নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
প্রত্যেকটা মানুষের জীবনের গল্প তার আঙ্গুলের ছাপের মতই ভিন্ন। দূর থেকে এক মনে হলেও যতই তার গভীরে যাবে কেউ ততই বৈচিত্রময় বিভিন্নতা পাবে। নিজের জীবনের গল্পে চরে বেড়ানো মানুষগুলো সবাই’ই যার যার জগতে বন্ধী। সহস্র বছর বাঁচতে পারলে পৃথিবীর প্রত্যেকটা মানুষের জীবনের গল্প আমি শুনতাম।নিজের দেখা জগৎ দেখা আদেখা মানুষদের জগতের সাথে গেঁথে নিতেই লিখি এবং আন্যের লিখা পড়ি। কেউ যদি মিথ্যুক বা ভন্ড না হয় তাহলে তার যে কোন ভিন্ন মতের কারন তার চার পাশের ভিন্ন জগৎ, ভিন্ন পরিবেশ, ভিন্ন শিক্ষা। তাই মানুষকে বুজতে হলে তার জগৎটাকে জানতে হবে, তার গল্পগুলো শুনতে হবে।আফনান আব্দুল্লাহ্
স্বর্ণের দাম বাড়লে ভারতের বাবা মায়েরা তাদের মেয়ে শিশুদের হত্যা করা বাড়িয়ে দেন।
২০১৭-২০১৮ সালের দিকে প্রকাশিত একটা স্টাডি পেপার থেকে এটা বলা যায়। এই কোররিলেশান বেশ স্ট্রঙ। স্বর্ণের দাম ৬.৩% বাড়ার বিপরিতে মেয়ে শিশু মৃত্যুর হার বেড়ে ছিলো ৬.৪%। ১৯৮৫-৮৬ এর পরে আল্ট্রাস্নো প্রযুক্তি ছড়িয়ে পরায় এই সম্পর্কটা গিয়ে দাঁড়ালো মেয়ে শিশু এবোরশান এর সাথে। অথচ এই স্টাডির একটা সময় কাল ১৯৭২ থেকে ১৯৮৫ সালের মধ্যে ১১ বছর ভারত শাসন করেছিলেন ইতিহাসের অন্যতম প্রভাবশালী নারী প্রধান মন্ত্রী ইন্দিরা গান্ধী।
মেয়ে শিশু হত্যার আরো বর্বর বর্ণনা পাওয়া যায় ইসলাম পূর্ব পৌত্তলিক যুগের আরব ইতিহাসে। কিন্তু সেখানেও মেয়ে শিশু হত্যা আর মহিলাদের বিস্তর ভোগান্তির বর্ননার সাথে সাথেই রয়েছে ঐ সময়ের বিভিন্ন প্রভাবশালী নারীর ইতিহাসও। জানা যায় ধনাঢ্য ব্যবসায়ী বিবি খদিজার দেশ দেশান্তরে ছড়ানো ব্যবসা বানিজ্য পরিচালনার কথা, ভয়াবহ প্রভাবশালী দাপুটে রাজনৈতিক নারী হীন্দার যুদ্ধ ক্ষেত্রে পর্যন্ত দূর্ধষ আর বিভৎস অগ্রাসনের বর্ণনা, আবু লাহাবের স্ত্রী উম্মে জামিলার ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক আর সামাাজিক প্রতিপত্তির সরস কথা মালা। উনাদেরকে কেউ শিশু কালে মাটি চাপা দিলো না, আর বড় বেলাতেও দমিয়ে রাখলো না। কারন এরা ছিলেন প্রভাবশালী আর ধনাঢ্য পরিবারের।
.
তো দেখা যাচ্ছে সব যুগেই মূলত অস্বচ্ছল আর দরীদ্র পরিবারের মেয়েরাই দুর্দশায় পরে। স্বর্ণের দামের সাথে মেয়েদের এই ভোগান্তির যোগসূত্র গেঁথে আছে শুয়র প্রভাবিত সমাজ ব্যবস্থায়।
.
উপমহাদেশে মেয়েদের ‘জন্য‘ যৌতুক দেয়া হয় সাধারনত স্বর্নালঙ্কার দিয়ে। এই অনিবার্য ব্যায়ের যোগানে তাই মেয়ের জন্মের পর থেকেই টাকা জমানো শুরু করতে হয়। এতে বিপুল সংখ্যক পরিবারের টিকে থাকার রসদে টান পরে। এই ব্যবস্থায় সারভাইবাল প্রশ্নে এক জন মেয়ে তার শিশু কাল থেকেই নিজের পরিবারের আর্থিক মেরুদন্ড ভেঙ্গে দিতে থাকে।
.
