| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ছেলেটিকে মেয়েটির খুব ভালো লাগতো।
সকাল বেলা উষ্কখুষ্ক চুলে ময়লা কুঁচকানো শার্ট গায়ে দিয়ে ভার্সিটি আসত ছেলেটি।
সেই শার্টের হয়তো একটা বোতাম নেই।
কিংবা এক বোতামের জায়গায় আরেক বোতাম।
কিংবা শার্ট টা হয়তো উল্টো করে পরা।
জিন্সের প্যান্টে হয়তো গত এক সপ্তাহের মাটি-ধুলো এখনো লেগে রয়েছে।
প্যান্টের এক সাইড ভাজ করা,আরেক সাইড হয়তো মাটিতে গিয়ে ঠেকছে।
আর চোখে এখনো রাজ্যের ঘুম।যেন রাজকন্যাকে রাতভর পাহারা দিয়ে এসেছে সে।
ছেলেটাকে মেয়েটার খুব ভালো লাগতো।
মেয়েটি ছেলেটিকে লুকিয়ে লুকিয়ে দেখতো।
ক্লাসের লেকচারের সময় আড় চোখে ছেলেটার দিকে তাকাতো মেয়েটি।
দেখত,গভীর মনোযোগে শুনছে ছেলেটি,কলমের নিব ঝড় তুলছে তার খাতায়
নয়তো পাশের বন্ধুদের সাথে খুনসুটিতে মেতে উঠেছে।
ক্লাসের ফাঁকে হয়তো 29 এর তাস ছুঁড়তো সে।
দেখতে বড় ভালো লাগতো মেয়েটির।
ছেলেটিকে মেয়েটির খুব ভালো লাগতো।
গাছের ফাঁক দিয়ে দেখত মেয়েটি
ক্যাম্পাসের এক কোণায় বন্ধুদের সাথে আড্ডায় মেতে উঠেছে সেই ছেলে
হাতে হয়তো এক বোতল সেভেন আপ,চুমুক দিতো
তারপর বন্ধুদের জামাই আদরে রাগে লাল হয়ে যেত সে
তোতলানো শুরু করত
তা দেখে মেয়েটির বড়ই ভালো লাগতো।
ছেলেটিকে মেয়েটির খুব ভালো লাগতো।
রাতে বিছানায় শুয়ে ছেলেটির কথা ভাবতো মেয়েটি
পড়ার টেবিলে বইয়ের পাতায় ভেসে উঠতো ছেলেটির ছবি।
তারপর মেয়েটি ঘুমিয়ে যেত
স্বপ্নে সে ছেলেটির হাত ধরতো
তারপর গল্প করতে করতে একসাথে অনেক দূ’রে হারিয়ে যেত তারা
তারপর স্বপ্নভংগ হলে দু’হাতে মুখ ঢাকতো মেয়েটি
এ কি দেখেছে সে!কি লজ্জা কি লজ্জা!!
ছেলেটিকে মেয়েটির খুব ভালো লাগতো।
স্বপ্ন ভাংলো একদিন
ছেলেটি আরেকজনের হাত ধরে হাঁটিছিল
তা দেখে বুক ভেংগে যাচ্ছিল মেয়েটির
আহ!
কি কষ্ট!কি কষ্ট!
কোথায় আজ ছেলেটির উষ্কখুষ্ক চুল
কোথায় তার সেই ময়লা কুঁচকানো শার্ট
কোথায় তার সেই একসপ্তাহের ধুলো মাখা জিন্সের প্যান্ট?
কোথায়…..................সেই হাত ধরাধরি করে একসাথে হারিয়ে যাবার স্বপ্ন?
এখন সেই হাত ধরেছে অন্য আরেক হাত
কিংবা হাতজোড়া
আহ!
কি কষ্ট!কি কষ্ট!
তারপরও এখন সকালে আসে ছেলেটি
সেই উষ্কখুষ্ক চুল
সেই ময়লা শার্ট
সেই ধুলোবালি মাখা জিন্সের প্যান্ট
সেই ঘুম ঘুম চোখ,যেন সারারাত রাজকন্যা পাহারা দিয়ে এই এলো
মেয়েটির ইচ্ছা করে ছুটে গিয়ে ছেলেটিকে জড়িয়ে ধরতে
বলতে, “কি জনাব!আমাকে রাতভর পাহারা দিয়ে বড় ক্লান্ত হয়েছেন বুঝি?”
তারপর ভালোবাসার হাতে সমান করে দিত কুঁচকানো শার্ট
ঝেড়ে দিত একসপ্তাহের ধুলো মাখা সেই জিন্সের প্যান্ট
হাতের আঙ্গুলগুলিকে চিরুণীর দাঁত বানিয়ে আচড়ে দিতো মাথার চুল
এক জংলীকে সভ্য বানানোর এক ব্যর্থ চেষ্টা।
কিন্তু না,মেয়েটি যায়না।
“থাকুক না সে সুখে”-মেয়েটি ভাবে
“ধরুক না সে এখন আরেকজনের হাত
মনে দেক না জায়গা আরেকজনকে
সেই মন,সেই ময়লা শার্টে নিচে,বুকের মধ্যে লুকিয়ে থাকা সেই মন
যাক না ছুটে আরেকজনের কাছে সেই পায়ে
যে পা লুকিয়ে আছে ধুলোর জিন্সের আড়ালে
আমি তাকে দূর থেকে ভালোবাসবো,ভালোবাসবো………………
ভালোবাসবো”
ছেলেটিকে মেয়েটির আজো ভালোলাগে
(To be continued……………)
১৪ ই জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৫:৪৪
টুইস্ট বলেছেন: তাহলে বাংলাদেশের ৯০% ছেলেদের ভার্সিটিতে ঢোকা বন্ধ হয়ে যাবে আপু :প
২|
১৪ ই জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৫:২০
আহসানের ব্লগ বলেছেন: এই লেখা লেখির একটি অনবদ্য জগতে আপনাকে স্বাগতম, ![]()
ভালো থাকবেন,
লিখবেন,
পড়বেন
এবং মন্তব্য করে অন্য লেখক দের উৎসাহিত করবেন। ![]()
১৪ ই জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৫:৪৭
টুইস্ট বলেছেন: ধন্যবাদ ভাইয়া ![]()
৩|
১৪ ই জুলাই, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:৫৭
হরিণা-১৯৭১ বলেছেন: " তাহলে বাংলাদেশের ৯০% ছেলেদের ভার্সিটিতে ঢোকা বন্ধ হয়ে যাবে আপু :প "
এ ধরণের ইডিয়টদের দ্বারা কিছু হয় না; এদের বের করে দিয়ে ৯০% ডিসিপ্লিন্ড ছেলেমেয়েকে ওখানে পড়তে দিলে জাতি উপকৃত হবে।
১৪ ই জুলাই, ২০১৪ রাত ৮:২১
টুইস্ট বলেছেন: তাদের জন্য আর্মি আছে ![]()
©somewhere in net ltd.
১|
১৪ ই জুলাই, ২০১৪ বিকাল ৪:০৪
হরিণা-১৯৭১ বলেছেন: " সকাল বেলা উষ্কখুষ্ক চুলে ময়লা কুঁচকানো শার্ট গায়ে দিয়ে ভার্সিটি আসত ছেলেটি "
-ময়লা কুঁচকানো শার্ট ? ইয়াক, এ ধরণের পঁচাদের ইউনিভার্সিটিতে প্রবেশ নিষেধ