নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অন্তর্মুখী

ইব্রাহীম কার্দি

“আপনাতে আপনি হইতে সাবধান”

ইব্রাহীম কার্দি › বিস্তারিত পোস্টঃ

কোটা থেকে সড়ক: বাড়ছে অরাজনৈতিক আন্দোলনের জনপ্রিয়তা, রাজনীতির কপালে ভাজের রেখা

১৩ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ৮:৫৭


দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এখন গণদাবি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হচ্ছে। কি সরকারি দল আর কি বিরোধী বা সংসদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দল। সবার একটাই সমস্যা, আখের গোছাতেই বেলা শেষ। নিজেদের আভ্যন্তরিন সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ এসব দল জনগণের সমস্যা নিয়ে কাজ করার সময় খুব একটা পায় না। তাই দিন দিন গণদাবিগুলো উপেক্ষিত হতে হতে অভিযোগের স্তুপ তৈর করছে। যা থেকে আন্দোলন বা গণবিস্ফোরণের রূপ নিচ্ছে। এসকল আন্দোলন বা বিস্ফোরণ ঘটার আগে কেউই টের পাচ্ছে না।

তার মানে জনগণ কখন কি নিয়ে সমস্যা অনুভব করে তা কোনো রাজনৈতিক দলই ভালো করে খেয়াল করে না। তাই সরকার আগে থেকে এটির সুষ্ঠ্যু সমাধানের পথ বের করতে পারেন না। আবার বিরোধীরা এ থেকে ফায়দা নিয়ে সরকারের পতন বা কু-কর্মের রুটিন আঁকতে পারেন না। বিস্ফোরণ শুরু হলে দুই দিকের তোড়ঝোড় শুরু হয় আর একে অন্যকে গালি দিতে থাকে। তখন গণমাধ্যম আর সাধারণ মানুষ আক্রমণের লক্ষ্যবস্তুতে রূপান্তরিত হয় রাজনৈতি দলগুলোর। যেটিকে আমি সাধারণ অর্থে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনা বলতে চাই।

প্রথমে কোটা সংস্কার আন্দোলন

সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক একটি আন্দোলন। এই আন্দোলনে সাধারণ শিক্ষার্থীদের সরব উপস্থিতি ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল রাজনৈতিক মহলে। কেউ ভয় পেয়েছে এই আন্দোলন থেকে পায়দা লুটতে না পারার। আবার কেউ ভয় পেয়েছে পতনের। কিন্তু আন্দোলন যৌক্তিক থাকায় ক্ষোদ প্রধানমন্ত্রী এটিকে সংসদে দাঁড়িয়ে মেনে নেয়ার ঘোষণা দেন। অন্যদিকে বিএনপি থেকে এই আন্দোলনের পায়দা লুটার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়।

আন্দোলন শুরুর অনেক পরে এসে রাজনৈতিক দলগুলো যখন কোটা আন্দোলন নিয়ে তোড়ঝোড় শুরু করে তখন আন্দোলন অনেকটা শেষের দিকে এবং সফলতার মুখ দেখে ফেলেছে বলা যায়। কিন্তু রাজনৈতিক দুর্বৃত্তপনা, খামখেয়ালিপনা ও প্রতিহিংসার কারণে আন্দোলনের যৌক্তিকতা মেনে নিয়ে ফের অস্বীকার করা হয়। যেটি দেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং সরকারের গণবিচ্ছিন্নতার প্রমাণ দেয়।



এই আন্দোলনে সরকারের যে দুটি সিদ্ধান্ত তাদেরকে জনগণ থেকে বিচ্ছিন্নতার প্রমাণ দেয়। (১) একজন প্রধানমন্ত্রী সংসদে এবং তার মন্ত্রীরা বিভিন্ন সময় মিডিয়ায় আন্দোলন যৌক্তি বলে তা মেনে নেয়ার ঘোষণা দেয়ার পর সেটিকে অযৌক্তিক বলে প্রত্যক্ষ্যান করা। (২) আন্দোলন শুরুর আগে এই আন্দোলন সম্পর্কে কোনো তথ্য জানা না থাকা এবং এর যৌক্তিকতা উপলব্ধি করতে না পারা।

