| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আজ আমি আপনাদেরকে এক জাদুকরের গল্প বলবো ।
জাদুকর বললে ভুল হবে,জাদুকরদের জাদুকর ।
কি ভাবছেন ?
কার কথা আমি বলতে পারি??? কার কথা ???
বিশ্ববিখ্যাত জাদুকর হুডিনি , না জাদু সম্রাট পি সি সরকার
না কি আমাদের প্রিয় জাদুকর জুয়েল আইচ ।
কী, চিন্তায় পরে গেলেন , কার কথা বলতে পারি ।
হয়তো মনে মনে আন্ধাজ করতে পারছেন ।
কিন্তু আমি যদি বলি এদের চাইতেও অনেক অনেক বেশি জাদুবিদ্যা বিশারদ একজনের কথা বলবো ।
যার পায়ের জাদুতে , যার পায়ের অনুপম কারুকার্যতে , যার পায়ে বলের আঁকিবুঁকি দেখে ; দেবদূতদেরও জাদু আর আলৌলিকতাকে মানুষের কাছে ফিকে মনে হয়েছে ।
তাহলে কি বলবেন আপনারা ???
অসম্ভব, অবাস্তব , হতেই পারে না ।
হুম, আপনাদের চিন্তায় যথেষ্ট যুক্তি আছে ।
আমরা আজকের দিনের তরুণরা কিংবদন্তী অনেক ফুটবলারের খেলা দেখার সুভাগ্য নিয়ে বড় হয়েছি ।
রোনাল্ডো , রিভালদো , রোনালদিনহু , কাকা , রবিনহু , রিকুয়েলোমি ,ভ্যান নিস্তাল রয় ,লুইস ফিগু এমনকি আজকের দিনের সি আর সেভেন ,মেসি এবং নেক্সট পেলে নেইমার দ্যা সিলভার ।
.
কিন্তু আমি যদি বলি , এদের চাইতেও অনেক বেশি ফুটবল শিল্পে পরিপূর্ণ একজন ফুটবল দেবদূতের জন্ম হয়েছিলো এই পৃথিবীতে ।
.
হুড়মুড় করে এবার সবাই উঠে দাঁড়াবেন , অনেকে হয়তো এবার একটু কর্কশ স্বরে বলে উঠবেন ,
কী হে!এতোক্ষণ ধরে প্যাঁচাল পাঁকাচ্ছো ,কি নাম সে ফুটবলারের? যার কথা এতোক্ষণ ধরে ইনিয়ে-বিনিয়ে বলছো ।
.
.
ধীরে বন্ধুরা ধীরে , সেই মায়াবী জাদুকরের নাম আসছে ।
তার আগে একটু দেখেই নেই না ,আমাদের মধ্যে কতো জন সেই ফুটবল দেবদূতের সম্পর্কে কতোটুকুই বা জানি ।
.
চলুন না ,, নিজেরাই নিজেদেরকে পরীক্ষা করি । বিচারের ভার না হয় আমাদের নিজেদের উপরই থাক । তাহলে চলুন ,শুরু করা যাক .........
.
.
.
.
---তার মূল নাম হল ; ম্যানুয়েল ফ্রান্সিসকো দস সান্তোস।
.
.
---তাঁর বন্ধুরা তাঁকে “ম্যানে” (ম্যানুয়েলের সংক্ষিপ্ত রূপ) বলেও ডাকতেন ।
.
.
---তিনি বিংশ শতাব্দীর ‘ওয়ার্ল্ড ড্রিম টিম’-এর একজন নির্বাচিত সদস্য।
.
.
---ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা তাদের অফিসিয়াল ট্রিবিউটে তাকে বর্নণা করেছে একটি নামে; “দ্যা চ্যাপলিন অফ ফুটবল”
ফুটবলের চ্যাপলিন ।
.
.
---ল্যাতিন আমেরিকার 'রেন' পাখির সঙ্গে তার তুলনা হতো ।
সারা বিশ্ব তাকে নিজের বড় বোনের আদর করে দেওয়া “ছোট্ট পাখি” নামে চিনতো ।
.
.
