নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

উপানন্দ ব্লগার ভণে, শুনে পুণ্যবান।

উপানন্দ বোস

আমি উপানন্দ বোস, নাস্তিক

উপানন্দ বোস › বিস্তারিত পোস্টঃ

তাজমহল কখনও হিন্দু মন্দির নয়

২০ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১২:৪১

পি এন ওক -- একজন গেরুয়াপন্থী জোচ্চোর ও মিথ্যাবাদী । "তেজো মহালয়" নামে কোনও শিব ছিল না, আজও ভারতে নেই। ওই পি এন ওক নামের লোকটি কর্মজীবনে মিলিটারিতে ছিলো। মিলিটারি থেকে ফিরে এসে ১৯৪৭ থেকে ১৯৭৪ পর্যন্ত সাংবাদিক হিসাবে কাজ করেছে। সে হঠাৎ কী করে ঐতিহাসিক হয়ে গেল ? গাঁজাখুরি গল্প ও ভূতের গল্প লোকে খায় ভালো । কিন্তু তাকে ঐতিহাসিকেরা কখনওই পাত্তা দেয়নি। এখন পাত্তা দিচ্ছে গেরুয়া শিবিরের লোকেরা । আর পাত্তা দিচ্ছে তারা -- যাদের বগলে দাদ ও চুলকানির মতো গোপন সাম্প্রদায়িকতা আছে।

প্রশ্ন হলো, ওক কী ভাবে "প্রোফেসর" হয়ে গেল ? কারণ নামের আগে প্রোফেসর না লাগালে কেউ পাত্তা দেয় না যে !!! উইকিপিডিয়া বলছে -- "Oak's theories have been summarily rejected in academia, they have found a popular following among some members of India's Hindutvas" --- শিক্ষাবিদ-দের কাছে ওকের থিয়োরি প্রত্যাখাত হয়েছে । কিন্তু ভারতের কিছু হিন্দুত্ববাদী সদস্যের কাছে তা জনপ্রিয় হয়েছে।

পি এন ওকের কথা মানলে -- কাবা, ভ্যাটিকান ও ওয়েস্টমিনিস্টার এ্যাবে-- সবই শিবের মন্দির। "ইসলাম" -- মানে ঈশালয়ম -- অর্থাৎ শিবের মন্দির। "ক্রিশ্চিয়ানিটি" মানে হলো "কৃষ্ণচিন্তা"। লোকটা কিন্তু পাগল নয়, শয়তান বদমাস।

তার দাবি, তাজমহলের একটা কুঠুরিতে নাকি শিবের মূর্তি চাপা দেওয়া আছে। যে কুঠুরির অস্তিত্ব নেই , কিন্তু যদিও থাকে, সেখানে ওক ঢুকলেন কীভাবে ?

ওকের দাবি, কেউ নাকি তাজমহলের ভিত খুঁড়ে বার্বন টেস্ট করেছে। একদম বাজে কথা। কারণ আর্কেওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই) তাজমহলের দেখভাল করে। তাদের অজ্ঞাতসারে এটা সম্ভব ?