কোটা সংস্কারের আন্দোলন পরিকল্পনা

“কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ফেসবুক গ্রুফ “কোটা সংস্কার আন্দোলন বাংলাদেশ - Quota Reform Movement Bangladesh” থেকে নেয়া”

১। মনে রাখতে হবে এটা কোটা সংস্কার বা সরকারের একটা ভুল সিদ্ধান্তের বিপক্ষে প্রতিবাদ আন্দোলন। সুতরাং এখানে যেকোন রাজনৈতিক দলকে কটাক্ষ করে কিংবা মানহানি, হেয় করে, সরকারবিরোধী বা পতনের বা মন্ত্রীর পদত্যাগের দাবি নিয়ে কথা বলা যাবে না।
২। কোন মেম্বার, সাংবাদিক বা ব্যক্তিগত কিংবা কোন দল বা গোষ্টিকে উস্কানীমুলক, মানহানিমুলক কিছু বলা যাবে না।
৩। ভুয়া নিউজ, কিংবা গুজব অথবা কোন রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি, গোষ্টির স্বার্থ হাসিলের স্বার্থে কিংবা অন্য কোন রাজনৈতিক উদ্দেশ্য সাধনের কোন পোস্ট দেওয়া যাবে না।

৪। একই পোস্ট বার বার করা থেকে বিরত থাকবেন। কেউ যদি উক্ত পোস্ট করে তবে অবশ্যই অন্তত ১ দিনের মধ্যে উক্ত পোস্ট করা যাবে না।

৫। অবশ্যই খেয়াল রাখবেন যাতে আপনার পোস্টটি তথ্যবহুল, সৃজনশীল, শুদ্ধ ভাষায় ও নির্ভুল বানানে হয়।
৬। কোন তথ্য/নিউজ দিতে হলে অবশ্যই স্বনামধন্য পত্রিকা থেকে দিবেন এবং নিচে সোর্স/লিঙ্ক সহ দিবেন।

এমন পরিকল্পনার পরও যদি সরকার মনে করে তাদের বিরুদ্ধে এই আন্দোলন করা হচ্ছে তবে সেটি আরো একবার গণবিচ্ছিন্নতার প্রমাণ দেয়। একই ভাবে বিএনপি যদি মনে করে এই আন্দোলন থেকে সরকার পতনের ছক তারা পাবে তবে সেটিও গণবিচ্ছিন্নতার প্রমাণ।

অন্যদিকে, আবারও কঠোর কর্মসূচির হুমকি দিয়েছেন কোটা সংস্কার দাবিতে আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের কেন্দ্রীয় কমিটি ‘বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদ’ নেতারা। কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে কারাগারে থাকা আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীদের আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে মুক্তি এবং কোটা সংস্কারের প্রজ্ঞাপন জারি করা না হলে তারা আন্দোলনে নামবেন বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।

রবিবার সকালে রাজধানীর শাহবাগে জাতীয় জাদুঘরের সামনে এক সংবাদ সম্মেলনে তারা আন্দোলনের এ হুমকি দেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসান আল মামুন স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তি লিখিতভাবে পড়ে শোনান কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. বিন ইয়ামিন মোল্লাহ। ‘কোটা সংস্কার’ ও ‘নিরাপদ সড়ক’ আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা এবং প্রহসনমূলক মামলায় গ্রেফতারকৃত শিক্ষার্থীদের নিঃশর্ত মুক্তির দাবি জানান তিনি। কোটা সংস্কারের ৫ দফা পূরণ করে প্রজ্ঞাপন জারির দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে এই শিক্ষার্থীদের মুক্তি ও প্রজ্ঞাপন প্রকাশ করা না হলে সারাদেশে আবারও কঠোর আন্দোলনের কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।’

তিনি আরও বলেন, ‘কোটা সংস্কার ও নিরাপদ সড়কের দাবিতে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ বেশ কয়েকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, যা শিক্ষার্থীদের স্বাধীন মত প্রকাশের সাংবিধানিক অধিকার কেড়ে নেওয়ার শামিল।’ সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ সাধারণ ছাত্র অধিকার সংরক্ষণ পরিষদের আরও অনেকে উপস্থিত ছিলেন।

