| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
বাংলাদেশ ২০০২ সালে দেশে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়। ২০১১ সালের ১ জানুয়ারি প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করে ইতালি। অথচ তারা ছিল পৃথিবীর সর্বাধিক প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহারকারী দেশ। প্লাস্টিক ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ করা দেশের মধ্যে আছে ব্রাজিল, ভুটান, চীন, কেনিয়া, র“য়ান্ডা, সোমালিয়া, তাইওয়ান, তানজানিয়া, অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ইত্যাদি। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের বিভিন্ন রাজ্যে এখন প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধ। এ তালিকা প্রতিবছরই বাড়ছে। ২০১৫ সাল নাগাদ পুরো ইউরোপে প্লাস্টিক ব্যাগ নিষিদ্ধ হবে। ওয়ালমার্ট, টেসকোর মতো বৃহৎ চেইন শপগুলো পাটের ব্যাগ ব্যবহারে আগ্রহ দেখাচ্ছে। বিখ্যাত চেইন শপ টেসকোর প্রতিমাসে এক মিলিয়ন প্রাকৃতিক আঁশের তৈরি ব্যাগের প্রয়োজন। এ ব্যাগ তারা প্রধানত ভারত থেকে আমদানি করে। ধারণা করা হয়, বর্তমানে সারা পৃথিবীতে প্রায় ৫শ বিলিয়ন থেকে ১ ট্রিলিয়ন পাটের ব্যাগের চাহিদা রয়েছে। এ ঘটনাকে বাংলাদেশের মতো পাট উৎপাদনকারী দেশের জন্য অত্যন্ত সম্ভাবনাময় বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। দ্র“ত কার্যকর ও সমšি^ত পদক্ষেপ নিলে এ বিপুল বাজারকে ধরা সম্ভব বলে মনে করছেন তারা। এতে দেশের অর্থনীতি লাভবান হবে ও নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হবে বলে মনে করছেন তারা।
পরিবেশের ওপর প্লাস্টিক ব্যাগের ক্ষতিকর প্রভাব এখন সবারই জানা। ২০০২ সালে দেশে পলিথিন ব্যাগ ব্যবহার নিষিদ্ধ হয়। এর বিপরীতে পরিবেশসম্মত পাটের ব্যাগ ব্যবহার করার কথা হয়েছিল। কিন্তু বাজার থেকে পলিথিন ব্যাগ যেমন পুরোপুরি উঠে যায়নি, তেমনি জনপ্রিয় হয়নি পাটের ব্যাগ। এ জন্য সরকারি উদ্যোগের ঘাটতিকেই দায়ী করছেন সংশ্লিষ্টরা। ২০১০ সালের সেপ্টেম্বরে পণ্যে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক আইন-২০১০ গেজেট আকারে প্রকাশিত হয়। আইনে সরকারি-বেসরকারি সব প্রতিষ্ঠানের উৎপাদিত পণ্যের মোড়ক হিসেবে ৭৫ শতাংশ পাট আছে এমন উপাদান দিয়ে তৈরি মোড়ক ব্যবহারের বিধান রাখা হয়। পাট মন্ত্রণালয় থেকে সে সময় বলা হয়েছিল, প্রাথমিকভাবে খাদ্যপণ্য (চাল, গম, চিনি), সার ও বীজের মোড়ক হিসেবে পাটজাত ব্যাগের ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে। আইনটির বাস্তবায়ন এখনো তেমন একটা হয়নি। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ ও বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃক যৌথভাবে পরিচালিত ‘জুট অ্যান্ড বাংলাদেশ ইকোনমি’ শীর্ষক সমীক্ষায় বলা হয়, পণ্যে পাটজাত মোড়কের ব্যবহার বাধ্যতামূলক আইন-২০১০ পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা গেলে দেশে বার্ষিক পাটের ব্যাগের চাহিদা ৯০ হাজার পিস থেকে বেড়ে ৮৪ কোটি পিসে উন্নীত হবে। এতে ৫৩,৯,২০০ টন পাটের আঁশের প্রয়োজন হবে, যা দেশের মোট পাট উৎপাদনের ৭৭ শতাংশ। বর্তমানে বাংলাদেশ থেকে প্রতি মাসে ১ লাখ পাটের ব্যাগ রফতানি করা হয়। ভারত এ ধরনের আইনের বাস্তবায়ন করে দেশের পাট খাতকে চাঙ্গা করার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষাতেও সাফল্য পেয়েছে। ২০১০-১১ অর্থবছরে ভারত পাটজাত দ্রব্য রফতানি করেছে ১ হাজার ৮৫৪ কোটি টাকার, যা আগের বছরের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ। ২০০৮-০৯ অর্থ বছরে ভারত ৪০ মিলিয়ন পাটের ব্যাগ রফতানি করে এবং ২০১১-১২ সালে এটি ৭৫ মিলিয়ন ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। সরকারি সহায়তা, উন্নত প্রযুক্তি, উদ্ভাবনী ক্ষমতা ইত্যাদির সমš^য়েই ভারতের এই সাফল্য।
এ সফলতা বাংলাদেশেরও আসতে পারে এমনটাই মনে করেন সংশ্লিষ্টরা। দুনিয়াব্যাপী পাটের ব্যাগের চাহিদা বৃদ্ধি ও দেশের উন্নতমানের পাট এ দুই হাতিয়ার কাজে লাগাতে পারলেই সফলতা আসতে পারে। দেশে বেসরকারি পর্যায়ে বেশ কিছু ডাইভারসিফাইড জুট প্রডাক্ট তৈরির প্রতিষ্ঠান গড়ে উঠলেও তারা খুব বড় আকারে উৎপাদনে সক্ষম নয়। এর পেছনে রয়েছে সরকারি উদ্যোগের ঘাটতি, ভালো ও যথেষ্ট পরিমাণ জুট ফেব্রিকের সরবরাহ না থাকা, প্রোমোশনের দুর্বলতা ইত্যাদি। মিলগুলোতে পুরনো আমলের যন্ত্রপাতি ব্যবহার, বৈশ্বিক চাহিদাকে বুঝতে পারার জন্য গবেষণার অভাবকেও দায়ী মনে করেন অনেকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে দেশীয় উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিতে হবে। ছোট কারখানাগুলোকে সমবায়ের মাধ্যমে বড় আকারের উৎপাদনে কাজে লাগাতে হবে।
সূত্র: শানজিদ অর্ণব, সাপ্তাহিক ২০০০, ৩ ফেব্রুয়ারী
২|
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ৮:৩০
বিদ্রোহী ভৃগু বলেছেন: এর পেছনে রয়েছে সরকারি উদ্যোগের ঘাটতি, ভালো ও যথেষ্ট পরিমাণ জুট ফেব্রিকের সরবরাহ না থাকা, প্রোমোশনের দুর্বলতা ইত্যাদি। মিলগুলোতে পুরনো আমলের যন্ত্রপাতি ব্যবহার, বৈশ্বিক চাহিদাকে বুঝতে পারার জন্য গবেষণার অভাবকেও দায়ী মনে করেন অনেকে। সংশ্লিষ্টরা মনে করেন, এ খাতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে দেশীয় উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিতে হবে। ছোট কারখানাগুলোকে সমবায়ের মাধ্যমে বড় আকারের উৎপাদনে কাজে লাগাতে হবে।
++
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ৮:৫১
আহমেদ রশীদ বলেছেন: একমত; ধন্যবাদ।
©somewhere in net ltd.
১|
০৭ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১২ রাত ৮:২৭
শহিদুল কাদের বলেছেন: awesome post. as a textile engg. i know badly about this.