--- তিনি ছিলেন জন্ম খুঁড়া । এক পায়ের চেয়ে প্রায় ছয় সেন্টিমিটার ছোট আরেকটি পা নিয়ে জন্মেছিলেন।
.
.
--- নিয়তির নির্মম পরিহাস , যার কারনে বাঁকানো পায়ের পাতা সাথে নিয়েও জন্মেছিলেন তিনি ।
.
.
--- দ্যা বিউটিফুল গেইমের ইতিহাসে “দ্যা গ্রেটেস্ট থ্রি মিনিটস ইন ফুটবল হিস্ট্রি” বলা হয়ে থাকে এই দেবদূতের ওয়ার্ল্ড কাপ অভিষেকের প্রথম ৩ মিনিটকে!!! ।
.
.
---উইঙ্গার পজিশনটিকে নতুন করে সংজ্ঞায়িত করা এই পিউর জিনিয়াস ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অবহেলিত এবং সবচেয়ে কম আলোচিত আশ্চর্য প্রতিভা (“দ্যা ফরগটেন লিজেন্ড”) ।
.
.
---বাতাসে এই কথা প্রায়ই ভাসে যে , এই দেবদূত প্রতিভার দিক দিয়ে ফুটবল সম্রাট কালো মাণিকের থেকে অনেক ক্ষেত্রে এগিয়ে ছিলেন !
.
.
---ব্রাজিলীয়ানরা তাঁকে প্রবল ভালোবাসায় ডেকে থাকে ‘ও আঞ্জো ডি পারনাস টর্টাস’
.
.
---চশমা আঁটা ফুটবল বিশারদ এবং সারা দুনিয়ার অজস্র ফুটবল প্রেমিরা তার উপাধি দিয়েছিলেন , ‘অ্যাঞ্জেল উইথ দ্যা বেন্ট লেগস’ যার সহজ বাংলা তর্জমা “বাঁকা পায়ের দেবদূত” ।
.
.
---মৃত্যুর এতোদিন পরেও তিনি ব্রাজিলীয়ানদের কাছে সেই আগের মতো জনপ্রিয় , সাম্বা প্রেমিকেরা এখনো তাকে বলে থাকে “joy of the people”
.
.
.
কী বন্ধুরা ??? সবকিছু চিচিং ফাঁকের মতো খুলে গেলো অবশেষে । এতোক্ষণ কার গুনকীর্তন করছিলাম আমি ???
.
এই বার সবাই চিৎকার দিয়ে বলে উঠবেন ; গারিঞ্চা গারিঞ্চা।
.
এটা তো সেই কিংবদন্তী গারিঞ্চা ।
.
হ্যাঁ , গারিঞ্চা, একটা পর্তুগীজ শব্দ , একটা ছোট পাখি ।
কিন্তু ফুটবলের একটা অনেক অনেক বড় নাম , একটা ইতিহাস, একজন চ্যাপলিন , একজন শিল্পীর নাম ,ড্রেসিং রুমের একজন জোকারের নাম , ড্রিবলিং নামক এক ব্রহ্মাস্ত্রের জনক , ফুটবল ইতিহাসের সেরা ড্রিব্লার ।
.
পরিসংখ্যান , সাফল্য , কার্যকারীতা এইধরনের অসংখ্য ক্ষেত্রে গারিঞ্চা অনন্য ।
কিন্তু এগুলো দিয়ে আর যাই হোক গ্রেট গারিঞ্চার গ্রেটনেস , গারিঞ্চার ম্যাক্সিমাসন্যাস কখনো সম্পূর্ণ ব্যাখ্যা করা যায় না এবং যাবেও না ।
.
জন্মখুঁড়া হয়ে তিনি পৃথিবীতে এসে ছিলেন, কিন্তু কোন রকম শারীরিক প্রতিবন্ধকতা আর যাই হোক তার মতো গ্রেটেস্ট প্লেয়ার কে আটকাতে পারে নি ।
ফুটবল হল গোলের খেলা , কিন্তু গারিঞ্চার পরিভাষায় মনে হয় ফুটবল ছিল শিল্পের খেলা , একটা আনন্দের খেলা ,দ্যা ওয়ার্ল্ড বেষ্ট এন্টারটেইনম্যান্ট ।
পুরো মাঠ হল একটা ক্যানভাস আর বাঁকা পায়ের গারিঞ্চার হলেন সেই মাঠের শিল্পী ।
.
