| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
♣চার
স্কুলে নিয়মিত যাচ্ছি।দিনকয়েক পর একটা বন্ধু জুটে গেল।বড়রা বলে,স্কুলে ক্লাস টিচারের কাছে প্রাইভেট না পড়লে পনীক্ষায় ভাল নম্বর পাওয়া যায় না।নম্বর কম পাওয়া মানেই পড়াশুনার অযোগ্য,গাধা, মাথাভর্তি গোবর সহ আরও কত কি!
১ থেকে ৫ রোলের স্টুডেন্টরা ক্লাস টিচারের কাছে প্রাইভেট পড়ে। ৩য় শ্রেনীতে আবার কিসের প্রাইভেট পড়তে হয়, আমার ছোট মগজে ঢুকে না। সেই সৌভাগ্যও আমার হয়নি। ধীরে ধীরে স্কুলে আরও কয়েকজন বন্ধু জুটে গেল।
ক্লাস ফাইভে ওঠার পর থেকে,সকালে প্রাইভেট পড়ে স্কুল যাই। স্কুলে শেষে প্রাইভেট পড়ে বাসায় ফিরি। সন্ধ্যা হয়ে যায়,খেলাতেও পারি না। স্কুলের আট পিরিয়ডে আমাদের জ্ঞানের ভান্ডার পূর্ন হয় না,দু-তিনটে প্রাইভেটে মগজে তা বাসা বাধে ।
ক্রমশও স্কুলের প্রতি ভালবাসা কেন জানি কমে যায়। ক্লাসে টিচারদের লেকচার মনে হতো মাছ বাজারের হৈচৈ।তখন মনে হতো, এই সব স্কুরের টিচাররা কি জানে! আসল টিচার হলো প্রাইভেট টিচার। ![]()
এরপর থেকেই স্কুল পালানো শুরু।
আমরা চারবন্ধু মুন্না,সজিব,বিল্পব ও আমি।
মুন্না সাধাসিধা ছেলে,সজিব দারুন চাপাবাজ,বিপ্লব সব খেলায় এক্সপার্ট আর আমি মফিজ তবে তখন থেকেই ক্রিকেটকে খুব ভালবাসি।
প্রতিদিনই স্কুল পালিয়ে নদীর পাড়ে বসে গল্প করতাম,খেলতে যেতাম দূরের মাঠে। মাঝে মাঝে রেলস্টেশনে ঘুরতে যেতাম। কে নেবে আমাদের খোঁজ! আমরা যে সরকারি স্কুলের ছাত্র। আব্বা-আম্মা এতেই খুশি। আশেপাশের দশ কিলো ঘুড়ে বেড়ান, আর বলেন -জানিস! জানিস! আমার ছেলে সরকারি স্কুলের ছাত্র! ![]()
এভাবেই কাটছিল তখনকার দিন।
শীতে ক্রিকেট,ব্যাডমিন্টন আর বৃষ্টি-গরমে চলে ফুটবল।
ক্লাস এইটে প্রথম বন্ধুদের নিয়ে সিনেমা হলে যাই। সিনামা হলের অনুভূতি খারাপ না,তিনটে ঘন্টা ব্যাপক মজায় সময় কাটতো।সিনেম হলে আমাদের চিৎকার হো হো শব্দের কারনে কয়েকবার টিকিটের টাকা ফেরত দিয়ে হল থেকে বের করে দিয়েছেল।হল থেকে বের হবার পর ভয় করতো, যদি পরিচিত কেউ আমাদের দেখে ফেলে! বাসায় যদি ধরা পড়ে যাই! তবে এই ভয়ের মাঝেও মজা আছে। তাইতো ভয় কে জয় করে বারবার একই কাজ করতাম। একেই বুঝি বলে কৈশোর।
এইটে বৃত্তি পরীক্ষা দিতে হবে। এজন্য কোচিং করতে হয়। স্কুলে এক কোচিং বাইরে আরেক কোচিং। কোচিং না করলে কেউ বৃত্তি পায় না।
কোচিং এ মোক্ষম শিক্ষা দেওয়া হয়।
বাবা-মায়ের ভয়,ছেলে যদি বৃত্তি না পায়। তাই দু-তিনটে প্রাইভেট/কোচিং এ ভর্তি করিয়ে দেন।
এভাবে এইট নাইন টেন পাশ দিয়ে কলেজে উঠলাম।
করেজে পা দিয়ে, আব্বার কাছে বায়না ধরলাম,কম্পিউটার লাগবে।আব্বার একটাই ভয় কম্পিউটার কিনে দিলে যদি ছেলে নষ্ট হয়ে যায়! কম্পিউটার কি আর এই সেই জিনিস। একজন স্কুল শিক্ষকের চার মাসের বেতনের সমান দাম এই বস্তুর। এর উপর আবার সরকারি টাক্স আছে।এই কারনে নাকি একটু দাম বেশি। বিশ্বের অর্ধেক দেশ যখন শিক্ষার্থীদের ফ্রি কম্পিউটার দিচ্ছে, তখন তা আমাদের হাজার চল্লিশেক টাকা খরচ করে কিনতে হয়। আমরা কি তাদের মতো গরীব দেশ! মাগনা নিবো কেনো! আমাদের আছে সুইচ ব্যাংক ভর্তি বৈধ-অবৈধ নানা সম্পদ। ![]()
২|
১১ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১১:১৭
আব্দল্লাহ আল মুন্নাফ বলেছেন: এই কম্পিউটারের জন্য মফিজকে হয়তো আজও বকা খেতে হয়।
# িনল ভাই
৩|
১২ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১:৪৮
মহান অতন্দ্র বলেছেন: চমৎকার শৈশবের গল্প ।
©somewhere in net ltd.
১|
১১ ই জানুয়ারি, ২০১৫ রাত ১০:৪৭
নিলু বলেছেন: আমাদের বোধ হয় এখনো কমপিউটর সম্পর্কে সম্যক ধারণা জন্মে উঠেনি তাই ,