ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। কিংবা এই ভীত বাঙালিদের মধ্যে থেকে একজন আমেরিকায় গিয়ে পরিণত করেন বিশ্বের অন্যতম সেরা স্থপতি ফজলুর রহমান হিসেবে। যার গড়া ডিজাইনে তৈরি হয় সিএস টাওয়ারের মতো সুউচ্চ ভবন। আফসোস এটাই যে এই মানুষগুলোর সংখ্যা খুবই কম, একদমই হাতে গোনা। ২০ কোটি বাঙালির মধ্যে খুঁজতে গেলে এমন কেউ মনে হয় পাওয়া যাবে না। জাতি হিসেবে এটাতো ব্যর্থতার পর্যায়ে পড়ে।

সাফল্যের কোন সূত্র নেই। সাফল্যের চাবিকাঠি একটাই পরিশ্রম। মানুষের মেধা কম বেশি হতে পারে কিন্তু সেই মেধাকে যদি আপনি কঠোর পরিশ্রমের সঙ্গে মেলাতে না পারেন কাঙ্খিত সাফল্য ধরা দেবে না। আপনার হাতে নিজেকে, সমাজকে, দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিতে হলে আমাদের বাজে স্বভাবগুলোকে পরিত্যাগ করতে হবে। অধ্যাবস্যই হতে হবে। আবেগকে বিসর্জন দিতে হবে। নিজের স্কিলকে ডেভেলপ করতে হবে প্রতিনিয়ত। নিজের ভেতরে মন্ত্র গুঁজে দিতে হবে যে যেই কাজটি আমি করব, সে কাজটিতে আমি যত সেরা হতে পারি। আমি যদি গাছ কাটি সবার থেকে নিখুঁতভাবে গাছ কাটার যোগ্যতা আমাকে অর্জন করতেই হবে। কিংবা আমি যদি ক্রিকেটার হতে চাই আমার ব্যাটিং টেকনিক হতে হবে সবার থেকে আলাদা। এই ধনুক ভাঙ্গা কম যদি অন্তরে যেতে নেওয়া যায় তাহলেই সাফল্য ধরা দেবে হাতের মুঠোয় অন্যথায় একটা ভিডিও কর জাতি হিসেবে যে ধারা আমরা বজায় রেখেছি তাতে কোন পরিবর্তন আসবে না।

আশরাফুল মাহমুদ তাইফ

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.