ফুটবল মাঠে যেখানে তিনি হয়ে উঠেন একজন মহান রিং মাষ্টার ঠিক মুদ্রার অপর পীঠে ড্রেসিং রুমে সেই তিনিই হয়ে উঠেন টীম মেইটদের মাঝে আনন্দের ফুয়ারা বয়ে দেওয়া একজন পরিণত শরীরের শিশু মনের জোকার ।
.
আর তার আনন্দের সার্কাসের লীলাভূমি ??? সেটা ছিলো না কোনো কালো কাপড়ে পিছন ঢাকা অ্যাক্রোব্যাটিক মঞ্চ ।
সেটা ছিলো সবুজে ঢাকা একটা ছোট্ট মাঠ সাথে উপচে পড়া আনন্দ প্রত্যাশী দর্শক ।
.
.
“যখন সে মাঠে প্রবেশ করে, তখন তা একটি সার্কাসের রিং এ পরিনত হয়,বলটি হয়ে যায় পশু,
এবং ম্যাচটি হয়ে যায় একটি শো..!
গারিঞ্চা বল নামক তার পশুটিকে বশ করে
এবং দুজনে মিলে এমন সব খেলা দেখায় যে দর্শক বিমোহিত হয়ে যায়।
সে এর উপর লাফায়, ছুড়ে দেয়, পেছনে ধাওয়া করে আর তা দেখে তার প্রতিপক্ষরা একে অপরের পিছে দৌড়ায়।
এইসব কান্ডকারখানা দেখে দর্শকরা হাসিতে ফেটে পড়ত”....................... বিখ্যাত উরুগুইয়ান লেখক গ্যালিয়ানোর বই “Football in the sun and shadow” তে গ্রেট গারিঞ্চা সম্পর্কে ।
.
.
ড্রেসিং রুমে তার মতো হাঁসি খুশি আর কেউ ছিলেন না । তিনি যেন ড্রেসিং রুমের একজন জোকার , সবাইকে হাসানোই ছিলো তার কাজ ।
একটু কল্পনা করুন , বিশাল একটি মাঠ , দাঁড়িয়ে আছেন গারিঞ্চা, তার দুপায়ের ফাঁকে গোল আকৃতির একটি বল ।
ছুঁটে চলছেন গারিঞ্চা,একজন-দুইজন-তিনজন করে সামনে আসা সব খেলোয়াড়কে ডোজ দিলেন তার ড্রিবলিং স্কিল দিয়ে ।
এখন সামনে শুধু গোলরক্ষক ।
সবাই ভাবলেন এবার নিশ্চিত গোল দিবেন তিনি ।
কিন্তু গোল কে দিতে চায় ।
গারিঞ্চা যে শুধু শিল্পের প্রদর্শন করতে চান ।
ঘাড় ঘুরিয়ে পিছনে তাকালেন , ডোজ খেয়ে হাঁপাচ্ছিল বেচারা ডিফেন্ডার ।
পাগলাটে গারিঞ্চা উল্টো দিকে বল নিয়ে এসে এবার ড্রিব্লিং করে নাচাতে শুরু করলেন বেচারাকে ।
অন্যান্য প্লেয়াররা অবাক , দর্শকরা হেঁসে লুটুপুটু খাচ্ছে একে অপরের উপরে, উচ্চ কণ্ঠে সমস্বরে আওয়াজ করে যাচ্ছে , “ওলে ওলে”।
.
.
গ্রেট গারিঞ্চা ফুটবল নামক খেলাটি সেইভাবেই খেলতেন যেভাবে তিনি তার লাইফ স্টাইল মেইন্টেইন করতেন ,নিজেকে সবসময় হাঁসি খুশি রেখে, টিম ট্যাক্টিস বা পরামর্শের কোন পরোয়া না করেই । তারপরেও সর্বকালের অন্যতম সেরা এই কলাবিদ সর্বদাই একজনকে পরাজিত করে অপেক্ষা করতেন,পরাজিত প্লেয়ারকে উঠে দাঁড়াতে ।
আর যখন সে তার পজিশন রিকোভার করতো , গ্রেট গারিঞ্চা আবার তাকে বিট করতেন ।
.