তো এই যৌতুক প্রথা আসলো কেন! জীবনের সবচেয়ে কর্মক্ষম সময়টাতে পারিবারিক দায়িত্বের বোঝায় মেয়েদের স্বশরীরে অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে জড়ানোতে নিয়মিতই ছেদ পরে। সামাজিক দায়িত্বের কারনে তার একান্ত ব্যাক্তিগত যে আর্থিক সক্ষমতায় টান পরে সেটা পুষিয়ে দেয়া সমাজেরেই দায়িত্ব। তাই মেয়েদেরকে উপঢৌকন/যৌতুক দিতে হয় সমাজ থেকে। আর উপমহাদেশে এই পুরো দায়িত্ব সমাজ খুব সুন্দর করে একান্ত ভাবে মেয়েদের পরিবারের উপর দিয়ে রেখেছে। উপলক্ষ হলো বিবাহ। সেখানে বর আর মেয়ের উভয় সমাজ মেয়ের পরিবারের আয়োজনে পেট পুরে খায়, একই সাথে মেয়ের জন্যে দেয়া সমস্ত উপঢৌকন বর মশাই আর তার পরিবারের নিয়ন্ত্রনে চলে যায়। আর সম্পদ নিয়ন্ত্রেণে যাওয়া মানে সম্পদের উপর নির্ভরশীল মানুষগুলোও নিয়ন্ত্রণে আসা। দিন শেষে যে যৌতুক মেয়েকে আর্থিক ভাবে ক্ষমতাবান করার কথা সেটাই তার খুনের কারন হচ্ছে, এমনকি তার জন্মের আগেই।
.
আর আরবের ধনাঢ্য নারীরা যেমন নারীর দুর্ভোগ কমাননি, এখানেও না। বরং ধনাঢ্য শ্রেনীর মহিলারা বাপের কাছে থেকে সাথে করে নিয়ে আসা যৌতুক নিয়ে দাপট দেখাতে থাকে শ্বশুরালয়ে। এই যৌতুকি বৌ আর তার শাশুড়ীরা মিলে শুয়রের মত গোঁত গোঁত করতে করতে তীব্র সামাজিক চাপ তৈরী করে তাদের প্রতিবেশী নিম্নবিত্ত্ব পরিবারের বৌ গুলোর উপর। সামনে করোনা আর যুদ্ধ পরবর্তি যে মন্দা আসতে যাচ্ছে তাতে প্রান্তিক পর্যায়ের মহিলা আর মেয়ে শিশুদের উপর তীব্র হবে এই চাপ।
.
পুনশ্চ: আরবে ইসলামী নিয়ম এসে পুরো পাশার দানটা উল্টে দেয়। মেয়ের ঐ আর্থিক ক্ষতি পুরনের দায়িত্ব পুরোটাই পরে তার জামাইয়ের উপর। ছেলের যেহেতু আর্থিক কর্মকান্ডে প্রকৃতগত কারনে কখনোই বিরতি নিতে হয় না। এমন কি বিয়ের আনুষ্ঠানিকতার খরচও ছেলের দায়িত্বে থাকে। তবুও দিনে দিনে আইন আর নিয়ম থাকে এক দিকে, আর মনুষ্য চলা শুরু করে আরেক দিকে। এই ভাবে মেয়েদের আর্থিক কর্ম কান্ডে না জড়াতে দেয়ার যে পারিবারিক হেডম আছে তার গোড়া নিয়ে আরেক দিন লিখা যায়।
.
ছবি বর্ণনা (Adrian Hirschi):
জিম্বাবুয়ের কারাবি লেকে অপুষ্ট শিশু হিপ্পোটাকে খেয়ে উশুল করছে তার স্বজাত। এটাকে Infanticide বলে। যে শিশু দূর্বল বলে টিকতে পারবেনা মনে হয় তাদের এটা করে দলের খাবারের চাপ কমানো হয়।
.
উৎস: ঘাটা দিলেই লিঙ্ক পাওয়া যাবে। দুয়েকটা কমেন্টে দিচ্ছি।
.
#Afnan_Abdullah
২| ০৭ ই অক্টোবর, ২০২২ দুপুর ২:১৯
নতুন বলেছেন: মানুষের মাঝে শিক্ষার আলো বাড়াতে মেয়ে শিশু হত্যার প্রবনতা কমেছে মনে হচ্ছে।
আমাদের দেশে বর্তমানে অনেকেই মেয়ে সন্তান হবে বলে খুশি দেখেছি আমার পরিচিতদের মাঝে।
যদিও বাংলাদেশের সমাজে ভারতের মতন নারীশিশু এবশনের প্রবনতা অনেক কমই বলতে হবে।
০৮ ই অক্টোবর, ২০২২ সন্ধ্যা ৬:৫৭
আফনান আব্দুল্লাহ্ বলেছেন: ঠিক বলেছেন। এ দেশে অনেক মানুষই মেয়ে সন্তান চান মন থেকেই
৩| ০৮ ই অক্টোবর, ২০২২ দুপুর ১২:০৫
নীল আকাশ বলেছেন: বাংলাভাষায় আরো সহজ টোনে এটা লেখা যেত।
©somewhere in net ltd.
১| ০৬ ই অক্টোবর, ২০২২ রাত ৯:৫২
আফনান আব্দুল্লাহ্ বলেছেন: Click This Link