| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
♣দুই
বাড়িতে পৌঁছে ঘড়িতে দেখি দুপুর ২ টা। হাতমুখ ধয়ে খেতে বসেছি। আম্মা ঘন ডাল আর দেশি কৈ মাছের ভুনা রান্না করেছেন। সাথে আছে আলুভাজি। সবগুলোই আমার প্রিয় খাবার। দিপু আর আমি খাওয়া শেষ করে আমার রুমে গেলাম। অনেকদিন থাকিনা কেমন একটা গুমোট পরিবেশ ঘরের মাঝে। দিপুকে বললাম কিরে দিপু আজ না গেলে হয় না। দিপু উত্তর দিল,তাহলে কিন্তু কাল সকালে যেতেই হবে। আচ্ছা ঠিকআছে বাবা,বলে ওকে চুপ করালাম।
রুমের মধ্যে ভালো লাগছিল না, তাই দিপুকে নিয়ে আমাদের খেলার মাঠে গেলাম। স্কুল থেকে ফিরে ছোট ছেলেমেয়েরা খেলছে।শীত মৌসুমে ক্রিকেট বেশি খেলা হয় আর বর্ষায় ফুটবল।
বড় ছেলেমেয়ে কেউই গ্রামে নেই। কেউ শহরে গিয়ে রোজগার করছে,আবার কেউ পড়াশুনা। স্বাধীনতার ৪৪ বছর কেটে গেলেও দুমুঠো খাদ্য আর লেখাপড়ার নিরাপত্তা এই দেশের মানুষ পায়নি,অথচ মালয়েশিয়া কতো উন্নতি করেছে।
আমাদের গ্রামে কয়েকটা আমবাগান আর বাঁশবন আছে। মাছ চাষের জন্য আছে প্রায় অর্ধশত পুকুর। খালে আড়াআড়ি বাঁধ দিয়ে খাস জমিতে পুকুর করেছে। এদের বলা যাবে না কিছু কারন এরা সরকারের লোক।
সন্ধ্যা হয়ে এলে দিপুকে নিয়ে বাসায় আসলাম। আম্মা ডিমের পিঠা আর বেগুনের চপ তৈরি করেছে। হাতমুখ ধুয়ে নাস্তা করে,দিপুকে টিভি দেখতে গেলাম।
রাতে খেতে বসে আব্বা বললেন,তোমরা আর একদিন থাকো। দিপু বললো, না আঙ্কেল বাসায় যেতে হবে নয়তো আম্মু রাগ করবে। আব্বা ঠিকআছে বলে খেতে শৃরু করলেন।সে রাতে গল্পকরতে করতে ঘুমিয়ে পড়লাম।
সকালে ঘুম থেকে উঠে,নাস্তা করে দিপুকে সাথে নিয়ে বান্দাইখাড়া বাজারে গেলাম।আত্রাই নদী পার হতে হবে। নদীর এপারে বান্দাইখাড়া ওপারে জামালগঞ্জ। নৌকায় করে নদী পার হয়ে আমরা জামালগঞ্জ গেলাম। এরপর দিপুকে সিএনজিতে উঠিয়ে দিয়ে নদী পার হয়ে বাজার আসলাম।প্রত্যেক নির্বাচনের এখানে ব্রিজ হবে বলে চিৎকার চেঁচামেচি করে মাইকের বারটা বাজান এমপি পার্থীরা। কিন্তু যাহায় লাউ তাহাই কদু! কাজের কাজ কিছুই হয় না। তারা শুধু পারে দুর্নীতি আর দখলবাজি করতে। তারা কি দখল করেনি! নদী,খাল,বাজার,সরকারি জমি সব তাদের দখলে। এমন গ্রামদেশে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পিয়োন নিয়োগে তারা সাড়ে তিন লাখ টাকা ঘুস নেন। মনে মনে এসব ভাবতে ভাবতে বাসায় চলে আসলাম।
©somewhere in net ltd.
১|
০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১৫ বিকাল ৫:৫৩
কলমের কালি শেষ বলেছেন: