| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আগ্রাসন
পৃথিবী গোল আকার ,ক্রিকেট মাঠ ডিম্বাকার , আর আমার নাই আকার
মইন ভাই , দিদি এখনো বাসায় ফিরেনী , মা বলেছে আপনার সাথে দিদির অফিসে একটু খোঁজ নিয়ে আশতে । আপনি কি যেতে পারবেন ? মইন হাই তুলল , হা করা মুখের কাছ থেকে মশা তারাবার মতো ভঙ্গি করে সে ডান হাতের কব্জিটা নাড়াতে নাড়াতে বলল , তোর দিদি দুই দিন পর পর এভাবে রাতে দেরি করবে আর ভুগতে হবে আমাকে আর তোকে । খালাম্মা ওর গালে কষায় কয়টা থাপ্পর লাগাতে পারেন না তাহলেই দেখবা ঠিক হয়ে গেছে । তমান কিছু বলল না সে অপরাধির মতো মুখ করে দাড়িয়ে রইল , তমান জানে এখন কিছু না বলাই ভাল আর মইন ভাইয়ের এই সব বলি শুধু তমানের সামনেই চলে দিদির সামনে মইন ভাই ভেজা বেড়াল । মইন এবার জোর দিয়ে বলল কি বলেছি বুঝতে পেরেছ ? তমান মাথা নারল । ঠিক আছে চল তোমার দিদিকে খুজেতে
রাত ভালই হয়েছে , সাড়ে দশটা বাজে মতিঝিল এলাকা পুরাই খালি এখন এখানে খুজতে এসে কি লাভ তা মইন জানে না , এর আগেও প্রমা দেরি করেছে বাসায় ফিরতে , তবে তার ফোন টা অন ছিল আর দূরে থাকলে মইন আর তমান গিয়ে ওকে নিয়েও এসেছে । প্রমা প্রতি বার যখন রাগ করে বের হয় তখন ঠিক করে নেয় যে সে রাতে বাড়ি ফিরবে না কিন্তু বাড়ির বাইরে সে থাকতে পারে না এজন্য যেদিনি মইন জানতে পারে প্রমা আজকে রাগ করে বের হয়েছে সেদিন সে ধরে নেয় রাতে তার কাজ আছে আর কাজটা হল প্রমাকে বাসায় ফেরত নিয়ে আসা । তমান তোর দিদি আজকে কার উপর রাগ করেছেরে ? তোর উপর না খালাম্মার উপর ? দুইজনের একজনের ওপর না , দেখলাম সকাল থেকে মন খারাপ ছিল অফিসের জন্য বের হবার সময় বিনা কারনেই মার সাথে লেগে গেল আর বের হবার সময় বলল আর বলে বাসায়ই ফিরবে না । মা তখন কোন পাত্তা দেইনি । তার মানে খলাম্মার সাথে ঝগরা ? আর তুই বললি কারো সাথেই না ? মইন ভাই মা তো কিছুই বলেনি দিদি নিজে থেকেই ঝগরা লাগল নিজেই চ্যাঁচামেচি করল । মইন হাত নেরে তমানের কথা বন্ধ করে দিয়ে বলল ঠিক আছে বাদদে , তোর দিদির অফিস এটাই না ? তমান মাথা নারল । অফিস পুরা পুরি বন্ধ । দারোয়ান কে জিজ্ঞেস করেও কিছু পাওয়া গেল না । মইন ভাই এখন কি করবো ? মইন চিন্তিত ভাবে বলল আমার মাথায় কিছু আসছে না । খালাম্মা প্রমার বান্ধবিদের বাসায় ফোন করেছিল ? হ্যাঁ কিন্তু দিদি তো কারো বাসাতেই নেই মইন এর চোখ গুলো ছোট হয়ে আসলো সে তমানের দিকে তাকাল এবার পুলিশের কাছে যেতে হবে । তমান ফিসফিসিয়ে বলে উঠলো পুলিশ ?
