নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পৃথিবীর দিকে দিকে

কল্যাণের কথা বলি, কল্যাণের পথে চলি।

আবূসামীহা

আমার ব্লগে এখন থেকে শুধু প্রাসঙ্গিক মন্তব্যকে স্বাগত জানানো হবে। কেউ মন্তব্য করতে চাইলে লেখার বিষয় সম্পর্কে করবেন। অহেতুক ও অপ্রাসঙ্গিক মন্তব্য মুছে দেয়া হতে পারে। সুস্থ্য ও সুন্দর ব্লগিং পরিবেশ নিশ্চিত করতে সাথে থাকবেন সবাই এ আশা করছি।

আবূসামীহা › বিস্তারিত পোস্টঃ

মাছি মারা কেরাণী ও আমার অভিজ্ঞতা

১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:১২

"মাছি মারা কেরাণী" সঙ্ক্রান্ত গল্পটা হয়তো অনেকেই জানেন। কেরাণীদের বুদ্ধির স্বল্পতা ও চিন্তার স্বাধীনতার ক্ষেত্রে তাদের সীমাবদ্ধতা নিয়ে তামাশা করার জন্য গল্পটার উৎপত্তি। কিন্তু বাস্তবেও যে মাছি মারা কেরাণী থাকতে পারে তা নিজের অভিজ্ঞতায় ধরা না পড়লে বুঝতে পারতামনা।



নিজের অভিজ্ঞতার কথা জানানোর আগে আসুন মাছি মারা কেরাণীর গল্পটাই আরেকবার রোমন্থন করি। কেরাণীদের কাজ হলো তাদের বসদের হুকুম পালন করা। বসরা যা করতে বলেন তা করা। এক্ষেত্রে তাঁরা নিজেদের বুদ্ধি নতুন করে খাটাননা। যা বলতে বলা হয়েছে তাই করেন চিন্তা ভাবনা করা ছাড়া। কোন কাজের দায়ভার নিজের কাঁধে নেয়ার মত মানসিকতা, সাহস ও ক্ষমতা কোনটাই তাদের নাই।



এরকম এক কেরাণীকে তাঁর বস একবার এক ফাইল কপি করতে দিলেন। বেচারা কেরাণী নিজের হাতে ঐ ফাইল কপি করে যাচ্ছেন। তখনকার দিনে ফটোকপি, সাইক্লোস্টাইল বা স্ক্যানিং, কম্পিঊটার কিছুই ছিলনা। তিনি ফাইলের কাগজগুলোর নকল (কপি) তৈরী করা প্রায় শেষ করে ফেলেছেন। শেষ পাতায় দেখলেন একটা মাছি মরে লেগে আছে। তিনি ভাবলেন, "এটা কীভাবে কপি করা যায়?" আর আপনারা যারা চেষ্টা করেছেন তারা নিশ্চয়ই জানেন মাছি মারা বা ধরা খুব সোজা কাজ নয়। কেরাণী ভদ্রলোককে ফাইল নকল করতে হবে। তাই মাছি মারা ছাড়া কোন উপায় নেই। তিনি অনেক কষ্ট করে একটা মাছি মেরে নকল ফাইলটাতে জায়গামতো সেঁটে দিলেন। সেই থাকে বাংলায় "মাছি মারা কেরাণী" কথাটার শুরূ।



কিন্তু ব্যক্তিগতভাবে আমাকেই যে এক মাছি মারা কেরাণীর মুকাবেলা করতে হবে তা কে জানত? ১৯৯২ সালের কথা। বিদেশের বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়তে এসে নতুন কিছু শেখা। Communication Law & Ethics কোর্সটা নিলাম। শিক্ষক সাইয়েদ শওকত আলী শাহ্‌। ভদ্রলোক তাঁর কড়া মেজাজের জন্য গোটা ফ্যাকাল্টির ছাত্র-ছাত্রীদের কাছে পরিচিত। আমি কমুনিকেশন মেজর হওয়ার পরও তাঁর সাথে কোন কোর্স নেইনি কারণ সিনিয়ররা ভয় ধরিয়ে দিয়েছিল তাঁর মেজাজ এবং নম্বর দেয়ার ক্ষেত্রে কৃপণতার কথা বলে। এদিকে তিনিই writing কোর্সগুলো পড়ান। বাধ্য হয়ে ৩য় সেমিস্টারে তাঁর সাথে একসাথে তিনটা কোর্স নিতে হল। এর মধ্যে দু'টো কোর কোর্স। Reporting & Writing for Mass Media-I এবং Communication Law & Ethics। এদিকে তিনি আবার পান- থেকে চুন খসলেই ক্ষেপে যান। এসাইনমেন্ট - ২য় কোর্সটির জন্য একটা টার্ম পেপার লিখতে হবে যা অবশ্যই টাইপ করা ১০ থেকে ১২ পৃষ্ঠার মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতে হবে।



