| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বিশ্বের বড় বড় ধারাভাষ্যকারেরা বলেন যে, বাংলাদেশি দর্শকেরা নিজেদের দলকে সমর্থন করার জন্য বিশ্বসেরা! আমিও বলি তাদের প্যাশন, আবেগ সবকিছু আসলেই বিশ্বে ইউনিক!
নিজেরা জয় পেলে এই কথাগুলো আসলেই সত্যি। কিন্তু সত্যি কথা হচ্ছে, ম্যাক্সিমাম ১৫-২০% লয়্যাল সমর্থক বাদে সম্ভবত আমরা বিশ্বের সবচেয়ে বাজে সমর্থক! হয়তো ভারতীয়দের সাথে খুব টাফ কম্পিটিশন হবে! কিন্তু আমার ধারণা আমরাই বেশি। বিশ্বে আর কোন দেশের স্টেডিয়ামে কাঁটাতারের বেড়া থাকে না। শুধু উপমহাদেশেই থাকে। ম্যাচ জিতি আর হারি আমরা আমাদের নিজেদের স্টেডিয়ামের চেয়ার ভেঙে চলে আসি! জিতলে জয়ের আনন্দে ভাঙি, হারলে রাগে ভাঙি। ভাঙা পার্মানেন্ট! squint emoticon
প্রতিপক্ষকে আমরা যতটা অসম্মান করি; আমাদের মতো করে কেউ করে না। কেউই না। ভারতীয়রাও না, পাকিস্তানীরাও না। কেউ না। নোংরামির চূড়ান্ত। আমরা হারলেও নিজেদের হিরোদের গালিগালাজ করে চূড়ান্ত করে ফেলি। সাকিব-তামিম-নাসির-মাশরাফি সবাই নিজেদের ফেসবুক পেজ বন্ধ করে দিতে বাধ্য হোন। আমরা মুশফিকের মা, তামিমের বউ, নাসিরের বোন, এমনকি সাকিবের তিন মাসের বাচ্চাটাকে নিয়েও নোংরামি করতে ছাড়ি না। তামিম সেঞ্চুরি করে অভিনন্দনের জবাব না দিয়ে দর্শকদের মুখ বন্ধ করার সিগন্যাল দেন! সাকিব স্ত্রীর হ্যারেসম্যান্টের জবাব দিতে গ্যালারিতে ছুটে যায়। আর কোন দেশের খেলোয়ারদের হইসে এরকম?
তাসকিনের হাতে ধোনির রক্তভরা কাটা মুণ্ডুর ছবি বের হয়েছে! কতটা নৃশংস, বিকৃত মানসিকতা হলে সেটি করা যায়! আমাদের প্রধান পত্রিকা "প্রথম আলো"তে প্রতিপক্ষের মাথা মুড়ে দেয়ার ছবি বের হয়। আমরা সাধারণ জয়ে খুশি হই না। আমরা প্রতিপক্ষকে "ভরে" দিতে চাই। মোজো বাঁশ থেরাপীর বিজ্ঞাপন বানায়। সেটা সব জাতীয় চ্যানেলে প্রচার হয়। প্রতিপক্ষের আইকন সমর্থকেরা আমাদের কাছে এসে অপমানিত হোন। সুধীর, বশিরকে নিয়ে বিতর্কিত খবর আসে। আমরা জিম্বাবুয়ের অফিশিয়াল পেজে গিয়ে তাদের গালিগালাজ করে আসি। জিম্বাবুয়ে ক্রিকেট কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে অনুরোধ করে যেন আমরা এমন গালি না দেই। আবার বিগ ব্যাশে সাকিবকে একাদশে না নিলে সেই দলের পেজে গিয়ে গালিগালাজ করে এসে নিজেদের মুখ উজ্জ্বল করে আসি। আমাদের রাষ্ট্রীয় মোবাইল কোম্পানি 'টেলিটক' জিম্বাবুয়ের "পতাকা" ওয়াশ করে দেয়। আমরা অন্য দেশের নাম বিকৃত করে "Re*dia", Fu*kistan", "Shi*Lanka" সব ডাকি! প্লেয়ারদের নাম বিকৃত করে কোহলিকে "কুলি", রবিচন্দনকে "রবিচো*ন", টেলরকে "দর্জি"; স্মিথকে "মিস্ত্রী"; কাউকে ছাড়ি না। প্রতিপক্ষ নিয়ে এতোগুলো ঘটনা আর কোন দেশের ক্ষেত্রে দেখাতে পারবেন না। এখন পর্যন্ত এখনও বড় টুর্নামেন্ট জিতিনি বলে রক্ষা। একবার বিশ্বকাপ জিতি। তারপর দেখবেন পরের বিশ্বকাপ জিততে না পারলে পাকি-ভারতীয়দের মতো আমাদের খেলোয়ারদের বাসায় ঢিল পড়বে! squint emoticon সাকিবের বাড়িতে ৫৮ রানের পর ঢিল পড়েছিলোও!