তিনি তেমন অনুশীলন করতেন না,তার কোনো এজেন্ট ছিলো না।
কেউ তাকে চুক্তিপত্র পড়ার জন্য বিরক্ত করতো না ,সাধারণত প্রয়োজনীয় টাকার অঙ্ক ফিল আপ করার পরে তিনি সাইন করতেন।
এমনকি বিশ্বকাপ জয়ের পরে তিনি যে বোনাস পেয়েছিলেন সেটাও
নিজের অসচেতনতায় ,অবহেলায় কয়েক বছর পরে ভেজা কাগজের মন্ড হিসেবে খুঁজে পাওয়া গিয়েছিলো ।
.
তিনি নিজেই নিজের নিয়ম তৈরী করতেন ,অন্য কারো না বরং নিজের দ্রোণে নাচতেন আর বিলিয়ে দিতে অফুরন্ত আনন্দ আর আপন দ্রোণে নাচাতেন সারা বিশ্বকে ।
এটাই ছিলো তার আনন্দের প্রধান উপকরণ আর সর্বদা আনন্দে উৎসবে থাকা ব্রাজিলীয়ানও তাকে এই কারনে অনেক অনেক বেশী ভালোবাসতো ।
কারন তারা গারিঞ্চার মাঝে নিজেদেরকে দেখতে পেতো ।
তিনিই প্রমাণ করেছিলেন ফুটবল মূলত কোনো সাইন্স নয় ,এটা একটা অমোঘ আর্ট । দ্যা গ্রেটেস্ট আর্ট অফ দ্যা ইউনিভার্স ।
যা সবচেয়ে রুক্ষ ,ধারালো, নিক্তি পরিমেয়ো প্লান বা কৌশলকে বিমোহিতো করতে পারে, তাকে ধরাশায়ী করতে পারে এমনকি হারাতেও পারে নিজের গ্রেটন্যাস দিয়ে ।
.
.
ওয়ার্ল্ড ওয়ার টু এর পরবর্তী যুগে ফুটবল পরাশক্তি হিসেবে ব্রাজিল উত্থান, তার অভাবনীয় পটেনশিয়াল, মনোমুগ্ধকর ফুটবল শিল্প বিপ্লব আর সাফল্য দিয়ে তাবৎ বিশ্বকে যেভাবে ভড়কে দিয়েছিলো তাকে একটা পুতুল নাচের মতো করে দেখতে গেলে দেখা যায় যে গ্রেট গারিঞ্চা এই মেকানিজমের একজন মহান পাপেট মাষ্টার ।
ইন গারিঞ্চা ভিউ অর ফিলোসফি ইটস মোর দেন এ গেইম ।
ইটস ওয়ার্ল্ড বেষ্ট আর্ট উইথ এ লট অফ জয় ।
.
সুন্দর ফুটবলকে বুঝতে চান , ফুটবল আর্ট কে উপলব্ধি করতে চান??? বুঝতে চান কেনো ব্রাজিলীয়ান ফুটবলকে বলা হয়ে থাকে ফুটবল শিল্প ????
.
সবার আগে গারিঞ্চাকে বুঝার চেষ্টা করুন ।
.
.
“ইন হিজ পজিশন ,হি ওয়াজ দ্যা গ্রেটেস্ট প্লেয়ার আই হ্যাভ এভার সীন!!! -----------সর্বকালের সর্বসেরা ফুটবলার পেলে ।
.
.
.
শারীরিক দূর্বলতা নিয়ে জন্মগ্রহনের কারনে বার বার তাকে নিজেকে প্রমাণ করতে দেওয়া হই নি ,সহ্য করেছেন অনেক অপমান , অনেক কষ্ট ।
বাঁকা পা নিয়ে ফুটবল খেলবে ????
