নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি একটি পথ, আপনি চাইলে হেঁটে দেখতে পারেন....

জীয়ন আমাঞ্জা

পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দর্শন হল হিসাব বিজ্ঞানের ডেবিট এবং ক্রেডিট । সবসময় যতখানি ডেবিট, ঠিক ততখানিই ক্রেডিট হয় । পরকালের হিসেব যা-ই হোক, এই ইহকালে আমরা ঠিক যেভাবে শূন্য হাতে পৃথিবীতে এসেছি, সেভাবে শূন্য হাতেই পৃথিবী ছেড়ে যাব । এটাই পৃথিবীর আবর্তনিক নিয়ম । অনেকে আমরা এটা বুঝতে ব্যর্থ হই ।আপনি কারো ক্ষতি করবেন তো আজ অথবা কাল আপনার ক্ষতি হবেই হবে । ভালো করলেও তার ফল আপনি জীবদ্দশাতেই পাবেন ।অনেকে দেখবেন রাস্তাঘাটে অযথা হোঁচট খায়, অসুখে ভোগে- এসব এমনি এমনি নয়, হয় এর অতীত, নয়তো ভবিষ্যৎ প্রসারী কোন কারণ আছে । যদি আপনি কারো ক্ষতি না করেন, তবে আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি, আপনার কোন ক্ষতি হবে না । কেউ চেষ্টা করলেও আপনার ক্ষতি করতে পারবে না ।শুদ্ধ থাকুন, শুদ্ধতার শুভ্রতাকে উপভোগ করুন । জীবন সুন্দর হবে ।আমি সবার মতের প্রতিই শ্রদ্ধাশীল।আশা করি আপনিও তাই।সৌজন্যবোধ ও মানবতার জয় হোক !

জীয়ন আমাঞ্জা › বিস্তারিত পোস্টঃ

পুলিশ বনাম জনগণ

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ১১:৫৪

১.
বাংলা সিনেমা দিয়েই শুরু করি, নিরপরাধ ধরা প্রসঙ্গে সিনেমাতেই প্রথম অজুহাত হিসেবে বলা হয়, আগাছা নিরানোর সময় দুয়েকটা ভালো চারা তো কাটা পড়বেই! এই যে তার নমুনা! দশজন পতিতার সঙ্গে একজন পথচারী সাধারণ নারীকেও ভুলক্রমে থানায় নিয়ে যাওয়ার পরিণতি কী হয় তা নিয়ে বেশ অনেক সিনেমা হয়েছে! দশটা মাদকাসক্তের সঙ্গে একটা নিরীহ স্কুলছাত্র ভুলক্রমে গ্রেপ্তার হয়ে যাবার পরিণতি কতটা ভয়ানক হতে পারে, তা আমরা ইতিহাস সিনেমা থেকে দেখেছি। এবং সিনেমা মারফতই জানি যে, আইন বলে, প্রয়োজনে দশজন অপরাধী ছাড়া পেয়ে যাক তবু একজন নিরপরাধ যেন ভুল বিচারের শাস্তি না পায়! অথচ পুলিশ প্রায় সময়ই নির্বিচারে উঠিয়ে নিয়ে যায়, এবং একবার নিয়ে ফেললে আপনি যতই ফেরেশতা হন না কেন, আপনাকে আর বিনা ঘুষে ছাড়া হয় না!

আমি এক সিনিয়র পুলিশ ভাইকে এই প্রশ্নটা করেছিলাম যে, আপনারা যে কাউকেই যখন তখন তুই সম্বোধন করে বসেন কেন? মানুষের তো আত্মসম্মান থাকে, যাকে তাকেই তুই বলে হেয় করার রাইট কী আপনার??
উনি বললেন, একটা ক্রিমিনালকে যদি আমি আপনি সম্বোধন করে ভাইজান বলে চা খাইয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করতে যাই, ও আমার কাছে মুখ খুলবে???
এখন একজন পথচারীকে কেন আপনি আগেই ক্রিমিনাল ভেবে থাবড়া দিয়ে তুই তুকারি করবেন সেই প্রশ্নের উত্তরে উনি আর আগ্রহী হলেন না! পুলিশের কাজ একটা ভয় বানিয়ে রাখা, যাতে জনতা তাদের কাজ করার জন্য পথ ছেড়ে দেয়, অযথা এসে বাগড়া না বাঁধায় এটুকু আমরা যেকেউই বুঝি! বাট পাবলিকের হয়রানিটা পুলিশ কবে বুঝবে বা প্রশাসনের কে কোথায় বুঝবে তা আমার জানা নেই! ভিডিওর এই ছেলেটির এত বিনয়ী আচরণের পরও যাবার সময় থাবড়াটির ব্যাখ্যা কোন পুলিশ দেবেন আমার জানা নেই। বাট একজন নাগরিক হিসেবে এই ব্যাখ্যা আমি সবার আগে চাইছি!

২.
সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সন্ধ্যার পর বসা বা হাঁটা যাবে না এমন কোন আইন কোথাও নেই। একজন পুলিশই যদি বলে বসেন যে এখানে যারা বসে সবাই গাঞ্জুট্টি মদ্যোতি তাহলে এর চাইতে লজ্জার মনে হয় না প্রশাসনের কাছে আর কিছু থাকে। হতেই পারে উদ্যানে বসা সবাই একই উদ্দেশে সমবেত হয়। কিন্তু প্রশাসনের লোক যদি নির্বিচারে এরপরও ওখানকার সবাইকে আটক করতে যায় সেটা অবশ্যই অবিচার হবে। এখনও বলছি, ওখানের সবাইই নেশাখোর হলেও আপনি সবাইকে যাচাই না করেই ঢালাওভাবে গ্রেপ্তার করতে পারেন না। এখন আমি সোহরাওয়ার্দীর পাশ দিয়ে হেঁটে গেলে বা সোহরাওয়ার্দীতে হাঁটতে গেলেই আপনি আমাকে গ্রেপ্তারের আইন কোথায় পেলেন তার ব্যাখ্যাই নাইম বা নাদিম নামক ছেলেটা চাইতে গিয়েছিল, সম্ভবত ছেলেটির মাথা ফাটিয়ে দেওয়া হয়েছে, ভিডিওটি এখন ভাইরাল! এইসব আচরণের পর পুলিশের প্রতি মানুষের শ্রদ্ধা সহমর্মিতা আসবে কোন দিক দিয়ে, এবং কেন আসবে তার ব্যাখ্যা কে দেবে আমার জানা নেই!

৩.
প্রকাশ্যে সিগারেট খেলে তার জরিমানা এখন ২০০০ টাকা! কিন্তু কে মানছে?? কেন মানছে না????
উত্তর সহজ, আপনি যত্রতত্র বিড়ির দোকান খোলা রাখার অনুমতি দিয়ে রেখে যদি আশা করেন যে বিড়ি খাওয়া বন্ধ করাবেন জরিমানা করে, তাহলে আপনি প্রথমেই ফেইল কারণ আপনি বিক্রয়কে নিষিদ্ধ করেননি, বরং উৎসাহিতই করছেন! তাহলে এটা আইন হল না একটা অপচয় হল??? সোহরাওয়ার্দী উদ্যান যদি নেশাখোরদের আখড়া হয়, তাহলে সেই আখড়ায় রোজ এসে তল্লাশি করলে বা ছদ্মবেশে পুলিশ বসিয়ে রাখলে আপনি দুই দিনেই নেশাদ্রব্যের সাপ্লাইয়ারকে ধরতে পারবেন, সেটা না করে আপনি এখানকার আখড়া ভাঙলে ফলাফল কী হবে?? খুবই খারাপ হবে, তখন প্রতিটা অলিতে গলিতে নেশার চর্চা হবে, অলিতে গলিতে ক্রাইম হবে, যেটা এখন একটা নির্দিষ্ট সার্কেল বা উদ্যানের ভেতর হচ্ছে বিধায় নেশার ইফেক্টটাও এই সার্কেলটার ভেতরেই থাকছে! নেশা বন্ধ হোক এটা আমরা সবাই চাই, বাট এই যে, বিক্রেতাকে খোলা ছেড়ে রেখে আপনি যদি কনজিউমারকে ধরার তালে থাকেন, তাহলে ভাই, আপনি নেশা বন্ধ করায় আগ্রহী নন, আপনি জাস্ট একটা টোপ দিয়ে আসামী শিকার করতেই আগ্রহী! এই ফাঁদটাকে আমি সমর্থন করছি না!

