নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

অন্তর্মুখী

ইব্রাহীম কার্দি

“আপনাতে আপনি হইতে সাবধান”

ইব্রাহীম কার্দি › বিস্তারিত পোস্টঃ

কোটা সংস্কার আন্দোলন ও গণমাধ্যম

১৬ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ৯:৪৬



একটি গণতান্ত্রিক দেশে গণ-আন্দোলন হবে এটা স্বাভাবিক ঘটনা। জনগণের দাবির প্রতি গণমাধ্যমের যেমন নিরপেক্ষ ভুমিকা থাকবে তেমনি ঠিক সময়ে ঠিক ঠিক ভাবে সেই আন্দোলনের খবর প্রকাশিত হবে এমন একটি নিশ্চয়তা চায় সাধারণ জনগণ। কিন্তু বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সেটি হয় না। তবে এটি উন্নয়নশীল দশের ক্ষেত্রে বেশি দেখা যায়। কিন্তু সেটি কেন হয় না ? এটি আন্দোলন শেষ হওয়ার পর বা তার তীব্রতা কমার পর আলোচনা সমালোচনার বিষয়। একটি গণআন্দোলন গণমাধ্যমে ঠিকভাবে কাভারেজ না পাওয়ার জন্য আমার মতে দুটি কারণ জড়িত। ১. ক্ষমতাসীদের দ্বারা গণমাধ্যমের টুঁটী চেপে ধরা। ২. গণমাধ্যম কর্মীদের অযোগ্যতা।

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা কোটা সংস্কারের দাবিতে গণআন্দোলন গড়ে তুলেছে। সেই আন্দোলন সরকার একটা সময় বাধ্য হয়ে মেনে নেয়ার ঘোষণাও দেয়। আবার তারা আন্দোলন শেষ হওয়ার পর কোটা সংস্কার অযৌক্তি দাবি করে সংস্কার না করার টাল বাহানা শুরু করে। এসকল প্রেক্ষাপটে আন্দোলন চলাকালীন সময়ে এবং এর পরবর্তী সময়ে গণমাধ্যমের ভুমিকা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু বাংলাদেশ ১৯৭১ সালে স্বাধীন হওয়ার পর থেকে সব সরকারের ভুমিকা গণমাধ্যমের জন্য একই রকম বলা চলে।

বিভিন্ন সময়ে সংবাদ সংগ্রহের সময় সংবাদকর্মীদের উপর সরকারি বাহিনী, আইনশৃঙ্খলাবাহিনী এবং সরকার দলীয় রাজনৈতিক দলের কর্মীরা হামলা চালিয়েছে। হত্যা করেছে। কিন্তু তার কোনো বিচার হয়নি। আবার সংবাদ প্রকাশের কারণে হত্যার ঘটনাও ঘটে থাকে। সাধারণত যারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা করে তাদের রক্ষা করার জন্য সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয় দুর্বৃত্তদের হামলা। যুগ বদলেছে, সরকার বদলেছে কিন্তু চেয়ারের এই আচরণ বদলায়নি।

বাংলাদেশে সাম্প্রতিককালে সাংবাদিকদের ওপহ হামলাকরী কথিত দুর্বৃত্তপনাকে সরকার তাদের বিরোধী শক্তির ইন্দোন দাবি করেছে। কিন্তু হামলার ভিডিও দেখে তাদের চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনার কোনো কার্যকরি উদ্যোগ দেখা যায়নি। অন্যদিকে কতিপয় দুর্বৃত্তকে পুলিশ সহযোগিতা করতে দেখা গেছে বিভিন্ন ভিডিও এবং ছবিতে।

মাঠে সংবাদকর্মীদের খবর সংগ্রহ করতে এভাবেই বাধা দেয়া হয়েছে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময়। আবার দেশের সকল গণমাধ্যমে এক ধরণের রেড এলার্ট জারি ছিল অঘোষিত। যেকোনো সময় যেকোনো গণমাধ্যম বন্ধ বা কর্তারা গ্রেফতার আতঙ্কে খবর সেল্ফ সেন্সরড করেছেন। যেটি জনগণের তথ্য প্রাপ্তির অধিকার লঙ্ঘণ করেছে।