সরকার এই আন্দোলনটির যৌক্তিকতা খুঁজে পেতে যত দেরি করবে তত বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশ।


নিরাপদ সড়ক আন্দোলন

সর্বদা ভয়ে থাকা সরকার প্রথমে ভয় পেয়েছিল। তাই কোমলমতিদের উপর প্রথমদিন বলা চলে পুলিশি অ্যাকশন হয়েছিল। আমরা দেখেছি ১০ থেকে ১৫ বছরের বাচ্ছাদের পিটিয়ে আহত করতে। যখন তারা তাদের ২ সহপাঠির লাশ আর ৬ সহপাঠির মুমূর্ষু অবস্থা নিজ চোখে দেখেছে। আর সেটি ঘটিয়েছে বেপরোয়া গতির বাস। যার চালক অযথা প্রতিযোগিতা করতে গিয়ে এই হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছেন। সরকার এই আন্দোলনের যৌক্তিকতা বুঝতে অন্তত ৫ দিন সময় নিয়েছে। কারণ সড়কে কি পরিমাণ অনিয়ম হয় আর তা থেকে জনমনে কতটা ক্ষোভ জমা হয়ে আছে তা সরকারের কর্তব্যক্তিরা বুঝতে অপারগ।

তাই সরকার প্রধানও বিষয়টি উপলব্ধি করতে অক্ষমতার পরিচয় দেন। যার কারণে আন্দোলন ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছিল। যদি সরকার এই আন্দোলনের যৌক্তিকতা বুঝতে পারতো তবে দ্বিতীয় বা তৃতীয় দিনেই সকল দাবি মেনে নিতে পারতো। কিন্ত তা করতে না পারায় রাজধানীর জিগাতলায় একটি অপ্রিতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। যেটিকে কেন্দ্র করে এই আন্দোলনে যুক্ত হয় বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরাও। যার শেষ পরিণতি হয়েছে লজ্জার। শেষে সরকার সকল “দাবি মেনে নিয়েছে” বটে তবে জনগণকে সন্তুষ্ট করতে ব্যর্থ হয়েছে।

অন্যদিকে এই আন্দোলন থেকে ফায়দা লুটতে চাওয়া বা সরকারের পতনের ছক আঁকতে থাকা বিএনপি বুঝতে অক্ষম হয়েছে যে এই আন্দোলন দাবি মেনে নেয়া পর্যন্ত। তার বেশি দীর্ঘায়িত হবে না। আর এসকল দাবি মেনে নেয়া সরকারের জন্য অসুবিধার কিছু না। তাই এখানে পায়দা নেয়া সম্ভব নয়। এটি বুঝতে না পারার কারণ গণবিচ্ছিন্নতা। তারাও সরকারের মত বুঝতে অক্ষম হয়েছে জনগণের মনের ভাব।



তবে, শিশুদের এই আন্দোলনকে কেন্দ্র করে সরকার সাংবাদিকদের উপর যে নির্যাতন চালিয়েছে সেটি সরকারের ক্ষতি বেশি করেছে। গুজব ছড়িয়ে পড়ার জন্য সাংবাদিকদের খবর সংগ্রহ করতে এবং মিডিয়াকে তা প্রকাশ করতে বাধা দেয়াই ছিল দায়ী। যখন কোনো মিডিয়া নিউজ প্রকাশ করতে পারছিল না তখন জনমনে আতঙ্ক বিরাজ করছিল কি হচ্ছে এখানে। তারা জানতে চাইছিলো। কিন্তু তখন সেটি টেলিভিশনগুলোকে প্রকাশ করতে দেয়া হয়নি। অনলাইন পত্রিকাগুলোকেও না। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শিশুদের উপর পুলিশি অ্যাকশনের বিভিন্ন ভিডিও আতঙ্কিত ভিডিও সাক্ষাতকার প্রকাশিত হতে থাকে। সেগুলোই সাধারণ মানুষ ও আন্দোলনকারীরা বিশ্বাস করতে শুরু করে। এবং সেটি কিছু ক্ষেত্রে সত্যিইও ছিল। কিন্তু সমস্যা হয়ে দাঁড়ায় তার সাথে কিছু মিথ্যও রটেছিল। যেটি জাজমেন্ট করার সময় এবং ক্ষমতা অন্তত টিনেজারদের নেই।

