নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

যন্ত্রণা, ব্যর্থতা, প্রত্যাখ্যান, ক্ষতি এবং অসম্মানের মধ্য দিয়ে সেই মানুষটি হন, যে বারবার উঠে দাঁড়ায়। পুনর্গঠন করতে থাকেন, মেরামত করতে থাকেন তার সাথে বেড়ে উঠতে থাকেন। নিজের জীবনকে এমন শক্তিতে গড়ে তুলুন, যে কোনো কিছুই আপনাকে ভাঙতে পারবে না।

তাই-ফি

আমি বাংলাদেশের একজন দালাল বলছি !!

তাই-ফি › বিস্তারিত পোস্টঃ

আসিয়া থেকে রামিসা, কোর্ট কাচারী সব মিছা!!

২৩ শে মে, ২০২৬ ভোর ৫:৫৩



ফুলের মতো নিষ্পাপ ছিল শিশুটি। আসলে প্রতিটি শিশুই তো একেকটি ফুল। অথচ সেই ফুলের শরীরেই আজ ঝাঁপিয়ে পড়ছে মানুষরূপী হায়নারা। ঢাকার পল্লবীতে শিশু রামিসার ওপর ঘটে যাওয়া নৃশংস ঘটনা পুরো বাংলাদেশকে নাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু শুধু রামিসা নয়, শুধু মে মাসেই দেশের বিভিন্ন স্থানে অন্তত আরও কয়েকটি শিশু একই ধরনের পাশবিকতার শিকার হয়েছে। প্রত্যেক শিশুর বয়স চার থেকে দশ বছরের মধ্যে।

গত ১৪ মে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈল উপজেলায় নিখোঁজ হওয়ার একদিন পর চার বছর বয়সী লামিয়া আক্তারের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় গ্রেফতার হওয়া নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী মুরসালিন জিজ্ঞাসাবাদে শিশুটিকে নির্যাতনের কথা স্বীকার করেছে বলে জানায় পুলিশ।

এর দুই দিন পর, ১৬ মে মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলায় ১০ বছর বয়সী আরেক শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে। ওই ঘটনায়ও একজনকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ।

১৯ মে পাবনার চাটমোহরে টাকার প্রলোভন ও ঘর ঝাড়ু দেওয়ার কথা বলে ডেকে নিয়ে পঞ্চম শ্রেণির এক শিশুকে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে ৪৮ বছর বয়সী আব্দুল জলিলের বিরুদ্ধে। অভিযুক্ত জলিল এখনও পলাতক, তাকে গ্রেফতারে অভিযান চলছে।

অন্যদিকে মানবাধিকার সংগঠন “হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটি (এইচআরএসএস)” জানিয়েছে, ৬ মে সিলেটের জালালাবাদ এলাকায় চার বছর বয়সী এক শিশুকে নির্যাতনের চেষ্টার পর শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনা ঘটে।

আরও কিছুদিন পেছনে গেলে, মার্চ মাসে চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের পাহাড়ি এলাকায় এক শিশুকে নির্যাতনের পর হত্যাচেষ্টার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় থাকা সেই শিশুটির বয়সও ছিল ১০ বছরের নিচে।

