নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অন্তর্মুখী

ইব্রাহীম কার্দি

“আপনাতে আপনি হইতে সাবধান”

ইব্রাহীম কার্দি › বিস্তারিত পোস্টঃ

অচল মুদ্রা

০৯ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ৯:১৯



অল্প কিছুর সন্ধান না করলে যেমন বড় কিছু পাওয়ার সম্ভাবনাটা ক্ষিণই থাকে তেমনি বন্ধুত্ব যদি নাইবা হয় তবে প্রেম সৃষ্টি হবে কি করে? এই বাক্যটির যথার্ততা বুঝিবার এবং বুঝানোর ক্ষমতা রসিক বন্ধুদের থাকা জরুরি। মানুষ এখন বিয়ে করেই সন্তুষ্ট থাকতে চায় না, তারা একে অপরকে পেতে চায় চির জনমের তরে। একে অপরের হাতে হাত রাখতে চায় এর ভার বহন করা যত কঠিনই হোক।

বিয়ে, সংসার জীবনকে যদি একটি কাগজি মুদ্রার সাথে তুলনা করি, তবে আমি নিতান্তই বলিব প্রেম এবং বন্ধুত্ব একই মুদ্রার এপিট ওপিট মাত্র। আমি এখানে বন্ধুত্ব বা প্রেমকে অর্থের মাপকাঠিতে পরিমাপ করছি নে। আমি শুধু গঠন প্রক্রিয়া নিয়ে আলোচনা করতে চাচ্ছি। দেখাতে চাই সচল মুদ্রা এবং অচল মুদ্রার মাধ্যমে সংসার জীবনের ইতিবৃত্ব।

আমি সাধারণত বন্ধুত্ব এবং প্রেম এই দুইকে আলাদা করেই দেখব, কিন্তু একটিকে অপরটির চেয়ে ছোট করে দেখছিনা, কারণ স্থান ভেদে দুটিরই আলাদা আলাদা অমূল্য গুরুত্ব অণুমেয়। প্রেমের মাঝে তৃতীয় কোন কিছু আশা করা নিতান্তই অপ্রত্যাশিত সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর।

আমাদের দেশে সাধারণত বন্ধুত্বটা সমবয়সীদের মধ্যে বা একই ক্লাসের শিক্ষার্থীদের মধ্যে হয়ে থাকে। কিন্তু সমস্যার কথা হচ্ছে, একটি ছেলে যখন খেলার মাঠের দৈঘ্য প্রস্থের পরিমাপ নিয়ে ব্যস্ত তখন একই ক্লাসের মেয়েটি স্বামীর লুঙ্গিটার সেলাই কেমন হবে সেই চিন্তায় মগণ্য। তাই সে সকল বন্ধুদের মধ্যে আর প্রেম হয়ে ওঠার সুযোগ থাকেনা।

উন্নত বিশ্বের ন্যায় আমাদের দেশেও একটি ধারা চলে এসেছে।সেটি হচ্ছে উচ্চ শিক্ষায় ছেলে মেয়ের সমান অবস্থান।উচ্চ শিক্ষার সুবাদে সমবয়সী ছেলে-মেয়ের বন্ধুত্ব গড়ে ওঠে একই শ্রেণীতে পড়ার সুবাদে।পৃথীবির উন্নত দেশ গুলোও একই নিয়মে চলে।এর অন্যতম প্রধান করণ হচ্ছে মানুষের চিন্তা-ধারা এবং মানসিকতার মিল সাধারণত সমবয়সীদের সাথেই বেশী থাকে।

