নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি আমার খোলস মাত্র! আমি মানে একজন নষ্ট হয়ে যাওয়া মানুষ, ব্যর্থ প্রেমিক, দারুন একজন পাঠকের অপমৃত্যু, লেখক পরিচয় দিতে লজ্বাবোধ করি। তবে আমার ভেতরে যিনি লেখালেখির চেষ্টা করতেন তিনিও শয্যাশায়ী!।।

তেলাপোকা রোমেন

যে শহরে আমি নেই আমি থাকবোনা,সেই শহরে তোমাকে ছুয়ে দেবে বিষাক্ত রোদ্দুর,ছায়াহীন মেঘ,বারুদে ঝাঝালো বাতাস,ন্যাপথলিনের উগ্রতা।

তেলাপোকা রোমেন › বিস্তারিত পোস্টঃ

কার্ট কোবেইন ও লেইন স্ট্যালির আত্মহত্যার দিনে মানুষ, পৃথিবী কেমন আছে?

০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৫

কার্ট কোবেইন ও লেইন স্ট্যালির আত্মহত্যার দিনে মানুষ, পৃথিবী কেমন আছে? যে দেশে কোবেইন বা স্ট্যালিরা জন্মাইছিলো, ওই আমেরিকাতেই...পৃথিবীর সবচেয়ে উন্নত দেশ বলে দাবি করা সেই ভূখণ্ডেই- ইনস্যুরেন্স না থাকায় হাসপাতাল থেকে ফিরিয়ে দেওয়া এক কিশোর বিনা চিকিৎসায় মরে গেসিলো। আবার ওই আমেরিকাই ইরানে ভূপাতিত হওয়া যুদ্ধবিমানের নিখোজ এক ক্রুকে উদ্ধার করতে যুক্তরাষ্ট্র এক 'দুঃসাহসিক' অভিযান চালাইসে। শত শত স্পেশাল ফোর্সের কমান্ডো, ডজন ডজন যুদ্ধবিমান, আর হেলিকপ্টার। আটকে পড়া নিজেদেরই দুইটা আস্ত পরিবহন উড়োজাহাজ তারা স্বেচ্ছায় বোমা মেরে উড়ায়ে দিসে, যাতে সেগুলো ইরানের হাতে না পড়ে। স্রেফ একজন সামরিক ক্রুকে ফেরাতে আর নিজেদের প্রযুক্তি বাঁচাতে তারা কয়েক বিলিয়ন ডলারের মিলিটারি ইকুইপমেন্ট চোখের পলকে ছাই করে দিল।
এই পৃথিবী একসাথে দুইটা স্কেলে চলে।একটা দৃশ্যমান, একটা অদৃশ্য। দৃশ্যমান স্কেলে আমরা দেখি বিস্ফোরণ, শরণার্থী, ধ্বংসস্তূপ আর পাইলট উদ্ধারের 'দুঃসাহসিক' গল্প। আর অদৃশ্য স্কেলে চলে দর কষাকষি, সুদের হার, শেয়ারবাজারের ওঠানামা। তেল আর গ্যাসের দামের সাথে রক্তের একটা অনুবাদ তৈরি হয় এই স্কেলে, এক লিটার, দুই লিটার, হাজার লিটার। কাঁচের দেয়ালওয়ালা কনফারেন্স রুমে বসে যে সিদ্ধান্ত হয়, তার প্রতিধ্বনি আমাদের এইখানে সরাসরি পৌছায় না। কিন্তু তার প্রভাব পৌঁছায় খাবারের দামে, ওষুধের দামে, বেঁচে থাকার খরচে।
আপনি যখন কিছুতে লাভ দেখেন, সেইটাকে চালু রাখার একটা অজুহাত খুঁজে নেবেন। আর যদি ক্ষতি দেখেন, সেটাকে বন্ধ করার একটা ভাষা তৈরি করবেন। আমরা যেখে ফেলেছি যুদ্ধেই আমাদের লাভ। যুদ্ধ এখন শুধু সংঘর্ষ না। কোনদিন ছিল কি না- সেইটা ইতিহাস বলতে পারে। তবে খালি চোখে যদ্দুর দেখি তাতে মনে হয় এইটা একটা সাপ্লাই চেইন, একটা লজিস্টিক্স, একটা বাজার।
তাদের আত্মহত্যার দিনে এই পৃথিবীটা আরও একবার প্রমাণ করল, এখানে মানুষের জীবনের চেয়ে ইউনিফর্ম, প্রযুক্তি আর ইম্পেরিয়াল ইগোর দাম অনেক বেশি।
-খুলনা শিপইয়ার্ড
এপ্রিল ৫

নোট- করোনায় মারা যাওয়া ঐ কিশোরের ব্পযাপারে অবশ্য জানা যায়, ঘটনা অন্যরকম ছিল। ছেলেটার পরিবারের ইনস্যুরেন্স ছিল, কিন্তু তারা যখন তাদের হেলথ কেয়ার প্রোভাইডারের কাছে যায়, তারা ছেলেটাকে সেইখানে ভর্তি না নিয়ে অন্য একটা হাসপাতালে নিয়ে যাইতে বলসিলো। সেই পথটুকু আর পেরোনো হয়নি তার। রাস্তাতেই সে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। টানা ছয় ঘণ্টা ইমার্জেন্সি রুমে চেষ্টা করেও তাকে আর বাঁচানো যায়নি।
তাইলে- খবরটা শুরুতে কেন ওইভাবে ছড়াইসে?ওই সময়ে টাইম ম্যাগাজিন ঠিক এই প্রশ্নটাই তুলেছিল। কারণ আমেরিকায় ইনস্যুরেন্স ছাড়া চিকিৎসার দরজা বৈধভাবে মুখের ওপর বন্ধ হয়ে যাওয়াটা এতটাই- এতটাই স্বাভাবিক যে, মানুষ ওই মিথ্যা খবরটাকেই পরম সত্য বলে মেনে নিয়েছিল।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.