| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মোগল সম্রাট
মানুষ মানুষের জন্য , জীবন জীবনের জন্য একটু সহানুভুতি কি মানুষ পেতে পারেনা...ও বন্ধু...

(এক)
রোজ রাতে মসজিদের সামনে ভিক্ষা করে বৃদ্ধ আতর আলী। মানুষ ভাবে তার কেউ নেই। কিন্তু দূরের শহরে তার ছেলেটা ঠিকই আছে শুধু বাবাকে চেনে না।
(দুই)
মেয়েটা বাপের বাড়ি এলে বাবা জিজ্ঞেস করে ভালো আছিস তো মা? সে মাথা নাড়ে। কারণ সত্যি বললে বাবার ঘুম হারাম হয়ে যাবে।
(তিন)
ফ্যাক্টরির মেশিন বন্ধ, কবিরুলের চোখে মুখে অন্ধকার। সামনে রোজার ঈদ। ঋণের চাপ মরে যেতে চাইছে বহুবার। তার দুই বছর বয়সী শিশুর ভবিষ্যৎ ভেবেই তার বেঁচে থাকতে হয় প্রতিদিন।
(চার)
ইমন ছোট ব্যবসা শুরু করেছিল পার্টনারশিপে। পার্টনার টাকা নিয়ে উধাও। এখন সে হতাশ চোখে তাকিয়ে থাকে সবার চোখের দিকে।
(পাঁচ)
সায়েম গ্রাম ছেড়ে শহরে এসেছিলো দ্বায়িত্বের চাপে। আজ তার মেসে থাকা জীবন একাকিত্বে ভরা। বাড়িতে টাকা পাঠাতে গিয়ে নিজের কতো শখ মনের ভিতরেই কবর দিতে হয়েছে । বাড়ি থেকে শুধু আশা আর চাপই আসে মুঠোফোনে । এই ঠাসবুনটের ভীড় তাকে কখন গিলে নিয়েছে নীরবে টেরই পায়নি।
(ছয়)
রায়হান পরীক্ষায় ভালো করেও চাকরি পায়নি।
সুপারিশের কাছে মেধা হার মেনেছে হয়তো। তার বাবা গফুর আলীর চোখে হতাশার ছায়া নেমেছে ইদানীং বড্ড বেশি।
(সাত)
নুরু রাস্তায় রিকশা চালিয়ে দিন কাটায়। যাত্রীদের কতোনা তাচ্ছিল্য প্রতিদিন তাকে সহ্য করতে হয়। ওদিকে পরিবার অপেক্ষা করে বসে আছে সন্ধ্যায় বাজার নিয়ে ফিরবে নুরু। অথচ আজই মোবাইল কোর্ট বুল ডোজার দিয়ে গুড়িয়ে দিয়েছে তার রিকশা।
(আট)
বশির প্রবাসে হাড়ভাঙা খাটুনি করে মাস শেষে দেশে টাকা পাঠালেও সন্তুষ্টি মেলে না তার মনে। তার আঙ্গুল ধরে সন্তানের প্রথম হাঁটা দেখা হয়নি । বছর বছর শুধু দূরত্ব বাড়তেই থাকে। পরিবার আছে কিন্তু উপস্থিতি নেই। এই হাহাকার শুনতে পায়না কেউ।
(নয়)
মমতাজ তার ছোট বাবুকে ঘরেই রেখে অফিসে চলে যায়। কম্পিউটারের স্ক্রিনের সামনে বসে চোখ ভিজে ওঠ প্রায়ই। কোনো সঙ্গী নেই শুধু নীরব কাঁদার শব্দ।
বাবু হয়তো বুঝে না কিন্তু মায়ের মন সিক্ত হয়ে থাকে সবসময়।
(দশ)
আত্নীয় স্বজন, বন্ধু বান্ধব জিজ্ঞেস করে খুশির খবর কবে? উত্তরে শুধু মৃদু হাসি দিয়ে চুপ করেই থাকতে হয় লিপি-নাইম দম্পতির। অনেক ডাক্তার-কবিরাজ দেখিয়েছে। একটা বাচ্চা বুকে জড়িয়ে নেয়ার স্বপ্নই নীরবে চোখ ভিজায় দুজনের প্রতিদিন।
ঢাকা।
২২ ফাল্গুন ১৪৩২ বঙ্গাব্দ।
ছবিঃ অন্তর্জাল।
০৭ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৩৮
মোগল সম্রাট বলেছেন:
ধন্যবাদ।
শুভকামনা নিরন্তর।
২|
০৭ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪
শ্রাবণধারা বলেছেন: অতি চমৎকার সব গল্প, মোগল সম্রাট! পড়তে খুব ভালো লাগলো। আপনার লেখায় আগেও লক্ষ্য করেছি, সাধারণ নিম্নবিত্ত মানুষের জীবন এত চমৎকারভাবে উঠে আসে, যা সত্যিই অসামান্য। আপনার এই অনুগল্পগুলো পড়তে গিয়ে বনফুল এর অনুগল্পগুলোর কথা মনে পড়ে গেল।
আপনার এই প্রতিভা আপনি ধরে রাখবেন এবং আরো অনেক অনেক গল্প লিখবেন এই কামনা করি।
০৭ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ২:৪৩
মোগল সম্রাট বলেছেন:
আপনার মন্তব্যে অনুপ্রাণিত হলাম। মধ্যবিত্ত, নিম্নবিত্ত মানুষদের জীবন আসলে অনুগল্পে তুলে ধরা কঠিন। তারপরও চেষ্টা অব্যহত থাকবে।
শুভকামনা নিরন্তর।
©somewhere in net ltd.
১|
০৭ ই মার্চ, ২০২৬ দুপুর ১:৩৪
হুমায়রা হারুন বলেছেন: চমৎকার গল্পগুলো এবং অণু গল্পের আইডিয়া