নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

নিজেকে এখনো চিনিতে পারি নাই্। চিনিতে পারিলে বলিব।

আলামিন১০৪

আলামিন

আলামিন১০৪ › বিস্তারিত পোস্টঃ

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের তদন্ত রিপোর্ট কি সঠিক? স্প্লিট এসি বন্ধ থাকলেই কি অক্সিজেন কমে?

০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ৮:১৩


আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি বলেছে, “এসি বন্ধ থাকায় অক্সিজেনের ঘাটতি হয়েছিল।” কিন্তু এই ব্যাখ্যা নিয়ে প্রযুক্তিগতভাবে কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন ওঠে। কারণ সংশ্লিষ্ট কক্ষে স্প্লিট এসি ব্যবহৃত হচ্ছিল, আর স্প্লিট এসির কোনো ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা থাকে না। এটি বাইরে থেকে নতুন বাতাস বা অক্সিজেন আনে না; বরং ঘরের ভেতরের বাতাসকে বারবার ঠান্ডা করে পুনরায় ঘরে ফিরিয়ে দেয়। অর্থাৎ, স্প্লিট এসি একটি রিসার্কুলেশন সিস্টেম, ভেন্টিলেশন সিস্টেম নয়।

ভেন্টিলেশন বলতে বোঝায় বাইরের তাজা বাতাস ঘরের ভেতরে আনা এবং ভেতরের দূষিত বা বাসি বাতাস বাইরে বের করে দেওয়া। হাসপাতালের নবজাতক কক্ষ, আইসিইউ বা অপারেশন থিয়েটারের মতো সংবেদনশীল স্থানে সাধারণত ভেন্টিলেশন ও ফিল্টারযুক্ত সেন্ট্রাল এয়ার-হ্যান্ডলিং ব্যবস্থা থাকা প্রয়োজন। তাই কেবল স্প্লিট এসি বন্ধ হয়ে যাওয়ার কারণে অক্সিজেনের ঘাটতি হয়েছে—এমন দাবি প্রযুক্তিগতভাবে প্রশ্নের জন্ম দেয়। যদি কক্ষে পর্যাপ্ত ভেন্টিলেশন না থাকে, তাহলে মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসের ফলে কার্বন ডাই-অক্সাইডের মাত্রা বাড়তে পারে; তবে সেটি স্প্লিট এসি চালু বা বন্ধ থাকার সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়।

এ কারণে তদন্ত কমিটির গঠন নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। প্রকাশিত তথ্যমতে, কমিটিতে মূলত চিকিৎসা-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরাই ছিলেন। অথচ যেখানে এসি, বায়ুপ্রবাহ ও অক্সিজেন ঘাটতির মতো বিষয়কে মৃত্যুর কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হচ্ছে, সেখানে একজন এইচভিএসি (HVAC) বা মেকানিক্যাল প্রকৌশলী থাকলে প্রযুক্তিগত বিশ্লেষণ আরও নির্ভুল হতে পারত। কোনো হাসপাতালের নবজাতক কক্ষ যদি প্রকৃতপক্ষে প্রয়োজনীয় ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা ছাড়া পরিচালিত হয়ে থাকে, তাহলে সেটি শুধু হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের নয়, অনুমোদন ও তদারকির দায়িত্বে থাকা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকাও প্রশ্নবিদ্ধ করে।

তবে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর আগে পূর্ণাঙ্গ ও বৈজ্ঞানিক তদন্ত জরুরি। বিভিন্ন সম্ভাবনা—যেমন ভেন্টিলেশন ব্যবস্থার ত্রুটি, অবকাঠামোগত সমস্যা, চিকিৎসা-সংক্রান্ত ব্যর্থতা, ওষুধের মান, অথবা অন্য কোনো প্রযুক্তিগত কারণ—নিরপেক্ষভাবে পরীক্ষা করা প্রয়োজন। উল্লেখ্য, রেফ্রিজারেন্ট গ্যাস লিকেজের মতো বিষয় নিয়ে নানা অনুমান থাকলেও, সেগুলোর পক্ষে প্রমাণভিত্তিক তদন্ত ছাড়া কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছানো উচিত নয়। আমরা এমন একটি স্বচ্ছ ও পেশাদার তদন্ত চাই, যাতে প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটিত হয়, দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা যায় এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের মর্মান্তিক ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব হয়।




