নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

পৃথিবীর বুকে এক টুকরো গোলাপ অবশিষ্ট থাকা অব্দি ভালবাসা রয়ে যাবে কি? নাকি তারও আগে বিলুপ্ত হবে প্রেম!

আহসানের ব্লগ

পৃথিবীর বুকে এক টুকরো গোলাপ অবশিষ্ট থাকা অব্দি ভালবাসা রয়ে যাবে কি? নাকি তারও আগে বিলুপ্ত হবে প্রেম!

আহসানের ব্লগ › বিস্তারিত পোস্টঃ

বৃদ্ধ নুর মিয়া এবং বৃদ্ধা আয়েশার অসমাপ্ত প্রেম

২২ শে মে, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৩৬

আজ থেকে ৩৪ বছর আগের দিনগুলো হঠাত মনে পড়ে নুর মিয়ার ।

নদীর ওপারে আয়েশাদের বাড়ি ।

ওপারে নুর মিয়ার পৈতৃক ধানি জমি ।

নুর মিয়ার বাবা জমির মিয়া চাষাবাদের সময় আঠারো বছরের তাগড়া জোয়ান নুর মিয়াকে সঙ্গে নিয়ে যায় ।

নুর মিয়ার সেবায় ধানি জমি প্রাণ ফিরে পায় ।

ধান পাকার মৌসুমে পাকা ধানের তীব্র ঘ্রাণে পুরো নদীর পাড় মুহুর্তের পাগল পারা বাতাসে রুপ নেয় ।



পাশের ক্ষেতটা আয়েশার বাবার ।

দুপুরে আয়েশা ভাত নিয়ে আসে তার বাবা আফজালের জন্য ।

আয়েশার বয়স তখন এগারো ।



নুর মিয়া আয়েশার প্রেমে পড়েন ।

প্রেম কী তা জানেনা আঠারো বছরে নুর মিয়া ।

শুধু জানেন আয়েশা কে না দেখলে নুর মিয়ার ভালো লাগেনা ।

বিকেলেও আয়েশা মাঝে মাঝে আসে সখিদের নিয়ে দল বলে ।

সেখানে জোলাপাতি খেলা হয় ।

পুতুল বিয়ে হয় ।

নুর মিয়া ক্ষেতে নিড়ানি দিতে দিতে সব দেখে ,

আয়েশাও নুর মিয়ার নিড়ানির দিকে চেয়ে থাকে ।

এগারো বছরের আয়েশা জানে নুর মিয়া তাকে চায় ।



এক বিকেলে নুর মিয়া আয়েশা কে বলে ,

"আয়েশা আমারে বিয়া করবি ?



আয়েশা তা শুনে দৌড়ে পালায় ।



নুর মিয়ার আর সাহস হয়না কিছু বলার ।

ধান কাটা হয় ,

গোলা পরিপূর্ণ ।



জমির মিয়া ঘরের দাওয়ায় আরাম করে হুক্কা টানে ।

প্রতি টানে সুখ নিয়ে নেয় সে ।



চুলে কাক ভেঝা সরিষার তেল দিয়ে হাটে যায় সে ।

হুক্কা টা হাতে নিয়েই রওনা দেয় ।

সঙ্গে নুর মিয়া ।



নুর মিয়ার মন ভালো ।

হাটে যেতে হলে নদী পার হতে হয় ,

আর নদীর ওপারে আয়েশাদের বাসা হয়ে হাটে যেতে হয় ।

কেমন আছে আয়েশা তা জানেনা নুর মিয়া ।

তবে নুর মিয়ার মন ভালো আয়েশাকে দেখবে বলে ।



নৌকোয় উঠে দূর থেকে আয়েশাদের বাড়িতে কিসের যেন উত্‍সব !

নুর মিয়ার বুকটা চিন চিন করে উঠে ।



মুখ টা ইষত্‍ ম্লাণ হয়ে যায় ।



নুর মিয়া তবু ভাবে হয়তো অন্য কিছুর উত্‍সব ।

হয়তো অন্য কারো ।

প্রবোধ দেয় মনকে ।

নুর মিয়ার চোখে পানি তবুও কেনো যেনো ।



হাটের উদ্দেশ্যে পা বাড়ায় জমির মিয়া ,

নুর মিয়ার নৌকো থেকে নামতে ইচ্ছে হয়না ।



আফজাল চাচার বাসার সামনে দিয়ে হাঁটতে হাঁটতে অনাকাঙ্খিত সত্যটা চোখে পড়ে নুর মিয়ার ।

নুর মিয়া আহত হয় ।



আয়েশার বিদায়ের সময় আয়েশা মরা কান্না জুড়ে দেয় ।

সব মেয়েরাই বাপের বাড়ি ছাড়ার সময় কাঁদে কিন্তু আয়েশার অতিরিক্ত কান্নার মানে কেউ বোঝেনা ।



আয়েশাও নুর মিয়ার প্রেমে পড়েছিল ।

নুর মিয়ার মতো আয়েশাও জানেনা প্রেম কী ?

