| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
শাহবাগ আন্দোলন:
আজ দেখলাম শাহবাগে আওয়ামী-বাম সমর্থকরা আবারো একত্রিত হয়েছে আর সরকারকে ২৪ ঘন্টা সময় বেঁধে দিয়েছে আমারদেশ পত্রিকা ও এর সম্পাদকের বিরুদ্ধে ব্যবস্হা নিতে।
শুরুতে আমার মতো অনেকে যুদ্ধাপরাধের বিচারের দাবীতে শাহবাগ আন্দোলনের সমর্থক হলেও আস্তে আস্তে এর পেছনে সরকারের থলের বিড়াল বেরিয়ে আসতে দেখে সমর্থন প্রত্যাহার করে নিয়েছে। রাজিব হত্যার পরে আন্দোলনের পেছনে ব্লগারদের ইসলাম বিরোধী অপপ্রচার ও প্রপাগান্ডা দেশবাসীর সকলের কাছে ইন্টারনেটের বদৌলতে পৌঁছে গেছে। এও জানা গেল, এই আন্দোলনের মূল নেতা ডা: ইমরান রংপুর মেডিকেলের ছাত্রলীগের সেক্রেটারী ছিলেন। আর প্রথম পর্যায়ের পুরো ১৭ দিনে যাঁরা শাহবাগ আন্দোলনে একাত্নতা প্রকাশ করতে গিয়েছেন তাঁদের অনেকেই সরকার, আওয়ামী-বাম রাজনীতির নেতৃত্ব ও মিডিয়া ব্যক্তিত্ব। এমনকি কোমলমতি স্কুল ছাত্র-ছাত্রীদের দেশের বিভিন্ন জায়গায় জাগরণ মঞ্চে নিয়ে 'ভয়ংকর কথা' শেখানো হচ্ছে বলে মিডিয়ায় প্রকাশ পায়। যেখানে বিরোধী দলকে সরকার একটি সভা-সমাবেশ করতে দেয়না সেখানে পুরো ১৭ দিনের একটানা আন্দোলনে শাহবাগের মতো রাজধানীর একটি গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট অবরুদ্ধ হয়ে রইল। এতে আর বুঝতে বাকি রইলনা, শাহবাগ আন্দোলন নিজের শত শত ব্যর্থতা ঢাকতে সরকারের একটি কৌশল।
এই সময় দেশে সরকারের দূর্নীতি, ঘুষ, পদ্মা ও হলমার্ক কেলেন্কারী, মন্ত্রীর এপিএস কর্তৃক সরাসরি ঘুষের টাকা লেনদেন, বিদ্যুৎ সমস্যা, চাঞ্চল্যকর হত্যার (যেমন, সাগর-রুনি) বিচার, বিদ্যুৎ সমস্যা (ও অজনপ্রিয় কুইক রেন্টাল), মন্ত্রী ও সরকারী নেতাদের ব্যাংকের টাকা আত্নসাৎ সহ শত শত সমস্যা থাকা সত্বেও শাহবাগ আন্দোলননের দাবী খুবই সীমিত এজেন্ডায় পরিপূর্ণ।
তাই শাহবাগ আন্দোলনের নেতৃত্বের কাছে প্রশ্ন করি, উপরের এতসব সমস্যা থেকেও আমারদেশ ও মাহমুদুর রহমান বড় সমস্যা? এজন্য এখন আর শাহবাগ আন্দোলনে সমর্থন দিতে মনে সায় দেয়না।
যুদ্ধাপরাধের বিচার?
