নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

উপানন্দ ব্লগার ভণে, শুনে পুণ্যবান।

উপানন্দ বোস

আমি উপানন্দ বোস, নাস্তিক

উপানন্দ বোস › বিস্তারিত পোস্টঃ

স্বামী বিবেকানন্দের চিন্তা

২০ শে অক্টোবর, ২০১৭ রাত ১২:৪৪

Article by Prof. Arabinda Samanta
------------------------------
স্বামী বিবেকানন্দের শিকাগো বক্তৃতাকে কেন্দ্র করে ইদানিং হিন্দুধর্ম ও স্বামীজি সম্পর্কে পত্র-পত্রিকায়, সভা- সমিতিতে ,সোসাল নেটওয়ার্ক সাইটে নানা কথাবার্তা চালাচালি চলছে। দেখা যাচ্ছে এইসব আলোচনার অনেকটাই কেজো প্রয়োজনসিদ্ধ, প্ররোচনামূলক ও বিভ্রান্তিকর।
প্রথমত এ-কথাটা পরিষ্কার করে বলা দরকার যে বিবেকানন্দ আসলে আমেরিকায় ধর্ম প্রচার করতে যাননি। হিন্দুধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব প্রচার তো দূরের কথা !ভারতের অপরিসীম দারিদ্র্য আর অজ্ঞানতা তাঁকে ব্যথিত ও বিচলিত করেছিল। পরিব্রাজকের যাত্রা শেষে ভারতের শেষ ভূখণ্ডে উপবিষ্ট ধ্যাননেত্রে স্বামীজির প্রথম উপলব্ধি হয়েছিল দেশের জন্য 'রুটি চাই'! এই রুটি দেবে পাশ্চাত্য। পরিবর্তে ভারতবর্ষ দেবে তার সহস্রাব্দ লালিত অধ্যাত্মজ্ঞান। তিনি আমেরিকায় গিয়েছিলেন দেশের জন্য রুটির সন্ধানে, ধর্ম প্রচার করতে নয়। কথাটি অনেকের কাছে নতুন মনে হতে পারে। কিন্তু শঙ্করীপ্রসাদ বসু ও মিসেস মেরি লুইস বার্ক-এর গবেষণা থেকে আমরা অনেকদিন আগেই তা জেনেছি। লুইস বার্ক-এর গবেষণা থেকে আমরা আরও জানতে পারি যে বিবেকানন্দ প্রথম প্রথম আমেরিকায় বেদ- বেদান্ত-উপনিষদ বিষয়ে বক্তৃতা করতেন টাকার বিনিময়ে। এই সংগৃহীত অর্থ তিনি পাঠিয়েছেন মঠের গুরুভাইদের কাছে মঠের সেবাকর্ম সম্প্রসারিত করতে। তিনি কোনো লিখিত বক্তৃতা দিতেন না। পুরোটাই তাৎক্ষনিক। সভাঘর উপচে পড়ত সেইসব বক্তৃতা শোনার জন্য। সেইসব বক্তৃতা শটহ্যান্ডে টুকে রাখতেন এক রেসুড়ে বাউন্ডুলে সাহেব গুডউইন। গুডউইনের কাছে আমরা কৃতজ্ঞ যে আমেরিকায় স্বামীজির অনেক বক্তৃতাই হারিয়ে যেতো যদি না গুডুউইন সেগুলো কপি করে রাখতেন। গুডউইন স্বামীজির বাগ্মিতায় মুগ্ধ হন। স্বামীজি গুডউইনকে পুত্রবৎ স্নেহ করতে শুরু করেন। স্বামীজির বক্তৃতা এতটাই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিল যে সাহেবরা চার্চমুখো হতে ভুলে গেল। চার্চের আয় গেল কমে। কিন্তু ক্রমে স্বামীজি বুঝতে পারেন আমেরিকার ভোগবাদী মানুষগুলি অজ্ঞানতার পঙ্কিলে আচ্ছন্ন। অধ্যাত্ম কথা শুনিয়ে তাদের কাছ থেকে টাকা নিতে আর মনে সায় দিচ্ছিল না। এর পর থেকেই তিনি বিনা পারিশ্রমিকে তথাকথিত ধর্ম প্রচারে মন দেন।
দ্বিতীয়তঃ স্বামীজি যা প্রচার করেছিলেন তা বিশুদ্ধ সাবেকি হিন্দুধর্ম নয়। হ্যাঁ, তিনি হিন্দু সন্ন্যাসী ছিলেন। কিন্তু হিন্দুধর্ম বলে যে ব্র্যান্ডের প্রচার চলছে ইদানিং তিনি সেই ধর্মের কারবারি ছিলেন না। তিনি যাঁকে গুরু মেনেছিলেন সেই শ্রীরামকৃষ্ণদেব খ্রিস্টধর্ম মতে আরাধনা করেছিলেন। ইসলাম ধর্মমতে সাধনা করেছিলেন
যত মত তত পথ প্রচার করেছিলেন। স্বামীজি বুদ্ধকে জগতের গুরু বলে আরাধ্য মেনেছিলেন। ভগিনী নিবেদিতাকে তিনি হিন্দু বানাননি। আরও ভালো খ্রিস্টান হতে বলেছিলেন। নতুন ভারত বৈদান্তিক মস্তিষ্ক আর ইসলামিক শরীর নিয়ে গড়ে উঠবে ভেবেছিলেন। হিন্দুধর্মকে তিনি রান্নাঘর থেকে বিমুক্ত করেছিলেন। হিন্দু হলে গরু খাওয়া নিষেধ এমন নিদান তিনি দেননি। ভাঙ্গির হাতের তামাক কল্কে তিনি অস্পৃশ্য বলে বর্জন করেননি।
তৃতীয়তঃ স্বামীজির অধ্যাত্মভাবনায় ধর্ম এবং মোক্ষ দু'টিই ছিল। অধ্যাত্মজীবনের শুরুতে নিজের মোক্ষলাভে ব্যস্ততা দেখাতে গিয়ে তিনি গুরুর কাছে তিরস্কৃত হয়েছিলেন। গুরু তাঁকে নিজের মুক্তির আগে হাজার হাজার দরিদ্র-নারায়ণের সেবার কথা বলেছিলেন। শিবজ্ঞানে জীবসেবার উপদেশ দেন। এই সেবা-কর্ম ঈশ্বরবিমুক্ত নয়। তাঁর কাছে ওয়ার্ক ইজ ওয়ারশিপ। কর্ম হলো পূজা। পুজোর নিষ্ঠা নিয়ে কর্ম করো, বানিজ্যবুদ্ধি নিয়ে নয়। মহান্ত সাজার ফন্দি নিয়ে তো নয়ই!

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.