| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বিস্ময়কর ঘটনাটার শুরু আজ ভোরে। একজন অপরিচিত লোক আমার সাথে দেখা করতে আসলেন। দেখা করতে আসলেন কোথায়? শিলং-এ। আমি এখানে এসেছি স্রেফ একজন মুসাফির হয়ে। জানাশোনা কেউ নেই। তাই এখানে কেউ দেখা করতে আসবে এটা একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। যিনি দেখা করতে আসলেন তিনি কিন্তু আমার পরিচয়-অবস্থান জেনেই এসেছেন। ভদ্রলোক আমার বন্ধু অজয়ের পরিচিত। শিলং-এ উঠেছি বন্ধু অজয়েরই বন্দোবস্ত করে রাখা একটি বাংলোতে। আমার সাথেই অজয়ের শিলং আসার কথা ছিল। কিন্তু ব্যস্ততা দেখিয়ে একদিন পিছিয়ে গেল। আমার জন্য ছুটির প্রত্যেকটি দিনই গুরুত্বপূর্ণ। একটা দিনও আর আমি বাসায় বসে থাকতে ইচ্ছুক নই। অপেক্ষার সময়টা সবসময় লম্বা হয়। তাই ওর অপেক্ষায় না থেকে তল্পিতল্পা নিয়ে তাই সিলেট থেকে সীমান্ত পার হয়ে ডাউকি। ডাউকি থেকে সোজা শিলং। ভোর বেলায় দরজার নক নক শুনে ভেবে ছিলাম বাংলোর নেপালী কেয়ারটেকার নবীন থাপা চলে এসেছে। খুলে দেখলাম থাপা নয়, সাধারণ শীতের কাপড়ে মুড়িয়ে আসা একজন মধ্য বয়সী লোক দাঁড়িয়ে আছেন। প্রথম দৃষ্টিতেই লোকটির বিশাল গোঁফটা নজর কাড়ল। নাকের ডগায় বসে থাকা সরু চশমাটা চেহারার সাথে একেবারে বেমানান। গোঁফের আড়াল থেকে একটি আন্তরিক হাসি বহু কষ্টে উঁকি দিল। হাত বাড়িয়ে করমর্দন করতে করতে বললেন, “আমি সন্দীপন দাশ। আজয়ের পরিচিত। আপনাকে একটা ঘটনা শোনাবো বলব বলে দ্রুত চলে আসলাম।”
খানিক’টা অবাক হলাম বটে। কোথাকার কোন এক অপরিচিত ব্যক্তি কোন রকম একটা পরিচয় দিয়েই বলছেন একটা ঘটনা বলবেন। স্বাভাবিক কৌতুহল বশতঃ জিজ্ঞাসা করলাম, “আমাকেই কেন?”
-আমার সাথে অজয়ের বেশ পুরাতন পরিচিতি আছে। অজয়ই বলল আপানকে ঘটনাটা বলতে। আপনাকে সে কিছু বলেনি?
-অজয় বলেছিল ওর পরিচিত অনেকেই নাকি আসবে। গল্পের কথা তো...
-গল্প নয়, ঘটনা। -ভদ্রলোক আমার মুখের কথাটা একরকম কেড়েই নিলেন। তবে মুচকি হাসি দিয়ে জানাতে চাইলেন যে, ঘটনাকে “গল্প” বলাটা অপছন্দ হলেও তিনি সেটা এ যাত্রায় হালকা ভাবে নিয়েছেন। দরজাটা ছেড়ে দিয়ে ভেতরে আসতে ইশারা করলাম। ভেতরে আসতে আসতে বললেন, “অজয় বলল আসতে আসতে তার সন্ধ্যা হবে। কিন্তু আপনি চলে এসেছেন জেনে আমার আসলে তর সইছিল না। আর ঘটনাটি সবার সামনে বলতেও চাইছি না। ওর সব বন্ধুরা আসবে তো...। ওরা ঘটনাটা জানে। আবার শুনাতে গেলে গোলমাল পাকিয়ে দিবে।”
“বেশ করেছেন। আমারও বেশ একা একা লাগছিল। আচ্ছা, তবে আপনার ঘটনাটা শুরু করুন। আমি কিন্তু কম্বলের নীচ থেকে উঠতে পারছি না। কিছু মনে করবেন না।”
“না না। ওতে মনে করার কী আছে?”- ভদ্রলোক বিছানার পাশের আরাম কেদারাটা টেনে নিয়ে বসে পড়লেন আর আমি কম্বলের নীচে নিজেকে ঢুকিয়ে নিলাম।
