| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ভোর ছয়টা বেজে ৩০ মিনিট । ঠান্ডা ঠান্ডা হাওয়া । তখনো সূর্যের আলো ভালভাবে ফুটেনি । দিনটা ছিল দু'হাজার দশের জানুয়ারীর শেষ দিন মানে ৩১ তারিখ ।
আমি বরাবরই ভ্রমণপ্রিয় একজন মানুষ । ঘুরতে বেশ ভালবাসি । আর যাতে বেশি বেশি ঘুরতে পারি তাই সদস্য হয়েছি DUTSএর ।
তো সেখান থেকে এবারের ট্যুর সেন্ট মার্টিন-এ । ৩য় সেমিষ্টার পরীক্ষাও শেষ । তাই যাওয়ার জন্য ব্যাপক পরিকল্পনা করেছি । শুধু টাকা জমা দেওয়াটা বাকী আছে ।
এদিকে আবার ডিপার্টমেন্ট থেকে এবারের বনভোজন হচ্ছে শেরপুরের গজনীতে । বনভোজনের তারিখটা আমার ট্যুরের তারিখের মধ্যেই পড়েছে । তো ভাবছি, কি করা যায় ? সমুদ্র ভ্রমণেই যাব নাকি জঙ্গল ভ্রমণেই যাব ! হঠাৎ ডিপার্টমেন্ট থেকে ফখরুদ্দীন স্যারের ফোন এল । স্যার বললেন , আমি নাকি যতদিন আরবী ডিপার্টমেন্টের (কু নাকি সু) খ্যাত ছাত্রী হিসেবে আছি ততদিন নাকি আমাকে ডিপার্টমেন্ট থেকে বনে-বাদাড়ে ভ্রমণ করতে হবে । তাই রাজী হয়ে গেলাম ।
তো প্রথম মাসের শেষ দিবসের ভোরে আমার বর্তমান আবাস হল থেকে বের হয়ে রওনা দিলাম মল চত্বরের উদ্দেশ্যে । গুনে গুনে পাঁচ মিনিট পর পৌঁছলাম । গিয়ে দেখি , আমার চারপাশে চারটা বাস । সবাই বাসে উঠছে । আমাদের ব্যাচের জন্য চার নাম্বার বাস । উঠলাম গিয়ে চার নাম্বারে । উঠে দেখি, এখানেও ডাবলিং । মানে- প্রতি ব্যাচের জন্যে ১ টা করে বাস, অথচ আমাদের বাসে আমাদের ব্যাচের সাথে ডাবলিং করছে মাস্টার্সের ভাইয়ারা ... নাকি মাস্টার্সের সাথে ডাবলিং করছি আমরা ! আমাদের গাড়িতে ছিল আমাদের বড় ভাই জননন্দিত শিল্পী ফয়সাল আমীন কাযী । তো ভেবেছিলাম, সে যখন আছে তো গাড়িতে নিশ্চয় অনেক মজা হবে । কিন্তু ঘটল উল্টা । তারা তো কোন মজা করলই না, বরং গাড়িওয়ালাদের ভং-চং মার্কা গান শুনতে শুনতে যেতে হল ।
তো আমাদের গাড়ি চলছে তো চলছেই গাজীপুর- ময়মনসিংহের শাল- গজারের জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে । ভাগ্যের নির্মম পরিহাস আর কাকে বলে ! হঠাৎ আমাদের গাড়ির একটা চাকা গেল পাংচার হয়ে । চাকা ঠিক করতে করতে পার হয়ে গেল আধা ঘন্টার বেশি সময় । এই ফাঁকে আমাদের বানর গ্র“পের বিশিষ্ট সদস্যরা পাশে একটা নার্সারী দেখতে পেয়ে সেখানে ঢুকে লাফালাফি শুরু করে দিল । চাকাকে সুস্থ করে আবার যাত্রা শুরু হল । কিছুদূর যাওয়ার পরে আবার তেল শেষ হয়ে গেল । হায়রে কপাল ! তাও