৪.
একটা ভিডিও দেখলাম যেখানে পুলিশ দেখে ভয় পেয়ে বা ধাওয়া খেয়ে পথচারী দৌড় দিতে গিয়ে পড়ে গিয়েছে। পুলিশ তাকে পতিত পেয়েই আগে আচ্ছামত পিটালো। এরপর সার্চ করে তার কাছে কিছুই পাওয়া গেল না! তাহলে এই যে পেটানো হল, এজন্য পুলিশকে কোন এপলোজি বা কোন সহমর্মিতা প্রকাশ করতেও দেখা গেল না!
কারণ কী??

থাবড়া দেওয়ার ভিডিও প্রসঙ্গে ডে বাচ্চাটির কথা বললাম, সেখানে বাচ্চাটি অত্যন্ত বিনয়ের সাথে জানিয়েছে যে সে পাশেই শুটিং দেখতে এসেছিল। বেশ, কোন অপরাধ পাওয়া যায়নি, তাকে যেতে দেবার কথা। অথচ যাবার সময় একটা অকারণ থাবড়া কেন??? এটা কি গায়ের জোরের অপব্যবহার নয়?? অনেকেই খুব উৎসাহী হয়ে বলছেন, রাতে ছাত্রদের বাইরে থাকার দরকার কী?

বেশ, ধরুন আপনার ভাই কোচিংএ গেছে, কোচিং ছুটি সাড়ে সাতটায় বা আটটায়। অতএব, ওকে পুলিশে ধরুক! ধরুন, আপনার ভাইটি অনার্সের ছাত্র, ও টিউশন করে ফিরছে রাত সাড়ে নয়টায়! একটা ছাত্র হয়ে ও সাড়ে নয়টায় কেন বাইরে থাকবে, অতএব ওর জেল হোক! ধরুন, আপনার ভাইটি রাত এগারোটায় ফার্মেসিতে গিয়েছে, আপনার গলিতে ফার্মেসি নেই, মেইন রোডের দিকে হেঁটে আসতে হয়েছে, এবং ও একজন ছাত্র...

এরকম আপনি অনেক কিছুই ধরতে পারেন, এবং যত যাই ধরেন না কেন, শেষটায় ছাত্রটাকেই ধইরেন, ধইরা জেলে দিয়েন।

৫.
আমি স্বাধীন দেশের নাগরিক, আপনি আমার বিচরণে পাবন্দি লাগাতে পারেন না। আপনার কাজ মশা ধরা, আপনি আমাকেই মশারির ভেতর রাখতে চাইলে মানে দাঁড়ায় আপনি মশাকে নয়, আমাকেই আটকাতে নেমেছেন। এটা স্বাধীনতা না, এটাই আমার প্রতি আপনার আরোপিত পরাধীনতা! এমন স্বাধীনতা আমরা চাইনি, এবং স্বাধীনতার মানে আপনি ক্লিয়ার না।

মন্তব্য ১ টি রেটিং +২/-০

মন্তব্য (১) মন্তব্য লিখুন

১| ২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ দুপুর ১২:১০

ডঃ এম এ আলী বলেছেন:



সচেতনতা জাগরণী লেখাটির জন্য ধন্যবাদ ।
কামনা করি পুলিশ বাহিনীর সকলে লেখাটি
একবার পড়ুক। জানিনা সারদায় পুশিশ
প্রশিক্ষনকালে তাদেরকে কি শিখানো হয় ।

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.