বঙ্গদেশে তুই, তুমি, আপনি এই শব্দগুলি বয়সের মাপকাঠিতে ব্যবহার হলেও সমাজের উঁচু নিচু শ্রেণীর ক্ষেত্রেও এর ব্যবহার পরিলক্ষিত।কিন্তু বন্ধুত্বের ক্ষেত্রে তুই শব্দই বহুল ব্যবহার হয়ে থাকে। অন্যদিকে, প্রেমের ক্ষেত্রে তু্মিই বহুল ব্যবহায্য। যখন তুই সম্পর্কের বন্ধুটির সাথে প্রেম হয় তখনও তারা ভাষার পরিবর্তন করে তুমিতেই বিচলন করে।

সামজে সকলের সাথে সকলের বন্ধুত্ব হয় না। সমাজে মানুষ উচু নিচু ভেবে চিন্তে বন্ধুত্বের সম্পর্কে জড়ায়। অন্যদিকে প্রেমের সম্পর্কের ক্ষেত্রে কোন নিয়মের ধারে কাছে যেতে চায় না কেউই। তাই বলা চলে প্রেম হচ্ছে কাগজি মুদ্রায় গভর্ণরের স্বাক্ষর সম্বলীত অংশ্য। আর বন্ধুত্ব অপর পিঠ।

গভর্ণরের স্বাক্ষরবিহীন মুদ্রা যেমন জাল সেটিতে বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে;তেমনি প্রেমহীন দাম্পত্য মূল্যহীন সেটিতেও বিপদের সম্ভাবনা আছে। আবার অপর পিঠ ব্যতিত মুদ্রা যেমন অচল তেমনি বন্ধুত্ব ব্যতিত দাম্পত্বটাও অসম্পন্য। এধরণের দম্পত্বিরা সাধারণত সামাজিক কারণে একসাথে থাকে কিন্তু মন তাদের ভিন্ন গ্রহে চলা চল করে। বন্ধুত্বের জন্য সাধারণত মতের মিল থাকলেই চলে, কিন্তু প্রেমের জন্য চাই মতের এবং মনের অকৃত্তিম মিল। আর তাতেই চিরজনমের মত হাতে হাত রাখার চুক্তিটা করা সম্ভব হয়।

তাই বলা চলে,বন্ধুত্ব আর প্রেম এই দুইকে একত্রিত করা গেলে যে সম্পর্কটি তৈরি হয় তা চির জনমের। যদিও এই দুটি জিনিসই দুই মেরুতে অবস্থান করে। প্রেম সামাজিক স্বীকৃতি তখনই লাভ করে যখন রঙ্গিন ফিতে দারা অর্থাৎ বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ করা যায় তখন এটিও মুদ্রার ন্যয় গুরুত্ব পূর্ণ স্থান দখল করে।তখন এটি সর্বজন স্বীকৃত।বিয়ে একটি কৃত্বিম পদ্ধতি হলেও বহু কাঙ্খিত।

তাই একটি কাগজি মুদ্রার যেমন দুটি পাশ,রঙ্গিন ফিতে,গভর্ণরের স্বাক্ষর থাকা জরুরি তেমনি আদর্শ দাম্পত্যে বন্ধুত্ব,প্রেম,বিয়ে এই তিনটি থাকা জরুরি।প্রেমের ক্ষেত্রে বন্ধুত্বটা থাকা আবশ্যক।

এই পদ্ধতীর বাহিরে কোন দাম্পত্য গড়ে ওঠা উচিত নয় আমি তা বলছি না,তবে এমন হলে জীবন অনেক তৃ্প্তির ও উপভোগের হয়।

একটি আদর্শ মুদ্রা যেমন নিদ্দিষ্ট একটা সময় শেষে লাট হয়ে যায় দুটি পাশই একই সময়ে তেমনি আদর্শ দাম্পত্যে নারী পুরুষ দু’জনই বুড়ো বুড়ি হয় একই সাথে। যৌবনে তারা ছুটে চলে অজানা পথে,জয় করে পাহাড়সম সব প্রাচুয্য।
তাই বলা চলে প্রেম,বন্ধুত্বহীন দাম্পত্য একটি অচল মুদ্রা মাত্র।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.