নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অন্তর্মুখী

ইব্রাহীম কার্দি

“আপনাতে আপনি হইতে সাবধান”

ইব্রাহীম কার্দি › বিস্তারিত পোস্টঃ

বাংলার আমাজন রাতারগুল

১৩ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ৯:৫১



বাংলার আমাজন

সারা পৃথিবীতে ফ্রেশওয়াটার সোয়াম্প ফরেস্ট বা স্বাদুপানির জলাবন আছে মাত্র ২২টি। ভারতীয় উপমহাদেশ আছে এর দুইটি…… একটা শ্রীলংকায় আর আরেকটা আমাদের সিলেটের গোয়াইনঘাটে। স্থানীয় মানুষজনের কাছে এইটা “সুন্দরবন” নামেই বেশি পরিচিত। যাবো যাবো করেও গত বর্ষায় আর প্ল্যান করা হয়ে ওঠেনি, এইবার তাই বর্ষা আসার আগেই দৌড় !

হুটহাট করে প্ল্যান নিয়েই আমরা বেরিয়ে যাই সবসময়। এবারো তাই। ঢাকায় অঝোরে বৃষ্টি, ভাবলাম সিলেট তো পানির তলে তলিয়ে যাবেই !!! আশ্চর্য, আমরা সিলেটের বৃষ্টির হাত থেকে বাঁচার জন্য ব্যাগে করে ছাতা নিয়ে গেলাম। সেই ছাতা সারাদিন মাথায় দিয়ে ঘুরতে হলো কড়া রোদ থেকে বাঁচার জন্য !!

ফকিরাপুল থেকে রাত সাড়ে এগারোটার বাসে উঠে আমরা সিলেটের কদমতলীতে নামলাম ভোর পাঁচটায়। এরপর সোজা দরগাহ গেট (হযরত শাহজালালের (রঃ) মাজার) চলে এসে নামাজ, নাস্তা খেয়ে টেয়ে বেরিয়ে পড়লাম। আম্বরখানা পয়েন্ট থেকে একটা সিএনজি নেয়া হলো, গন্তব্য মটরঘাট। লাক্কাতুরা – মালিনীছড়া চা বাগান আর ওসমানী বিমানবন্দরকে পাশে রেখে মসৃণ রাস্তায় ওড়া শুরু করলো সিএনজি।

মটরঘাটে নেমে এইবার নৌকা নেয়ার পালা, ডিঙ্গি নৌকা। এতো ভোরে এখানে কোন মানুষজন নাই। মাঝি নুরু মিয়ার সাথে ৩০০ টাকায় রফা হলো। পাতলা নৌকা, একটু নড়াচড়া করলেই দুলে ওঠে। যাক, মূর্তার ঝাড়ের মধ্যখান দিয়ে ঝোপ কেটে কেটে নৌকা চলতে শুরু করলো। চেঙ্গীর খাল পার হয়ে এবার আসল রাতারগুলে ঢুকে গেলাম। এরপর আর কথাবার্তা নাই। স্তব্ধভাষ – রুদ্ধশ্বাস – বিমূগ্ধ – বিস্ময়ে বিমোহিত !!!!!!!



ভারতের মেঘালয়ের জলধারা গোয়াইন নদীতে এসে পড়ে, আর সেখান কার এক সরু শাখা চেঙ্গী খাল হয়ে পানিটা প্লাবিত করে রাতারগুল জলাবনকে। বর্ষা মৌসুমের প্রায় সবসময়ই পানি থাকে বনে (মে – সেপ্টেম্বর)। শীতকালে অবশ্য সেটা হয়ে যায় আর দশটা বনের মতোই, পাতা ঝরা শুস্ক ডাঙ্গা।

রাতারগুল যাওয়ার পথ


প্রথম উপায় – সিলেট থেকে জাফলং – তামাবিল রোডে সারীঘাট হয়ে সরাসরি গোয়াইনঘাট পৌছানো। এরপর গোয়াইনঘাট থেকে রাতারগুল বিট অফিসে আসবার জন্য ট্রলার ভাড়া করতে হবে, ভাড়া ৯০০ – ১৫০০ এর মধ্যে (আসা – যাওয়া) আর সময় লাগে ২ ঘন্টা। বিট অফিসে নেমে ডিঙ্গি নৌকা নিয়ে বনে ঢুকতে হবে, এতে ঘন্টাপ্রতি ২০০-৩০০ নিবে।

বনে বা তার আশেপাশে খাবার বা থাকার কোন ভালো ব্যবস্থা নেই। তাই খাবার গোয়াইনঘাট বা সিলেট থেকে নিয়ে আসা যায়। আরেকটা বিষয়, নৌকায় করে ঘোরার সময় পানিতে হাত না দেয়াই ভালো। জোক সহ বিভিন্ন পোকামাকড় তো আছেই, বিষাক্ত সাপও পানিতে বা গাছে দেখতে পাওয়া যায় অনায়াসেই। আর আছে বানর, এবং নাম জানা – অজানা অনেক অনেক পাখি।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.