নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সাধু নয়, দুষে গুনে মানুষ।

তারেক মাহমুদ এমডি

তারেক মাহমুদ এমডি › বিস্তারিত পোস্টঃ

মনোবিকার

০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:০৮



মেলা দিন আগের ঘটনা। আমার এক হিন্দু বন্ধুরে আরেক মুসলমান বন্ধু তার বাড়িতে দাওয়াত করে নিয়া নুডলস এর সাথে সাথে ভোনা করা গরুর মাংস খাওয়াই দিছিলো। হিন্দু বেচারা বিষয়টা জানতেও পারেনি। কিন্তু কিছুদিন পর কলেজে কি একটা বিষয় নিয়া তাদের দুজনের মধ্যে বাধানুবাদ হওয়াতেই মুসলমান বন্ধুটি হাটে হাড়ি ভেঙে দেয়। আমরা বিষয়টা জানতে পেরে খুব মর্মাহত বোধ করি। একজনের বিশ্বাস কিংবা রুচি নাই এমন জিনিস তারে জোর করে খাওয়ানো চরম অন্যায়। তাছাড়া কারো উপর নিজ বিশ্বাস চাপিয়ে দেয়ার কথাও তো ইসলাম ধর্মের কোথাও বলা হয়নি। এসব শোনার পর মুসলমান বন্ধুটি আমাদের অবাক করে দিয়ে বলল যে, সে জানে হিন্দুরে জোর করে গরু মাংস খাওয়ানোতে কোন পূন্য নাই বরং পাপও হইতে পারে! তবে কাজটা সে সওয়াবের আশায় করে নাই। এইটা তার একটা শখ। এই শখের একটা ডাইরীও আছে তার কাছে। সেখানে টার্গেটও আছে। আমাদের পরিচিত বেশীরভাগ হিন্দুর নাম নাকি সে ডাইরিতে উঠিয়ে রেখেছে। এখন তার টার্গেট হচ্ছে সেঞ্চুরীটা পুরণ করা!

নানান মানুষের নানান কিসিমের শখ থাকতেই পারে। কিন্তু সব মানুষের শখ কি আর নিখাদ অনুরাগ থেকে হয়? কিছু মানুষ তো শখের নামে তার বিকৃত মানসিকতাকেই লালন করে চলে। শখ বললেও এরা মূলত মনোবিকারগ্রস্থ মানুষ। আর মনোবিকারগ্রস্থ মানুষমাত্রই কুৎসিত, বিদঘুটে, ভয়ঙ্কর জিনিসগুলোতেই আনন্দ পায়। শখ মেটানোর নামেই হোক আর বাহদুরী প্রকাশের নামেই হোক হিন্দুরে জোর করে গরু খাওয়ানোর ব্যপারটা স্পষ্টতই অন্যায়। আমার এই শখওয়ালা বন্ধুটি বিকৃতিগ্রস্থ হওয়াতে এখানে ন্যায় অন্যায়বোধের তোয়াক্কা করে নাই বরং এইটারে নিজের একটা বহাদুরী মনে করে বিকৃত আনন্দ লাভ করেছে।

এরকম মনোবিকারগ্রস্থ আরেক বাঙালী বাহাদুরের দেখা পেয়েছিলাম ইংল্যন্ডে। এই বাহাদুর লন্ডনে একটা মদের বারে কাজ করতো। সে মদখোরের মদ খাওয়াকে গু-মুত খাওয়ার মত নিকৃষ্ট মনে করলেও নিজে সেখানে কাজ করে যে পয়সা কামাই করত তা হালাল মনে করত। যাই হোক, তার বর্ণনামতে দশবছরের কর্ম জীবনে বহু মদখোরকেই নাকি সে নিজের মুত খাওয়াইছে! লেট নাইটে কাস্টমার এলে একটু বেশী মাতাল থাকে আর সেই সুযোগে নাকি বিয়ারের পাইন্টের সাথে কিছু প্রস্রাব মিশিয়ে দিত!

মদ খারাপ-ভালো হয় যার তার বিশ্বাস এবং রুচির আলোকে। আপনার কাছে মদ খারাপ। তাই বলে একজনের মদের লগে মুত মিশিয়ে দেয়াটা কি খুব ভালো কাজ? এমন প্রশ্নে লোকটা একটু নড়েচড়ে জবাব দিলো যে 'মদ হচ্ছে মুত্রের চেয়েও নিকৃষ্ট একটা জিনিষ। তাছাড়া মদখোর তো মানুষ না'! সুতরাং মদখোরকে মুত খাওয়ানোটা একটা তৃপ্তির ব্যপার। আসলে এধরনের লোকেরা অনেকটা একচক্কু হরিণের মত। শুধু নিজের দৃষ্টিভঙ্গিটাই সঠিক মনে করে। এইটাও একধরনের বিকৃতি। এধরনের মানুষেরা যে কতোটা মানষিক বিকারগ্রস্ত এটা নিজেরাও জানেনা! এরা শুধু মদখোরকে মুত খাওয়ানোই না সবচেয়ে ভয়ঙ্কর কাজটি সংগঠিত করেও স্বাভাবিক হাসি হাসবে। যেন কিছুই হয়নি!

মন্তব্য ২ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (২) মন্তব্য লিখুন

১| ০৯ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১১:৪৪

কালীদাস বলেছেন: মদের সাথে রিলেটেড ১০ ধরণের লোকের জন্য সেরকম শাস্তি ওয়েট করছে :) এবং এর মধ্যে ওয়েটারও পড়ে। এখন মদে ইউরিন মিশিয়ে দিলে সেটার জন্য শাস্তি বাড়বে কিনা সেটা নিয়ে ডাউটে পড়ে গেলাম। অন্য যেকোন হালাল বা নিত্যব্যবহার্য জিনিষ হলে চোখ বন্ধ করে বলতাম যে গুনাহ হবে। খারাপের মধ্যে আর খারাপ দিলে কি হয় কখনও ভেবে দেখিনি। পয়লাজনরে সাইকো টাইপের পাবলিক মনে হল।

২| ১০ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১২:৩৬

কানিজ রিনা বলেছেন: মদের থেকে মুত কিছুটা ভাল। হাহাহা

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.