“আমি বরং শুরু করি।”-বলেই ভদ্রলোক শুরু করলেন, ঘটনার শুরুর জায়গায় খানিক’টা ভূমিকার প্রয়োজন আছে। মুম্বাই শহরের বাইরের দিকে আমার ভাড়া করা বাসার নীচ তলায় আগের ডিসপেন্সারিটা ছিল। এখন অবশ্য আমি ওখানে থাকি না। তো ডিসপেন্সারির পাশে একটা কাঠের দোকান ছিল। আমার দূর সম্পর্কের এক আত্মীয়ের ছেলে দোকানটা ভাড়া নিয়েছিল। ছেলেটির নাম মনোজ। বেশিদিন টেকেনি তার ব্যবসা। সব গুটিয়ে চলে গিয়েছিল। তবে এই অল্প দিনেই ওর সাথে আমার সখ্যতা হয়ে গেল। ব্যবসা গুটিয়ে নিলেও মাঝে মধ্যে আসতো আমার ওখানে। আমি হোমিওপ্যাথির পাশাপাশি মাঝে মধ্যে জ্যোতিষ শাস্ত্রও চর্চা করি আরকি। আমার দাদা ছিলেন পাক্কা জ্যোতিষী, আমার বাবাও। উত্তরাধিকারে সূত্রে বলতে গেলে আমি সামান্য একটু জ্যোতিষী গন্ধ পেয়েছি। পূর্বপুরুষের স্মৃতি আকড়ে রাখার ব্যর্থ চেষ্টা বলতে পারেন। তো মনোজের এটা নিয়ে এলার্জি ছিল, তারা নিকট এটা স্রেফ ভাঁওতা বাজি। এই ব্যাপারে আমাকে নিয়ে হর হামেশাই ঠাট্টা করত। পূর্বপুরুষের সম্মানের উপর আঘাত হলেও আমিও সেটা সহ্য করে নিতাম, ঠাট্টাকে ঠাট্টা হিসেবেই নিতাম। মাঝে মধ্যে অবশ্য তাকে বলতাম, “একদিন কোন কুল না পেয়ে আমার দারস্ত হবি।” শুনে হেঁসে উড়িয়ে দিয়ে বলত যে, সেদিন সূর্য কোন দিকে উঠেছে সেটা যেন দেখে নেই।
একদিন হল কী...মনোজ আমার ওখানে এসে উশখুশ করতে লাগলো। নানান ধরণের কথাবার্তা বলে যেতে লাগলো। ওর আচরণটা কিছুটা অন্যরকম মনে হচ্ছিল। তারপর হঠাৎ বলল, “সন্দীপ বাবু, আমাকে আপনার ঐ ইচ্ছে পূরণের আংটিটা দেন।” মশকরা করছে কি না চেহারা দেখে বুঝতে চাইলাম। মশকরা করছে বলে মনে হল না। জিজ্ঞাসা করলাম “আজ সূর্য কোন দিকে উঠেছে রে মনোজ?” ভীষণ বিরক্ত হয়েছে বলে মনে হল। বলল “আমার জন্য চাই না। আমার এক বন্ধু আছে, উত্তম। সে নাকি কোনদিন স্বপ্ন-টপ্ন দেখেনি। মানে আমরা যে ঘুমে স্বপ্ন দেখি সেটা সে কখনো দেখেনি। তার বড্ড ইচ্ছে সে স্বপ্ন দেখবে। সাইক্রিয়াট্রিস্ট দেখিয়েছে, কবিরাজ দেখিয়েছে, পীর-ফকির-ইমাম কেউ বাদ যায়নি। কিন্তু ফলাফল শূন্য। এখন আপনার পালা।”
জিজ্ঞাসা করলাম, “আমার খোঁজ কে দিল? তুই?”
বলল “খোঁজ দিতে চাইনি। অনেক আগে কথায় কথায় বলে ফেলেছিলাম আমার দোকানের পাশের হোমিও ডাক্তার জ্যোতিষী। এখন তো ফেঁসে গেছি। আমার কান ঝালাপালা করে দিল।”
জিজ্ঞাসা করলাম, “তা ইচ্ছে পূরণের আংটি নিতে চাইছিস যে...? একটা কিছু নিয়ে ওকে দিলে তো পারতিস। তোর তো আবার এসবে বিশ্বাস নেই।”
আত্মসমর্পনের ভঙ্গিতে দু হাত খাড়া করে সে বলল “আচ্ছা বাপু হার মানলাম। বিশ্বাস কিছুটা করতে হচ্ছে কারণ খোঁজ পেয়েছি ঐ আংটি নিয়ে কেউ কেউ ফল পেয়েছে।”
যাই হোক, আংটিটা ওকে না দিয়ে বললাম ছেলেটিকে নিয়ে যেন নিয়ে আসে।
এত টুক বলে ভদ্রলোক পুটলি থেকে বোতল বের করে এক ঢোক পানি গিললেন। খেয়াল করলাম, পুটলিতে মদের বোতলের মত কিছু আছে। অবশ্য হোমিওপ্যাথিরও ওষুধ হতে পারে। জিজ্ঞাসা করতে গিয়েও করলাম না। পানি পানের পর বললেন, “এত ক্ষণ যা বললাম তা হল ভূমিকা। আসল ঘটনার শুরু এখন। কিছুদিন পর মনোজ ফোন দিয়ে আমাকে জানাল ছেলে টিকে নিয়ে আসবে।” বললাম, “আজ তো শুক্রবার। আজ আর কাল একটু কাজ আছে। তুই এক কাজ কর, ওকে রবিবার নিয়ে আয়।”
