নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

উপানন্দ ব্লগার ভণে, শুনে পুণ্যবান।

উপানন্দ বোস

আমি উপানন্দ বোস, নাস্তিক

উপানন্দ বোস › বিস্তারিত পোস্টঃ

তাজমহল ও গেরুয়া গরু

৩০ শে অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৪:১৭

তাজমহলকে 'হিন্দু মন্দির' ভাবার মতো অশিক্ষিত নির্বুদ্ধিতা সর্বপ্রথম কার মাথায় এলো, তা জানেন কি ? সেই লোকটি হলো পুরুষোত্তম নাগেশ্বর ওক (পি এন ওক)। লোকটি মিলিটারিতে ছিল। সেই চাকরি শেষ হওয়ার পরে বিভিন্ন ইংরেজি কাগজের অফিসের ডেস্কে সাংবাদিক হিসেবে চাকরি করেছে। হঠাৎ সে শিব্রাম চক্রবর্তীর গল্প পড়েছিল কি না , তা জানা নেই, তবে তার মাথায় ক্রমাগত শিব্রামীয় Pun গজাতে শুরু করল। শিব্রামের গল্পে 'তৈজসপত্র' মানে তেজপাতা । আর এই লোকটির গল্পে 'তাজমহল' মানে "তেজো মহালয়" এটা শিব (যাকে আগে বলা হত “তেজো মহালয়”)-এর মন্দির -- এই উদ্ভট "তেজো মহালয়" মানে নাকি মহাদেব শিব। জীবনে শিবের এরকম উদ্ভট নাম শুনেছেন কেউ ? কোনও পুরাণে শাস্ত্রে পড়েছেন কেউ ?
ওক-এর মাথায় গজানো শিব্রামীয় Pun-এর নমুনা শুনুন --
-----------------------------------------------------------------------------------
১. 'ইসলাম' ধর্ম হিন্দু ধর্ম থেকেই উদ্ভুত । মূল শব্দটি নাকি "ঈশালয়ম" -- অর্থাৎ ঈশ্বরের আবাস-- তা থেকেই 'ইসলাম' ।
২. ইংরেজি "Christianity" শব্দটি এসেছে 'কৃষ্ণ-নীতি' থেকে। অর্থাৎ খৃস্টধর্মের উৎপত্তি হিন্দু ধর্ম থেকেই।
৩. ভ্যাটিকান -- শব্দটি নাকি 'বাটিকা' (Vatika) থেকে উদ্ভুত। ফলে ভ্যাটিকানও শিবের মন্দির।
৪. মক্কার কাবাগৃহ নাকি শিবের মন্দির !!!!!
৫. লাল কেল্লা হলো হিন্দু সৌধ।
৬. রাজা বিক্রমাদিত্য সারা পৃথিবী ভ্রমণ করেছিলেন।
৭. হিন্দু ধর্ম থেকেই পৃথিবীর সব ধর্মের উৎপত্তি।
-------------------------------------------------------------------------------------
ওক নামের লোকটিকে চিরকালই শিক্ষিত ঐতিহাসিক ও পণ্ডিতেরা উপহাস করেছেন, সমুলে অগ্রাহ্য করেছেন। কিন্তু সহসা ব্যাপারটা গুরুতর হয়ে উঠেছে !!! গেরুয়া পার্টি ও গরুর দল এখন সেই গাঁজাখুরি বইটিকে পূজ্য বেদ-উপনিষদের সমান মূল্য দিতে শুরু করেছে।
ওকের দাবি --নিউ ইয়র্কের আর্কিওলজিস্ট মারভিন মিলার (Marvin Miller) যমুনা নদীর তীর সংলগ্ন তাজমহলের দেয়ালের নমুনা পরীক্ষা করে তাতে যে কার্বন পাওয়া যায় তা সম্রাট শাহজাহনের শাসনামলেরও ৩০০ বছরের পুরনো!

এই মিথ্যা ও গল্পের গরুকে অনেকেই বিশ্বাস করতে শুরু করেছে। কিন্তু হায়, নির্বোধ মানুষেরা কি জানে, তাজমহল ভারতীয় পুরাতাত্ত্বিক সর্বেক্ষণের (ASI) কড়া নিয়ন্ত্রণে রক্ষিত। তাদের দৃষ্টি এড়িয়ে কে কবে তাজমহলের ভিত খুঁড়ে দেওয়ালের নমুনা চেঁছে নিয়ে গেল -- তা একমাত্র ওক-ই জানল। ভারতের কোনও ঐতিহাসিক জানতে পারল না। সবার অজ্ঞাতসারে একটা পরীক্ষা হয়ে গেল, শুমাত্র ওক-ই জানল ! এর চেয়ে মিথ্যা ও অসার যুক্তি আর কি হতে পারে।

