নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সুবোধ আমি। তবে পলায়নরত। কারন সময় আমার পক্ষে না। জীবন আমার সঙ্গে না। আগে কোথাও থিতু হই। তখন পরিচয়টা জানাব। ধন্যবাদ এখানে ঢু মারার জন্য। মোর নির্জীব ব্লগবাড়িতে আপনাকে স্বাগতম।

নাঈম মুছা

স্বপ্নের ফেরিওয়ালা, স্বপ্নের ঘুড়ি বানাই, আসেন না একত্রে সে ঘুড়ি উড়াই, তাহলে ধরেন নাটাইটা আমি আসছি একটু পরে, এসে একসাথে উড়াব সে ঘুড়ি আজীবনের তরে!

নাঈম মুছা › বিস্তারিত পোস্টঃ

আলিয়া, কওমি, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় : বিভক্ত শিক্ষাব্যবস্থাসমূহের তুলনামূলক পার্থক্য বিষয়ক উচ্চতর পর্যালোচনা - ১

২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১১:০০



এই সিরিজ পোস্টটি তাদের জন্য পড়া অপরিহার্য যারা নিজেদেরকে মোটামুটি যুগ সচেতন বলে দাবী করেন অথচ জানেন না নিজ মাতৃভূমি বাংলাদেশে কত ধরণের শিক্ষা ব্যবস্থা চালু আছে। এবং বিশেষ করে দেশে কত ধরণের মাদরাসা শিক্ষা ব্যবস্থা বিদ্যমান এবং তাদের মধ্যে মৌলিক পার্থক্য গুলো কি কি। আমি পুরো সিরিজ জুড়ে উপরোক্ত শিক্ষাব্যবস্থাসমূহের তুলনামূলক পার্থক্য চুলচেরা বিশ্লেষণের মাধ্যমে বোঝানোর চেষ্টা করব। তবে এক্ষেত্রে আগে থেকে বলে রাখি, মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থাসমূহের উপর বেশি জোর দিব কেননা সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে আপনারা কমবেশি সবাই সম্যক অবগত। সেই তুলনায় অনেকে মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা সম্পর্কে একেবারেই জানেনা বললেই চলে। অনেকে যতটুকু জানে কিন্তু তার মধ্যে আবার পার্থক্য করতে পারে না কোনটা আলিয়া এবং কোনটা কওমি। সবগুলোকে একসাথে মিলিয়ে গুবলেট পাকিয়ে ফেলে। সুতরাং, তাদেরকে এ ব্যাপারে একটি স্বচ্ছ ধারণা দেয়ার জন্যই আমার এ ক্ষুদ্র প্রচেষ্টা। যেহেতু বুঝতেই পারছেন বিষয়টা মোটামুটি জটিল সেহেতু সিরিজটা আকারে একটু বড় হতে পারে। আশা করি পুরো সিরিজ জুড়ে আপনাদেরকে পাশে পাব। আলোচনার সুবিধার্থে উপরে উল্লিখিত শিক্ষাব্যবস্থা ব্যতিরেকে কারিগরি শিক্ষাবোর্ড সহ অন্যান্য শিক্ষাপদ্ধতির আলোচনা উপেক্ষা করা হলো।

আজ যেহেতু প্রথম দিন তাই বেশি কিছু আলোচনা করব না। কোন শিক্ষাব্যবস্থা কতগুলো ক্লাস নিয়ে গঠিত এবং ক্লাসগুলোকে কি বলে অভিহিত করা হয় সে বিষয়েই আলোকপাত করব। শুরুতেই বেশি খেয়ে ফেললে বদ হজম হওয়ার সম্ভাবনা থাকে তাই প্রথমদিন অল্প কিছু দিয়েই শুরু করি। প্রথমে স্কুল তারপরে আলিয়া মাদরাসা এবং সর্বশেষ কওমি মাদরাসা এভাবে পর্যায়ক্রম রক্ষা করব। তাহলে বোঝার ক্ষেত্রে সহজ হবে। কেননা স্কুল-কলেজ এবং আলিয়া মাদ্রাসার ক্লাসসমূহ প্রায় সাদৃশ্যপূর্ণ, বলা চলে একেবারেই সদৃশ। সে তুলনায় কওমি মাদরাসার ক্লাসসমূহের নাম ও ক্রম কিছুটা ভিন্ন।



সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা:

সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থায় মূলত চারটি প্রধান স্তর আছে। ক্রমানুসারে সাজালে এমন দাঁড়ায়:

১. প্রাথমিক স্তর:

১ম শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত। ৫ম শ্রেণিতে গিয়ে প্রাথমিক শিক্ষা সমাপনী পরিক্ষা (PSC-Primary School Certificate Examination) দিতে হয় সরকারি বোর্ডের অধীনে। এই পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরে তারা মাধ্যমিক স্তরে প্রবেশ করে।

২. মাধ্যমিক স্তর:

নিম্ম মাধ্যমিক স্তর:

৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত। ৮ম শ্রেণিতে গিয়ে এর মধ্যে আরেকটি বোর্ড পরিক্ষায় উপনীত হতে হয় সকল শিক্ষার্থীকে। এ পরিক্ষাকে বলা হয় জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট পরিক্ষা (JSC-Junior School Certificate Examination)। এ পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তারা নিম্ন মাধ্যমিক স্তর থেকে মাধ্যমিক স্তরে উপনীত হয়।

মাধ্যমিক স্তর:

৯ম এবং ১০ম শ্রেণিকে একত্রে মাধ্যমিক স্তর বলা হয়। ১০ম শ্রেণিতে গিয়ে সর্বশেষ মাধ্যমিক (SSC-Senior School Certificate Examination) পরিক্ষায় অংশগ্রহণ এবং পাস করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের স্কুল জীবন শেষ করে।