অন্যদিকে সরকারি দলের ছাত্ররাজনৈতিক সংগঠন ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলার অভিযোগ উঠলে সেটি কখনো তারা অস্বীকার করেছে আবার কখনো আত্মরক্ষার কৌশল বলে চালিয়ে গেছে। আবার কখনো রিরোধীদের ষড়যন্ত্র বল চালিয়েছে। এই বিষয়গুলো সঠিকভাবে মিডিয়া কাভারেজ পায়নি।

গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদগুলো ছিলো এমন, অভিযোগ, ওমুক বলেছেন, তমুক মন্তব্য করেছেন ইত্যাদি টাইপ দুর্বল নিউজ। কিন্তু কোনো মিডিয়া একাট ছবি দিয়ে বা একটি ভিডিও দিয়ে সেই ঘটনার জোর দিয়ে বলেনি এখানে এই ঘটেছে। এটা তার প্রমাণ। যেটি গণমাধ্যমের অযোগ্যতার চিহ্ন বহন করে বলে আমি মনে করি।

অন্যদিকে আন্দোলনকারী এবং সরকারের পক্ষ থেকে যখন কোনো বক্তব্য দেয়া হয়েছে তখন ঘটেছে আরো অবাক করা ঘটনা। যেটি সংবাদকর্মীর অযোগ্যতার কারণে হয়েছে। যেমন প্রধানমন্ত্রী আন্দোলনের সময়ে দলের ছত্রসংগঠন ছাত্রলীগের বার্ষিক সভায় বসেন। সেখানে তিনি ছাত্রলীগের বিভিন্ন দোষ নিয়ে গণমাধ্যমের সামনে খোলামেলা সমালোচনা করেন। কিন্তু দেশের কোনো গণমাধ্যম ছাত্রলীগের বিরুদ্ধে প্রধানমন্ত্রীর করা সমালোচনা খবরে তুলে ধরেনি। যেটি আমি মনে করি গণমাধ্যমের অযোগ্যতা। করণ তারা বুঝতে পারেনি কোনটি সেন্সরড করতে হবে আর কোনটি প্রকাশ করতে হবে। এটি অবশ্য অহেতুক ভয় থেকে হয়েছে বলা চলে।

দেশের রাজনৈতিক দলগুলো এখন গণদাবি উপলব্ধি করতে ব্যর্থ হচ্ছে। কি সরকারি দল আর কি বিরোধী বা সংসদের বাইরে থাকা রাজনৈতিক দল। সবার একটাই সমস্যা, আখের গোছাতেই বেলা শেষ। নিজেদের আভ্যন্তরিন সমস্যা সমাধানে ব্যর্থ এসব দল জনগণের সমস্যা নিয়ে কাজ করার সময় খুব একটা পায় না। তাই দিন দিন গণদাবিগুলো উপেক্ষিত হতে হতে অভিযোগের স্তুপ তৈর করছে। যা থেকে আন্দোলন বা গণবিস্ফোরণের রূপ নিচ্ছে। এসকল আন্দোলন বা বিস্ফোরণ ঘটার আগে কেউই টের পাচ্ছে না।

এমন ঘটনার পরও কোনো গণমাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করার সাহস পায়নি। আবার বিরোধী বা সরকারের বাইরে থাকা দলগুলো যে গণদাবি বুঝতে পারছে না। বা তারা গণদাবিতে আন্দোলন বা সমর্থন দিতে ব্যর্থ হচ্ছ সেটিও কোনো গণমাধ্যম সঠিক ভাবে তুলে ধরতে পারছে না। যেটি কোটা আন্দোলনের মত বিভিন্ন আন্দোলনের সময় দেখা গেছে।

অন্যদিকে, সংবাদ সংগ্রহের সময় যখন অনেক সাংবাদিক নির্যাতনের স্বীকার হয়েছেন। সেই নির্যাতনের খবরও গণমাধ্যমে গুরুত্ব পায়নি। যখন বড় কোনো মিডিয়ার সংবাদিক নির্যাতনের স্বীকার হচ্ছেন তখন দায় সারা সংবাদ। আর ছোট কোনো মিডিার সাংবাদিক হলে এড়িয়ে যাওয়ার মত ঘটনা ঘটেছে। অন্যদিকে নির্যাতনের প্রতিবাদে সাংবাদিক সংগঠনগুলোর করা মানববন্ধন বা বিক্ষোভের খবরও গুরুত্ব পাচ্ছে না গণমাধ্যমে।

