নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

আমি নৃত্য-পাগল ছন্দ আমি আপনার তালে নেচে যাই, আমি মুক্ত জীবনানন্দ।

মোগল সম্রাট

মানুষ মানুষের জন্য , জীবন জীবনের জন্য একটু সহানুভুতি কি মানুষ পেতে পারেনা...ও বন্ধু...

মোগল সম্রাট › বিস্তারিত পোস্টঃ

অনুগল্প

০৫ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫০



(এক)
অফিসের মিটিং রুমে অরণ্যের ল্যাপটপে ঝুঁকে পড়ে ফাইল দেখাচ্ছিলো হৃদি। মাউস ধরতে গিয়ে হাত ছুঁয়ে যায় হৃদির হাতে কয়েকবার। দুজনেই জানে এই ছোঁয়া ইচ্ছাকৃত না হলেও অস্বীকার করা কঠিন। চোখে চোখ পড়তেই কেউ হাসে না, কেউ সরেও না। মিটিং শুরু হলে দূরত্ব ফিরে আসে ঠিকই তবে স্পর্শটা আর ফেরে না.......!!!!

(দুই)
তানভীর শেলফের নিচের তাক থেকে থেকে বই নিয়ে উঠে দাড়িয়ে মোড় ঘুরতেই দুই শেলফের মাঝে মেঘলার শরীরের সাথে শরীর ছুঁয়ে যায়। দুজনেই থেমে থাকে কয়েক সেকেন্ড। বই নিয়ে দুজনই গিয়ে টেবিলে বসে কিন্তু পাতা উল্টানোর শব্দের নিচে অন্যরকম নীরবতা জমে।লাইব্রেরি বন্ধ হলে দুজন বের হয়ে ‍দুই দিকে চলে যায় কেউ কিছু বলে না......!!!

(তিন)
লোকাল বাসে ভিড়ের চাপে আদ্রিতার পিঠ এসে লাগে রাশেদের বুকে। সরার জায়গা নেই, তবু দুজনেই অস্থিরভাবে স্থির। হালকা নিঃশ্বাসের ওঠানামা ছুঁয়ে যায় অদ্ভুতভাবে দুজনেরই। আদ্রিতা নেমে যায় পরের ষ্টপেজে। শিহরনগুলো মিশে যায় বাতাসে.....!!

(চার)
কলেজ গেটে বৃষ্টিতে ভিজে রিক্সার জন্য অপেক্ষা করছিলো সামিয়া। ইমরান ছাতা ধরতেই দুজন কাছাকাছি হয়ে যায়। সামনের মোড়ে রিকশা পাওয়ার আশায় সামনে দিকে পা বাড়ায় দুজন। বাতাসে চুল এসে গাল ছুঁয়ে যায় ইমরানের। নীরবতার ভেতর অদ্ভুত উষ্ণতা জমে ওঠে দুজনের। চৌরাস্তার মোড়ে এসে রিকশা পেয়ে সামিয়া একাই উঠে যায় রিকশায়........!!!!!

(পাঁচ)
ক্যাফেটেরিয়ার একদম নীরব কোণে বসে ছিল নিহান আর ঐশী। কথা চলছিল হালকা । কিন্তু টেবিলের নিচে পায়ের আঙুলের ছোঁয়া দুজনই অনুভব করছিলো। কেউ পা সরিয়ে নেয় না, যেন কিছুই ঘটেনি। একসময় কফি ঠান্ডা হয়ে যায় কিন্তু তাপটা থেকে যায় দুজনের ভেতরেই.....!!!!!

(ছয়)
পাহাড়ি পথে হাঁটতে হাঁটতে ক্লান্ত হয়ে বসে পড়ে বুশরা। রিয়াদ হাত বাড়ায়। হাত ধরে টান দিতেই বুশরা একটু বেশিই কাছ এসে পড়ে রিয়াদের। অপ্রস্তুত মুহূর্তটা হাসি দিয়ে ঢেকে ফেলে দুজনেই। গ্রুপের সবাই এগিয়ে যায় সামনের পথ বেয়ে। দুজনার মনে জাগে অজানা এক টান.....!!!!!

(সাত)
আরিশের হাতে ব্যাগ আর মোবাইল দিয়ে ট্রায়াল রুমে ঢুকে পড়ে নায়রা। হঠাৎ ফোন বেজে উঠলে মোবাইল নিতে এগিয়ে আসে আরিশ।পর্দা সরাতেই খুব কাছ থেকে চোখে চোখ পড়ে নায়রাকে। একটা নিঃশব্দ থেমে থাকা মুুহুর্ত । নায়রা কিছু না বলে ঘুরে দাঁড়ায়, আরিশও পর্দা ছেড়ে দেয়। পোশাকটা কেনা হয় নায়রার কিন্ত অপ্রকাশিতটাই প্রকাশিত হয়ে থাকে আরিশের ভিতরে....!!!

(আট)
সালমানের হাতের শিরায় স্যালাইন ঠিক করতে ঝুঁকে পড়ে নীলা। সাদা আলোয় তার আঙুলের ছোঁয়া অস্বাভাবিকভাবে স্পষ্ট হয়ে ওঠে। কব্জিতে থেমে থাকা সেই স্পর্শে সময় যেন একটু ধীরে ধীরে থেমে যায়। সালমান তাকিয়ে থাকে নীলা চোখ নামিয়ে নেয়। ডিউটি শেষে নীলা চলে গেলে হাসপাতালের বেডে শুধু নীরবতা থাকে আর থাকে একটুখানি উষ্ণতা........!!!!!



ঢাকা, রবিবার
০৫ এপ্রিল, ২০২৬ খৃষ্টাব্দ।


ছবিঃ অন্তর্জাল।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.