| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
জীয়ন আমাঞ্জা
পৃথিবীর সবচেয়ে বড় দর্শন হল হিসাব বিজ্ঞানের ডেবিট এবং ক্রেডিট । সবসময় যতখানি ডেবিট, ঠিক ততখানিই ক্রেডিট হয় । পরকালের হিসেব যা-ই হোক, এই ইহকালে আমরা ঠিক যেভাবে শূন্য হাতে পৃথিবীতে এসেছি, সেভাবে শূন্য হাতেই পৃথিবী ছেড়ে যাব । এটাই পৃথিবীর আবর্তনিক নিয়ম । অনেকে আমরা এটা বুঝতে ব্যর্থ হই ।আপনি কারো ক্ষতি করবেন তো আজ অথবা কাল আপনার ক্ষতি হবেই হবে । ভালো করলেও তার ফল আপনি জীবদ্দশাতেই পাবেন ।অনেকে দেখবেন রাস্তাঘাটে অযথা হোঁচট খায়, অসুখে ভোগে- এসব এমনি এমনি নয়, হয় এর অতীত, নয়তো ভবিষ্যৎ প্রসারী কোন কারণ আছে । যদি আপনি কারো ক্ষতি না করেন, তবে আমি নিশ্চয়তা দিচ্ছি, আপনার কোন ক্ষতি হবে না । কেউ চেষ্টা করলেও আপনার ক্ষতি করতে পারবে না ।শুদ্ধ থাকুন, শুদ্ধতার শুভ্রতাকে উপভোগ করুন । জীবন সুন্দর হবে ।আমি সবার মতের প্রতিই শ্রদ্ধাশীল।আশা করি আপনিও তাই।সৌজন্যবোধ ও মানবতার জয় হোক !
মাদক আর অনলাইন জুয়া— এই দুই জিনিস নীরবে গ্রাস করে ফেলেছে দেশের অধিকাংশ যুবককে। যারা মাদক নেয় তাদের সবারই কমন একটা অজুহাত হচ্ছে ডিপ্রেশন, ফ্রাস্ট্রেশন ইত্যাদি। আমাকে একজন অফার করেছিল, আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, খেলে কী হবে? উত্তরে সে বলেছিল, খেলে ফিলিংস হবে! বললাম, কী রকম ফিলিং? সে আর গুছিয়ে ব্যাখ্যা করতে পারল না! আমি বললাম, যেটা খাওয়ার পর মাথা ঘুরাবে, হাঁটতে গেলে টালমাটাল হয়ে পড়ে যাবার উপক্রম হবে, পড়ে গিয়ে নড়ার শক্তি থাকবে না, নিথর অবশ লাগবে— সে জিনিস খেয়ে কাজ কী? এমন যদি হত যে খাওয়ার পরই গায়ে শক্তি এসে যায়, দ্বিগুণ পরিশ্রম করার এনার্জি চলে আসে, তাহলেও নাহয় একটা কথা ছিল!
সর্বশেষ তার উত্তর ছিল, প্রথম দিকে একটু মাথা ঘুরাবেই, এরপর অভ্যাস হয়ে যাবে!
যাহোক, বুদ্ধিমান মানুষের ডিপ্রেশনের সময় ড্রাগস নেওয়া লাগে না, তারা ড্রাগস ছাড়াই নেশা করতে জানে। কী নেশা তা বলতে গেলেও বিপত্তি আছে, তবে এটুকু বলতে পারি, অনেকে ডাক্তারি পড়ার সময় কেবল স্ট্রেস থেকে বাঁচতেই বিয়ে করে ফেলেন। মানুষের মত আর কোন প্রাণীর এত বেশি স্ট্রেস হয় না, এজন্যই হয়ত প্রকৃতি মানুষকে রিলিফ পাবার এই উপাদান নিজের মধ্যেই দিয়েছে। এমন আরো অনেক দিকই আছে, শুধু পার্ভার্সনের দিকে না গেলেই হল।
অনলাইন জুয়া নিয়ে বিস্তারিত বলার আছে। জুয়ার মধ্যে যার জুয়ার বোর্ড সে ছাড়া আর কেউই কখনও জেতে না। আপনি একবার দশ হাজার পেয়ে গেলে সেটা আপনার মনে থাকে, ওদিকে দুইশো দুইশো করে কত বার বিশ হাজার চলে যাচ্ছে আপনি খেয়াল করেন না। ধরুন আপনি জুয়ায় বসেছেন, আপনার প্রতিপক্ষ বাড়ির দলিল জুয়ায় ধরেছে, এবং সে হেরে গেলে তাকে পথে নেমে যেতে হবে! আপনি তখনও তাকে হারানোর চেষ্টা করবেন, তাকে হারিয়ে তার বাড়ি নেবার জন্য মরিয়া