কিন্তু পর দিনই মানে শনিবারে মনোজ ছেলেটিকে নিয়ে চলে এল। আমি একটু অবাক হলাম তাদের দেখে। সেদিন একটু ব্যস্ত ছিলাম। বললাম,“একদিন আগেই চলে আসবি ভালো কথা। ফোন দিয়ে অন্তত আসতিস। আগে ভাগেই কাজ গুছিয়ে নিতাম।”
আমার কথা শোনে মনোজ এমন একটা ভঙ্গি করল যেন সে আকাশ থেকে পড়েছে। বলল, “আমি তো আপনাকে ফোন দিচ্ছিলাম। লাগছিলই না।”
ব্যাপারটা ভালো লাগলো না। হাজার হোক আমি ওর চেয়ে বয়সে অনেক বড়। মজা করার একটা সীমা তো থাকা উচিত। বললাম, “গতকাল না কথা হয়েছিল? রবিবারে আসার কথাই তো বলেছি।”
ও বলল, “কী বলেন? কথা হয়েছে মানে! আমি আপনাকে ফোন দিয়েছি গতকাল। আপনার ফোন তো বন্ধ ছিল। আমার তরফ থেকে ভুল কিছু হচ্ছে না। আমি আপনার সাথে ফোনে কথা বলিনি। আপনি আবার স্বপ্ন দেখে বসেন নি তো?”
মানোজের এই প্রশ্নটা আমাকে ভাবাল। কারণ স্বপ্ন নিয়ে সমস্যা আমারও আছে। একটা উদাহরণ দেই। একবার রাতে মনোজ আমার বাসায়ই ছিল। ঐ রাতে আমি স্বপ্নে দেখেছিলাম কী কারণে যেন তাকে অনেক বকেছি। সকালে উঠে তার কাছে ক্ষমা চাইতে গেলাম। সে তো আমার কথা শুনে অবাক। পরে ওর সাহায্যে আবিষ্কার করলাম যে, ওকে সত্যি সত্যি বকিনি। তখন আসলে স্বপ্ন দেখেছিলাম।
যা হোক আপাতত আমি এবং তারা এই নিয়ে কথা বিনিময় বন্ধ করলাম। লৌক্ষ্ণোউ থেকে আনা দাদার একটা নীল পাথরের আংটি মনোজের বন্ধু উত্তম-কে দিলাম। দাদাকে তার কোন এক উস্তাদ উপহার দিয়েছিলেন। পাথরের আংটিটি কোন নির্দিষ্ট সমস্যার নয়। বাবা বলেছিলেন, মানুষ যখন আকুল ভাবে কিছু চায় তখনই এটা ব্যবহারে নাকি ফল আসে। তবে হিতে বিপরীত হতেও পারে। বাবা বলতেন এটা আলাদিনের আংটি। তবে তিনি এই আংটিটি নিজে ব্যবহার করতেন বলে মনে হত না। আমি নিজেও করি না। করি না বলার চেয়ে বলা ভালো আমি এটা থেকে ফল পাইনি। ফল পাওয়া না পাওয়াটা সম্ভবতঃ রাশির উপর নির্ভর করে। এমনি তে পাথরটা কীসের, বস্তুগত মূল্য কত-সেটা কখনো পরীক্ষা করে দেখিনি। আসলে পারিবারিক সম্পদ, বিক্রয়ের জন্য নহে-বলে আগ্রহ জন্মায়নি। তবে একেবারে নিজের কাছে আগলে রেখেছি তাও না। পরিচিত মানুষ হলে কিছুদিনের জন্য দেই। কাজ শেষ হলে লোকে ফিরিয়ে দেয়। কেউ ফল পায়, কেউ পায়না। তবে ফল পাওয়ার পর যারা বেশী লোভ করতে গেছে তাদের পরিণতি খুবই খারাপ হয়েছে। সে অন্য কথা, আসল ঘটনায় ফিরি।
উত্তমকে আংটি দেয়ার পর দিন মানে রবিবার আমি ডিসপেন্সারিতে ছিলাম না। উপরের ঘরে বসে পত্রিকা পড়ছিলাম। আমাকে ডিসপেন্সারিতে না পেয়ে ওরা উপরে চলে আসলো। ওদের দেখেই জানতে চাইলাম যে, কাজ হয়েছে কি না। মানোজ পাল্টা প্রশ্ন করে বসল,“কীসের কাজ?”
বললাম, “কেন গতকাল না পাথরের আংটিটা নিলে?”