তারা সহপাঠিকে যখন রক্তাক্ত অবস্থায় অচেতন হতে দেখেছে তখন তারা সেটিকে মৃত্যু মনে করাটা আমার চোখে দোষের কিছু নয়। আর সেই ছবি দেখিয়ে তরার ফেসবুক লাইভে বা বিভিন্ন পোস্টে বলেছে হত্যা করা হয়েছে আন্দোলনকারী শিশুদের। যদি সেখানে মিডিয়া খবর প্রকাশ করতে পারত তবে নিশ্চই এমন ভুল হতো না। তাই এই আন্দোলনে গুজব ছড়ানোর জন্য সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম নয় সরকার দায়ী।

আর এটি সারকারের গণবিচ্ছিন্নতার প্রমাণ আরো একবার দেয়। কারণ সরকার এই আন্দোলনটিকে বুঝতে অক্ষম হয়েছে। আর এটি একদিন হঠাৎকরে গড়ে ওঠা ক্ষোভের বর্হিপ্রকাশ নয়। এটি অন্তত ৪০ বছর ধরে বয়ে চলা একটি কলঙ্কের দাগ। এই সড়ক নিয়ে নানা সময়ে নানা সংগঠন আন্দোলন এবং সমস্যার কথা বলে আসছিল। কোনো সরকারই তা কর্ণপাত করেনি। তাই বর্তমানে যারা ক্ষমতার বাহিরে তারা এবং যারা ক্ষমতায় রয়েছে তারা কেউ এই আন্দোলনকে সমর্থন করারমত বুদ্ধি বা সামর্থ রাখে না। কারণ তাদের পুরোনো অভ্যাস গণদাবিকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখানো। সেটিই তারা করেছে। শেষ পর্যন্ত সরকার সকল দাবি মেনে নিয়েছে বটে তবে জল ঘোলা করে।

মন্তব্য ৬ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (৬) মন্তব্য লিখুন

১| ১৩ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ৯:৩১

বিজন রয় বলেছেন: জনগণের দাবী নিয়ে আন্দোলন করলে তা জনপ্রিয়তা পায়।
বিএনপি এটা বোঝে না, তারা আন্দোলন করে শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার লোভে।
জনগণ এখন তা বোঝে।

২| ১৩ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ৯:৪৬

রাজীব নুর বলেছেন: পুষ্প আপনার জন্য ফোটে না ।

৩| ১৩ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ৯:৫৮

পাঠকের প্রতিক্রিয়া ! বলেছেন: পোস্ট সহমত।

এগুলো আমার মনের কথা।

আসলেই দেশের রাজনৈতিক দলগুলো গণদাবি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হচ্ছ। ওরা গণতন্ত্র কী সেটাই বোঝে না... X(


৪| ১৩ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১১:১১

জুনায়েদ বি রাহমান বলেছেন: আমাদের সরকারদল তো নয়ই অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলো জনগণের মতামত, দাবী দাওয়া এসবে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। তাদের ভাবভঙ্গি অনুধাবন করলে মনে হয় আমরা (জনগণ) জাতিগতভাবে বেকুব।

৫| ১৩ ই আগস্ট, ২০১৮ দুপুর ১:৫৭

মিখু হোসাইন তিতু বলেছেন: কোটা সংস্কারে নাতি পুতিদের টান থাকলেও,নিরাপদ সড়কের দাবি আন্দলনে সরকারের পিছপা হওয়ার মানেই হয় না।
নিরাপদ সড়ক - দেশ উন্নত হওয়ার একটি অংশ।

১৫ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১১:৫১

ইব্রাহীম কার্দি বলেছেন: ভালো বলেছেন।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.