৩.উচ্চমাধ্যমিক স্তর:

একাদশ শ্রেণি থেকে দ্বাদশ শ্রেণি পর্যন্ত। এ স্তরে দ্বাদশ শ্রেণি শেষ করে শিক্ষার্থীরা উচ্চমাধ্যমিক পরিক্ষা (HSC-Higher Secondary School Certificate) - তে অংশগ্রহণ করে এবং পাস করার মাধ্যমে তাদের কলেজ জীবনের ইতি টানে।

৪.উচ্চশিক্ষা:

কলেজ জীবন শেষ করে শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় জীবনে প্রবেশের মাধ্যমে তাদের উচ্চশিক্ষার জগতে প্রথম পদার্পণ করে। উচ্চশিক্ষার ২টি স্তর রয়েছে।

১. অনার্স বা স্নাতক: ৪ বছর মেয়াদী কোর্স এবং ডিগ্রির ক্ষেত্রে ৩ বছর মেয়াদি কোর্স।
২. মাস্টার্স বা স্নাতকোত্তর: ১ বছর মেয়াদী কোর্স এবং ডিগ্রির ক্ষেত্রে ২ বছর মেয়াদী কোর্স।

মাস্টার্স শেষ করার মাধ্যমে সকলে সকল প্রকার আনুষ্ঠানিক শিক্ষার ইতি টানে। এবং এই সর্বমোট আনুষ্ঠানিক শিক্ষাবছরের সময়কাল হচ্ছে ১৭ বছর। অনার্স শেষ করে মাস্টার্স পড়াকালীন অনেকে এমফিল গবেষণা করে থাকে। এরপর মাস্টার্স শেষ হলে যারা পিএইচডি বা উচ্চতর গবেষণার সুযোগ পায় তারা আরও ৫ বছর মেয়াদি বা আরও বেশি সময় ধরে তাদের গবেষণা কার্য চালিয়ে যায়। তবে এটা ঐচ্ছিক ব্যাপার এবং সকলে সুযোগ পায় না। অসাধারণ রেজাল্ট না থাকলে পিএইচডি করার সুযোগ মেলা ভার। মোটামুটি এই হলো জেনারেল শিক্ষা ব্যবস্থার চিত্র।

মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা:



মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থার মধ্যে প্রধানত দুটি ধারা চলমান। এবং বাংলাদেশে এই দুই ধারার মাদরাসা ব্যতীত অন্যকোনো মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থা নেই। থাকলেও সেগুলো মূলধারার মাদরাসা নয়।

আলিয়া মাদরাসা:



আলিয়া মাদরাসা শিক্ষাব্যবস্থায় ৫টি স্তর চালু আছে। তবে স্তরগুলোর নাম সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা থেকে আলাদা। ক্রমানুসারে সাজালে এমন দাঁড়ায়:

১. ইবতেদায়ী বা প্রাথমিক স্তর:

১ম শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত। ৫ম শ্রেণিতে গিয়ে ইবতেদায়ী শিক্ষা সমাপনী পরিক্ষা (Ebtedayee Education Completion Examination) দিতে হয় সরকারি মাদরাসা বোর্ডের অধীনে। এই পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়ার পরে তারা ষষ্ঠ শ্রেণিতে উত্তীর্ণ হয়।

২. দাখিল বা মাধ্যমিক সমমান স্তর:

নিম্ন মাধ্যমিক স্তর:

৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত। ৮ম শ্রেণিতে গিয়ে এর মধ্যে আরেকটি বোর্ড পরিক্ষায় উপনীত হতে হয় সকল শিক্ষার্থীকে। এ পরিক্ষাকে বলা হয় জুনিয়র দাখিল সার্টিফিকেট পরিক্ষা (JDC-Junior Dakhil Certificate Examination)। এ পরিক্ষায় পাস করার পর তারা নিম্মমাধ্যমিক স্তর থেকে উত্তীর্ণ হয়ে মাধ্যমিক স্তরে উপনীত হয়।

মাধ্যমিক স্তর:

৯ম এবং ১০ম শ্রেণিকে একত্রে দাখিল বা মাধ্যমিক স্তর বলা হয়। ৯ম শ্রেণি শেষ করে ১০ম শ্রেণিতে গিয়ে সর্বশেষ দাখিল বা সমমান (Dakhil Examination) পরিক্ষায় অংশগ্রহণ এবং পাস করার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা পরবর্তী ধাপ আলিম বা উচ্চমাধ্যমিক সমমান স্তরে প্রবেশ করে।

৩. আলিম বা উচ্চমাধ্যমিক সমমান স্তর:

আলিম ১ম বর্ষ এবং আলিম ২য় বর্ষ নিয়ে গঠিত আলিম স্তর। এটাকে সহজ বাংলায় একাদশ শ্রেণি এবং দ্বাদশ শ্রেণি বলা হয়। এ স্তরে আলিম ২য় বর্ষ শেষ করে শিক্ষার্থীরা আলিম বা উচ্চমাধ্যমিক সমমান (Alim Examination) পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করে এবং পাস করার মাধ্যমে তাদের জ্ঞানের বিস্তৃত জগতে প্রবেশ করে।