দেখলাম দুজনে মুখ দেখাদেখি করছে। যেন আকাশ নয়, সোজা মহাকাশ থেকে পড়েছে। তারপর মনোজ জিজ্ঞাসা করল,“কিসের আংটি? আজকে না আপনার আংটি দেওয়ার কথা?”
আমি সত্যিই বুঝতে পারছিলাম না তাদের কী বলব। রাগ হচ্ছিল,প্রচণ্ড রাগ হচ্ছিল। কোন মতে রাগ সামলে বললাম, “গতকাল না দুজন এসেছিলে? আমি তো উত্তম-কে আংটিটা দিয়ে দিলাম।”
উত্তম বলল, “আংকেল আমি তো আজই প্রথম এলাম। আপনার সাথে আগে কখনো দেখা...”
এটা বলতেই মনোজ ওকে থামিয়ে দিল। তারপর বলল যে, সে আমাকে শুক্রবারে ফোন দিয়েছিল এবং আমি তাকে আজ মানে রবিবারে আসতে বলেছিলাম। বুঝুন? মেজাজ ধরে রাখা সম্ভব ঐ সময়? শুক্রবার ফোনে তাদের আসতে বলেছিলাম সত্য কিন্তু তারা সেটা গতকাল মানতে নারাজ ছিল।
এত কিছুর পরও মেজাজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারাইনি। বললাম, আজ তোমাদের আসার কথা ছিল। কিন্তু তোমরা গতকাল এসে আমাকে অবাক করে দিয়েছিলে। আংটিটা আমি গতকাল দিয়ে দিয়েছি।
তখন মনোজ নিচু কন্ঠে জানতে চাইল যে, আমি মজা করছি কি না।
প্রায় চিৎকার করে বললাম, মোটেই না।
এরপর আমার পাথর, আংটি, রক্ষা কবজ ইত্যাদি রাখার বাক্সটি হাতে নিয়ে বললাম, “এখানে আংটিটা ছিল। বুঝলে?” খুলে দেখাতে গিয়েই চমকে উঠলাম। আংটিটি বাক্সতেই আছে, কিন্তু উপরের দিকে! আমি ওটা ভেতরের দিকেই রাখি। যারপরনাই অবাক হলাম। দুজনের নিকট ক্ষমা চেয়ে আংটিটি দিয়ে দিলাম।
কিন্তু তারা চলে যাওয়ার বেশ খানিক্ষণ পরে স্মরণ হল রাতে মানে রবিবার দিবাগত রাতে আমি একটা খারাপ স্বপ্ন দেখেছিলাম। বোবায় ধরার মত ব্যাপার। এসব প্যরানরমাল বিষয়াদির জন্য একটা রক্ষা কবজ ছিল। বাক্স থেকে যখন ওটা বের করেছিলাম তখন আংটিটা ছিল না। বাক্সের উপরের দিকে থাকলে ওটা চোখে পড়তোই। অথচ বাক্সটা আমার সাথেই থাকে। ডিসপেন্সারিতে নামার সময় নিয়ে যাই, ঘরে আসার সময় সাথে করে নিয়ে আসি। কিছুই মেলাতে পারছিলাম না। মনকে বুঝালাম যে, স্বপ্ন বিভ্রাট ঘটেছে।
এরপর বেশ কিছু দিন চলে গেল মনোজের কোন খবর নেই। দোকান নেই, এদিকে আসার কথাও না। তবে আংটিটার ব্যপারে জানাতে পারত। ওর বন্ধুটা স্বপ্ন দেখা শুরু হল কিনা। যদিও তখন আমার বিশ্বাস ছিল ছেলেটি স্বপ্ন দেখে সত্যি, কিন্তু মনে রাখতে পারেনা। যাহোক, বারবার নিজ থেকে ফোন করতে গিয়েও করা হচ্ছিল না বিভিন্ন কারণে। এর মধ্যে ডিসপেন্সারির জন্য নতুন জায়গা নিলাম, শহরের বাইরে দিকে হওয়ায় ওখানটায় আসলে মানুষজন কম আসে। সব জিনিসপত্র গুছাতে গিয়ে আমার পাথর-আংটি রাখার বাক্সটার দিকে খেয়াল হল। কী ভেবে ওটা একবার খুললাম। বিস্ময়কর ব্যাপার হল যে, আংটিটা তখনও ওখানেই ছিল! এবং এবারও উপরের দিকে! অথচ আমার স্পষ্ট মনে পড়ছে আংটিটা ওদের দিয়ে দিয়েছি এবং ওরা এখনও ওটা ফেরত দিতে আসেনি।
এবার আর দেরি না করে মনোজকে ফোন দিলাম।
জিজ্ঞাসা করলাম, শেষ কবে আমার ডিসপেন্সারিতে এসেছিলি?
বলল, সে তো মাস দুয়েক আগে। কেন?
