| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
স্বাধীনতার পর থেকেই আমাদের সব বেসামরিক চাকরির নিয়োগ স্তরে বিচার বিবেচনা হীনভাবে রাজনৈতিক সুবিধা লাভের আশায় এবং ভোট ব্যাংক তৈরি করার জন্য কোটা বেবস্থা চাপিয়ে দেয়া হয়েছে। সরকারের পর সরকার এসেছে কিন্তু নানা রুপে এই নির্মম নিয়ম রয়ে গেছে। বরং দিনে দিনে বৃদ্ধি পেয়েছে এ কোটা গুলোর অনুপাত।
বর্তমান সরকারের আমলে আরও একটি নির্মম নিয়ম চালু করা হয়েছে যে প্রাধিকার কোঠায় কোন প্রার্থী পাওয়া না গেলে পদগুলো খালি থেকে যাবে। কি নির্মম রসিকতা!!!!!
কোটা পদ্ধতির বিন্নাসঃ
এখন কোটা বেবস্থার বিন্যাস একটু আলোচনা করা যাক। মুক্তিযোদ্ধাদের পোষ,জেলা, মহিলা ও উপজাতি কোটার অনুপাত যথাক্রমে ৩০, ১০, ১০, ৫ অর্থাৎ মোট ৫৫ শতাংশ। তাহলে মেধা কোটায় রইল মাত্র ৪৫ শতাংস।
কোটা পদ্ধতির যৌক্তিকতাঃ
স্বীকার করতেই হবে এর একটি ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতা আছে।ব্রিটিশ এবং পাকিস্তান শাশন আমলেও এর প্রচলন ছিল।তবে তা সীমিত ছিল উচ্চতর পদেই আর সীমিত আকারেই।
বাংলাদেশের সংবিধানের ২৯ নম্বর অনুচ্ছেদে প্রজাতন্ত্রের কর্মে নিয়োগের জন্য সবার সমান সুযোগের কথা বলা হয়েছে। তবে উপ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে কোন অনগ্রসর অংশের জন্য বিশেষ বিধান রাখার কথাও বলা হয়েছে।
এখন আমার প্রশ্ন ওপরে যে কোটাগুলোর কথা উল্লেখ করা হয়েছে তারা সবাই কি অনগ্রসর নাগরিকদের পর্যায়ে পরে?? তাহলে কোন যুক্তিতে অধিকাংশ প্রার্থীকে ‘সকলের সমান সুযোগ লাভের’ অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে।
এগুলোর পক্ষে জোরালো কেন, দুর্বল কোন যুক্তি নিয়ে কেউ অবস্থান নিতে পারে না। নেয়া হয় আবেগের আশ্রয়।
অসহায় মেধাবিরাঃ
দেশে সরকারী চাকরি ক্ষেত্রে ১০ শতাংশ জনগোষ্ঠী ৫৫ শতাংশ কোটার সুবিধাভোগী। আর ৯০ শতাংশ জনগোষ্ঠী কোটা সুবিধার বাইরে।
সংখ্যাগরিষ্ঠ মেধাবীরা যেখানে ৭০-৮০ নম্বর পেয়েও একটি সরকারী চাকরি পায়না সেখানে কোটার অধীনে মাত্র ৫০-৫৫ নম্বর পেয়েই বাগিয়ে নিতে পারেন চাকরি নামক সোনার হরিণ ।
বাহ, কি চমৎকার!!! কোটা হচ্ছে একজনের ন্যায্য অধিকারকে খর্ব করে আরেকজন অযোগ্যকে অধিকার প্রদান কড়া।
মহিলা কোটায় চলে চরম দলীয়করণ।সরকারী দল, টাকা কিংবা আত্মীয় হতে পারলে আনায়েসে এই কোটার সুযোগ নেয়া যায়।
মুক্তিযোদ্ধা কোটা নিয়ে চলে এক অপবিত্র নোংরা খেলা। টাকার বিনিময়ে ভুয়া মুক্তি যোদ্ধার সনদ নিয়ে চলে রমরমা বেবসা। ছি! ছি! জাতি হিসেবে এই নোংরা খেলা আর কত দিন দেখতে হবে।