এখানে কিছু কথা না বললেই নয়। জেনারেল এবং কওমি মাদরাসার ছাত্রদের থেকে আলিয়া মাদরাসার শিক্ষার্থীদের পার্থক্য এখানেই পরিলক্ষিত হয়। কেননা আলিম যেহেতু উচ্চমাধ্যমিক সমমানের সেহেতু আলিয়া মাদরাসার একজন ছাত্র ইচ্ছা করলে আলিম শেষ করে অন্য সকল জেনারেল শিক্ষার্থীদের মত পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের ভর্তি যুদ্ধে অবতীর্ণ হতে পারে। এবং ভর্তি পরীক্ষায় চান্স পেয়ে সে বিশ্ববিদ্যালয় জগতে প্রবেশ করে। পাশাপাশি অনেকে একই সাথে বিশ্ববিদ্যালয়ে অনার্সে ভর্তি হওয়ার পাশাপাশি আলিয়া মাদরাসার পরবর্তী ধাপ ফাজিল বা স্নাতক এবং ডিগ্রি সমমান স্তরে ভর্তি হয়। অর্থাৎ, একই সাথে সে সাধারণ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে যেকোন বিষয়ে অনার্স করতে পারে এবং পাশাপাশি মাদরাসা থেকে ফাজিল তথা স্নাতক এবং ডিগ্রি সমমানের কোর্সে অংশগ্রহণ করতে পারে। আবার যেসব ছাত্র কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ে চান্স পায় না তাদের অনেকেই জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়সমূহে ভর্তি হয় অথবা উচ্চশিক্ষার জন্য বাহিরে চলে যায়। কিন্তু পাশাপাশি তারা ফাজিল তথা স্নাতক সমমান এবং তার পরবর্তী ধাপ কামিল তথা স্নাতকোত্তর সমমান পর্যায়ে ভর্তি হয়ে থাকে এবং পরিক্ষার সময়ে পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করে। অনেকে আবার কোনো বিশ্ববিদ্যালয়মুখী না হয়ে শুধু ফাজিল ও কামিল পড়ে।

৪. ফাজিল বা স্নাতক এবং ডিগ্রী সমমান স্তর:

ফাজিলের মধ্যে আবার ২টি স্তর আছে। একটি ফাজিল অনার্স এবং আরেকটি ফাজিল ডিগ্রি। ফাজিল অনার্সের মেয়াদ ৪ বছর। যেটা স্নাতক পর্যায়ের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। অার ফাজিল ডিগ্রি এর মেয়াদ ৩ বছর। যেটি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ডিগ্রির সমমর্যাদার। এখন চাইলে যে কেউ ফাজিল অনার্স পড়তে পারে অথবা ফাজিল ডিগ্রি পড়তে পারে। সেটি নির্ভর করছে কে কোনটি পড়তে ইচ্ছুক তার উপর। ফাজিলের পরে আসে কামিল।

৫. কামিল বা স্নাতকোত্তর এবং স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সমমান:

কামিল যেটি মাস্টার্সের সমমান সেটি ১ বছর মেয়াদী কোর্স। এবং যেটি ডিগ্রির সমমান সেটি ২ বছর মেয়াদি কোর্স। কামিল শেষ করার মাধ্যমে সকলে তার আলিয়া শিক্ষা জীবনের সমাপ্তিতে পৌঁছে যায়। সর্বমোট আলিয়া শিক্ষাবছরের সময়কালও হচ্ছে জেনারেল শিক্ষাব্যবস্থার মত ১৭ বছর।

২০০৬ সালে তৎকালীন সরকার ফাজিল ও কামিলকে স্নাতক ও স্নাতকোত্তরের মান দেয়। এবং ২০১৫ সালের আগ পর্যন্ত সমগ্র দেশের ফাজিল ও কামিল পরিক্ষা নিয়ন্ত্রিত হতো ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া-এর অধীনে। এবং ইসলামি বিশ্ববিদ্যালয় কুষ্টিয়া কর্তৃক সার্টিফিকেট প্রদান করা হতো। কিন্তু সদ্য প্রতিষ্ঠিত ইসলামি আরবী বিশ্ববিদ্যালয়কে ২০১৫-১৬ শিক্ষাবর্ষ থেকে দেশের সকল স্নাতক (ফাজিল) ও স্নাতকোত্তর (কামিল) মাদ্রাসাগুলোর অধিভুক্তি, পাঠ পরিচালনা, পরীক্ষা গ্রহণ, পরিদর্শন ও কোর্স অনুমোদনসহ সকল শিক্ষা কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এখন থেকে সার্টিফিকেটও এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রদান করা হবে। এটা হলো আলিয়া মাদরাসার চিত্র।

কওমি মাদরাসা



কওমি মাদরাসার স্তরগুলোকে সাধারণত মোট ৬টি ভাগে ভাগ করা যায়। যদি পর্যায়ক্রমিকভাবে সাজাই তাহলে এমন হবে:

১. তাহফিজুল কুরআন স্তর:

অধিকাংশ কওমি মাদরাসার সাথে একটি করে হেফজ বিভাগ সংযুক্ত থাকে। তবে দেশের বিভিন্ন জায়গায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক স্বতন্ত্র হেফজ মাদরাসা দেখা যায় যেগুলো কোনো কওমি মাদরাসার সাথে যুক্ত না। তবে সাধারণত হেফজ বিভাগকে কওমি মাদরাসায় প্রবেশের প্রথম দ্বার হিসেবে গণ্য করা হয়। এ স্তরে ছাত্ররা পবিত্র কুরআন মুখস্ত করে। এবং পরবর্তীতে বিভিন্ন ক্লাসে পুরো কুরআনের বঙ্গানুবাদ আত্মস্থ করে থাকে। এ স্তরকে যদিও কওমি মাদরাসার কোনো ক্লাস হিসেবে ধরা হয় না। অতিরিক্ত সময়কাল হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে।

২. ইবতেদায়ী বা প্রাথমিক স্তর:

১ম শ্রেণি থেকে ৫ম শ্রেণি পর্যন্ত পর্যায়কে ইবতেদায়ী বলা হয়। যেটা সাধারণ শিক্ষাব্যবস্থা ও আলিয়া মাদরাসার সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ। তবে সাধারণত কওমি মাদরাসার ক্ষেত্রে ক্লাস শব্দ ব্যবহার না করে জামাত শব্দ ব্যবহার করা হয়। আমরা যেমনটা জিজ্ঞাসা করি তুমি কোন ক্লাসে পড়ো? কিন্তু এখানে তেমনটা জিজ্ঞাসা না করে জিজ্ঞাসা করা হয় তুমি কোন জামাতে পড়ো? পঞ্চম শ্রেণিতে গিয়ে কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়ার অধীনে একটি বোর্ড পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। যদিও এই বোর্ড পরিক্ষা সরকার কর্তৃক স্বীকৃত না। এবং প্রাথমিক স্তরের সমমান দেয়া হয় না। কওমি মাদরাসায় দাওরা হাদিসকে শুধুমাত্র মাস্টার্সের মর্যাদা দেয়া হয়েছে। উল্লেখ্য যে কওমি মাদরাসার একাধিক শিক্ষাবোর্ড আছে। যেগুলো একেকটা একেক পদ্ধতিতে পরিচালিত হয়। তবে সবথেকে প্রধান যে বোর্ড সেটি হলো বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া। সমগ্র আলোচনায় ঝামেলা এড়ানোর জন্য আমরা বেফাকের আলোকে ক্লাস বা জামাত যেভাবে ভাগ করা হয়েছে সেটা নিয়ে আলোচনা করব।

৩. মুতাওয়াসসিতাহ বা নিম্ন মাধ্যমিক স্তর:

এটি হলো ৬ষ্ঠ শ্রেণি থেকে ৮ম শ্রেণি পর্যন্ত। একত্রে এ জামাতগুলোকে মুতাওয়াসসিতাহ বলা হয়ে থাকে। অষ্টম শ্রেণিতে গিয়ে ছাত্ররা আবার আরেকটি বোর্ড পরিক্ষার সম্মুখীন হয়। বোর্ড পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হয়ে তারা মাধ্যমিক স্তরে উন্নীত হয়।

৪. আল মারহালাতুস সানাবিয়্যাহ আল আম্মাহ বা মাধ্যমিক স্তর:

এ জামাত ২টি বর্ষ নিয়ে গঠিত। ১ম বর্ষকে নবম শ্রেণি হিসেবে ধরা হয় এবং ২য় বর্ষকে ১০ম শ্রেণি হিসেবে গণ্য করা হয়। ১০ম শ্রেণি শেষ করে ছাত্ররা আবারও আরেকটি বোর্ড পরিক্ষার সম্মুখীন হয়। এবং এ পরিক্ষায় পাশ করার পর তারা উচ্চমাধ্যমিক স্তরে প্রবেশ করে।

৫. আল মারহালাতুস সানাবিয়্যাহ আল উলইয়া বা উচ্চ মাধ্যমিক স্তর:

এ জামাতও ২ বর্ষ নিয়ে গঠিত। ১ম বর্ষকে একাদশ শ্রেণি এবং ২য় বর্ষকে দ্বাদশ শ্রেণি হিসেবে গণ্য করা হয়ে থাকে। ২য় বর্ষ শেষে ছাত্ররা বোর্ড পরিক্ষায় অংশ নেয়। পরিক্ষায় উত্তীর্ণ হওয়া পূর্বক ছাত্ররা ফযীলত স্তরে উপনীত হয়। বলে রাখা ভালো যেহেতু কওমি মাদরাসার তাকমীল বা মাস্টার্স ব্যতীত অন্য কোনো ক্লাসের স্বীকৃতি দেয়া হয়নি সেহেতু ছাত্ররা কওমি মাদরাসা থেকে উচ্চমাধ্যমিক শেষ করে কোনো প্রকার বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির সুযোগ পায় না। এমনকি আলিয়া মাদরাসার ফাজিল স্তরেও ভর্তি হওয়ার অবকাশ থাকে না।

৬. মারহালাতুল ফযীলত বা স্নাতক ডিগ্রি সমমান:

এ জামাতের মেয়াদ ২ বছর। অর্থাৎ, ২ বছর পড়েই অনার্সের সমান মান পাওয়া যাবে। আলিয়া মাদরাসার ফাজিল এবং সাধারণ বিশ্ববিদ্যালয়ের স্নাতক কোর্সের মেয়াদের সাথে কওমি মাদরাসার ফযীলত বা স্নাতক ডিগ্রির কোর্সের মেয়াদের তারতম্য এখানেই। যেখানে অন্য ছাত্ররা ৪ বছর পড়ার পরে স্নাতক সম্মানধারী হবে সেখানে কওমি মাদরাসার ছাত্ররা ২ বছর পড়েই তার সমমর্যাদার স্বীকৃতি পাবে। তবে এ জামাতে বোর্ড পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়।

৭. মারহালাতুত তাকমীল বা স্নাতকোত্তর ডিগ্রি সমমান:

এ জামাতের মেয়াদও ২ বছর। ১ম বর্ষ এবং ২য় বর্ষ নিয়ে গঠিত। এক্ষেত্রে সাধারণ মাস্টার্সের সময়কালের সাথে কওমি মাদরাসার মাস্টার্সের সময়কাল সাদৃশ্যপূর্ণ। কেননা সাধারণ মাস্টার্স ডিগ্রির মেয়াদও ২ বছর। এবং এ জামাতের শেষে বেফাকের অধীনে বোর্ড পরিক্ষা অনুষ্ঠিত হয়। তবে সরকারি সনদ এবং স্বীকৃতি মিললেও এখনো পর্যন্ত কওমি মাদরাসাগুলো কোনো প্রকার সরকারি শিক্ষাবোর্ড অথবা সরকারি কোনো পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত হয় নি। সুতরাং, এ সনদের মান নিয়ে এখনও প্রশ্ন থেকে যায়। অনেকে এ স্বীকৃতির মান নিয়ে এখনও প্রশ্ন তুলছে।