তিন চার বিল্ডিং পরের বিল্ডিং টার পানির ট্যাঙ্কি টা গাড় লাল হয়ে ওঠা সূর্যটাকে ঢাকতে মরিয়া হয়ে উঠেছে , সে সফল হলে সন্ধ্যা নামতে বড়োজোর মিনিট পাঁচেক লাগবে । মইন রেলিং এর পাশের বসার জায়গাটায় বসে ছিল পা দুটো রেলিং এ আর থুতনি টা দু হাঁটুতে গুজে সে আপন মনে মহান সূর্য আর ক্ষুদ্র , ক্ষণস্থায়ী পানির ট্যাঙ্কির লড়াই দেখছিল যেখানে সূর্যের পরাজয় নিশ্চিত , ঠিক সে সময় একটা মেয়ে মইনের পিছনে এসে দাঁড়ালো । মেয়েটা মইনের কাঁধে হাত রাখা মাত্র মইন চমকে উঠল ,ঘার ঘুরিয়ে সে দেখল তার পাসে এসে দারিয়েছে সন্ধ্যা পরী ।মইনের কাছে এই মেয়েটাকে পরী বলেই মনে হল তখন । পরির মতো মেয়েটার মাথার চুল গুলো পাতলা তবে সোজা , কেটে ঘাড় থেকে একটু নিচে নামানো কপাল টা বড়ও না ছোট না মাঝারি সেখানে হালকা ভ্রু তার নিচে ছোট কিন্ত আসম্ভব সুন্দর দুটা চোখ এই ছোট চোখ দুটোর ভিতর গভির মায়া তার সাথে মিশে রয়েছে চাঞ্চলতা , দেখলেই বোঝা যায় এই মেয়ে অতি চঞ্চল । চাঞ্চলতা আর মায়া মাখা চোখ দুটোর নিচে ছোট্ট একটা ভোতা নাক , অনেকের কাছে মনে হতে পারে ভোতা নাক বাজে কিন্তু এই মেয়ের জন্যে এর চেয়ে সুন্দর নাক আর হতে পারত না , গলাপি রঙের পাতলা ঠোঁটের কথা না বললেই না পাতলা ঠোঁট আর কড়ই বিচির মতো দাত গুল নিয়ে সে যখন হাসি দেয় তা দেখে যেকেও প্রেমে পরে যাবে তবে মেয়েটার শরীরে মাংসের বড়ই অভাব কিন্তু মইনের কাছে তাই যেন মেয়েটাকে আরও বেশি সুন্দর করে তুলে সে ভাবে চড়ুই পাখির ও তো গায়ে হাড় বেশি তবুওতো কত সুন্দর । এই মেয়েও চড়ুই পাখির মতো লাফিয়ে লাফিএ হাটে ফুড়ুৎ করে উরে যায় কারো পোষ মানেনা । মেয়েটা তার ঢেড়শ এর মতো আঙ্গুল গুলো মইনের চোখের সামনে এনে তুড়ি বাজালে ,মইন তার ঘোর থেকে বের হয়ে আসলো , কি দেখছেন এমন করে ? মইন ঘোর লাগা মানুষের মতো বলে উঠলো তোমাকে , আমাকে মেয়েটা তার মুখটাকে লাল হয়ে যাওয়ার থকে যথাসাধ্য চেষ্টা করতে করতে বলে উঠলো কি বলছেন এসব আপনি ? মইন লজ্জা পেয়ে গেল , না না আসলে তুমি হটাৎ কোড়ে এশে চোমকে দিলে তো .. ,তো কি আমি আপনাকে চমকাতে চাইনি আপনি চমকে গেলে আমার তাতে কি ? মইন আমত আমত করে বলল না তা ঠিক তোমার দোষ না দোষ টা আমারি । মেয়েটা মইনের কথা শুনে ঝঙ্কার দিয়ে বলে উঠলো কেন দোষ আপনার হবে কেন ? আমি হটাত এসে আপনার গভির ভাবনায় বেঘাত ঘটালাম তো আপানার সাভাবিক