তবে আয়েশাও নুর মিয়াকে চাইতো ।



৩৪ বছর পর ,

আয়েশা চট্রগ্রাম মেডিকেলের শৌচাগার পরিচারক ।

আয়েশার স্বামি সন্তান কেউ বেঁচে নেই ।

হঠাত্‍ এক সড়ক দুর্ঘটনায় পুরো পরিবার লাশে পরিণত হয় ।

আয়েশা প্রাণে বেঁচে যায় ।

এক স্থানীয় জনপ্রতিনিধির চোথে পড়ে ব্যাপারটা ।

আয়েশা কোথায় যাবে কী খাবে তা ব্যাবস্থা করে দেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ।

চট্টগ্রাম মেডিকেলের বাথরুম পরিষ্কারের চাকরি টা পায় আয়েশা।

আয়েশার জীবন ঘড়ি চলতে থাকে।



নুর মিয়া এখন প্রায় সময় অসুস্থ থাকেন ।

অসুস্থ নুর মিয়াকে কেউ দেখেন না।

তিন সন্তানেরা যে যার পরিবার নিরে ব্যাস্ত থাকেন ।

নুর মিয়া তিন সন্তানের পরিবারের মাঝে পড়েন না ।

এখন নুর মিয়ার একটাই ইচ্ছে শেষ নিশ্বাস টা যেন শুভ্র বিছানার চাঁদরেই আরাম করে শুয়ে ত্যাগ যায় ।



নুর মিয়ার বড় ছেলের বড় সন্তান হাফিজ নুর মিয়াকে খুব ভালবাসেন ।

হাফিজ ছাড়া নুর মিয়ার কেউ নেই ।

হাফিজ নুর মিয়াকে চট্টগ্রামে বন্ধুর পরামর্শে নিয়ে আসে ।

ভর্তী করানো হয় নুর মিয়াকে বার নম্বর ওয়ার্ডে ।



আয়েশা নুর মিয়ার বিছানা পরিষ্কার করতে আসেন ।

নুর মিয়ার ছানি পড়া চোখ আয়েশা কে না চিনলেও আয়েশা চিনে নেয় ।

হাফিজ আর তার বন্ধু মেডেসিন আনতে যায় ।



আপনে নুর মিয়া না ?

হঠাত্‍ অনাকাঙ্খিত প্রশ্নের তীরে বিদ্ধ হতে হয় নুর মিয়াকে ।

কন্ঠ টা পরিচিত হলেও কেমন যেন বার্ধক্যে রুপ নিয়েছে ।

তবে কী আয়েশা ?



"হয় আমি নুর মিয়া ।

আপনে ?"



আয়েশা কাঁদো কাঁদো স্বরে "আমি আয়েশা ।"



নুর মিয়ার বুকে ব্যাথা শুরু হয় ।

বুকের ব্যাথা ডান হাতে চেপে রেখে নুর মিয়া আয়েশার ৩৪ বছরের গল্প শুনেন ।

নুর মিয়া ও তার ৩৪ বছরের গল্প বলেন ,

এও বলেন যে তার তিন ছেলের পরিবারে নুর মিয়ার কোনো আশ্রয় নেই ।



"আমার পত্তি মাসে ইনকাম বার হাজার টেকা বকসিস টকসিস নিয়া,

আহেন আমরা একসাথে এইহানে থাহি ।"

আয়েশা কথা গুলো বলেন ।

কোনো সংকোচ নেই আজ আয়েশার মুখে ।

৩৪ বছর আগে যে ভুলটা তিনি করেছিলেন তা আজ শুধরে নিতে চান ।



আজ রবিবার সন্ধ্যা।

দাদাকে নিয়ে বাসে করে ঘুরতে বের হন হাফিজ ।

নুর মিয়া স্বপ্ন দেখেন ।

স্বপ্ন দেখেন আয়েশার কোলে মাথা রেখে শেষ নিশ্বাস ত্যাগ করা রঙিন বিছানার চাঁদরের ওপর ।



চলন্ত বাস ।

উল্টো দিক থেকে গায়ে চাঁদর পেচানো কয়েকজন যুবক বাসের দিকে আসছেন ।

হয়তো বাসে চড়বেন তারা ।

নুর মিয়া অপারেশন করা চোখ সব পরিষ্কার দেখে ।

হাফিজ কেনো যেনো আতঙ্কিত ।

হঠাত্‍ বাসটায় ঝন ঝন শব্দে আগুনের ঝলকানি ।

নুর মিয়ার কোনো স্বপ্নই আর পূরণ হয়না ।



বিছানার চাঁদরে আয়েশার কোলে মাথা রেখে শেষ নিশ্বাস টাও ত্যাগ করা হয়না ।

মন্তব্য ৭ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৭) মন্তব্য লিখুন

১| ২৪ শে মে, ২০১৪ রাত ১০:৪৯

অপ্রতীয়মান বলেছেন: কিছু স্বপ্ন সময়ের কারণে পূর্ণতা পায় না :| আর কিছু স্বপ্ন কিছু অমানুষের জন্যে পরিপূর্ণ হয় না X((

২৪ শে মে, ২০১৪ রাত ১১:০২

আহসানের ব্লগ বলেছেন: নুর মিয়া আর আয়েশার তো সুসময় কখোনোই আসেনি ।
আর যাও এসছিল তাও কোনো স্বপ্ন পূরণ হয়নি ।
আয়েশার স্বপ্ন আবারো ভেঙে নুর মিয়ার ভাগ্য নির্ধরণ হয় কিছু অমানুষের দ্বারা :(

২| ২৫ শে মে, ২০১৪ রাত ১২:৪৮

আমি তুমি আমরা বলেছেন: মন খারাপ হয়ে গেল পোস্ট পড়ে ।

২৫ শে মে, ২০১৪ সকাল ৯:১০

আহসানের ব্লগ বলেছেন: আহারে আমি সার্থক । ;)

২৫ শে মে, ২০১৪ সকাল ৯:১১

আহসানের ব্লগ বলেছেন: আর ধন্যবাদ পুরোটা পড়ার জন্য :)

৩| ০৭ ই জুন, ২০১৪ রাত ১১:০৬

ভাঙ্গা ডানার পাখি বলেছেন: মন খারাপ করা গল্প।

২৮ শে এপ্রিল, ২০১৫ রাত ১০:০৫

আহসানের ব্লগ বলেছেন: দেরিতে হলেও ধন্যবাদ ভাইয়া :)

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.