এই হলো কওমি মাদরাসার সকল জামাতের ক্রম ও বৃত্তান্ত। সর্বমোট শিক্ষাবছরের সময়সীমা হচ্ছে ১৬ বছর। উল্লেখ্য কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বেফাকের হিসেব অনুযায়ী হেফজ পড়াকালীন সময়কালকে কোনো জামাতের অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। যার যে কয় বছর সময় লাগে হেফজ পড়তে তার সে সময়কাল উক্ত ১৬ বছরের সাথে যুক্ত হবে। এছাড়া বোর্ডের তারতম্যের কারণে কওমি মাদরাসার জামাতের শ্রেণিকরণের ক্ষেত্রে পরিবর্তন লক্ষ্য করা যেতে পারে। তাছাড়া কওমি মাদরাসার মধ্যে আবার লং কোর্স এবং শর্ট কোর্স বলে ২টি পদ্ধতি চালু আছে। উপরে যে পদ্ধতি নিয়ে আলোচনা করা হলো সেটা লং কোর্স। শর্ট কোর্সের মেয়াদ সাধারণত ৭ বছর। এবং শর্ট কোর্সকে মাদানি নিসাব বলা হয়ে থাকে। শর্ট কোর্সে অনেক অপ্রয়োজনীয় জামাত বাদ দিয়ে সময়সীমা কমিয়ে আনা হয়েছে। উপরে বর্ণিত অন্যান্য শিক্ষাব্যবস্থার সাথে তুলনামূলক পার্থক্য বর্ণনার খাতিরে শর্ট কোর্স নিয়ে আলোচনা পরিত্যাগ করা হলো।

সামনের পর্বে উপরোক্ত শিক্ষাব্যবস্থাসমূহের পাঠ্য বই অর্থাৎ, কোন কোন ক্লাসে কি কি বই পড়ানো হয় এবং পড়ালেখার ধরণ কিরুপ তা নিয়ে তুলনামূলক বিস্তারিত আলোচনা করব। সে পর্যন্ত আপনাদেরকে পাশে পাব বলে আশা রাখি। পোস্ট সম্পর্কে আপনাদের সকল ধরণের মতামত পেশ করার আহ্বান জানাচ্ছি। সর্বশেষ, পোস্টটি নিজ দায়িত্বে পড়বেন এবং পড়ার পর কোনো প্রকার বদহজম হলে লেখক দায়ী থাকবে না। :)

মন্তব্য ২৭ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (২৭) মন্তব্য লিখুন

১| ২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১১:০৬

মো: নিজাম উদ্দিন মন্ডল বলেছেন: প্রেজেন্ট স্যার।:)

২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১১:১৯

নাঈম মুছা বলেছেন: হাহাহা নিজাম ভাই ধন্যবাদ আপনার উপস্থিতির জন্য। ভাবলা যেহেতু বেশ কদিন হলো ব্লগপাড়ায় আসিনা সুতরাং হয়ত ভুলে গেছেন। যাক মনে রেখেছেন তাহলে। ভালো লাগল। পোস্ট সম্পর্কিত মতামত আশা করছিলাম আপনাদের মত গুণী, বিদগ্ধ পাঠক ও লেখককুলের কাছ থেকে। আশা করি হতাশ করবেন না।

২| ২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১১:১৭

সোহাগ তানভীর সাকিব বলেছেন: বেশ ভালো আলোচনা।

২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১১:২১

নাঈম মুছা বলেছেন: ধন্যবাদ সাকিব ভাই। পাশে থাকবেন সবসময়।

৩| ২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১১:১৭

নতুন নকিব বলেছেন:



পরিশ্রমী পোস্ট নি:সন্দেহে। মোবারকবাদ।

কন্টিনিউ করার অনুরোধ থাকলো।

২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১১:২৪

নাঈম মুছা বলেছেন: শুকরিয়া নকিব ভাই। পুরো একটি রাত ব্যয় হয়েছে। তাহলে তো অবশ্য বলাই যায় যতসামান্য হলেও পরিশ্রম হয়েছে। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য। পাশে থাকবেন।

৪| ২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১১:২১

সৈয়দ তাজুল বলেছেন: হ্যা, অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বটে। আমরা যখন ভার্সিটি পড়তাম, তখন একবার উদ্যোগ নিয়েও সফল হতে পারিনি।

ক্বাওমি মাদ্রাসার ৩য় ও ৪র্থ স্টেপে নিম্ন মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষা বোর্ডে অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে
বেফাকুল মাদারিসুল আরাবিয়া ছাড়াও আরও একাধিক বোর্ড রয়েছে, যেগুলোতে এই পরীক্ষার নিয়ম চালু আছে। আপনে চাইলে আপনার লেখায় এটা এড করে নিতে পারেন।

২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১১:২৭

নাঈম মুছা বলেছেন: শুকরিয়া। আপনার অপেক্ষাই করছিলাম এতক্ষণ। আমি তথ্যগুলো পরিমার্জন করে নিচ্ছি। তবে কি বিষয়ে উদ্যোগের কথা বললেন যেন ভাই? একটু বিস্তারিত বলুন তো। নতুন কিছু হয়ত জানতে পারব।

৫| ২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১১:৩৪

মো: নিজাম উদ্দিন মন্ডল বলেছেন: প্রথম বারে হাজিরা দিয়েছি। তারপর আপনার ক্লাস করলাম। দারুন লিখেছেন। তবে ডিপ্লোমা, ডিগ্রী, --- বাদ পড়েছে।

#বিএসসি কোর্সকে (৪ বছর), অনার্স/ অনার্স(সম্মান) বলা যায়???

