| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
সাধারণ এক গৃহবধূ থেকে দেশের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতৃত্বে উঠে আসার পথটি বেগম খালেদা জিয়ার জীবনের এক অনন্য অধ্যায়। স্বামী রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের হত্যার পর তিনি যখন পরিবারের এক সংকটময় সময় রাজনীতিতে প্রবেশ করেন, তখন কেউ ভাবেনি দেশের রাজনীতিকে পরবর্তী কয়েক দশক তিনি এত গভীরভাবে প্রভাবিত করবেন। ধীরে ধীরে তিনি গৃহবধূ পরিচয় এর সীমানা পেরিয়ে দেশের অন্যতম প্রধান রাজনৈতিক শক্তির নেতৃত্বে দাঁড়ান। দলে বিভক্তি, রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন, ভিতরে বাইরের সংকট সবকিছু মোকাবেলা করে তিনি শক্ত হাতে বিএনপিকে একত্রে ধরে রেখেছেন। রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে তিনি সফল ছিলেন। দুবার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি দেশের রাজনীতিতে স্থিতিশীলতা, প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার ধারাবাহিকতা রক্ষায় চেষ্টা করেছেন। গণতন্ত্রের জন্য তার লড়াই ছিল দীর্ঘ, কখনো কঠিন, কখনো নির্মম। মামলা, কারাগার, অবহেলা কোন চাপই তাকে দেশ ছাড়তে বাধ্য করতে পারেনি। একাধিকবার বিদেশে যাওয়ার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও তিনি কখনো পালানোর পথ বেছে নেননি। তিনি বিশ্বাস করতেন দেশের মানুষের পাশে থাকা, সংকটে থাকা, এটি একজন নেতার দায়িত্ব। সময়ের সঙ্গে সঙ্গে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের মনোভাবেও পরিবর্তন এসেছে। যারা একসময় তার কঠোর সমালোচনায় সরব ছিলেন, তার নেতৃত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেন আজ তারাই স্বীকার করছেন, তিনি অসাধারণ, সহনশীল, দৃঢ় চরিত্রের এক রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব। তার বর্তমান শারীরিক সংকটের সময় বিরোধীদলের বহু নেতা ও প্রকাশ্যে তার প্রতি শ্রদ্ধা ও সহমর্মিতা জানিয়েছেন। রাজনীতির স্বাভাবিক দ্বন্দ্ব বিরোধের বাইরে গিয়েও তাকে এখন অনেকেই দেখেন অভিজ্ঞতা, ধৈর্য ও রাজনৈতিক প্রজ্ঞার প্রতীক হিসেবে। ইসলামিক রাজনৈতিক দল গুলোর মধ্যেও বেগম জিয়ার প্রতি বিশেষ সম্মান রয়েছে। তারা মনে করে তিনি সবসময় ধর্মীয় মূল্যবোধ, ইসলামী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং ধর্মভিত্তিক দলগুলোর রাজনৈতিক অংশগ্রহণের বিষয়ে সংযত ও ন্যায়সংকৃত অবস্থান বজায় রেখেছেন। সে কারণেই তার অসুস্থতা ঘিরে ইসলামী দলগুলোতেও দেখা যাচ্ছে গভীর সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধা। আজকের বাংলাদেশের তিনি শুধু বিএনপি নেত্রী নন বরং ধীরে ধীরে হয়ে উঠেছেন জাতীয় ঐক্যের প্রতীক। রাজনৈতিক বিভাজনের উর্ধ্বে তার অবস্থান এখন আরো দৃশ্যমান। সাধারণ মানুষ, তরুন প্রজন্ম, এমনকি প্রতিপক্ষ দলের নেতারাও তাকে দেখছেন গণতন্ত্রের জন্য লড়ে যাওয়া এক সাহসী নারীর প্রতিচ্ছবি হিসেবে। যন্ত্রণা , কারাবাস এবং বছরের পর বছর চিকিৎসা বঞ্চনার পর তার বর্তমান সংকট মানুষকে আরো বেশি উপলব্ধি করিয়েছে, তিনি শুধু একজন দলনেত্রী নন তিনি বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের এক নিরব অধ্যায়, এক ত্যাগী চরিত্র। যে চরিত্রের প্রতি আজ দেশের সব শ্রেণীর মানুষের সহমর্মিতা ও শ্রদ্ধা। সাধারণ গৃহবধূ থেকে রাষ্ট্রনেতা আর রাষ্ট্রনেতা থেকে আজ জাতীয় ঐক্যের প্রতীকে পরিণত হওয়া এই যাত্রাই বেগম খালেদা জিয়াকে বাংলাদেশের ইতিহাসে এক চিরস্থায়ী জায়গায় দার করিয়েছে।
আশরাফুল মাহমুদ তাইফ
ঢাকা, বাংলাদেশ।

©somewhere in net ltd.
১|
০৩ রা ডিসেম্বর, ২০২৫ রাত ৩:২৭
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: এই মর্হুতে বাংলাদেশে রাজনীতিতে তিনি
ঐক্যর প্রতীক এবং গনতন্ত্রর মুরব্বী
উনার আশু রোগ মুক্তি কামনা করি ।