নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

দিকভোলা পথিক

দিকভোলা পথিক › বিস্তারিত পোস্টঃ

মাঝে মাঝে প্রাণে তোমার পরিশখানি দিও

২১ শে মে, ২০১৪ দুপুর ২:৪৩

মাঝে মাঝে প্রাণে তোমার পরিশখানি দিও

“আমার মন মানে না – দিন রজনী।

আমি কী কথা স্মরিয়া এ তনু ভরিয়া পুলক রাখিতে নারি।

ওগো কী ভাবিয়া মনে এ দুটি নয়নে উথলে নয়নবারি –

ওগো সজনি।।”

আজ মনটা সত্যিই কেনো জানি কিছুতেই মানতে রাজি না। এতদিন জীবনের সুখ-দুঃখের অনুভূতিকে সঙ্গী করে নিয়ে চাওয়া-পাওয়ার পথে পথে দিন কেটেছে কোনোমতে। কিন্তু আজ কেনো জানি অস্থিরতার রাজত্ব দখল করে নিয়েছে আমার মনের সবটুকু, এ যেন তার একান্তই ব্যক্তিগত সম্পত্তি। মন-আকাশে খুবই কাছের অথচ অচেনা অপরিচিত আবেগের মেঘ হয়ে সারাবেলা যেন বৃষ্টি সজল বিষন্ন নিঃশ্বাসের মত আমার প্রিয়ার ছায়া ভেসে বেড়াচ্ছে। জ্যোৎস্নারাতে চাদের বাঁধভাঙ্গা হাসিতে তোমায় নতুন করে পাবার আকাঙ্খাতে আজি এ নিরালা কুঞ্জে যেমন করে গাইছে আকাশ, ঠিক তেমন করে আমার বেসুরে গলায় একবার গাইতে ইচ্ছা করছে, “আমরা দুজনা স্বর্গ-খেলনা গড়িব না ধরণীতে মুগ্ধ ললিত অশ্রুগলিত গীতে॥ পঞ্চশরের বেদনামাধুরী দিয়ে বাসরররাত্রি রচিব না মোরা প্রিয়ে– ভাগ্যের পায়ে দুর্বল প্রাণে ভিক্ষা না যেন যাচি।। কিছু নাই ভয়, জানি নিশ্চয় তুমি আছ আমি আছি।”

নবীন মেঘের সুর লেগেছে, বাইরের- অসীম আকাশ অবিরাম শুনিয়ে যাচ্ছে মেঘ-মল্লার গান। অপলক দৃষ্টিতে আকাশপানে তাকিয়ে মুগ্ধচিত্তে গান শুনতে শুনতে কখন যে দিঘির কালো জলের পরে, মেঘের ছায়া ঘনিয়ে ধরে, বুঝতেই পারিনি কারন তখনো আমার হৃদয়ে আকাশের মনের কথা ঝরো ঝরো বেজে চলছিল।

সাগরের ডাক শুনে যেমন স্বপ্নভঙ্গ হয়েছিল নির্ঝরের, তেমনি আজ আলোকের এই ঝর্নাধারায় স্বপ্নভঙ্গ হয় আমার উদাসীন মনের। এতোদিন মেঘের ছায়ায় অন্ধকারে্ ঢেকে রাখলেও আজ আর কিছুতেই ঢাকা থাকতে চাচ্ছে না সে। মন হারাবার এ বেলায় পথ ভুলিবার খেলায় মাততে চাচ্ছে সে, বজ্রমানিক দিয়ে গাঁথা বরিষ ধরা-মাঝে শান্তির বারিতে স্নাত হয়ে সে যে খেলাঘর বাঁধতে চায়, যেন কাউকে জড়াতে চায় চিরঋণে ।পাবে না জেনেও যা না চাইবার তাই আজি চাই তার, অসম্ভবের পায়ে মাথা কুটে মরিতেও কোন আপত্তি আজ সে করবে না।