আবার আশ্চর্যজনকভাবে অতি ঘৃণা সাপোর্টারদের সাথে অতি ভালবাসা সাপোর্টারও আছে! এরা বাংলাদেশ-পাকিস্তান, বাংলাদেশ-ভারত ম্যাচে ভারত, পাকিস্তান সাপোর্ট করে। পাকিস্তানের পতাকা ওড়ায়। (ভারতের সাপোর্টার অবশ্য কম। তবে আছে।) এরা বাংলাদেশ জিতলে মেজাজ খারাপ করে! এদের সম্পর্কে অবশ্য কবি আবদুল হাকিম বলে গিয়েছেন, "সেসব কাহার জন্ম নির্ণয় ন জানি!"
যাই হোক, এটাও সত্যি যে, আমাদের একেবারেই লয়্যাল যে স্বল্প পার্সেন্টেজড সমর্থক আছে তাদের জোরেই আমরা বিশ্বসেরা সমর্থকের খেতাব পাই। আর জিতলে নিজেদের ক্ষেত্রে আমাদের আবেগের পজিটিভ বিষ্ফোরণ ঘটে। সেটা ভালো।
আমরা সত্যিকার অর্থে সারা বিশ্বের কাছে ভালবাসার দল হতে চাই। নিউ জিল্যান্ডকে সবাই পছন্দ করে। সাউথ আফ্রিকাকে সবাই পছন্দ করে। কেন? কারণ তাদের ভদ্র আচরণ। বাংলাদেশকে আমরা এমন দল হিসেবে গড়ে তুলতে পারি, যেন অন্য একটি দেশের মানুষ নিজেদের দলকে সমর্থনের পর দ্বিতীয় প্রিয় দল হিসেবে বাংলাদেশেরই নাম নেয়। আমাদের দর্শক, মিডিয়া ক্রমাগত এমন নোংরামো, ইম্ম্যাচিউর কাজ কারবার করতে থাকলে আমরা সবার প্রিয় হবো কিভাবে? আমরাই তো ভারতীয়রা বোতল ছুঁড়ে মারলে, বা পাকি-ভারতীয় খেলোয়ারদের বাসায় হামলা হলে তাদের দর্শকদের সমালোচনা করি। তাই না?
আমরা দল হিসেবে সব জিততে চলেছি ইন-শা-আল্লাহ! দর্শক হিসেবেও বিশ্ব জয় করবার সময় এসেছে। সম্মান দেয়া শিখি, প্লিজ! সেটা নিজের দলের ব্যাপারে হোক অথবা প্রতিপক্ষের। পাকিস্তানের সাথে ম্যাচ জেতার পর মাশরাফি কাল বলেছেন, "আমরা সবাই যেন পা মাটিতে রাখি।" পা মাটিতে রাখাটা আমাদের বড় প্রয়োজন।
২|
০৫ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ১২:৩২
ফাহিমোসিস ফয়সালোসিস বলেছেন: সুন্দর একটি পোস্ট । আসলে বাংলাদেশী দর্শকদের এ রূপ আচরণ বিচ্ছিন্ন কোনো ঘটনা নয় ।সামগ্রিক ভাবে সমাজে যে রূঢ়তা আর অসহিষ্ণুতার বিস্তার ঘটছে তারই প্রতিফলন হচ্ছে দর্শকদের আচরণে ।
৩|
০৫ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৪:২৪
বিজন রয় বলেছেন: শেষ নেই।
মানুষ খুব খারাপ।
৪|
০৫ ই মার্চ, ২০১৬ বিকাল ৪:৩১
কুয়াশা অথবা আমি বলেছেন: তাসকিনের হাতে ধোনির রক্তভরা কাটা মুণ্ডুর ছবি বের হয়েছে! কতটা নৃশংস, বিকৃত মানসিকতা হলে সেটি করা যায়!
# এই ছবিটা দেখে আসলেও মর্মাহত হয়েছি।
বাঙালি ক্রিকেটের ব্যাপারে মাত্রাতিরিক্ত আবেগি জানি এবং নিজের মাঝেও সেটা অনুভব করি। কিন্তু ভেতরে ভেতরে একটা হিংস্র বিষয় পুষে রাখাটা খুব ভয়ের ব্যাপার। মুহূর্তে যে কোন ধরণের দুর্ঘটনা ঘটে যেতে পারে বলে মনে করি।
মুগ্ধ হলাম আপনার সুচিন্তিত লেখা পড়ে। ধন্যবাদ জানবেন।
২২ শে মার্চ, ২০১৬ রাত ২:৪৯
আবুজর বলেছেন: ভালো লেগেছে আপনার মন্তব্য পেয়ে ।। পাশে থাকবেন
©somewhere in net ltd.
১|
০৫ ই মার্চ, ২০১৬ রাত ১২:২৩
মহা সমন্বয় বলেছেন: আসলে এই উগ্রতার কোন শেষ নেই।