যেই দেখতো-শুনতো সেই একটা উপহাস আর অবিশ্বাস মিশ্রিত চোখে ইগনোর করতো তাকে ।
তারপরেও দমে যান নি এই মহান প্লেয়ার ।
ফুটবল যে তার ডিএনএ রয়েছে , শিল্প যে তার শিরা-উপশিরায় বইছে ।
এতো সহজে হার মানলে কি করে হবে???
তাই সংগ্রাম চালিয়ে যেতে থাকলেন ।একে একে অনেক ভালো ক্লাব থেকে রিজেক্ট হলেন,নিজেকে প্রমাণের নুন্যতম সুযোগ পাওয়া তো দূরে থাকা , পদে পদে পেয়েছেন উপহাস, তিরস্কার আর অবজ্ঞা ।
যা পরিপূর্ন শরীরের শিশুমনস্ক গারিঞ্চার মনেও ফেলেছিলো অনেক প্রভাব ।
.
.
“সেইন্ট গোস্তাভো, ফ্লুমেন্সিয়ান্স,ভাস্কোতে ব্যর্থ হবার পর সে অন্য কোনো ক্লাবে চেষ্টা করতে চায় নি, এমনকি বোটাফগোতেও ।
সে মনে করেছিলো মানুষ জন তাকে নিয়ে আরও উপহাস করবে ,
তাকে খুঁড়া বা বাঁকা পায়ের প্লেয়ার হিসেবে অপমান করবে ।
অনেক হয়েছিলো” ---------- বাতিস্তা (গারিঞ্চার ঘনিষ্ঠ একজন বন্ধু)
.
.
.
একে একে অনেক ব্যর্থতার পরে ,অনেক তিরস্কার ,উপহাসের পরে , অনেক কষ্ট অনেক অপমান এর পরে অবশেষে ফুটবল ঈশ্বর কৃপা করলেন গারিঞ্চার উপরে ।ভাগ্য সুপ্রসন্ন হলো এই জাদুকরের ।
ট্রায়েলের সুযোগ পেলেন তৎকালীন ব্রাজিলীয়ান বড় ক্লাব বোটাফগোতে ।
কিন্তু এখানেও অনেক বাঁধা, নিজেকে প্রমাণ করতে হবে বেষ্টদের বিপক্ষে । তারপরেই তো শুরু করতে পারবেন নিজেকে অনন্য পর্যায় নিয়ে যাবার অভিযান ।
বাঁকা পায়ের ছেলেটে যখন বোটাফগো ট্রেনিং গ্রাউন্ডে পৌঁছায় তখন তার সামনে খাঁড়া করা হয় জাতীয়দলের সেরা লেফটব্যাক নিল্টোন সান্তোসকে ।
ট্রায়েলের সময় সবাই গারিঞ্চার অদ্ভুত বাঁকা পা দেখতে পেলেন ।
নিল্টন সান্তোস তাকে এ নিয়ে স্লেজিংও করতে লাগলেন ।
.
আর গারিঞ্চা কি করলেন???
.
সিম্পল, তিনি ন্যাশনাল টিমের দেশ সেরা লেফট ব্যাককে ড্রিবল করে চলে গেলেন !!!
ট্রায়াল শেষে নিল্টন সান্তোস গারিঞ্চাকে নিয়ে ক্লাব প্রেসিডেন্টের কাছে গেলেন আর বললেন;এই প্লেয়ারটাকে তাড়াতাড়ি সাইন করো!!!! যাতে আমাকে তার বিপক্ষে খেলতে না হয় ।
.
.
“গারিঞ্চা কোন সাধারণ খেলোয়াড় নয়। দ্রুত তাকে দলে নিয়ে নাও। ওর বিপক্ষে খেলার চেয়ে পাশাপাশি খেলাই উত্তম.”
ট্রায়াল শেষে করে নিল্টন আরো বলেন---
“ট্রায়াল দেয়ার আগে অনেকেই বলাবলি করছিলো যে আমি ছেলেটিকে কুপোকাত করে ফেলব কিন্তু তারা সবাই ভুল ছিলো বরং ছেলেটির পায়ের জাদুতে আমি কুপোকাত হয়ে গিয়েছিলাম”---- নিল্টন সান্তোস(১৯৫২-১৯৬৮)
.