বাংলাদেশের শতকরা ৯৯% মানুষ প্রকৃত ও সকল যুদ্ধাপরাধীদের বিচার চায়। কিন্তু যুদ্ধাপরাধীদের মধ্যে যারা আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত তাদের বাদ দিয়ে শুধুমাত্র জামাত-বিএনপির চিহ্নিত কয়েকজনকে বিচারে অনেকে শুরু থেকে মনে করছে এই বিচারে সরকার আদৌ আন্তিরক কিনা। এদিকে খোদ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নামোল্লেখ করে বঙ্গবীর কাদের সিদ্দিকী বলেন, সরকার এই বড় রাজাকারের বিরুদ্ধে মামলা করলে তিনি নিজে সাক্ষ্য দিবেন। কিন্তু এহেন এত বড় অভিযোগের পরে মামলাতো দূরের কথা সরকার ও মন্ত্রী মহোদয় নিজে কাদের সিদ্দিকীর কথা আমলেই নেননি। শাহবাগের আন্দোলন সঙ্গত কারণে এখানেও নীরব।
এছাড়া বর্তমান আওয়ামী দল/সরকারে মোট ২৩ জন রাজাকারের নাম (একাধিক মন্ত্রী ও এমপিও আছেন এই লিস্টে) ইন্টারনেটের মাধ্যমে সবার কাছে প্রকাশ পেলেও সরকার ও শাহবাগ আন্দোলন এখনও নীরব। যে কাদের মোল্লার বিচারের পরে ফাঁসির দাবীতে শাহবাগ আন্দোলের সূচনা, সে কা. মোল্লার বিচারে সরকারপক্ষ প্রত্যক্ষ সাক্ষ্যের মাধ্যমে একটি অভিযোগও প্রমাণ করতে পারেনি (ইত্তেফাক)। তাই যথাযথ বিচারে সরকার ব্যর্থ হয়েছে বলে সরকার সমর্থক অনেকেই এই বিচার মেনে নেয়নি।
স্বাধীন মিডিয়া!
বরাবরের মতোই আওয়ামীলীগ সরকার বিরোধী দলের কন্ঠ রোধে যা ইচ্ছা তাই করেছে। ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের পরে বঙ্গবন্ধূ (সরকারী দল ও পত্রিকা ছাড়া অন্য) সকল দল ও পত্রিকা বন্ধ করে দিয়ে বাকশাল কায়েম করেছিলেন। বর্তমান আওয়ামী সরকারের শুরু থেকে সবচেয়ে বেশি কোপানলে পড়েছে - আমার দেশ ও মাহমুদুর রহমান।
প্রথমত, দেশের শক্তিশালী কোন বিরোধী মিডিয়া নেই। শক্তিশালী মিডিয়া সরকারের ভুল গুলো ধরিয়ে দিয়ে দেশ ও সরকারকে সঠিক পথে এগিয়ে চলতে সাহায্য করে। গত বিএনপি সরকারের বিরুদ্ধে শক্তিশালী জনমত সৃষ্টিকরেছিল সরকার বিরোধী মিডিয়া আজ যার বেশিরভাগ সরকার পক্ষ। বিএনপির ভুলগুলো ধরিয়ে দেয়ার কারণেই দেশ সম্ভাব্য খারাপ পরিণতি থেকে রক্ষা পেয়েছিল।
বিএনপির আমলে যেসব টিভি চালু হয়েছিল তাদের মধ্যে যেগুলো বিএনপি পন্হি ছিল (আরটিভি, এনটিভি) সেগুলো সরকার পরিবর্তনের সাথে সাথে পাল্টি খেয়েছে। সরকারের যৌক্তিক সমালোচনা এগুলো এখন আর করেনা। দিনকাল নামক বিএনপির পত্রিকা এখন প্রকাশ হয় কিনা সন্দেহ। জামাতি মিডিয়ার গ্রহণযোগ্যতা কম। ফলে একমাত্র বিরোধী মিডিয়া বলতে আমারদেশ। তাই এই পত্রিকা বন্ধ হলে গণতন্ত্র বিকাশের পথ রুদ্ধ হয়ে যেতে পারে।
প্রত্যেক পত্রিকা ও সম্পাদকের একটি রাজনৈোতিক আদর্শ ও চিন্তা ভাবনা থাকে। আমারদেশ ও মাহমুদুর রহমানও ব্যতিক্রম নন। তাদের নীতি আদর্শ সরকারবিরোধী হলে সরকারের উচিত হবে সে নীতি-আদর্শ বন্ধে আদা-জল খেয়ে নামা - এমন কাজ গণতন্ত্র নয়। সে নীতি-আদর্শ দেশের সংবিধান পরিপন্হী না হলে সরকারের বন্ধ করার কাজগুলোর নৈতিক ও আইনগত ভিত্তি দূর্বল হয়ে যায়। দেশের জনগণও তা পছন্দ করে না।
তাই আজকে যারা আমারদেশ ও মাহমুদুর রহমানকে থামাতে আন্দোলন করছেন, তাঁদের বলব আপনারা লেখনির মাধ্যমে আমারদেশ ও মাহমুদুর রহমানের লেখার জবাব দিন। দেশের মানুষ দেখবে কারা সত্য। নতুবা বিরোধী মিডিয়া দমন এদেশে গণতন্ত্রের সুষ্ঠ বিকাশের অন্তরায় প্রমাণিত হবে।
২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১১:১১
আবু তাশফীন বলেছেন: সুন্দর কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ।
২|
২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১০:৩৮
অামিও সুখী বলেছেন: bhai aj kal balo kothay kw comments kore na ....