আবার ভাঙ্গা-চোড়া এক তেল-পাম্পের সামনে ! তেল নিতে আবার সেই আধা ঘন্টা । এবার শুরু হল আমাদের একটানা অনির্দিষ্ট কালীন যাত্রা । যাইতে যাইতে আমরা শেষকালে শেরপুরে ঢুকেই গেলাম । এরপর... গজনীর রাস্তা । মধ্যে দিয়ে চিকন আঁকা- বাঁকা , উঁচু- নিচু রাস্তা । দু’পাশ দিয়ে উঁচু- উঁচু পাহাড়ী বন । মনে হচ্ছিল পাহাড় কেটে রাস্তা করা হয়েছে, আর আমরা গহীন বনের মধ্যে দিয়ে গাড়ি নিয়ে পাহাড়ে উঠছি । অসম্ভব এক ভাল লাগা আমাকে নাড়া দিয়ে যাচ্ছিল । মনে হচ্ছিল , অ্যাডভেঞ্চারে যাচ্ছি ।
ভাল লাগার এই আবেশের মধ্যে দিয়ে এক পর্যায়ে পৌঁছলাম চির কাক্সিক্ষত সেই গজনী অবকাশ কেন্দ্রে । গাড়ি থেকে নামতেই স্যারের আদেশ এল রেষ্ট-রুমে গিয়ে রেষ্ট নেবার । এমনিতেই তখন ঘড়িতে বাজে ২.০০ টা । অথচ শিডিউলে ছিল আমরা পৌঁছব ১২.০০ টায় । আবার রেষ্ট নিতে নিতে বাজল ২.৩০ টা । স্যার ডেকে পাঠালে নিচে গেলাম । তাঁরা আমাদের নিয়ে ঘুরতে বের হলেন । প্রথমেই গেলাম সাইট ভিউ টাওয়ারে । টাওয়ারের শীর্ষে উঠে চারদিকে চোখ বুলিয়ে যা দেখতে পেলাম !! ওয়াওওওওও !!! বলে শেষ করা যাবে না । কি সুন্দর সবুজ পাহাড়ে ঘেরা চারদিকে !এত্ত সুন্দর জায়গা আর এত্ত সুন্দর দৃশ্য আমাদের দেশেও আছে । মনে হচ্ছিল, যেন এক স্বপ্নের জগতে চলে এসেছি । পরে শুনি, এটা আমাদের না । এটা ভারতের সীমান্ত । কেটে-ছেঁটে ভাল জায়গা গুলো রেখে দিয়েছে !
কিছুক্ষণ টাওয়ারে কাটালাম । এরপর নিচে নেমে এলাম । ছেলেরা ততক্ষণে ভারত সীমান্তে চলে গেছে । ফখরুদ্দীন স্যার আমাদেরকে নিয়ে ভারত সীমান্ত জয়ে রওনা হলেন । কিন্তু, চেয়ারম্যান স্যারের আদেশে তিন-চার কদম এগিয়েই ফিরে এলেন । অদম্য ইচ্ছাকে দমাতে না পেরে স্যারের নির্দেশ অমান্য করে আমরা নিজেরাই রওনা দিলাম । রাস্তার মাঝে দেখা পেলাম কয়েকটা বড় ভাইয়ার । কিছুদূর হাঁটার পর পেয়ে গেলাম ঘোড়ার গাড়ি । গাড়ি কিছুদূর যাওয়ার পর আমাদের নামিয়ে দিল । কারণ, সামনে বিপজ্জনক এলাকা । গাড়ি নিয়ে আর ঢোকা যাবে না । আমরা হেঁটেই বিপজ্জনক এলাকার ভেতরে ঢুকে গেলাম । হাঁটতে বেশ মজাই লাগছিল । কারণ, জায়গাটা অ্যাডভেঞ্চারের জন্য দারুণ । একেতো পাহাড়, বন-জঙ্গল । তার উপর আবার বিএসএফ-এর গুলি খাওয়ার ভয় ! এমন হলেই তো মজা!
সীমান্ত জয় শেষে ফিরে এলাম । এসে দেখি, সবাই খেতে বসেছে । কিন্তু বনভোজনে তো বনের মধ্যে খাওয়ার কথা ! অথচ খাচ্ছে খোলা মাঠে ! তাহলে তো এটা হয়ে গেল মাঠ ভোজন !