তখন আবার এত GUI কম্পিঊটার ছিলনা। ছিল DOS বেইসড পি.সি.। শেখার কষ্টে তখনো ভাল করে শেখা হয়নি। এজন্য এসাইনমেন্ট হাতে লিখে আমরা বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের কেরাণীদের দিয়ে টাইপ করিয়ে নিতাম। প্রতি পৃষ্ঠার (ডাবল স্পেইস, ১২ ফন্ট সাইজ) জন্য ১ রিংগিত করে পে করতাম ঐ কেরাণীদেরকে। আমার এসাইনমেন্টাও হাতে লিখে এক কেরাণীর কাছে দিয়ে এলাম টাইপ করার জন্য। হাতে লিখা এসাইনমেন্টটা ছিল ১৫ পৃষ্ঠা। স্বাভাবিকভাবে টাইপ করলে পৃষ্ঠা কমবে। কোনভাবেই ১২ পৃষ্ঠা হওয়ার কথা নয়। আমি হাতে লিখাটার শেষ পাতায় লিখে দিয়ে এসেছিলাম "Please Try to Confine the paper within 10 to 12 pages"।

নির্দিষ্ট দিনে টাইপ করা এসাইনমেন্টটা ফেরত আনতে গিয়ে দেখি সে ১৫ পৃষ্ঠাই টাইপ করেছে এবং আমার দেয়া ইন্সট্রাকশন "Please Try to Confine the paper within 10 to 12 pages" কথাটাও টাইপ করে রেখেছে।



হাসব না কাঁদব? একদিকে মিঃ সাইয়েদ শওকত আলীর ইন্সট্রাকশন, এসাইনমেন্ট জমা দেয়ার ডেডলাইন আর অন্যদিকে তার মেজাজ। মনটাই খারাপ হয়ে গেল। তবে বাস্তবের একজন মাছি মারা কেরাণীর দেখা পাওয়া গেল বলে একটু কষ্টের হাসিও হাসা গেল।

মন্তব্য ২৪ টি রেটিং +১৩/-১

মন্তব্য (২৪) মন্তব্য লিখুন

১| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:২৬

নাবিক বলেছেন: ভালোই গল্প। একদম জীবন থেকে নেয়া। আমিতো হাসতে হাসতে শেষ।

১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:২৯

আবূসামীহা বলেছেন: বিশ্ববিদ্যালয়ের এক অনুষ্ঠানে আমাদের মাছি মারা কেরাণীর গল্পটার সাথে এই কাহিনীটাও বলেছিলাম। সেখানেও হাসতে হাসতে সবার পেটে খিল।

২| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:৩২

দ্বীপবালক বলেছেন: ভালইতো হইয়াছে।

১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:৩৪

আবূসামীহা বলেছেন: ধন্যবাদ।

৩| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:৪৪

মুনিয়া বলেছেন: হাহাহা... আহারে... তবে ঐ কেরাণীর জন্য খারাপও লাগছে। বেচারা যেমন শিখেছে...

১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:৪৯

আবূসামীহা বলেছেন: আমার জন্যও খারাপ লাগার কথা ছিল আপনার। আমাকে ৩টা রিংগিত বেশী গুনতে হল, জনাব শওকত আলী শাহ্‌র মুখোমুখি হওয়ার দুঃশ্চিন্তায়ও ভুগতে হল। :)

৪| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:১২

বিবেক সত্যি বলেছেন: শেষ পাতাটা পাল্টালেই তো ঠিক হয়ে যেত :)

১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৭:২০

আবূসামীহা বলেছেন: প্রথমে লিখাটা দেখিনি। হলের রুমে এনে দেখি সে আমার কথাটাও টাইপ করে দিয়েছে। কী আর করা। শেষ পর্যন্ত হোয়াইট আউটের সাহায্য নিতে হল।

৫| ১৬ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৯:৫৮

ফজল বলেছেন: মাছি মারা কেরাণী প্রবাদটি শুনেছি কিন্তু কেরাণীর গল্পটা শোনা হয়ে উঠেনি; ধন্যবাদ আপনাকে :)