ভাবেই চমকে যাবার কথা , আমি যা বলবো তাই আপনি মেনে নিবেন নাকি ?? আপনার কি কিছু বলার নাই ?? মইন আমতো আমতো করতে থাকল , ঠিক আছে বাদ দেন আপনার খবর বলেন ,কি খবর আপনার ? মইন একটু ভয় মিশ্রিত কণ্ঠে বলল ভাললি যাচ্ছে আর বেশি দিন বাকি নেই বিসিএস এর এবার ইনশাল্লাহ হয়ে যাবে । মেয়েটা একটু কটু ভাবেি বলল এই কথা তো আপনার মুখে গত ২ বছর ধরেই শুনছি আর কয় বছর শুনতে হবে কে জানে ? আচ্ছা বলুন তো আপনি এত গাধা কেন এত ভাল একটা জব পেলেন ব্যাংকে তবুও সেটা ছেরে গত দুই বছর ধরে অল্প বেতনের সরকারি চাকরি করার জন্য বসে আছেন । মইন আপনার বয়স তো কম হল না বিয়ে সাদি কি করবেন না ? ! এই বিসিএস এর ভুত মাথা থেকে নামিয়ে চাকরি বাকরি খুজেন ছেলেদের বেশি দিন বেকার থাকতে নাই তা না হলে অভ্যাস খারাপ হয়ে যায় । মইন ব্যাথিত চোখে মেয়েটার দিকে তাকিয়ে বলল প্রমা তুমি এই কথাটা বলতে পারলা ? তুমি জান না বিসিএস ক্যাডার হওয়া আমার স্বপ্ন , তুমি আমার স্বপ্ন টাকে মেরে ফেলতে বলছ ? প্রমার গলার আওয়াজ একটু নরম হয়ে আসলো মইন ভাই এই স্বপ্নের পিছনে ছুটে আপনি জিবনের অনেক সুন্দর সময়ই গুল ঘরে বসে কাটায় দিচ্ছেন একটা স্বপ্নের জন্য হাজারো আনন্দের মুহূর্ত কে আপনি হারিয়ে ফেলছেন , কথা গুলো বলতে বলতে প্রমা মুখ ঘুরিয়ে নিল মইনের দিকে পিঠ রেখেই সে বলল মইন ভাই আমি চলি সন্ধ্যা হয়ে গেছে । মইন প্রমার চলে যাবার দিকে তাকিয়ে ছিল ছাদের দরজা দিয়ে বের হয়ে জাবার মুহুরতে প্রমা থমকে দাঁড়ালো সে ঘাড় ঘুরিয়ে মইনের চোখের দিকে তাকিয়ে চোখ টা নামিয়ে নিল মাটির দিকে তাকিয়ে সে আস্তে আস্তে বলল মইন ভাই মা আমর জন্য ছেলে খুঁজছে কথা টা শেষ হয়া মাত্র প্রমা চলে গেল । মইন শুন্য দরজার দিকে তাকিয়ে রইল আর এক চিলতে হাসি তার ঠোটের কোনে সক্রিয় ভাবে ভেসে উঠলো ।
মইন আর তমান থানা থেকে শ্লথ গতিতে বের হয়ে আসলো তারা দুজনেই প্রচণ্ড চিন্তিতার ছাপ । পুলিশ এফাইর নেইনি বরং মইন আর তমানের সাথে কথাই বলেনি ঠিক মতো । মইন আর তমান ফুটপাতে দারিয়ে আছে নিয়নের নিচে মইনের হাতের সিগারেট টা জ্বলতে জ্বলতে গরায় পৌছে গেছে যেকোনো সময় হাতে ছেকা লাগবে কিন্তু মইনের সে দিকে খায়াল নেই । তমান আমি রিকশা থিক করে দিচ্ছি তুই বাসায় চলে যা । মইন ভাই আমি যাবনা গিয়ে মাকে কি বলবো ? কত বার ফোন দিল ধরলাম না এখন দিদিকে ছাড়া যদি বাসায় যাই... । কিচ্ছু হবে না তুই চলে যা খালাম্মাকে বলিস যে আমি হাসপাতল গুলতে খোঁজ করতে যাচ্ছি আর দোয়া করতে বলিস ইনশাল্লা কিছু হবেনা ।