এসিতে হয়ত গ্যাস লিক ছিল, আর এসির গ্যাস (রেফ্রিজারেন্ট) বাতাসের চেয়ে ভারী ফলে এসির গ্যাস রুমের বায়ু্স্তরের নীচে জমা হওয়ায় অক্সিজেন/বাতাস উপরের স্তরে স্থানান্তরিত হয় বলে আমার ধারনা যার এফেক্টে নীচু বিছানায় শায়িত বাচ্চগুলো অক্সিজেনের অভাব অনুভব করে এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। আরেকটি কারণ হতে পারে ভেজাল ওষুধ। সঠিক তদন্ত করলেই আসল কারণ বের হবে।

আদ-দীনের সেই ওয়ার্ডের স্প্লিট এসি


সূত্র:
প্রথম আলো (৪ জুন ২০২৬)
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস (২ জুন ২০২৬)

মন্তব্য ৪ টি রেটিং +১/-০

মন্তব্য (৪) মন্তব্য লিখুন

১| ০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪

স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: স্প্লিট এসি বন্ধ থাকলে যেমন অক্সিজেন কমে না,
...........................................................................
এসি চালু থাকলে অনেকে বলে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে সুবিধা হয়
বা শ্বাস গ্রহনকারীর ভালো লাগে । এর সাথে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা
মিলায়ে ফেল্লে ঠিক হবেনা । এই হাসপাতালটি অনেক দিন থেকে আছে
এবং অনেক মিতব্যায়ি হাসপাতাল হিসেবে পরিচিতি আছে বিধায় স্বল্প
আয়ের রোগীর ভিড় থাকে । আমি হাসপাতালটিতে অনেকবার গিয়েছি ।
মূল কথা হলো বর্তমান প্রেক্ষাপটে হাপাতালটির সেবার মান কমে গিয়েছে কিনা
এবং ঊক্ত কক্ষটি নবজাতক পালনের জন্য উপযুক্ত ছিল কিনা তা তদন্ত করা ।
এছাড়াও ডাক্তার নার্স এর ভূমিকা কি ছিল নিরপেক্ষ তদন্ত করা ।

০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১০:১৬

আলামিন১০৪ বলেছেন: ভাই, এসি ছাড়া কি নবজাতক মারা যায়? তদন্ত রিপোর্ট বলছে, ওয়ার্ডে কোন বাতাস যাওয়া আসার ব্যবস্থা ছিল না। মানে হলো দরজা খোলা বন্ধ করার সময় যতটুকু চলাচল করে ঠিক ততটুকু। তদন্ত কমিটির উজবুক ডাক্তারগুলো মনে করেছে, এসি দিয়ে বাইরের বাতাস ঢুকে। ফলে এসি বন্ধ করার কারণে বাইরের বাতাস ভেতরে ঢুকতে পারে নাই আর অনেক মানুষ ভিতরে থাকাতে সব মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসে অক্সিজেন কমে গিয়ে কার্বণ ডাই অক্সাইড বেড়ে গিয়ে দুর্বল শিশুরাই আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।

আদ-দীন এ অল্প খরচে ভালো চিকিৎসা হয়- আমিও মানি । তাই বলে অন্যায়ের বিচার হবে না- তা তো হতে পারে না।

২| ০৫ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৯

রাজীব নুর বলেছেন: ওদের টাকা আছে। টাকা থাকলে হাজার অন্যায় করেও পার পাওয়া যায়।

৩| ১৩ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ১:৩২

শায়মা বলেছেন: যেটাই হোক মানুষের জীবন মৃত্যু নিয়ে সচেতন হতে হবে ...... ডাক্তারকেও এবং রোগীকেও ....

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.