২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১১:৫১

নাঈম মুছা বলেছেন: আলোচনা দীর্ঘ হয়ে যাবে এ কারণে ডিপ্লোমা কোর্সকে সামনে আনিনি। দ্বিতীয়ত ডিপ্লোমা কোর্স ৪ বছর মেয়াদী হলেও তাকে স্নাতকের সমান মান দেয়া হয় না। তবে ডিগ্রি বা পাস কোর্স নিয়ে তো আলোচনা করেছি উপরে সংক্ষেপে এককথায়।

#উইকিপিডিয়া অনুসারে ৪ বছর মেয়াদি যেকোনো কোর্সকে অনার্স বা স্নাতক বলা যাবে। তবে কোনো দেশের সরকার এরকম ৪ বছর মেয়াদী কোনো কোর্সের স্নাতক মান না দিলে সেটা আলাদা কথা। যেমনটা আমাদের দেশে ডিপ্লোমা ডিগ্রিকে দেয়া হয় না। তবে বিএসসি কোর্সকে অনার্স বা সম্মান বলা যাবে না কেন? কেননা কলা বা মানবিক ধারায় স্নাতক ডিগ্রির নাম বি.এ, চারুকলা ধারায় বি.এফ.এ , অন্যদিকে সামাজিক বিজ্ঞান ধারায় বি.এস.এস, বিজ্ঞান ধারায় বি.এসসি এবং ব্যবসায় শিক্ষা ধারায় বি.কম. বা বি.বি.এস নামে স্নাতক ডিগ্রি দেয়া হয়। সুতরাং, বিএসসি কোর্সকে অনার্স বা সম্মান বলা যাবে না কেন? এটা না বলে কি অন্য কিছু বলতে হবে? ক্লিয়ার করবেন বিষয়টা। আমার জানার ঘাটতি থাকতে পারে। ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

৬| ২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১১:৩৭

সম্রাট ইজ বেস্ট বলেছেন: দরকারি পোস্ট। আপনার পরিশ্রম সার্থক হোক।

২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১১:৫২

নাঈম মুছা বলেছেন: ধন্যবাদ বেস্ট ভাই। পাশে থাকবেন সবসময়।

৭| ২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১১:৪৩

অনন্য দায়িত্বশীল আমি বলেছেন: অনেক কিছু জানলাম।

২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১১:৫৩

নাঈম মুছা বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

৮| ২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ সকাল ১১:৪৮

সৈয়দ তাজুল বলেছেন: আমরা উদ্যোগ নিয়েছিলাম, এ বিষয়ে বিস্তারিত রিসার্চের। কিন্তু সময় সুযোগে হয়ে উঠেনি।

আপনার উদ্যোগ ভাল, চালিয়ে যান। হ্যা, ঢাকায় পাকিস্তানি তরিকার কিছু মাদ্রাসা আছে যেগুলো না ক্বাওমি না আলিয়া। এরা মাজারে মাজারে ভণ্ডামি করে বেড়ায়। এরা সবুজের মত এক ধরনের পাঞ্জাবি ও পাগরি ব্যবহার করে, যা সুন্নতের খেলাফ। ইসলাম কখনো সর্বাবস্থায় পাগড়ি লাগিয়ে রাখতে বলেনি। আপনি ওদের শিক্ষা ব্যবস্থা সম্পর্কে একটু খোঁজ নিতে পারেন।

আর হ্যা, আমাদের ভার্সিটি লেভেলের শিক্ষা ব্যবস্থা কিন্তু মাদ্রাসাগুলোর মত এত বিক্ষিপ্ত না। এক হতে না পারা ওদের জন্য অমঙ্গলের।

২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ দুপুর ১২:৩৪

নাঈম মুছা বলেছেন: আসলে ফোরকানিয়া, নিজামিয়া, মুজাদ্দেদিয়া এই টাইপের আরও বেশ কিছু মাদরাসা আছে। তারা অনেকটা সমাজের মাঝে আগাছার মত বেড়ে উঠছে। আলোচনার মধ্যে তাদেরকে আর টেনে আনি। কারণ তাদের নিয়ে আলোচনা করতে গেলে আলোচনার মূল বিষয় থেকে ছিটকে যেতে হবে। এজন্যে আপতত ওরা ওদের মত থাক। পরবর্তীতে কখনো যদি সময় সুযোগ হয় তাহলে ওদেরকে নিয়ে স্বতন্ত্রভাবে আলোচনা করা যাবে।