তাই বলা যায় মিডিয়া যতটা চাপে আছে তার চেয়ে বেশি অযোগ্যতার কারণে জণগণের দাবি দাওয়া নিয়ে খবর প্রকাশ করতে পারছে না। কোটা সংস্কার আন্দোলনে মিডিয়া যে ভুমিকা রাখার কথা ছিল সেটিও তারা পারছে না। এসবের জন্য বড় কারণ দুটি। একটি হচ্ছে বাংলাদেশের গণমাধ্যমগুলো গড়ে ওঠছে কোনো ব্যবসায়ীক উদ্দেশ্য হাসিলের জন্য অথবা ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানের অপকর্ম ঢেকে রাখার জন্য। তাই তারা গণদাবিতে ঝুকি নিতে রাজি হয় না। যেটি গণমাধ্যমের প্রাণ নাশ করেছে। অন্যটি হচ্ছে ৩ মাসে সাংবাদিক বানানোর কতিপয় কোচিং সেন্টার বা কর্মশালা। যেটি একজন গণমাধ্যমকর্মীকে দক্ষ হতে প্রতিবন্দকতা তৈরি করছে বা কোনো আনাড়ির গলায় প্রেসকার্ড তুলে দিচ্ছে।

মন্তব্য ৭ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৭) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১০:০৩

রাজীব নুর বলেছেন: এই আন্দোলনকে ৯৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে? জানেন কিছু এ ব্যাপারে?
এবং তাদের নাকি জামিন হচ্ছে না?

২| ১৬ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১০:০৬

ঢাবিয়ান বলেছেন: পুরোপুরি একমত। মিডিয়া চাপে আছে এটা একটা অজুহাতমাত্র।মিডিয়ার অযোগ্যতাই সবচেয়ে বড় কারন জনগনের দাবী দাওয়া নিয়ে সুষ্ঠু খবর প্রকাশ না করায়। যেদেশে টাকার কাছে সাংবাদিকরা বিক্রি করে সহকর্মী মৃত্যুর বিচারের আন্দোলন, তাদের কাছে আর কি আশা করা যায়!

৩| ১৬ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১০:২৮

সেলিম আনোয়ার বলেছেন: পুলিশদের সঙ্গে দলবেধে ছাত্রলীগের অত্যাচার নির্যাতন কোন ভাবেই লুকোতে পারবে না সরকার। আর ছাত্রলীগ আওয়ালীগের ইশারায় চলে এটা সবাই জানে। তারপরও যখন শাক দিয়ে মাছ ঢাকার চেষ্টা করে বিবৃতি দেয় তখন মনে হয় ভোট তো দূরের কথা চপ্পল মেরে এগুলোরে দেশ থেকে বিতাড়িত করা উচিৎ।

৪| ১৬ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১০:৩৬

তারেক ফাহিম বলেছেন: মত প্রকাশ করছে।

৫| ১৬ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১১:১১

:):):)(:(:(:হাসু মামা বলেছেন: সত্য কথাই বলেছেন।

৬| ১৬ ই আগস্ট, ২০১৮ সকাল ১১:৫৪

বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: গণতন্ত্র, স্বাধীনতা, সাংবিধানিক দায়িত্ব পালন এবং সার্বভৌমত্বের প্রতি ছিটেফৌটাও দায় দেখায়নি মিডিয়া!
তারজন্য ইতিহাসে এই সময়কাল সাংবাদিকতার কালো সময় বলেই অভিহিত হবে একসময় আর
তথাকথিত মিডিয়া মোঘলরাও দেশ ও আমজনতার স্বার্থবিরোধি ভিলেন হিসেবেই চিহ্নিত হবেন।

৭| ১৬ ই আগস্ট, ২০১৮ দুপুর ২:২৩

ভাইয়ু বলেছেন: আমরা সবাই নাচের পুতুল, যেমনে নাচায় তেমনে নাচি ৷উপর মহলের কৃপায় আছি, তাতেই মোরা সুখে বাঁচি ৷ =p~

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.