.
শুরু হয়ে গেলো দ্যা লিজেন্ড মেইকিং এর ফাস্ট স্টেপ ।
.
সারা ফুটবল বিশ্ব সাক্ষী হতে যাচ্ছিলো একটা আপরাইজিং ফুটবল পাওয়ার হাউজের, একটা শৈল্পিক ফুটবলের আঁতুড়ঘরের ।
আর পেতে যাচ্ছিলো একজন বাঁকা পায়ের দেবদূতের ।
যা পৃথিবী পূর্বে কখনও পেয়ে থাকে নি ।
.
.
১৯৫৪ বিশ্বকাপ আসতে আসতে পেশাদার ফুটবলে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করে ফেলেছেন তিনি। ক্লাব বোটাফগোর হয়ে চমৎকার খেলছিলেন।
তিনি বোটাফোগোর হয়ে মাঠে দৌড়তেন,সবসময় ড্রিবলিং করতেন ,
প্রতিপক্ষের প্লেয়ারদেরকে একে একে বিট করতেন ,এসিস্ট করতেন গোল করতেন । তার স্বভাবসুলভ পাগলামি করতেন , দর্শকদেরকে
এন্টারটেইন করতেন ।
সকল ক্লাবের সমর্থকরা তাকে ভালোবাসতো যেন তিনি শুধু বোটাফগোর না , সকল ক্লাবের, সকল সমর্থকের ।
এমনকি প্রতিপক্ষরাও তার খেলাতে অনেক আনন্দ পেতো । তার পাগলামিতে “ওলে ওলে” ধ্বনিতে মুখর হয়ে উঠতো সারা স্ট্যাডিয়াম।
পক্ষ-বিপক্ষ সবাই ছিলো তার প্রদর্শণীতে এককথায় মন্ত্রমুগ্ধ ।
ধীরে ধীরে বোটাফগো পরিনত হয় ব্রাজিলের অন্যতম সেরা ক্লাবে , জাস্ট লাইক সান্তোস ।
.
.
বাট একজন লিজেন্ড প্লেয়ারের সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি কী???
সেটা হলো বিশ্বকাপ ,যা তাকে আরও দশজন থেকে আলাদা করবে, শত শত যুগ ধরে বাঁচিয়ে রাখবে ।
হাজার বছর পরেও লোক তার স্তুতি করবে,গেয়ে উঠবে তার নামে অজর বন্দনা গীত ।
.
.
গ্রেট গারিঞ্চার সেই সৌভাগ্য হয়েছিলো দু দু বার । মাতৃভূমির হয়ে বিশ্বজয় করে নিজেকে নিয়ে যাওয়া স্বর্ণলিখিতো সেই লেজেন্ডারী পাতায় ।
ব্যাপকভাবে বলতে গেলে ,ওয়ার্ল্ড কাপ ট্রফিরই এটা বড় সৌভাগ্য যে, সে স্পর্শ পেয়েছিলো সর্বকালের সেরা ড্রিব্লারের ,একজন লেজেন্ডের,একজন মূর্ত ফুটবলীয় কলাবিশারদের ।
.
কিন্তু অনেক বাঁধার মতো এখানেও ছিলো আরেক বাঁধা ।
ব্রাজিলের হয়ে ওয়ার্ল্ড কাপ মিশনে নিজেকে জড়িত করতে অপেক্ষা করতে হয় আরও কিছু কাল ।
একই পজিশনে খেলা জুলিনহো বা প্রতিষ্ঠিত অন্যান্য ফুটবলারের কারণে ১৯৫৪ বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত ডাক পাননি গারিঞ্চা।
.
তবে অবশেষে কিছুকাল পর আরাধ্য সেই মাহেন্দ্রক্ষণ এলো ।
..................( চলবে ) 
©somewhere in net ltd.
১|
২৬ শে অক্টোবর, ২০১৬ রাত ২:৫৬
প্রীতম চৌধুরী বলেছেন: the greatest