আমার অনুমান মতে বড়জোর দু সপ্তাহ হবে। ধরে নিলাম আরও দু সপ্তাহ। মানে এক মাস। কিন্তু কখনোই দু মাস হওয়ার নয়।
জিজ্ঞাসা করলাম, কাউকে সাথে নিয়ে এসেছিলি?
অস্বীকার করল। বলল একাই এসেছে।
আমি আবারও ধরে নিলাম যে, আমি বিভ্রান্ত হয়েছি। আমার স্বপ্ন বিভ্রাট হয়েছে বা স্মৃতি প্রতারণা করছে। কিন্তু বেশ কদিন যাবত মনে হচ্ছে, আসলে হয়ত অন্য কিছু ঘটেছিল।
এতটুক বলে আবার সন্দীপ সাহেব আবার পানি গিলে জিজ্ঞাসা করলেন, আপনি কী আমার কথা মন দিয়ে শুনছেন?
বললাম, হ্যাঁ।
“না মানে ঘটনাটা এত জনকে বললাম কিন্তু কেউ এত নিশ্চুপ ভাবে কেউ শোনে নি। সকলে মাঝখানে অনেকবার থামিয়ে প্রশ্ন করেছে।”
“আমার কাছে ঘটনাটা ইন্টারেস্টিং মনে হচ্ছে। প্রশ্ন করলে গ্যাপ সৃষ্টি হবে, আপনার প্রেজেন্টেশন বাধাগ্রস্থ হবে। সত্যি বলতে, আপনি যে এই গ্যাপ দিচ্ছেন সেটা ভালো লাগছে না। আমি ঘটনায় ডুবে গিয়েছিলাম।”
ভদ্রলোক আমার কথায় মনে হয় খুশি হলেন। তবে মিথ্যে বলিনি। নতুন উৎসাহে নড়ে চড়ে একটু ঝুঁকে বসলেন। ফের শুরু করলেন,
“কদিন যাবত সন্দেহ হচ্ছে, স্বপ্ন বিভ্রাট বা স্মৃতি প্রতারণা নয়, আসলে হয়ত অন্য কিছু একটা ঘটেছিল। আপনি বাদে সকলেই প্রশ্ন করেছে, কেন এমনটা মনে হচ্ছে? মনে হচ্ছে কারণ, গত এক-দেড় বছরে মনোজের ব্যবসাটা অসম্ভব বড় হয়ে গেছে। যে ছেলে কিনা সামান্য কাঠের ব্যবসা দাঁড় করাতে পারল না তার এখন প্রায় এক ডজন আসবাবপত্রের শো রুম! আমার বিশ্বাস, আংটিটা থেকে সে অবশ্যই ফায়দা নিয়েছে। মনোজের ইচ্ছে ছিল দেশ জুড়ে তার আসবাব পত্রের ব্যবসা ছড়িয়ে পড়বে। কিন্তু আমি যতটুকু জানি ইচ্ছে পূরণের জন্য আংটিটা পরে থাকতে হবে। কিন্তু আংটি তো আমার কাছে। সে নিশ্চয় কোন কৌশলে এটা ব্যবহার করছে।” থেমে গিয়ে আবার হেলান দিয়ে বললেন, “আমার ঘটনা এটুকু। এখন নিশ্চয়ই কিছু জিজ্ঞাসা করবেন।”
আমি ভেবে ছিলাম ঘটনার বাকি আছে অনেকখানি। তাছাড়া শেষ অংশটা একটু অপ্রত্যাশিতও বটে। তবে মনে হচ্ছে ঘটনাটা আবার শোনা দরকার। কিছু একটা গোলমাল তো আছেই। ভদ্রলোককে আবার ঘটনাটি বলতে অনুরোধ করলাম। তাতে উনাকে বিরক্ত মনে হল না। তিনি গড়গড় করে আবার বলে গেলেন।
দ্বিতীয় বার শোনার পর কিছুক্ষণ ভেবে জিজ্ঞাসা করলাম,
“আংটিটা সম্পর্কে মনোজ জানতো সেটা স্পষ্ট। কিন্তু ওটা কোথায় রাখেন সেটা কি জানতো?”
ভদ্রলোক কিছুক্ষণ ভবে বললেন, নাহ।
“আপনি বলছেন ওরা ফোন দিয়েছিল শুক্রবারে। আসার কথা ছিল রবিবারে। চলে এসেছিল শনিবারে, আংটি সেদিন হ্যান্ডওভার হয়েছিল। কিন্তু রবিবারে যা ঘটার কথা ছিল তা ঠিকই ঘটল। কারণ আংটির বাক্সে আংটি ছিল। শনিবারের আংটি দেওয়ার ব্যাপারটা’কে ধরে নেওয়া যায় স্বপ্ন হিসেবে। সে অর্থে রবিবারের ঘটনা বাস্তব। কিন্তু আগের রাতে মানে রবিবার দিবাগত রাতে আপনি আংটিটি বাক্সে দেখেন নি। কিন্তু দিনে দেখলেন সেটা আছে এবং বাক্সের উপরের দিকে। সচরাচর সেটা নীচের দিকে থাকে। তাই যে রাতে আপনাকে বোবায় ধরেছিল মানে রবিবার দিবাগত রাত বিষয়টাকে জটিল করে তুলেছে। এবং রবিবারে যা ঘটেছিল তা যে বাস্তব তাতে সন্দেহ সৃষ্টি হচ্ছে।”
“হুম”
“আবার সর্বশেষ ফোনালাপে মনোজ বলল সে নিকট অতীতে আসেইনি। কিন্তু উত্তম?”
