| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
মনে করুন, আপনি একটি প্রতিষ্ঠানের নিছক একজন কর্মী। ঘটনাক্রমে সেই প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তির জন্মোৎসব পালনের গুরুভার আপনার কাঁধেই এসে পড়ল। আপনি পরিপাটি পোশাকে মঞ্চে দাঁড়ালেন আপাতদৃষ্টে সবটাই স্বাভাবিক। কিন্তু বিপত্তি বাঁধে তখন, যখন আপনাকে আপনার শব্দভাণ্ডার থেকে খুঁজে বের করতে হয় সেইসব অলীক স্তুতিবাক্য, যা আপনার বসের জন্য বরাদ্দ করতে বাধ্য হন। আপনি এমন সব শব্দের কারুকার্য তৈরি করেন যা শুনলে স্বয়ং ঈশ্বরও আপনাকে স্বর্গে ঠাঁই দিতে বাধ্য হবেন; অথচ সেই শব্দজালের বিনিময়ে আপনার বস হয়তো আপনাকে একটি সামান্য 'ইনক্রিমেন্ট' দেওয়ার সৌজন্যও দেখাবেন না।
যাকে আপনি শয়নে-স্বপনে নিভৃতে ঘৃণা করেন, যাকে দেখলে মনে হয় ঈশ্বর বোধহয় ইবলিশ সৃষ্টির আগে আপনার এই বসকেই 'প্রোটোটাইপ' হিসেবে তৈরি করেছিলেন আজ পরিস্থিতি ও প্রয়োজনের দায়ে আপনিই তাঁর শ্রেষ্ঠত্বের মহিমা কীর্তন করছেন। আপনার মুখে সেই বসের গুণগান শুনে স্রষ্টা হয়তো ক্ষণিকের জন্য দ্বিধায় পড়ে ভাববেন, "তবে কি এই ব্যক্তিই আসল ঈশ্বর? আমি কি তবে অন্য কেউ?" আপনার স্তুতিবাক্যের প্রাবল্যে ঈশ্বর হয়তো নিজের ঐশ্বরিক পরিচয়টুকুও বিস্মৃত হবেন
মূলত আপনার সামাজিক এই মুখোশই আপনাকে প্রকৃত মানুষ হতে অন্তহীন বাধার সৃষ্টি করে। আপনি এক মেরুদণ্ডহীন ভিক্ষুকের মতো সেই মানুষটির প্রশংসা করলেন যার গুণগান শুনে ঈশ্বর তাঁর সিংহাসন নিয়ে শঙ্কিত হন। কেন আপনি এমনটি করলেন? কারণ, আপনি অফিসের বসের প্রতি আপনার দাসত্ব, আপনার শুভ্র পোশাকের প্রতি আপনার আভিজাত্যের মোহ এবং আপনার সুগন্ধির তীব্রতায় ঢাকা পড়া আপনার প্রকৃত সত্তার প্রতি দাসত্ব স্বীকার করে নিয়েছেন। এই ঠুনকো সামাজিক স্বীকৃতির মোহে আপনি একজন সুসভ্য দাসে পরিণত হয়েছেন।
মানুষ হওয়ার প্রবল আকাঙ্ক্ষা বিসর্জন দিয়ে আপনি আজ শুধু টিকে থাকার এক সামাজিক আধুনিকায়িত এক দাস; যেখানে স্বাধীনভাবে শ্বাস নিতে বা পা ফেলতে ভুলে যাওয়াই এখন আপনার একমাত্র বাস্তবতা।
চলমান থাকবে...
©somewhere in net ltd.
১|
১০ ই মে, ২০২৬ রাত ৯:৫৩
ঠাকুরমাহমুদ বলেছেন:
দাসের মতো চাকরি করার দরকার কি?