ora cay nognota r dongso....
ami bolbo sudu oder karone nastikra ajj sahos pacce amder sukhi dese osukhi kore tulte...
২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১১:১৪
আবু তাশফীন বলেছেন: সুস্হ নাস্তিকদের বিরুদ্ধে কোন অভিযোগ নাই। যেকোন মানুষের নিজের পছন্দমত আদর্শ বিশ্বাস করার ও মানার স্বাধীনতা আল্লাহ দিয়েছেন। আমাদের অভিযোগ সেসব নাস্তিকদের বিরুদ্ধে যারা ইসলামের বিরুদ্ধে অপপ্রচার ও প্রপাগান্ডায় লিপ্ত। এদের প্রতিহত করুন। আশা করি সরকাররের বোধদয় হবে।
৩|
২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১১:০৯
শিক্ষানবিস বলেছেন: সকল দলের সব যুদ্ধাপরাধীর বিচার চায় বাংলার জনগণ।
এই বিষয়টা দলীয় স্বার্থে ব্যবহার করা মানে মহান মুক্তিযুদ্ধ ও জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তানদের সাথে প্রতারণা করা। এটাও অপরাধ।
সুন্দর লেখার জন্য ধন্যবাদ।
২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১১:১৫
আবু তাশফীন বলেছেন: সুন্দর কমেন্টের জন্য ধন্যবাদ।
৪|
২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ দুপুর ১:১৫
নিষ্কর্মা বলেছেন:
আমার দেশ সাম্প্রদায়িকতা উস্কে দেবার চেষ্টা করেছে। এর দায় যে এড়াতে পারে না। আর যে ব্লগারের নামে কটুক্তি করা হয়েছে, তাঁর নামে চালুকৃত সাইট তাঁকে হত্যার পরে চালু করা হয়েছে। এইটার প্রমাণ আছে। দয়া করে Click This Link সাইটে গিয়ে দেখুন।
মিথ্যা প্রচারনার মাধ্যমে জামাত-শিবির-আমার দেশ এই দেশকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিতে চাচ্ছে। আমার দেশের মিথ্যা প্রচারণায় এবং জামাত-শিবিরের মিথ্যা কথায় দেশের মানুষ আজ বিভ্রান্ত।
শুক্রবারে জামাত-শিবির মসজিদে আগুন দিয়েছে, জাতীয় পতাকা পুড়িয়েছে, শহীদ মিনার গুড়িয়ে দিয়েছে। তারা পাকিস্তান জিন্দাবাদ শ্লোগান পর্যন্ত দিয়েছে। এ সবই দেশ ধ্বংসের চক্রান্ত এবং লক্ষণ।
তাই আজকে এর প্রতিরোধ করতে হবে। এদের প্রতিরোধ করাটাই এখন ফরজ, দেশ রক্ষা ফরজ।
আশা করব আপনিও এই কাজে শরীক হবেন এবং হিংস্র হায়েনার হাত থেকে দেশকে রক্ষা করবেন।
©somewhere in net ltd.
১|
২৩ শে ফেব্রুয়ারি, ২০১৩ সকাল ১০:৩৭
ফরেক্স ট্রেডার বলেছেন: ধন্যবাদ আপনাকে বস্তুনিষ্ট কথা বলার জন্য। এখানে সবাই কোনো না কোনো দলের হয়ে কথা বলে, কিন্তু হক কথা বলার সাহস বা চেষ্টা পরিলক্ষিত হয় না।
** আজকে যারা ধর্মের দোহাই দিয়ে রাজনীতি করছে আমি তাদের মনে প্রাণে ঘৃণা করি।
** আজকে যেসব মিডিয়া সত্য গোপন করে ক্ষমতাসীনদের দাললী করছে তাদের মনে প্রাণে ঘৃণা করি।