ওক জানাচ্ছে, তাজমহলের ভেতরে একটা বন্ধ ঘর আছে, সেখানেই শিবলিঙ্গ রাখা আছে !!! হা হতোস্মি !!! হাজার হাজার শ্রমিক একটা তাজমহল বানাল, তখন শিবলিঙ্গ নষ্ট না করে ওরই ভেতরে বন্ধ দরোজার আড়ালে সেটা রেখে দেওয়া হল? বেশ, ওক মশাই কি সেটা দেখেছেন ? যদি না দেখে থাকেন, তাহলে দাবি তুলছেন কিভাবে ? সে কি দিব্যচক্ষে দেখতে পেয়েছিল ?
ওকের বইয়ে ওক নিজেই লিখেছে, তাজমহল সংস্কারের সময় সেখানকার শ্রমিকদের কাছে সে শুনেছে, একটা বন্ধ ঘর আছে। তাতেই তার দৃঢ় বিশ্বাস হল, ওখানেই আছে তাহলে শিবলিঙ্গ ! একেই বলে মূর্খের দিবাস্বপ্ন।

কিন্তু তাজমহলের এই বন্ধ দরজার নীচে শাহজাহান, মুমতাজের আসল সমাধি ছাড়া আর কিছু নেই ৷ আর এই দরজা বন্ধ রাখা হয় রহস্য করার জন্য নয় ৷ সিঁড়ি অত্যন্ত সংকীর্ণ বলে ৷ এর ভেতরে কোনো রকম মন্দিরের অবশেষ নেই ৷ মূর্তিও নেই ৷ আর সবচেয়ে বড় ব্যাপার এরকম সমাধি শুধু তাজমহলেই আছে তা নয় ৷ মূলত এটি ইসলামিক স্থাপত্যর একটি বিশেষ অংশ ৷ যা আপনি ভারতের অন্যান্য ইসলামিক স্থাপত্যও দেখতে পবেন ৷ যেমন গোল গম্বুজ ৷ মূলত এক্ষেত্রে আসল সমাধি নীচে রাখা হয়, আর ওপরের সমাধিটি হয় নকল ৷ মধ্যযুগে রাজা বাদশাহদের সমাধিগুলো মূলত এভাবেই তৈরী করা হতো ৷
কেন্দ্রীয় সংস্কৃতিমন্ত্রী মহেশ শর্মা বলেছেন তাজমহল হিন্দু মন্দির ছিল সরকার এ রকম কোনো প্রমাণ পায়নি। সংসদের নিম্নকক্ষ লোকসভায় এ কথা জানান মহেশ শর্মা।

আর্কেওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়া (এএসআই) প্রথমবারের মতো আগ্রার একটি আদালতকে জানিয়েছে, তাজমহল একটি সমাধি। কিছু লোক এটা শিবমন্দির বলে যে দাবি করেছে, তা ঠিক নয়।

টাইমস অব ইন্ডিয়ার খবরে বলা হয়েছে, দেওয়ানি আদালতে লিখিত বিবৃতিতে এএসআই জানায়, দেবতা শিবের নামে ওই স্থাপনাটি তৈরি করা হয়েছিল বলে যে দাবিটি করা হয়েছে, তা ভিত্তিহীন। ২০১৫ সালে ছয় আইনজীবী তাজমহলকে শিবমন্দির ঘোষণা করার জন্য আদালতের দ্বারস্থ হয়েছিল। এই প্রেক্ষাপটেই আদালতে এএসআই তাদের অভিমত জানিয়েছে।
আইনজীবীরা তাদের আর্জিতে জানিয়েছিলেন, তাজমহল আসলে একটি হিন্দু মন্দির। এর নাম ছিল তেজো মহালয়া। এ কারণে তাজমহলের ভেতরের প্রকষ্ঠে গিয়ে শিব অনুসারীদের ‘দর্শন’ ও ‘আরতি’ অনুষ্ঠান করার অনুমতি দেওয়া হোক।
তারা মনুমেন্টটির তালাবন্ধ কক্ষগুলোও খুলে দেওয়ার আবেদন করেছিল।

এএসআই আদালতকে জানায়, তাজ একটি ইসলামি স্থাপনা। অন্য কোনো ধর্মের লোকজন কোনো কালেই এখানে ধর্মীয় অনুষ্ঠান করেনি।

হলফনামায় এএসআই জানায়, ‘ঐতিহাসিকভাবে এবং এমনকি প্রাপ্ত রেকর্ডপত্র অনুযায়ী যমুনা নদীর তীরে একটিমাত্র প্রাচীন স্থাপনা রয়েছে। তার নাম তাজমহল। এই স্থাপনাটি বিশ্বের সপ্ত আশ্চর্যের একটি হিসেবে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি পাওয়ায় সরকার যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ করে একে জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ সম্পদ হিসেবে ঘোষণা করেছে।’

ব্রিটিশ আমল থেকে প্রাপ্ত নথিপত্র অনুযায়ী, তাজ মনুমেন্টকে ১৯২০ সালের ২২ ডিসেম্বর প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে সংরক্ষিত মনুমেন্ট হিসেবে ঘোষণা করা হয়।

এএসআই এ পর্যন্তও বলে, যারা শিবমন্দিরের দাবি করছে, তারা সেটা করছে, কাল্পনিক তথ্যের ভিত্তিতে। আদালতের উচিত, তাদের আর্জি খারিজ করে দেওয়া।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ৩০ শে অক্টোবর, ২০১৭ বিকাল ৪:৩৭

দেবজ্যোতিকাজল বলেছেন: অনেক কিছু জানলাম

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.