| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
-- ইমাম আনোয়ার আল আওলাকির লেকচার অবলম্বনে
কুরআনে আল্লাহ সুবহানু ওয়া তাআলা বলেন
এদের মধ্যে একটি দল হচ্ছে নিরক্ষর। তাদের কিতাবের জ্ঞান নেই, নিজেদের ভিত্তিহীন আশা-আকাঙ্ক্ষাগুলো নিয়ে বসে আছে এবং নিছক অনুমান ও ধারণার ওপর নির্ভর করে চলছে। (বাকারাহ ৭৮)
সুরা বাকারার এই আয়াতে বলা হয়েছে আহলে কিতাবদের ( এখানে ইহুদি) মধ্যে কিছু নিরক্ষর লোক আছে ,যাদের কাছে আল্লাহর কিতাব আছে, কিন্তু তারা জানেনা সেই কিতাবে কি বলা হয়েছে। তারা এই বই থেকে ততটুকুই শিখে যতটুকু তাদের দুনিয়ার কাজে লাগবে।
ইবনে আব্বাস এবং কাতাদাহ বলেছেন এখানে উম্মি ( নিরক্ষর ) বলতে এটা বুঝানো হয়নি যে তারা লিখতে ও পড়তে পারেনা।
বরং বুঝানো হয়েছে যে তারা এই বইটা পড়ে , তেলাওয়াত করে কিন্তু এর মানে বুঝে না। তারা আল্লাহর কিতাবকে তেলাওয়াতের মধ্যেই সীমাবদ্ধ রাখে। এতে আসলে কি বলা হয়েছে সেই বিষয়ে অজ্ঞ।
বর্তমান যুগে আমারা দেখি চারিদিকেই কুরআন তেলাওয়াত বাজান হয়। বাস ছাড়ার আগে , দোকান খুলার আগে, মিটিং , অধিবেশন , অনুষ্ঠানের আগে, এমনকি যে টিভির যে চ্যানেল এ নাচ গান , অশ্লীল অনুষ্ঠান দেখানো হয় সেখানেও।
মজার ব্যপার হচ্ছে চরম ইসলাম বিদ্বেষী দেশ ইসরায়েলর টিভিতেও কুরআন ব্রডকাস্ট করা হয় ।
সুবহানাল্লাহ !
ইমাম আহমেদ বর্ণিত একটি হাদিসে আল্লাহর রাসুল (স) একবার জ্ঞান হারিয়ে যাবার প্রসঙ্গ তুললেন। একজন সাহাবি , ইবনে লুবায়েদ অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলেন " হে আল্লাহর রসুল , জ্ঞান কিভাবে হারিয়ে যাবে? যখন আমারা আমাদের সন্তানদের কুরআন শিখাই, এবং তারাও তাদের সন্তানদের শিখায়?
জবাবে আল্লাহর রসুল (স) বললেন "তুমি কি ইহুদি এবং খ্রিস্টানদের অবস্থা দেখনা? তাদের কাছেও তো তাদের কিতাব রয়েছে।
আবু দারদা (র) বলেছেন "যখন তোমরা দেখবে মুসলিমরা মসজিদ ও কুরান শরিফ কে সাজানোয় ব্যস্ত , তখন বুঝবে ধ্বংস নিকটে। কারন তখন মুসলিমরা আসল জিনিস থেকে রুপককে বেশি প্রাধান্ন দিচ্ছে।
আল্লাহর রসুলের যামানায় কুরআন লেখা হত হাড়,পাতা, আর চামড়ার উপর। আর এখন কুরআন ছাপান হয় এতো সুন্দর করে যে তাতে হাত দিতেও ভয় লাগে। বরং এখন কেউ চামড়া অথবা পাতায় কুরআন লিখলে আমারা বলবো কুরআনের অবমাননা হচ্ছে ।
আমরা ভুলেই গেছি আল্লাহ কি কারণে এই বইটা আমাদের মাঝে পাঠিয়েছেন । আমরা ভুলে গেছি কুরআনকে কিভাবে অধ্যয়ন করা দরকার , আর তা করলে কুরআন আমাদের কি দিতে পারে।
কুরআনে আল্লাহ সুবহানু ওয়া তাআলা বলেন
এটি একটি অত্যন্ত বরকতপূর্ণ কিতাব, যা (হে মুহাম্মাদ!) আমি তোমার প্রতি নাযিল করেছি, যাতে এরা তার আয়াত সম্পর্কে চিন্তা-ভাবনা করে এবং জ্ঞানী ও চিন্তাশীলরা তা থেকে শিক্ষা নেয়। (সা-দ:২৯)
তারা কি কুরআন নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করেনি, নাকি তাদের মনের ওপর তালা লাগানো আছে? (মুহাম্মদ: ২৪)
আল্লাহ সুবহানু ওয়া তাআলা আমাদের কেবল কুরআন তেলাওয়াত করতে বলেন না। তিনি আমাদের বলেন , কুরআন নিয়ে গবেষণা করতে , গভীর ভাবে চিন্তা ভাবনা করতে।
সাহাবার কিভাবে কুরআন অধ্যয়ন করতেন?
হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমার (র) বলেছেন "আমার সুরাহ বাকারাহ শিখতে ১৪ বছর সময় লেগেছে। সুরা বাকারাহ শিখতে পেরে তিনি এতোই আনন্দিত হয়েছিলেন যে তিনি একটি উট জবাই করে লোকদের খাইয়েছিলেন। এটা তাঁর জীবনে এতোই গুরুত্বপূর্ণ একটা ঘটনা ছিল।
আমরাতো আজকাল কয়েক বছরেই পুরো কুরআন শিখে ফেলি। হজরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমরের শধু সুরা বাকারাহ শিখতেই এতো বছর লাগল কেন?
একজন তাবেইন বলেছেন " আমি কয়েকজন সাহাবার সাথে দেখা করেছিলাম এবং তারা আমাকে জানিয়েছেন তারা কিভাবে কুরআন অধ্যয়ন করতেন। তারা কুরআনের দশটি আয়াহ নিতেন, এবং সেই দশ আয়াতে কি কি হারাম হালালের বিসয় এসেছে, ইমানের ব্যপারে কি বলা হয়েছে , জ্ঞানের ব্যপারে কি বলা হয়েছে তা বুঝে সেই আয়াতগুলো মুখস্ত করতাম। এরপর অন্য দশ আয়াত পড়া শুরু করতাম। নিজের জীবনে দশটি আয়াহ পরিপূর্ণ ভাবে বাস্তবায়ন না করে আমরা অন্য আয়াতে যেতাম না। "
আমাদের কুরআনের সাথে গভীর সম্পর্ক স্থাপন করা দরকার এবং কোন অবস্থাতেই কুরআন অধ্যয়ন করা থেকে গাফেল হওয়া যাবেনা । আমরা ইসলামের অন্যান্য বিষয়গুলো অবশ্যই পড়ব তবে তা যেন আমাদের কুরআন অধ্যয়ন ব্যাঘাত না করে।
অনেককে দেখা যায় তারা কুরআন পারেননা কিন্তু ইসলামের অন্যান্য বিষয়গুলো অনেক জানেন। এটা ভুল, কারণ আপনার মধ্যে কুরআনের জ্ঞান না থাকলে অন্য জ্ঞান যতই থাকুক তা অসম্পূর্ণ। সাহাবাদের কাছে কুরআনই ছিল একমাত্র জ্ঞানের উৎস।
এই কুরআনের প্রতি একাগ্রতা আর একনিষ্ঠ ভালবাসাই তাদেরকে নিকৃষ্টতম জাতি থেকে নিয়ে গেছে সভ্যতার শিখরে। যে মানুষগুলো তাদের সন্তানদের জীবিত কবর দিত , তাদের পরিণত করল মানব ইতিহাসের সর্বোত্তম মানুষে।
আমাদের কাছে আর নবী আসবেননা । কুরআন ই আমাদের হেদায়েতের একমাত্র অবলম্বন । আমাদের মুসলিম জাতি আজ যে দুরবস্থার মধ্যে পতিত হয়েছে তাঁর অন্যতম মুল কারণ কুরআনকে পরিত্যগ করা।
আমাদের মুসলিমদের কি সময় আসেনি আল্লাহর রসুল ও তাঁর সাহাবিদের দেখানো পথে ফিরে যাবার?
©somewhere in net ltd.