আমি খাবার নিয়ে মাঠে না বসে চলে গেলাম গাড়িতে । আমার দলের সদস্য হিসেবে যোগ দিল ইভা, সুখী আর আরমান । খাবার ছিল: পোলাও , মুরগীর রোষ্ট , গরুর গোশত, ডিম, সালাদ আর কোল্ড ড্রিংকস । (খাবারের নাম লিখেও তো ভুল করলাম । কারণ, আমার এখন নাম দেখে আবার খাইতে ইচ্ছে করছে )
ভোজন-পর্ব শেষে গাড়ি থেকে নামলাম । এবার সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের পালা । আমরা বসে পড়লাম । আমরা যখন গাড়িতে ছিলাম তখন ফয়সাল ভাইয়া বলে দিয়েছিল , আমার গাড়িতে দুইটা মেয়ে আছে । এরা যদি হাঁড়ি ভাঙতে না পারে তবে এদের গজনীতে রেখে আসব ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে আবার সেই কথা স্মরণ করিয়ে দিল । তো আমি আর ইভা ঠিক করেই রেখেছি যে , হাড়ি ভাঙ্গা তো দূরে থাক হাড়ির ধারে কাছেও যাব না । প্রথম পর্ব ছিল ডিপার্টমেন্টের পিচ্চি-পাচ্চা মানে ১ম বর্ষের পোলা-পানদের জন্যে । এরপরেই এল সেই কাক্সিক্ষত হাড়ি ভাঙ্গা । কেউ তো ঠিক মত যেতে পারে না । হাড়ি ভাঙ্গার গতি দেখে তো হাসতে হাসতে মরে যাওয়ার অবস্থা ! পরে হাড়ি ভাঙ্গল স্যারের মেয়ে । এরপর ছিল র্যাফেল ড্র । দেখি , স্যারেরা একেকজন দশটা-বারোটা করে টিকেট কিনে নিয়ে রেখেছে । তো ফল স্বরূপ যা হওয়ার কথা তাই হল । এরপর এল স্যারদের বালিশ খেলা । মানে বালিশ ঢিলা-ঢিলি আরকি! সবাইকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হল আমাদের প্রিয় মুখ ফখরুদ্দীন স্যার । খুশির ঠেলায় সবাই স্যারকে মাথায় নিয়ে নাচানাচি শুরু করল ।
সব পর্ব শেষ হয়ে বাকী থাকল এক পর্ব । সেটা হল আমাদের ফিরে আসা । সবাই ফ্রেশ হয়ে গাড়িতে উঠলাম । রওনা দিলাম পুরাতন আবাসের দিকে । রাতের নিঝুম নিরবতা ভেঙ্গে চলে এলাম ঢাকায় ঠিক রাত ১২.০০ টায় । শুরু হল আমার হলে ঢোকার সংগ্রাম । অবশেষে আমার হাউজ- টিউটর ম্যাডামের ঘুম ভেঙ্গে দিয়ে গভীর রাতে হলে ঢোকার সুযোগ পেলাম । এভাবেই শেষ হল আমার ২০১০এর বনের মধ্যে ভোজন ।
২১ শে মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:১৪
হানী বলেছেন: এখন ভাল হয়েছে ।
২|
২১ শে মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৭
ধ্রুবমেঘ বলেছেন:
খুব ভালা করছেন আপামণি। ঢাবি নাকি?
২১ শে মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৭:১৫
হানী বলেছেন: হুমমমমমমমম......ঢাবি
৩|
১৪ ই জুন, ২০১০ রাত ১১:০৬
ব্লগ ধামাকা বলেছেন: কতদিন ঘুরিনা ![]()
১৫ ই জুন, ২০১০ সকাল ১০:২৮
হানী বলেছেন: ঘুরে অাসুন । অামরা ঢাকা ইউনিভার্সিটি ট্যুরিস্ট সোসাইটি থেকে ৩/৪ মাস পর পর ট্যুরের অায়োজন করি । মন চাইলে যোগ দিতে পারেন ।
৪|
১৫ ই জুন, ২০১০ সকাল ১০:৩৩
সুবিদ্ বলেছেন: যাওয়া হয়নি গজনী
১৫ ই জুন, ২০১০ সকাল ১০:৩৬
হানী বলেছেন: তাহলে এবার ঘুরে অাসুন...
৫|
২০ শে জুলাই, ২০১০ রাত ১১:৫৫
রাষ্ট্রপ্রধান বলেছেন: আমি যাবো
৬|
২১ শে জুলাই, ২০১০ রাত ১২:০১
রাষ্ট্রপ্রধান বলেছেন: আমি যাবো
২১ শে জুলাই, ২০১০ রাত ১০:১৮
হানী বলেছেন: ঘুরে আসুন । ভাল লাগবে ।
©somewhere in net ltd.
১|
২১ শে মে, ২০১০ সন্ধ্যা ৬:২৬
জয়ার ভুবন বলেছেন: গজনী অবকাশ কেন্দ্রে গিয়েছিলামা ২০০১।
এখন কেমন আছে?