“জিজ্ঞাসা করেছিলাম। বলল এরকম কাউকেই সে চিনে না।”
“যাই হোক, তৃতীয় বার আংটির বাক্স খুলে দেখলেন মনোজের কথার সত্যতার পাল্লা ভারি। কারণ তারা যদি সত্যি সত্যি শনি বা রবিবারে বা যেকোন দিন আসত তাহলে আংটিটা ওদের কারো একজনের নিকট থাকার কথা। আবার আপনার দৃঢ় বিশ্বাস যে, আংটির সাথে মনোজের অস্বাভাবিক দ্রুত আর্থিক বা ব্যবসায়িক উন্নতির একটা সম্পর্ক আছে।”
“হ্যাঁ। কিন্তু আপনার কী মনে হয়?”
“এক থেকে দেড় বছর। সময়টা খুবই অল্প। একটি আংটির কাছে ইচ্ছে প্রকাশ করে হয়ত ছোটখাট ইচ্ছে পূরণ হতে পারে কিন্তু এত বড়...! আচ্ছা ব্যবসায় পার্টনারশিপ নেই তো?”
“নাহ। থাকলে ওর নিজের বাবার নামে কোম্পানি হত না। ব্যাংক ঋণও নয়। বন্ধক রাখার মত সম্পত্তি ছিল না।”
“যদি তাই হয় তবে আংটির নিকট সে কিছু উইশ করেনি।”
“আপনি বলছেন তার এই উন্নতির পেছনে আংটিটি নেই?”
“সেটা তো বলিনি।”
“তাহলে?”
“দেখুন আমি হয়ত বুঝতে পারছি আসলে কী ঘটেছিল কিন্তু আমি আসলে একটা জিনিস মেলাতে পারছিনা।”
“কী সেটা?”
“সময়। শনিবার এবং রবিবার বড্ড তাড়াতাড়ি হয়ে যাচ্ছে। রবিবার কিছুই ঘটে নি।–এমনটি হওয়ার সম্ভাব্যতা আছে কি না?”
“কিছুই ঘটে নি মানে কী?”
“দেখুন রবিবার দিবাগত রাতে আংটি বাক্সে ছিলনা কিন্তু দিনে ছিল। এটা হতেই পারেনা। আগের রাতে আংটি বাক্সে না থাকলে সেটা দিনেও থাকার কথা নয়। যদি না বাক্সটি আপনার নাগাল থেকে দূরে থাকে। কিন্তু রাতে তো বাক্সটি আপনার ঘরেই ছিল। সেসময় যদি বাক্সে আংটিটা না থাকে তবে সকালে যখন তারা দুজন এসেছিল তখনও আংটিটা ওখানে থাকার কথা নয়।”
“স্ট্রং লজিক।”-বলে ভদ্রলোক বেশ কিছুক্ষণ দাঁত দিয়ে ঠোঁট কামড়াতে থাকলেন। তারপর হঠাৎ তুড়ি বাজালেন। উচ্ছ্বসিত গলায় বললেন, “বিশ্বনাথ আনন্দ কোনদিন মেগনাস কার্লসনের নিকট হেরেছিলেন?-বের করুন তো।”
“মানে?-আমার অভিব্যক্তিতে ভদ্রলোক একটু অবাক হলেন।”
“বিশ্বনাথ আনন্দকে চিনলেন না? ভারতের বিখ্যাত দাবাড়ু। তিনি কবে কার্লসনের কাছে হেরেছিলেন একটু বের করুন তো।”
দ্রুত সেলফোনটা হাতে নিলাম। ইন্টারনেট ঘেটে দেখা গেল বিশ্বনাথ হেরেছিলেন ২৩ নভেম্বর ২০১৪ সালে। দিনটি রবিবার। রবিবার দেখে আমি একটু হতাশ হতে না হতেই সন্দীপ সাহেব বললেন, “আপনিই ঠিক। রবিবার দিনে কিছু ঘটে নি। খবরটা খবরের কাগজে পড়ছিলাম মানে সোমবারের কাগজে। ঐ সময়েই ওরা আমার ঘরে এসেছিল। আশ্চর্য! এই ব্যাপারটি আড়ালে থেকে গেল! তাহলে রবিবার দিন কী হল?”