মইনের হাতের বায়ান্ন নাম্বার সিগারেট টা শেষ হয়ছে তার সাথে রাত গভির থেকে গভিরতর হয়েছে , প্রায় সব কয়টা হাসপাতাল দেখা শেষ কোন এমারজেন্সি তে প্রমার নাম সে পায়নি , মর্গ গুলোও খুজেছে আর প্রতিবার বের হবার সময় হাপ ছেড়েছে । এখন সে কি করবে আর খুজে পাচ্ছে , না কি করা উচিত ? কথায় পাবে সে প্রমাকে ? তেপান্ন নাম্বার সিগারেট টায় আগুন ধরাতে ধরাতে সে রাস্তা পার হচ্ছিল হটাৎ একটা তিব্র আলো তার মুখে এসে পড়লো মইন ঠোটে সিগারেট আর হাতে জ্বলন্ত দেশলাইয়ের কাঠি নিয়েই চোখ কুচকে ঘুরে দাঁড়াল আলোর দিকে সম্ভবত , আলোর উৎস কোন মইন মুখি কোন দ্রুত গামি বাস অথবা ট্রাক হবে ,এবার তার আলো সরাসরি মইনের চোখে পরলে মইনের চোখ বন্ধ হয়ে আসল ।
মইন উদ্ভ্রান্তের মতো হেটে চলেছে কোথায় খুজবে প্রমাকে ? আর একটু পরেই সূর্য উঠবে কিন্তু এখনো মইনের কাছে প্রমার কোন খোঁজ নেই । মইন অনেক্ষন যাবত হাঁটছে হটাত তার খেয়াল হোল যে রাস্তায় সে দারিয়ে আছে সে রাস্তা আর তার আশে পাশের পরিবশ মইনের একদমি অপরিচিত , মইন নিজের মনে বলে উঠল এটা আবার কোন জায়গা ঠিক সে সময় কে যেন মইনের নাম ধরে পিছন থেকে ডেকে উঠল মইন ভাই , মইন ভাই । গলার আওয়াজটা মইনের খুবি পরিচিত , প্রমা ! মইন সবিস্ময়ে তড়িৎ বেগে ঘুরে তাকাল , দেখল প্রমা তার দিকে হাসি মুখে তাকিয়ে আছে । প্রমা তু...তুমি ! তুমি একঝানে কি করছ ? তুমি জান আমি সারা রাত ধরে তোমাকে খুজচ্ছি ? প্রমা একটু কাচু মাচু করে বলল আসলে মইন ভাই আমি না রাস্তা হারিয়ে ফেলেছি । প্রমাকে খুজে পাবার আগেও মইন ভেবেছে প্রমাকে খুজে পেলে সে তাকে বকে আর আস্ত রাখবে না কিন্তু এখন অকে দেখে মইনের মায়া লাগল থাক বেচারা মেয়ে রাস্তা হারিয়ে ফেলেছে । মইন কপট রাগের ভান করে বলল ঠিক আছে যা হবার হয়ে গেছে এখন চল ফেরা যাক । মইন আর প্রমা পাশা পাশি হাঁটছে মইনের হাতের আঙ্গুলের সাথে প্রমার আঙ্গুলের ছোঁয়া লেগে লেগে হাটা ।, মইন মনে মনে ভাবছে আমিওতো রাস্তা হারিয়ে ফেলেছি তারা দুইজন কথায় আছে তা সে জানেনা । মইন আস্তে আস্তে বলল প্রমা তোমাকে একটা কথা বলবো ? প্রমা হাসি মুখে বলল বলেন, প্রমা আসলে না আমিও রাস্তা হারিয়ে ফেলেছি । প্রমা হাসি মুখে বলল আমি জানি ।
©somewhere in net ltd.