যারা দেশের জন্য আত্মত্যাগ করলেন তাঁদের সন্তানদের রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতার মাধ্যমে যথাযথ শিক্ষার মাধ্যমে উপযুক্ত যোগ্যতায় গড়ে না তুলে তাঁদের বানানো হয়েছে রাজনৈতিক দল গুলোর ভোট ব্যাংক। শহীদ পরিবারের অসচ্ছলতার সুযোগ নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলো খেলছে নোংরা খেলা। মুক্তি যোদ্ধা সন্তানদের বানিয়ে রাখা হয়েছে কাঙ্গাল হিসেবে।
আমরা জানি এ দেশের অধিকাংশ মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা সুযোগ সুবিধার অভাবে উচ্চ শিক্ষায় সিক্ষিত হতে পারেনা না। ফলে উচ্চপদের চাকরি কল্পনাতেই থেকে যায়।
অল্প কিছু উচ্চবিত্ত মুক্তিযোদ্ধার সন্তানরা এই সুবিধা গুলোনিয়ে আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হচ্ছে, আর অধিকাংশরা এই অন্যায্য সিস্টেমের বলীর পাঠা হচ্ছে।
এরপর আছে অদৃশ্যমান কোটা বেবস্থা। যা আরও জঘন্ন। মন্ত্রী, এমপি, সচিব, রাজনৈতিক বেক্তিত্ত, দলীয় পরিচয় সহ অবস্থান ভেদে এই অদৃশ্যমান কোটা কাজ করে। কেউ মন্ত্রী কোঠায়, কেউ ছাত্রলীগ কোঠায় চাকরি পান। এসব ক্ষেত্রে টাকা লেনদেনের বিষয়টিও থাকে। যে যত টাকা ঢালতে পারে তার জন্য চাকরি বরাদ্দ থাকে মজবুত ভাবে।
পুনশ্চঃ
এসব দৃশ্যমান ও অদৃশ্যমান কোটা বেবস্থার গ্যাঁড়াকলে পরে এদেশের বেশির ভাগ গরিব, মধ্যবিত্ত পরিবারের মেধাবি নাগরিকেরা হন বঞ্ছিত। তারা হন রাষ্ট্রীয় অবিচারের মুখোমুখি। যে রাষ্ট্রটি স্বাধীন হয়েছে গরিব, খেটে খাওয়া ও অধিকার বঞ্চিতদের অধিকার প্রদানের জন্য সেই রাষ্ট্রই আজ পরিনত হয়েছে পেষণযন্ত্রে। সারা দিন রিক্সা চালিয়ে, টিউশনি করিয়ে কঠোর পরিশ্রম করে ওরা শিক্ষার বিভিন্ন স্তরে এ প্লাস, গোল্ডেন এ প্লাসসহ ভালো ফলাফল করেছে।
ওদের বুকে স্বপ্ন, ওরা চাকরির পরীক্ষায় ভালো ফলাফল করে সরকারী চাকরি নিয়ে অসহায় মা-বাবার মুখে হাসি ফোটাবে।
কিন্তু না, ওদের স্বপ্ন শুধু স্বপ্নই রয়ে যায়।চাকরির পরীক্ষায় ওরা এ প্লাস পায় সত্যি, কিন্তু হেরে যায় কোটা প্রথার কাছে, ওরা হেরে যায় ঘুষ, প্রস্নফাস, জালিয়াতি এবং ভাইভা নামের সিলেক্সনের গ্যাঁড়াকলে পরে। ওরা বঞ্চিত হয়ে দেখছে রাষ্ট্রীয় অবিচারের নির্মম দৃশ্য .........। আপনি কি মনে করেন?? ভাবুন, মুক্তি কোন পথে।
©somewhere in net ltd.
১|
১৭ ই জুলাই, ২০১৪ রাত ১১:২৮
আহসানের ব্লগ বলেছেন: এই লেখা লেখির একটি অনবদ্য জগতে আপনাকে স্বাগতম,

ভালো থাকবেন,
লিখবেন,
পড়বেন
এবং মন্তব্য করে অন্য লেখক দের উৎসাহিত করবেন।