হুম, ভার্সিটি লেভেলের শিক্ষাব্যবস্থা পুরোটাই সুশৃঙ্খল এবং গোছালো। পক্ষান্তরে আলিয়া মাদরাসাসমূহের শিক্ষা কার্যক্রমও গোছালো এবং সংবদ্ধ। দেশের সমগ্র আলিয়া মাদরাসাগুলো আলিম বা উচ্চমাধ্যমিক শ্রেণি পর্যন্ত একটি মাত্র সরকারি বোর্ড, বাংলাদেশ মাদরাসা শিক্ষাবোর্ডর অন্তর্ভূক্ত। এবং ফাজিল ও কামিল শ্রেণির কার্যক্রম নিয়ন্ত্রণের জন্য সরকার সম্পূর্ণ স্বতন্ত্র একটি বিশ্ববিদ্যালয় তৈরি করেছে ইসলামি আরবি বিশ্ববিদ্যালয় নামে। কিন্তু বিক্ষিপ্তভাব লক্ষ্য করা যায় কওমি মাদরাসাসমূহের ক্ষেত্রে। সারা দেশের আনাচে কানাচে কত হাজার কওমি মাদরাসা যে আছে তার সঠিক হিসাব মনে হয় তাদের বোর্ডগুলোও জানেনা। একটি রাষ্ট্রের কিছু কিছু বিষয় থাকে যেগুলো সরকারি হস্তক্ষেপ ব্যতীত জনগণের পক্ষে চালনা করাটা সুশৃঙ্খলভাবে সম্ভবপর হয়ে উঠে না। তন্মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থা অন্যতম। বাংলাদেশই মনে হয় বিশ্বের একমাত্র বিরল দেশ যেখানে মোট জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ সরকারি হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত শিক্ষাব্যবস্থার সাথে জড়িত। তাছাড়া তারা নিজস্ব স্বকীয়তা নষ্ট হয়ে যাবে এই ভয়ে সরকারি হস্তক্ষেপ পেতে নারাজ। তারা ভাবছে শুধু স্বীকৃতিটা নিলাম এতেই চলবে। কিন্তু এতেও যে তারা তাদের স্বকীয়তা বজায় রাখতে পারবে না সেটা নিশ্চিত। এবং তার প্রমাণও আস্তে আস্তে পাওয়া যাচ্ছে। গতকাল এক কওমি মাদরাসার খতমে বুখারি অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি করেছে এক হিন্দু নেতাকে। বিশেষ অতিথি করেছে একজন অধ্যাপিকাকে। সুতরাং, এতেই বোঝা যাচ্ছে অদূর ভবিষ্যতে তাদের অবস্থান কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে। এত কিছু দেখেও যদি তারা সরকারি সহায়তাও সব মাদরাসাগুলোকে একটি মাত্র বোর্ডের আওয়তায় না আনে তাহলে তারা নিজেরাই মারাত্মক ক্ষতির সম্মুখীন হবে তা বলার অপেক্ষা রাখে না।

৯| ২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ দুপুর ১:০১

কানিজ রিনা বলেছেন: অনেক অজানাকে জানা হোল, বেশ কষ্ট
করেছেন পোষ্টের জন্য অনেক অনেক ধন্যবাদ।

২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ দুপুর ১:৪২

নাঈম মুছা বলেছেন: আপনাকেও ধন্যবাদ মন্তব্যের জন্য। পাশে থাকবেন।

১০| ২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ দুপুর ২:৪২

জোবাইর বলেছেন: শিক্ষাব্যবস্থাসমূহের তুলনামূলক পার্থক্য নিয়ে লেখাটির জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ। বর্তমানে বিশেষ করে মাদ্রাসা ও কারগরি শিক্ষা বোর্ডের কারিকুলামগুলো সম্পর্কে অনেকের স্বচ্ছ ধারণা নেই! এই সিরিজটি পড়ে সাধারণ পাঠক ও নতুন প্রজন্মের শিক্ষার্থীরা উপকৃত হবে। আলিয়া, কওমি, স্কুল-কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থাসমূহের পাশাপাশি কারগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীনে পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজের কারিকুলামগুলোও তুলে ধরতে পারলে আরো ভালো হত।

২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৩:২৭

নাঈম মুছা বলেছেন: সবিশেষ প্রীত হলাম আপনার মূল্যবান মতামত ও মন্তব্যের জন্য। যেহেতু জোর দিয়ে বললেন সেহেতু সম্পূর্ণ আলাদা একটা পোস্টই লেখা যেতে পারে কারিগরি শিক্ষাবোর্ডের অধীনে পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট, টেকনিক্যাল স্কুল ও কলেজসমূহের কারিকুলাম নিয়ে। এমনকি এ ব্যাপারে আমারও স্বচ্ছ ধারণা নেই দুর্ভাগ্যবশত। ভালোমত জেনেশুনে সকল তথ্য যাচাই বাছাই করে খুব দ্রুতই এ বিষয়ের উপর একটি পোস্ট লিখব। আশা করি সে পর্যন্ত সাথে থাকবেন।

১১| ২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৩:৪৬

টারজান০০০০৭ বলেছেন: প্রধান ভাগগুলো আপনার লেখায় আসিয়াছে। পরের পোস্টে উপবিভাগুলো দিতে পারেন ! শুধু প্রধান ভাগগুলো থাকিলে আপনাকে বুঝি কম পরিশ্রম করিতে হইত। কিন্তু বিস্তারিত দিতে গেলে উপবিভাগগুলোও আনিতে হইবেক। ইংলিশ মিডিয়ামের মধ্যে ক্যামব্রিজ আইজিসিএসই,এডেক্সসেল, আইবি; সরকারি স্কুলের বাংলা মিডিয়াম , ইংলিশ ভার্সন, ক্যাডেট সিস্টেম , মিশন স্কুলিং; সরকারি মাদ্রাসার মধ্যে আলিয়া , ক্যাডেট মাদ্রাসা, কাদেরিয়া ; কওমি মাদ্রাসার মধ্যে দেওবন্দী, মাদানী, ক্যাডেট মাদ্রাসা ইত্যাদি।

স্বাভাবিক দৃষ্টিতে একমুখী শিক্ষা ব্যাবস্থাই সমাধান বলিয়া মনে হয়। কিন্তু বর্তমান শিক্ষাব্যাবস্থার অবস্থা দেখিয়া আমাদের বুদ্ধুজীবীদের প্রতি আস্থা রাখা যায় না।উনাদের হাতে পড়িলে উহা বানরের রুটি ভাগ করার মতন হওয়ার সম্ভাবনা আছে ! একমুখী শিক্ষাব্যাবস্থা প্রণয়ন করিলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতি হইবে কওমি মাদ্রাসা শিক্ষা ব্যাবস্থার।