দেওয়ানি আদালতে লিখিত বিবৃতিতে এএসআই জানায়, দেবতা শিবের নামে ওই স্থাপনাটি তৈরি করা হয়েছিল বলে যে দাবিটি করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। ২০১৫ সালে ছয় আইনজীবী তাজমহলকে শিবমন্দির ঘোষণা করার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটেই আদালতে এএসআই তাদের অভিমত জানিয়েছে।
আইনজীবীরা তাদের আর্জিতে জানিয়েছিলেন, তাজমহল আসলে একটি হিন্দু মন্দির। এর নাম ছিল তেজো মহালয়া। এ কারণে তাজমহলের ভেতরের প্রকষ্ঠে গিয়ে শিব অনুসারীদের ‘দর্শন’ ও ‘আরতি’ অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেওয়া হোক।
তারা মনুমেন্টটির তালাবন্ধ কক্ষগুলোও খুলে দেওয়ার আবেদন করেছিল।
এএসআই আদালতকে জানায়, তাজ একটি ইসলামি স্থাপনা। অন্য কোনো ধর্মের লোকজন কোনো কালেই এখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান করেনি।
হলফনামায় এএসআই জানায়, ‘ঐতিহাসিকভাবে এবং এমনকি প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র অনুযায়ী যমুনা নদীর তীরে একটিমাত্র প্রাচীন স্থাপনা রয়েছে। তার নাম তাজমহল। এই স্থাপনাটি বিশ্বের সপ্ত আশ্চর্যের একটি হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পাওয়ায় সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে একে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করেছে।’
ব্রিটিশ আমল থেকে প্রাপ্ত নথিপত্র অনুযায়ী, তাজ মনুমেন্টকে ১৯২০ সালের ২২ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংরক্ষিত মনুমেন্ট হিসেবে ঘোষণা করা হয়
দুঃখ ও ক্রোধ এই কারণে যে পি এন ওক নামে একজন নিম্নরুচির লোকের কথা নিয়ে কেউ প্রবন্ধ লিখতে পারে ! তাজমহলকে হিন্দু মন্দির দাবী করে একমাত্র ওই লোকটি ছাড়া আর কারুর কোনও গ্রন্থ নেই। এখন যারাই লেখালিখি করছে, সবই ওই ঠগ ব্যক্তির বই থেকে উদাহরণ দিচ্ছে। ওক নামে এক জোচ্চোরের কাল্পনিক কাহিনী ছাড়া পৃথিবীতে আর কোথাও কোনও আবিষ্কার নেই। সব লোকই ওই ওকে-র মনগড়া লেখার ভিত্তিতেই জাবর কেটে যাচ্ছে।... ওক নাকি রিসার্চ করেছে । রিসার্চ আবার কী ? মনগড়া কথা লিখতে রিসার্চ করতে হয় না । "তেজো মহালয়া" শিবের নাম -- এটা কোন পুরাণে আছে ?

এরপর ভারতের গেরুয়া শিবির কি ভ্যাটিকানে ও কাবা গৃহে শিবের পূজা করতে চাইবে -- যেহেতু ওক-এর দাবি এসবই হিন্দু মন্দির। এমনকি "জর্জ" নামটিও নাকি ভারতের উত্তরপ্রদেশীয় "গর্গ" পদবি থেকে উদ্ভুত।

পি এন ওক মহাশয়ের একটি বই আছে Who says Akbar was Great? । স্বর্গত সাহিত্যিক নারায়ণ সান্যাল, ন্যাশনাল লাইব্রেরীতে এই বইয়ের একটি কপির প্রথম পাতায় এক পাঠকের একটি মন্তব্য দেখে মুগ্‌ধ হয়েছিলেন। বইটির প্রথম পাতায় যেখানে বইয়ের নামটি বড় বড় করে লেখা, তার নীচে কলম দিয়ে লেখা Entire forest, except Oak । মানে ওক বৃক্ষ ছাড়া অরণ্য !!!!

রাতের অন্ধকারে চুপিসাড়ে পাঁচিল টপকে বাবরি মসজিদের ভেতরে ঢুকে শ্রীরামের মূর্তি বসিয়ে দিয়ে আসে দুষ্কৃতীরা। পরদিন সকালে বিশাল ঢাক ঢোল বাজিয়ে দাবি করে, রামলালা আবির্ভূত হয়েছে।

এখন ভয় হয়, এবারও হয়ত একদল দুষ্কৃতী তাজমহলের ভেতরে রামলালা বা নিদেনপক্ষে হনুমানের মূর্তি বসিয়ে দিয়ে আসবে।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২০ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ২:১৮

ভুয়া মফিজ বলেছেন: ভালো লিখেছেন। এসব তথাকথিত ইতিহাসবিদদের কচকচানি আর ধর্মান্ধতা অতীতে অনেক স্থাপনা ধ্বংস করেছে, ভবিষ্যতেও করবে সুযোগ পেলেই। তাজমহলকে প্রেমের নিদর্শন হিসাবেই দেখতে ভালো পৃথিবীর বেশিরভাগ মানুষের মতো। কতিপয় দুর্বৃত্তের কারনে এটা যেন হরিয়ে না যায়!!!

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.