“আপনি সেদিন মদ্যপ ছিলেন?” –প্রশ্নটা করতে গিয়ে তার পুটলিটার দিকে তাকালাম। আমার এই প্রশ্নে তাকে কিছুটা অপ্রস্তুত মনে হল।
“হ্যাঁ। শনিবার সন্ধ্যার পর একটু আধটু হয়। একা মানুষ তো...। তবে একটা বিষয় কনফেস করা উচিত মনে হচ্ছে। ঐ রাতে বোবায় ধরার পর ভয়টা পাওয়ায় আর ঘুম আসছিল না। তাই আরও কয়েক প্যাগ নিয়েছিলাম। তবে সেদিন তো সোমবার ছিল।”
“সোমবার বলেই সব মিলে যাচ্ছে সন্দীপ সাহেব। মদ্যপানের পর তো আপনার স্মৃতি ভ্রম হয়। আপনি স্বপ্নে একবার মনোজকে বকেছিলেন। মনোজ সেদিন আপনার ওখানে ছিল। সেদিন ও নিশ্চয় মদ্যপানের জন্য আপানর ওখানে এসেছিল।”
মাথা নিচু করে স্বীকারোক্তি করে গেলেন সন্দীপ বাবু। এরপর কিঞ্চিত অধৈর্য ভঙ্গিতে বললেন, “কিন্তু এসবের সাথে আমার বলা ঘটনার সম্পর্ক কত টুকু? আমি জানতে চাই কী করে মনোজের এত উন্নতি?”
যথেষ্ট হেঁয়ালিতে ভদ্রলোকের ধৈর্য টুটে গেছে। বললাম,
“বলছি...তবে আগেই বলে রাখা ভালো যা বলব তা সবটা সত্যি নাও হতে পারে। আপনার স্মৃতি ভ্রম আছে, স্বপ্ন বিভ্রাটও আছে বলেছেন। হয়ত এমন কিছু স্কিপ করে গেছেন যেটা পুরো ব্যাখ্যা পাল্টে দিতে পারে। তবে যা বলেছেন তা যদি সত্যি ঘটে থাকে তাতে ব্যাপারটা একটা ব্যাখ্যা দাঁড় করান যায়। আমার মনে হয় আংটিটার বস্তুগত মূল্য অনেক। এবং মনোজ এটা বিক্রি করে তার ব্যবসার পুঁজি সংগ্রহ করেছে। আপনার নিকট যে আংটিটা আছে সেটা নকল।”
ভদ্রলোক এবার কিছু বললেন না। কেবল হা করে থাকলেন। বললাম,
“আমার মনে হচ্ছে শনিবারেই আংটিটা নিজ হাতে তুলে দিয়েছেন, বাস্তবেই। রবিবারে কিছু ঘটে নি কিংবা তারা হয়ত রবিবারেও ডিসপেন্সারিতে এসেছিল এবং নকল আংটিটা রেখে দিয়েছিল। কিন্তু গোটা রবিবার আপনি মদ্যপ অবস্থায় অন্য জগতে ছিলেন। আবার হতেও পারে তারা রবিবারে এসেছিল, আপনিও হয়ত মাতাল অবস্থায় দরজা খুলে দিয়েছেন। কিন্তু মনোজের তো আপনার নাড়ি নক্ষত্র সব জানা। সে বুঝে গিয়েছিল আপনি আর আপনার মধ্যে নেই। তারা আংটি বাক্সে রেখে দিল কিন্তু উপরের দিকে, যথা স্থানে নয়। কারণ তারা কেবল জানে আংটি বাক্সে থাকে। কিন্তু বাক্সের নীচের অংশে থাকে এটা সম্ভবতঃ শুধু আপনারই জানার কথা।”
ভদ্রলোক হ্যাঁ সূচক মাথা নড়ালেন।
“যাই হোক, রবিবার অতিমাত্রায় মাতাল হয়ে সারাটা দিন আপনি কি করেছেন, কিংবা তারা এসেছিল কি না-সেসব আপনার মনে নেই। এককথায় রবিবার দিন আপনার মেমোরিতে জায়গা করে নিতে পারল না। তাই সোমবারই হয়ে গেল আপনার জন্য রবিবার। বিশ্বনাথ আনন্দের খবরও সেটা প্রমাণ করছে। এজন্যই বলেছি সোমবার সব মিলিয়ে দিচ্ছে। খুব সম্ভবতঃ, নেশার রেশটা সোমবার সকাল পর্যন্ত ছিল। সোমবারের দিনে যখন আপনি তাদের বললেন যে, আংটিটা তারা গতকাল নিয়ে গেছে তখন মনোজ সহজেই বুঝে যায় আপনি রবিবারে পড়ে আছেন। এই সুযোগে আপনাকে আরও বিভ্রান্ত বলল, আপনি হয়ত স্বপ্ন বিভ্রাটে পড়েছেন। আপনিও সেটা বিশ্বাস করতে বাধ্য, কারণ আংটি তো আপনার বাক্সে। এবং আপনার অজ্ঞাতে আপনার বাক্সে নকল আংটি ঢুকে যাওয়ার ব্যাপারটা তখন আপনার কল্পনারও বাইরে। আপনি সোমবার দিনে আংটিটা আবার দিয়ে দিলেন। তারা একাধিকবার আপনার কাছে আসার আয়োজন করেছিল আপনাকে ধাঁধায় ফেলে দেওয়ার জন্য। কিন্তু প্রশ্ন হল, এখন যে সম্ভব্য নকল আংটিটা আপনার কাছে আছে সেটা আবার কীভাবে এবং কবে আপনার বাক্সে ঢুকল? কারণ আপনার বর্ণনায় সোমবারের পর তো আপনার এখানে তাদের আসার কথা শুনিনি। এসেছিল কি?