১২| ২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৪:০৩

রাজীব নুর বলেছেন: ভালো পোষ্ট।

এই পোষ্ট স্টিকি করা যেতে পারে।

২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ বিকাল ৪:৫৮

নাঈম মুছা বলেছেন: ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

১৩| ২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ রাত ১০:১০

কাওসার চৌধুরী বলেছেন:

খুব সুন্দর বিশ্লেষণ। অনেক কিছু জানতে পারলাম।

২২ শে এপ্রিল, ২০১৮ রাত ১০:৫৭

নাঈম মুছা বলেছেন: অশেষ ধন্যবাদ আপনার মন্তব্যের জন্য।

১৪| ২৪ শে এপ্রিল, ২০১৮ দুপুর ১:২৭

টারজান০০০০৭ বলেছেন: কিন্তু বিক্ষিপ্তভাব লক্ষ্য করা যায় কওমি মাদরাসাসমূহের ক্ষেত্রে। সারা দেশের আনাচে কানাচে কত হাজার কওমি মাদরাসা যে আছে তার সঠিক হিসাব মনে হয় তাদের বোর্ডগুলোও জানেনা। একটি রাষ্ট্রের কিছু কিছু বিষয় থাকে যেগুলো সরকারি হস্তক্ষেপ ব্যতীত জনগণের পক্ষে চালনা করাটা সুশৃঙ্খলভাবে সম্ভবপর হয়ে উঠে না। তন্মধ্যে শিক্ষা ব্যবস্থা অন্যতম। বাংলাদেশই মনে হয় বিশ্বের একমাত্র বিরল দেশ যেখানে মোট জনসংখ্যার একটি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ সরকারি হস্তক্ষেপ ও নিয়ন্ত্রণ বহির্ভূত শিক্ষাব্যবস্থার সাথে জড়িত। তাছাড়া তারা নিজস্ব স্বকীয়তা নষ্ট হয়ে যাবে এই ভয়ে সরকারি হস্তক্ষেপ পেতে নারাজ। তারা ভাবছে শুধু স্বীকৃতিটা নিলাম এতেই চলবে।

কওমি মাদ্রাসার অবস্থান বুঝিতে হইলে আপনাকে তাহাদের উৎপত্তি ও ইতিহাস জানিতে হইবে ! ১৮৫৭ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের ব্যার্থতার ফলে ব্রিটিশ সরকার মুসলমানদের উপর যে গণহত্যা, অত্যাচার চালায় , আলেম ওলামাদের উপর যে নৃশংস হত্যাকান্ড ও অত্যাচার চলে, মাদ্রাসাগুলোর ওয়াকফ সম্পত্তিগুলো অধিগ্রহণ করে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে বিলীন করার অপচেষ্টা করে, তাহারই প্রেক্ষিতে কওমি মাদ্রাসার সূতিকাগার দেওবন্দ মাদ্রাসার উৎপত্তি। উপমহাদেশের কওমি মাদ্রাসা গুলো চলে দেওবন্দের মূলনীতিগুলোর উপর। দেওবন্দের মূলনীতিগুলোর একটি হইল সরকারি অনুদান , হস্তক্ষেপ হইতে মুক্ত থাকা ! বিক্ষিপ্তভাবে হইলেও তাহাদের স্বাতন্ত্র্য বজায় ছিল সরকারি হস্তক্ষেপ না থাকার কারণেই ! না হইলে তাহাদের অবস্থা আলিয়ার মতোই খালিয়া হইয়া যাইত, যাহার প্রথম ২৯ জন প্রিন্সিপালই ছিলেন ইংরেজ খ্রিস্টান ! এ যেন মেডিকেল কলেজের প্রিন্সিপাল একজন ইঞ্জিনিয়ার ! হাস্যকর ! সরকারি হস্তক্ষেপ আলিয়ার জন্য বানরের রুটি ভাগ করার মতন হইয়াছে ! 'দুনিয়াও হইবে আখেরাতও হইবে ' ইহা করিতে গিয়া না দুনিয়া হইয়াছে, না আখেরাত হইয়াছে ! তবে ব্যাতিক্রম আছে। যাহারা আল্লাহওয়ালা ও তাহাদের সিলসিলার সাথে সম্পর্ক রাখিয়াছেন তাহারা ভালোই করিয়াছেন।

আমাদের কওমি কতৃপক্ষ সরকারি নিয়ন্ত্রণের বাহিরে স্বীকৃতি চাহিয়াছেন অনেক কারণে ! এক হইল তাহারা বানরের হাতে রুটি ভাগ করিতে দিতে চাহেন না! দ্বিতীয়ত, ভারত ও পাকিস্তানে দেওবন্দ সিলসিলার মাদ্রাসাগুলো সরকারি স্বীকৃত কিন্তু সরকারি হস্তক্ষেপ বিহীন। আমাদের দেশের মাদ্রাসা কতৃপক্ষও তাহা চাহিতেছেন !
তবে আপনার সাথে এবিষয়ে একমত যে, সমস্ত কওমি মাদ্রাসা এক বা একাধিক বোর্ড বা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে আনা উচিত। নিরাপত্তার খাতিরেই ইহা করা প্রয়োজন। নাজুক বিশ্বপরিস্থিতির কারণে কওমি কতৃপক্ষের তীক্ষ্ন নজর রাখা দরকার, ঐক্যবদ্ধ থাকা দরকার। না হইলে শত্রুরা সুযোগ লইতে পারে ! কিছু অর্বাচীনের কারণে জঙ্গিবাদের ধুঁয়া তুলিয়া পুরো কমিউনিটিকেই ধ্বংস করার চেষ্টা করিতে পারে যেহেতু ইহারা এখন রাজনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ হইয়া উঠিয়াছে , যদিও আমার পছন্দ নহে। আমি এমনকি সরকারি স্বীকৃতিও পছন্দ করিনা !

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.