হয়ে উঠবেন, তার পথে বসা বা নিঃস্ব হয়ে যাওয়া নিয়ে আপনার মনে একবারও কোন চিন্তা আসল না— এখানে মনুষ্যত্ব কোথায় বাকি রইল? পৃথিবীতে যখনই দখলদারিত্ব সৃষ্টি হল, আমার তোমার আলাদা হল, তখন থেকেই কিছু মানুষ এমনও তৈরি হল, যাদের প্রবণতা হয়ে উঠল পরিশ্রম না করে কীভাবে অন্যেরটা কেড়ে নেওয়া যায়! বিনা পরিশ্রমে যা আসে তা একে তো টেকে না, অপরদিকে তা ভোগান্তিও আনে। সেসব নীতি আলাপে না গেলাম, আপনি শুধু ভাবেন, আপনি জুয়াতে যে টাকাটা জিতছেন, সেটা হয়ত কারো মায়ের অষুধের টাকা, কুলাঙ্গার পোলা অষুধ না কিনে বাজিতে ধরেছে! সেটা হয়ত কোন স্ত্রীর শেষ গহনার টাকা, সেটা হয়ত এমন কারো টাকা যে একশো টাকা নিয়ে জুয়ায় বসেছে এই আশায় যে এই একশো থেকে লাভ করে পাঁচশো হয় কি না দেখি, তাহলে আজকের বাজারটা হবে! আপনি নিজেও জুয়ায় যে টাকাটা ধরছেন, সেটাও আপনার কষ্টের টাকা! হয়ত আপনিও এখন এমন নেশায় পড়েছেন যে ধার দেনা করেই এই টাকাটা লগ্নি করছেন! বাড়ি গাড়ি কিছুই কি করতে পারবেন এই জুয়া খেলে? এখন একবার জিতছেন, বাকি ত্রিশ বার হারবেন, এই সহজ সত্যটুকু বোঝেন না কেন? আপনি জিতলেও যে টাকাটা জিতছেন, তা আরেকজনের কষ্টের টাকা, আরেকজনের ঘরের শিশুদের না খাইয়ে জুয়ায় এনে লাগানো টাকা, আরেকটা পরিবারের অভিশাপ লেগে আছে ওই টাকায়!
আপনি বলতে পারেন, আপনি বেকার, টাকা এমনি এমনি তো কোনভাবেই আসবে না, জুয়া খেলে ভাগ্য পরীক্ষা করছেন, যেদিন টাকা আসছে সেদিন কপাল খুলে দুই ভাগ হয়ে যাচ্ছে, তাই তো?
ভাই, আপনি বেকার, উপার্জন নেই, অথচ দেখেন আপনি অলরেডি ধার দেনা করে এটা সেটা বিক্রি করে হলেও কিন্তু কমপক্ষে বিশ ত্রিশ হাজার টাকা এখানে ইনভেস্ট করে ফেললেন। এই টাকা দিয়েই আপনি ছোট্ট বিজনেস হলেও করতে পারতেন, তাই না?
একজন দায়িত্ববান মানুষ পরিবারের খুঁটি হয়, পরিবারের ধ্বংসের কারণ হওয়া কোন মানুষের কাজ না। সর্বোপরি, জুয়ার পেছনে এদেশের বেকারত্ব সমস্যার যে একটা শক্ত কারণ রয়েছে এ মানতেই হবে, বেকারদের কাজের ব্যবস্থা রাষ্ট্র কবে করবে জানি না। রাষ্ট্র কর্মসংস্থান বৃদ্ধির বদলে একেকটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার পক্ষে নিরলস কাজ করে যাচ্ছে। পক্ষান্তরে এও সত্য যে, জুয়ায় টাকা লাগানো মানুষের মধ্যে বেকারের চাইতে কর্মজীবীদের সংখ্যাই বেশি। এরা বেতন পায় অল্প, সেই বেতনে পরিবার চালানোর কথা না ভেবে তার অর্ধেক দিয়ে জুয়া খেলে হঠাত বড়লোক হয়ে যাবার কথা ভাবে, এরপর ঘরের বাজার আসে না, বৌয়ের গহনা থাকে না, বৌ পেটায়, পরে বৌ হতাশ হয়ে বেটার কারো হাত ধরে চলে যায়! অতঃপর পুরুষটি বলে, নারীজাতি বড়ই বেইমান, বলে আরেকটা সিগারেটে গাঁনাজ ভরে ধরায়....
©somewhere in net ltd.
১|
১৮ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:১২
আলামিন১০৪ বলেছেন: পশ্চিমারা মদ খায় কেন, বলতে পারেন? ফ্রাস্ট্রেশন?