ভদ্রলোক স্মিত হেঁসে বললেন, “এই ঘটনার সাথে আরেকটি ঘটনার যোগ সূত্র আছে সেটা এখন টের পেলাম মশাই। এই ঘটনার কিছুদিন পরের...নাহ, হয়ত পরের দিনেরই ঘটনা। মন্দিরে গিয়েছিলাম। এসে দেখি ঘরের তালাটা ভাঙ্গা, কিন্তু কিছু খোয়া যায়নি।”
“যাক মিলে গেল। তাদের প্রাথমিক পরিকল্পনা কেমন ছিল জানিনা। তবে মদ্যপানে মাতাল হয়ে আপনি তাদের কাজটা সহজ করে দিয়েছেন, আপনার দিকটা জটিল করে ফেলেছেন। তবে গোটা ব্যাপারটা সম্পর্কে নিশ্চিত হতে হলে আপনাকে জানতে হবে আপনার আংটিটি আসল নাকি...” --আমি কথাটা শেষ করতে না করতেই ভদ্রলোক ধপ করে উঠে গেলেন। এরপরই যেন তিনি ধীরে ধীরে যেন গায়েব হয়ে যেতে থাকলেন। আকষ্যাৎ এমন দৃশ্যে চমকে গেলাম। ভয় পেয়ে দ্রুত মাথা তুলতেই ভুল ভাঙল। বিছানার পাশে কোন আরাম কেদারা নেই। মাত্র ভোর হয়েছে, এখনো অন্ধকার। নবীন থাপা দাঁড়িয়ে আছে সামনে। অনর্গল “সাহেব...সাহেব” বলা বন্ধ করে হিন্দিতে বলল, আপনার কথা মত ওয়াশরুমে গরম পানি রেখে দিয়েছি।
যা যা স্বপ্নে দেখলাম তার সব দ্রুত টাইপ করে নিলাম প্রায় সাথে সাথেই। এত পরিপাটী স্বপ্ন জীবনেও দেখিনি। এখনও বিশ্বাস হতে চাইছেনা যে এত ক্ষণ যা দেখেছি তা আসলেই স্বপ্ন। তবে যাই হোক না কেন- লিখার মত একটি গল্প পেয়ে গেলাম মুফতে। সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গল্প লিখেই সময়টা কাটিয়ে দিলাম। সন্ধ্যার দিকে নির্জন বাংলোটা লোকে লোকারণ্য হয়ে গেল। অজয় এসে গেছে, সাথে তার এখানকার সব বন্ধুরাও। ওদের সাথে নতুন পরিচিত হয়েছি বলে আমার মধ্যে একটু জড়তা কাজ করছে। আড্ডায় বসে থাকলেও কেবল তাদের কথা-কৌতুক শোনে যাচ্ছিলাম। এমন সময় একজন নব্য আগন্তুক ফটিকে প্রবেশ করলেন। সবার অভিব্যক্তি দেখে মনে হচ্ছিল লোকটির সাথে সকলেই আরও একজনকে প্রত্যাশা করছিল।
“সন্দীপ বাবু আসেনি?”-অজয় জিজ্ঞাসা করল। সন্দীপ নামে আসলেই তবে কেউ আছে! নকি অন্য কোন সন্দীপ? বিরাট গোঁফের সন্দীপন দাশ নাকি অন্য কেউ? জানার আগ্রহ জন্মাতেই আগন্তুক বলতে শুরু করলেন,
“ওর পাগলামি আজ নতুন মাত্রা পেয়েছে। রাতে ও আমার কক্ষে শুয়েছিল। আজ তো ঘুমের মধ্যে বিড়বিড় করে তার আংটি কাহিনী জপছিল। ঘুম থেকে উঠেই আংটিটা এমন ভাবে দেখছিল যে...কী বলব! এখন মুম্বাইয়ে ফিরে যাচ্ছে তার আংটিটার বয়স যাচাই করতে।”
আমার অন্যান্য গল্প :
সহপাপী
ডাব্বু ও এলিয়েনের গল্প
একজন ফজর আলি
©somewhere in net ltd.