| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
নাওয়াজ সাহেব আজকে দশম শ্রেণির শেষ ক্লাসটি নিতে যাচ্ছেন। তিনি হলেন গনিতের শিক্ষক, লম্বা করিডর ধরে হেঁটে ক্লাস এ গেলেন। আজকে নাওয়াজ সাহেবকে একটু বিমর্ষ লাগছে ক্লাস এ এসে ছাত্র-ছাত্রীদের উদ্দেশ্য করে বললেন আজকে কিছু পড়াবনা। আজকে যেহেতু তোমাদের শেষ ক্লাস তাই আজকের পর থেকে তোমাদের সাথে আর এভাবে ক্লাসরুম এ দেখা হবে না। সুতরাং তোমাদের কিছু কথা বলি মন দিয়ে শুন , আর কয়েকদিন পরেই তোমরা কলেজ এ উঠবে মনে নিশ্চয় রঙিন হাওয়া লাগবে। মানুষ এই বয়সে সবচেয়ে বেশি ভুলটা করে যার জন্য সারা জীবন পস্তায়। এই যুগে কলেজ এ উঠার আগেই পোলাপান রিলেশনশিপ এ যায়। তাই তোমাদের কথা গুলো বলছি ।তোমরা এখন বড় হয়েছ তাই তোমাদের জীবনের যে কোন সিধান্ত নেওয়ার আগে দশ বার ভাব্বা।সবার প্রতি আমার দোয়া রইল।সবাই ভালো থেকো, তারপর আর তেমন কিছু বলতে পারেনি নাওয়াজ সাহেব তার চোখটা ঝাপসা হয়ে গেছে আবেগটা ধরে রাখতে পারেনি ।
ক্লাস থেকে তাড়াতাড়ি বের হয়ে গেলেন। নাওয়াজ সাহেব বিদায় শব্দটা শুনলে খুব বিমর্ষ হয়ে যায়। আনমনে কি যেন চিন্তা করছেন ?নিজের রুম এ এসে বারান্দার ইজি চেয়ারটায় বসলেন কেন জানি আজকে তার খুব পুরনো দিনের সৃতি গুলো মনে পড়ছে। তার বন্ধুদের কথা বন্ধুদের সাথে কাটানো সেই সোনালি মুহূর্ত গুলো। ভার্সিটি লাইফের শেষ দিনে উনি অনেক কেঁদেছিলেন। ভার্সিটিতে উনার ফ্রেন্ড ছিল রাসেল, রাব্বি,আরাফাত,হানিফ,তুহিন এই ৫ জন। একদম শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তারা একসাথে ছিল ।অথচ আজ সময়ের ঘূর্ণি চক্রে তারা সবাই অনেক দূরে দূরে। রাসেলটা স্কলারশিপ পেয়ে কানাডাতেই থেকে গেছে। আরাফাতটা সরকারি চাকরি পেয়ে ঢাকার বাইরে আছে। বিজয় একটা মেয়ের পাল্লায় পরে তার ক্যারিয়ারের ১২ টা বাজায় দিছে। এখন শ্বশুরের টাকায় দুবাই আছে ,হানিফ আর তুহিন মামার জোড়ে ভালো একটা কোম্পানি চাকরি করতেছে । অন্যদিকে নাওয়াজ চাকরি বাকরি তেমন খুজেনি আর চেষ্টাও করেনি , শেষমেষ এই বোডিং স্কুল এ থেকে গেলেন । নাওয়াজ সাহেবের কলেজ লাইফের একমাত্র মেয়ে বান্ধবী ছিলেন সানজিয়া। ও এখন স্বামী সন্তান নিয়ে বেশ সুখেই আছে। এই কয়েকদিন আগেও নাওয়াজ সাহেবকে দেখতে এসেছিলো স্বামী সন্তান নিয়ে। নাওয়াজ সাহেব ভাবতেও পারেনি সানজিয়াকে এতো খুশি দেখবে। আর দেখবেই বা না কেন তার স্বামী খুবই ভালো মানুষ বিরাট ধনী। নাওয়াজ সাহেবের আরও দুইটা ফ্রেন্ডের কথা বলা হয়নি একটা হল রুবেল ও মেরিন ইঞ্জিনিয়ার থাকে সব সময় সমুদ্রে আর ইমদাদ থাকে আমেরিকাতে।ইমদাদ আর রুবেল এই দুইজন তার ছোট বেলার বন্ধু। প্রথম প্রথম সব সবার সাথেই যোগাযোগ হতো না কিন্তু পরবর্তীতে যখন সবাই সংসার জীবনে প্রবেশ করল তখন আস্তে আস্তে যোগাযোগের পরিমাণটা কমে গেলো এখন আর ঈদ ছাড়া বন্ধুদের সাথে তেমন কথা হয় না। ভার্সিটি লাইফে একসাথে কত ঘুরতে যাওয়া, স্কুল লাইফে কত ক্রিকেট খেলা এখন সেই গুলো শুধুই অতীত ।কলেজ লাইফে কিছু অনাকাঙ্খিত ঘটনা আছে সেটা তিনি সচরাচর মনে করতে চান না। কলেজ এ পড়ার সময় তিনি হোস্টেল এ ছিলেন সেই সব মজার দিন গুলো তিনি এখন ও ভুলতে পারেননা। এই সব ভাবতে ভাবতেই কেমন জানি সব এলোমেলো হয়ে যায়।
নাওয়াজ সাহেবের আর বিয়ে করা হয়ে উঠেনি। বাবা মা, বন্ধুরা অনেক চেষ্টা করেও কোন কাজ হয়নি। কোন এক অজানা কারনে হয়ত উনি নিজেও ভালো মত ব্যাখ্যা করতে পারবেন না কেন তিনি বিয়ে করেনি। তার মতে জীবনের অনেকটা পথ যখন একা পারি দিতে পেরেছে তখন বাকি দিন গুলো এভাবেই কেটে যাবে। নাওয়াজ সাহেবের এখন দিন কাটে এই বোডিং স্কুল এ। বাচ্চাদের সাথে সময় কাটাতে ভালই লাগে তার। উনি একটা বৃদ্বা আশ্রম চালান অবসর সময় ওই সব হতো ভাগ্য মা-বাবার সাথে সময় কাটান। এই সব ভাবতে ভাবতে কখন যে বিকাল হয়ে গেছে তা খেয়াল করেননি। একটু পর তিনি তার গন্তব্যের দিকে হাঁটা দিলেন.................................................................................................................................................................................................................................................................. গল্পের পিছনের কথা ঃ গল্প লেখার অভিজ্ঞতা আমার আমার নেই। জীবনে প্রথম বারের মত গল্প লিখলাম।এই গল্পটা আজ থেকে ঠিক ১৫ বছর পরে চিন্তা করে লেখা। নাওয়াজ সাহেব চরিত্রটা শুধু আমার কল্পনা মাত্রও এর বেশি কিছু নয়। গল্পটা আমি আমার সব ফ্রেন্ডের উৎসর্গ করলাম।
©somewhere in net ltd.