ঠিক এক বছর আগের মাগুরার আট বছর বয়সী শিশু আছিয়ার ঘটনাও এখনও ভুলে যায়নি বাংলাদেশ। গত বছরের মার্চে আছিয়ার ওপর ঘটে যাওয়া নৃশংসতার প্রতিবাদে ক্ষোভে ফেটে পড়েছিল পুরো দেশ।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, এত ঘটনার পরও কেন থামছে না এই বর্বরতা?
হিউম্যান রাইটস সাপোর্ট সোসাইটির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৬ সালের এপ্রিল পর্যন্ত সারাদেশে ৫৮০ জন শিশু এবং ৩১৮ জন নারী যৌন নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। তাহলে প্রশ্ন উঠছে, কেন এমন ঘটনা ঘটেই চলেছে? এসব অপরাধ প্রতিরোধে বাংলাদেশের আইনব্যবস্থা কি যথেষ্ট? দুঃখজনক হলেও সত্য, বাংলাদেশে শিশু ও নারীর প্রতি যৌন হয়রানি ও নির্যাতন প্রতিরোধে এখনও সুনির্দিষ্ট ও পূর্ণাঙ্গ কোনো আইন নেই। মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মতে, বিচারহীনতা এবং দীর্ঘসূত্রতাই অপরাধীদের আরও বেপরোয়া করে তুলছে।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ফওজিয়া করিমের ভাষায়, যৌন হয়রানি প্রতিরোধে দেশে নির্দিষ্ট কোনো আইন নেই। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে হয়রানি প্রতিরোধে উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় একটি নীতিমালা থাকলেও সেটি আজও আইনে পরিণত হয়নি। ২০০৮ সালে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির করা এক রিটের পরিপ্রেক্ষিতে ২০০৯ সালের ১৪ মে হাইকোর্ট একটি ঐতিহাসিক রায় দেন। সেই রায় অনুযায়ী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি প্রতিরোধে একটি নীতিমালা তৈরি করা হয়। আজও বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ওয়েবসাইটে সেই নীতিমালা বুকলেট আকারে রয়েছে। এমনকি বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের ওয়েবসাইটেও তা সংরক্ষিত আছে। কিন্তু সেটি কখনো পূর্ণাঙ্গ আইনে রূপ পায়নি।

সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো, এই নীতিমালাটি কেবল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রকে কেন্দ্র করে তৈরি। রাস্তাঘাট, বাসাবাড়ি কিংবা পল্লবীর রামিসার মতো শিশুদের ওপর সংঘটিত নৃশংসতার ক্ষেত্রে সেখানে কার্যকর কোনো নির্দেশনা নেই। অথচ দেশে প্রতিদিন নতুন নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত, সংবিধান সংস্কার ও ক্ষমতার হিসাব নিয়ে ব্যস্ত রাজনৈতিক নেতারা। শিশু নিরাপত্তা যেন তাদের অগ্রাধিকারের তালিকায়ই নেই।

রামিসার ঘটনায় হয়তো ২৪ ঘণ্টার মধ্যে আসামি গ্রেফতার হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইনমন্ত্রী হয়তো তার বাড়িতে গেছেন। পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আশ্বাসও দিয়েছেন।

কিন্তু প্রশ্ন হলো, সব ঘটনায় কি এমন হয়?
সব অপরাধী কি ধরা পড়ে?
সব ভুক্তভোগী পরিবার কি ন্যায়বিচার পায়?

বাস্তবতা হলো, অনেক ক্ষেত্রেই অভিযুক্তরা জামিনে বেরিয়ে এসে বহাল তবিয়তে ঘুরে বেড়ায়। উল্টো ভুক্তভোগীর পরিবারকে হুমকি দেয়, মামলা তুলে নিতে চাপ দেয়। এই রাষ্ট্রে চোর, লুটেরা, দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী কিংবা প্রভাবশালীদের পাশে দাঁড়ানোর মানুষ আছে। রাজনৈতিক দল আছে, প্রশাসনিক ছত্রচ্ছায়া আছে। কিন্তু সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই।

যে মানুষ কোনো অপরাধ করেনি, তাকেই প্রতিনিয়ত হয়রানি, ভয় আর অনিশ্চয়তার মধ্যে বাঁচতে হয়।
এটাই আজকের বাংলাদেশের সবচেয়ে ভয়ংকর বাস্তবতা।





আশরাফুল মাহমুদ
ফ্রীল্যান্স ফিল্মমেকার এন্ড কনট্রিবিউটর রাইটার
বিবিসি অ‍্যকশন মিডিয়া
ঢাকা, বাংলাদেশ।



মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.