জানি বরিষণ মুখরিত শ্রাবনো রাতে সে কুলেভিড়বে না, তবুও বারবার অনুভব করি কে যেন লুকিয়ে আছে হিয়ার মাঝে, যতই দেখতে চাই তারে দেখতে আমি পাই না। শ্রাবণের মেঘকালো অন্ধকার আকাশ দেখে মনে হয়, যেন তার ছায়াময় এলোকেশ ছড়ানো ঐ আকাশে। শুধু মনে হয়, এই বুঝি আসিছে সে মোর দুখরজনীর সাথী হতে। শ্রাবণবর্ষণসঙ্গীত যেনো অনিমেক বাজে, অলখিত তারি চরণে, রুনুরুনু রুনুরুনু নুপুরধ্বনির মত। সে ধ্বনি বড়ো বেদনার মতোই বাজে আমার প্রাণে। কারে যেন শুনাতে চাই, আমার পরানে আজি যে বাণী উঠিছে বাজি অবিরাম বর্ষণধারে। না বলা বাণীর আকুলতা নিয়ে হঠাৎ ইচ্ছে করে সঙ্কোচের নিষেধটাকে ঊপেক্ষা করে চিৎকার করে যে আমার হৃদয়সমুদ্রতীরে দাঁড়ায়ে আছে তার উদ্দশ্যে বলি, তোমারি লাগি বড়ো আশা,বড়ো তৃষ্ণা, বড়ো আকিঞ্চন নিয়ে এসেছি আমাকে তোমার কাছে ডেকে লও। কিন্তু মুহুর্তেই সে চিৎকার ব্যর্থতার হাহাকারে মিলিয়ে যায় কোন এক মায়াময়ী রাক্ষসীর মত । দেবার ব্যথা বাজে আমার বুকের তলে, কিন্তু নেবার মানুষের সন্ধানতো আমার জানা নেই। মনে রয়ে গেল মনের কথা, চোখের জল আর প্রাণের ব্যাথা।সপ্নবিভোর বেদনাবিধুর উন্মাদনার ঘোরে আমি কি কেবলি স্বপন করেছি বপন বাতাসে, যে ছায়ার মত সবই মিলিয়ে যাচ্ছে । কিন্তু পরক্ষণেই বুঝতে পারি, আমার ব্যথার পূজা হয় নি সমাপন। জীবনের মাঝে তব স্বরূপ সন্ধানী মনকে বুঝাই এটাই হয়তো ভালো। আমি বহু সাধনায় প্রাণপণে চাই, বঞ্চিত করে বাঁচালে মোরে এ কৃপা কঠোর সঞ্চিত মোর জীবন ভ’রে। তাই মনে মনে প্রতিজ্ঞা করি, ডাকব না, ডাকব না, এমন করে বাইরে থেকে ডাকব না। পারি যদি অন্তরে তার ডাক পাঠাব, আনব ডেকে।

ডাক সে শুনবে কি শুনবে না, তা আমার অজানা, তারপরও জানি না আমি কিসের আশায় বসে আছি অভয় মানি, জানি না কেনো তার চরণধ্বনি আমি হৃদয়ে গনি।তবেকি কুসুমবনে আবার তরি লাগবে এই আশায় অকারণ পুলকে আঁখি ভাসে জলে?

তার দেখা পাই না, তারপরও জানি না কোন বিশ্বাসে ভর দিয়ে বলি, কিছু নাই ভয়, জানি নিশ্চয় তুমি আছ আমি আছি। বুকের ভিতরে জেগে থাকে বুদ্ধিশাসনের বহির্ভূত একটা মূঢ়, লুকিয়ে থাকে এক আরণ্যক, যে যুক্তি মানে না, মানে শুধুই মোহ।সে মূঢ় আশ্বাস দিয়ে যায়, একদিন সে আসবে-ই। সে আরণ্যক জানে সেদিন আমি যদি তারে নাই চিনি গো সে আমায় নিবেই চিনে। হয়তো বসন্তের কোনো নব ফাল্গুনের দিনে কিংবা কোনো ঝর ঝর মূখর বাদরদিনে অথবা কোনো বরিষণমূখরিত শ্রাবণরাতিতে। আমাকে সে দুর্লভ ধনে দুঃখের পনে জয় করে নিবে। তখন আমি এ কথা, এ ব্যথা, সুখব্যাকুলতা তার চরণতলে দিব নিছনি। হার-মানা হার তার গলে পরিয়ে আমার পরানে যে গান বাজিছে তাহার তালটি শিখাবো তার চরণমঞ্জীরে। সেদিন দুজনে মিলে জীবন-সমর্পনের গান গাব নীরব অবসরে। কল্পনায় যে কথা বলেছিলেম, কবে তোমার কানে কানে কত নিশীথ-অন্ধকারে, কত গোপন গানে গানে তাই কানের কাছে মুখ এনে আজ আবার নতুন করে বলবো। বলবো কিভাবে কেটেছে একেলা বিরহের বেলা আকাশকুসুমচয়নে। সেদিন জানি আমার গোপন ব্যথার নীরব রাত্রি হবে অবসান, আমার ব্যথার পূজা হবে সমাপন।



মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.