| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ঘরে ঢুকেই বিছানায় শুয়ে পড়লো রাহাত। কিন্তু, এ কি???? তোষকটা যে ছিড়ে গেছে। তবে, এই বিছানার ব্যাপারে রাহাতের কোন আগ্রহ নেই। চাদঁরবিহীন, ছিড়া তোষক এর বিছানাতেই সে দিব্যি রাত কাটায়। রাহাত খুব যুক্ত দিয়ে কথা বলে। তাঁর সব কথাতেই যুক্তি থাকে, যে কারণে মানুষ তাঁর সাথে কথা বলতে ভয় পায়, এই ভেবে যে, ওর সাথে কথা বলে পারা যাবেনা। মানুষ রাহাতকে একপ্রকার এড়িয়েই চলে।
রাহাত খুবই ভালো ছেলে। সে সবসময়ই হাসি - খুশি থাকে। কিন্তু আজকে রাহাতকে অন্যরকম লাগছে কেন???? রাহাত তো ঘরে এসেই বিছানায় যায়না, সে তো আগে হাত - মুখ ধুয়োঁ নামাজ পড়ে। তবে আজকে ব্যাতিক্রম কেন???? হ্যা, আজকে সবই ব্যাতিক্রম কারণ, আজকে যে রাহাত জীবনের সবচেয়ে বড় দুঃখ টা পেয়েছে। হ্যা, কারণ আজকে তিথী রাহাতকে ছেড়ে চলে গিয়েছে।
রাহাত এখন মনে মনে তাঁর মায়ের বলে যাওয়া কথাগুলো ভাবছে। হ্যা, তাঁর মা তাঁকে বলেছিলো যে,
তিথী মেয়েটা ভালো না, ওর সাথে থাকিস না, ওকে ভুলে যা। কিন্তু, রাহাত তখন বলেছিলো যে, এতো সহজে, যাকে তুমি একটিবারও দেখোনি, কি করে বলছো সে খারাপ???? এ প্রশ্নের উত্তর রাহাত আজও পায়নি। কারণ, রাহাত কথাটি বলার সময়ই তাঁর মা তাঁকে ছেড়ে চলে যায়, মানে মারা যায়।
রাহাত তাঁর মা মারা যাওয়ার আগের কথাটি তেমন পাত্তা দিতোনা। কিন্তু আজ রাহাতের মনে হলো, যে তাঁর মা ঠিক কথাই বলেছিলো। আসলে মায়ের মন তো সবকিছু যেন আগেই জেনে যায়। আজ এখন রাহাত দেয়ালে কপাল ঠেকিয়ে বলছে, মা, মাগো, তুমিই ঠিক বলেছিলে। ঐ মেয়ে ভালো নয়। আমার ওকে ত্যাগ করাই উচিত ছিলো। এই বলে রাহাত দেয়ালে কপাল ঠেকাতে ঠেকাতে ঘুমিয়ে পড়লো।
ঘুম ভাঙ্গলো বাড়িওলায়ার চিৎকারে। বাড়িওয়ালা বলছে, কিরে, বাসাটা কি তোর বাপের???? চার মাস হয়ে গেল ভাড়া দেস না। এইবারই শেষ। আগামী মাসে তোর রক্ত বেচেঁ আমার ভাড়া দিবি। রাহাত কথাগুলো চুপচাপ শুনলো, কিছুই বললো না। আবারো তাঁর মনে পড়ে গেল তিথীর কথা। এই তিথীর জন্যই সে বাসা ভাড়া দিতে পারেনি। ও, একটা কথা তো বলাই হয়নি। রাহাত একটা হোটেলে ওয়েটারির চাকরি করতো। যা টাকা আয় করতো, তা দিয়ে সে ভালোই চলছিলো।
কিন্তু, তিথীর আগমনই তাঁর জীবনটাকে আরো কঠিন করে দেয়। তিথী প্রতিদিন রাহাতকে নিয়ে নানা পার্কে গিয়ে ফূর্তি করতো। মানে, রাহাতের টাকার বারোটা বাজাতো। যে কারণে, রাহাত বাসা ভাড়ার টাকাটাও দিতে পারতো না। কিন্তু, রাহাত তিথীকে ভীষন ভালোবাসে। যে কারণে তাঁর নিজের কষ্টের কথা, সে তিথীকে বলতো না। এমনিকরে চারমাস রাহাত তাঁর বাসা ভাড়া না দিয়ে তিথীর উপর তাঁর কষ্টের টাকা ব্যয় করতো।
তিথীর আবার রাহাতের প্রতি এতো খেয়াল নেই। তিথী নিজেকে নিয়েই ব্যস্ত। কিন্তু রাহাত যে তিথীকে নিজের প্রাণের চেয়েও বেশী ভালোবাসে। যাইহোক, আশ্চর্য বিষয় হলো এই, যে রাহাত তাঁর ভালোবাসার কথা এতোদিন তিথকে জানায়নি। আজকেই সে সব কথা তিথীকে বলেছিলো, এবং তিথী রাহাতকে যা বললো সেটা শুনতে রাহাত কোনদিনই প্রস্তুত ছিলোনা। তিথী বললো, যে সে বিবাহিত।
তাঁর ডিফোরস্ হয়ে গেছে। এবং তিথী রাহাতকে ভালোবাসেনা। সে শুধু এতোদিন, রাহাতের টাকায় খেয়েছে। এবং আজকে তিথী তাঁর পরের গন্তব্য রওনা দিবে। এভাবেই তিথীর দিন কাটেঁ। এসব শোনার পর রাহাত দ্রুত বাসায় চলে আসলো। এবং সে এ বিষয়টা কোনভাবেই মেনে নিতে পারছে না। যে তিথী সত্যিই ভালো না। তাঁর মায়ের কথাই ঠিক। যাইহোক, রাহাতের এখন প্রচন্ড ক্ষুদা পেয়েছে।
কিন্তু, রাহাতের কাছে তো টাকা নেই। কারণ, তাঁর হোটেলের চাকরিটা চলে গেছে। মালিক তাঁকে ঘাঁড় ধরে হোটেল থেকে তাড়িয়ে দিয়েছে। কিন্তু মালিক কেন তাঁর সাথে এমন করলো, সেটা আজও রাহাতের কাছে অজানাই রইলো। ও, গতকাল একজনের কুলি করে রাহাত ১২ টাকা পেয়েছিলো। পথে এক অন্ধ ভিক্ষুককে দেখে রাহাত তাঁর ১০ টাকাই সেই ভিক্ষুককে দিয়ে দিলো। কিন্তু, এখন যে রাহাতের ক্ষুদা পেয়েছে।
তাঁকে খাওয়াবে কে?????? রাহাত পথে বেড়িয়ে পড়লো তাঁর কাছে আছে মাএ দুই টাকা। সে একটা দোকানে গিয়ে একটা বিস্কুট কিনে খেল। কিন্তু, দুইদিন ধরে রাহাত কিছু খায়নি। একটা বিস্কুটে কি তাঁর পেট ভরে???????? বিস্কুট খেয়ে একগ্লাস পানি পান করে রাহাত রওনা দিলো। কিন্তু, রাহাত তাঁর ঘরে আর যাবেনা। কারণ, গেলেই তো বাড়িওয়ালা ভাড়ার জন্য তাঁকে ধরবে। রাহাত হাঁটা দিলো অজানার পথে।
হাঁটতে হাঁটতে রাস্তায় ক্ষুদার যন্ত্রনায় পড়ে গেল সে। আর তাঁর, উঠে দাড়ানোর ক্ষমতা নেই। রাহাত জীবনে অনেক পথেই হেঁটেছে। কিন্তু, " এটাই মনেহয় রাহাতের, শেষ পথচলা "
©somewhere in net ltd.