| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
যুগে যুগে বুদ্ধিবৃত্তিক চর্চার প্রধান প্রতিবন্ধক ছিল হাজার বছর ধরে গড়ে ওঠা প্রথা ও রীতিনীতি। সামাজিক ও বিশ্বাসগত বিবর্তনের ধারায় এই শক্তি এতটাই প্রবল ছিল যে, এর বাইরে যাওয়ার ক্ষমতা খুব কম মানুষই অর্জন করতে পেরেছিল। যারা পেরেছিলেন, তারা একেকজন 'হীরার টুকরো' হয়ে ইতিহাসে স্থান করে নিয়েছেন; কিন্তু যারা অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়েছিলেন, তাদের কথা আমরা অজানাই রয়ে গেছি। সহস্র বছর পূর্ব থেকে বর্তমান শতকের প্রথম দশক পর্যন্ত পরিস্থিতি এমনই ছিল।
এই দীর্ঘ সময়টি ছিল মূলত কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস আর পৈতৃক ধর্মীয় গোঁড়ামির কাল। এসবের প্রভাবে মানুষ যেমন প্রাণী হিসেবে অন্য প্রাণীকে ভালোবাসতে শেখেনি, তেমনি মানুষকেও ভালোবাসতে পারেনি। বরং বিশ্বাস ও সংস্কার এক ধরনের অদৃশ্য মায়াজাল তৈরি করেছিল। এই বিশ্বাসের চর্চাকারীদের নিকট সেই মায়াজালকে 'স্বর্গের সিঁড়ি' মনে হলেও, বাস্তবে তা তাদের প্রকৃত সংস্কৃতি ও ভালোবাসা থেকে বঞ্চিত করেছে। বিনিময়ে বিশ্ব পেয়েছে কেবল বিভেদ, ঘৃণা আর বঞ্চনার ইতিহাস।
উপরিউক্ত বিষয়গুলো মানুষকে কখনও স্বাধীনতার স্বাদ দিতে পারেনি, পারেনি মুক্তচিন্তার অমৃত আস্বাদ দিতে। এমনকি প্রশ্ন করার স্বাধীনতা না থাকায় সাধারণ মানুষ 'বৌদ্ধিক চর্চা' বিষয়টাই বুঝতে পারেনি। মানুষ আজীবন দাসের মতো বেঁচে থেকেছে; কখনও নিজের চিন্তার মালিক হতে পারেনি। তারা অনেকটা নিয়ন্ত্রিত পালের পশুর মতোই জীবন কাটিয়ে দিয়েছে।
চলমান শতকের প্রথম দশক থেকে এই পুরনো শেকলগুলোর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে 'যান্ত্রিক অ্যালগরিদম'। এই অ্যালগরিদম মানুষকে ডিভাইসের দাসে পরিণত করেছে। যে মানুষ নিজেকে সৃষ্টির সেরা জীব মনে করে, সে আজ সামান্য একটি ইলেকট্রনিক ডিভাইসের ক্রীড়নক। এখন মানুষের বিশ্বাস, সংস্কার আর পুরনো প্রভুদের পাশাপাশি এক নতুন শক্তিশালী প্রভু যোগ হয়েছে— অ্যালগরিদম।
©somewhere in net ltd.
১|
০৮ ই মে, ২০২৬ সকাল ৯:২২
কামাল১৮ বলেছেন: সুন্দর উপলব্ধির।