১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৯:১১

আবূসামীহা বলেছেন: মাছি মারা কেরানী টাইপের কাজ এখানেও হয় মাঝে মাঝে।

৬| ১৭ ই জানুয়ারি, ২০০৮ রাত ৮:৩৩

কণা বলেছেন: হি হি হি... মজার ঘটনা.... :)

একবার এক ফ্রেন্ড আমার এ্যাসাইনমেন্টটা কপি করতে গিয়ে আমার রোল নং-টাও কপি করে ফেলেছিল... হি হি হি

১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:১০

আবূসামীহা বলেছেন: মার স্কুলের এক ছাত্র বন্ধুর হোমওয়ার্ক কপি করে আমাকে দিয়েভহিল নিজের বলে। সে সোজা ফটোকপি করে জমা দিয়ে দিয়েছিল। নিজের নামটাও বদলায়নি।

৭| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৭:৫৩

ইছামতীর পাড়ে বলেছেন: আপা ইতু ওরাং? বোডো কা? থুক্কু।

১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:০৭

আবূসামীহা বলেছেন: সায়া ফিকির ডিয়া ওরাং তিডাক বোডো। তাপি ইতু মাসালা রিংগিত লাহ, সাউডারা।

১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:১১

আবূসামীহা বলেছেন: ত্রিমা কাসিহ্‌।

৮| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৭:৫৪

শীখা বলেছেন: ভাল হয়েছে ঘটনা+

১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:০৮

আবূসামীহা বলেছেন: ধন্যবাদ।

৯| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ৭:৫৬

উম্মু আবদুল্লাহ বলেছেন: আরে আমি প্রথমে ভেবেছিলাম সে বুঝি একটা লাইন টাইপ করেছে ১৫ পৃষ্ঠা জুড়ে। যাক, ভাল লাগল কাহিনীটি।

১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:১০

আবূসামীহা বলেছেন: ধন্যবাদ।

১০| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:৩২

বিহঙ্গ বলেছেন:
নির্দিষ্ট দিনে টাইপ করা এসাইনমেন্টটা ফেরত আনতে গিয়ে দেখি সে ১৫ পৃষ্ঠাই টাইপ করেছে এবং আমার দেয়া ইন্সট্রাকশন "Please Try to Confine the paper within 10 to 12 pages" কথাতাটাও টাইপ করে রেখেছে।
হাঃহাঃহাঃহাঃহাঃহাঃহাঃ............................আমি হাসতেই আছি।

১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:৩৯

আবূসামীহা বলেছেন: :) :) :)

১১| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:৫৪

ম. রহমান বলেছেন: বরাবরের মতো এবার ও আপনার লেখা ভালো লাগলো...আমি ও মজার একটা ঘটনা শেয়ার করি। তখন খুবই ছোট, কোন রকমের ইংরেজীতে ঠিকানা লেখা শিখেছি...স্যার ক্লাসে এসেই বললেন ইংরেজীতে তোমাদের ঠিকানা লেখ...আমার পাশে ছিলো লিটন নামের এক ক্লাশ মেট...ও ঠিকানা লিখতে জানে না...স্যারের ভয়ে ও আমার টা কপি করতে লাগলো...নিজের নাম ঠিকই লিখছে, আমি যখন C/O লিখছি আমার পিতার নাম লিখছি, লিটন ও আমার পিতার নাম লিখে ফেলছে...স্যার তো সবার পিতার নাম জানতেন...আর কি করার... স্যার সবাই কে বললেন ওরা দুই জন আপন ভাই... পরে অন্য দোস্তদের কে বলার পর হাসতে হাসতে গড়াগড়ি...

১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১০:৫৮

আবূসামীহা বলেছেন: এবার আমার হাসার পালা। :) :) :)

ত্রিমা কাসিহ্‌ সউডারা।

১২| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:১১

ম. রহমান বলেছেন: সামা সামা...বলে সাকাব মালায়ূ?

১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:১৩

আবূসামীহা বলেছেন: ইয়ালাহ্‌। বোলেহ্‌ চেকাপ। তাপি ডাহ্‌ লুপা। ইতু জামান লামা।

১৩| ১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:১৪

বুড়া শাহরীয়ার বলেছেন: +

১৮ ই জানুয়ারি, ২০০৮ সকাল ১১:১৮

আবূসামীহা বলেছেন: আপনাকেও +। :)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.