| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |

আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ৬ নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় তদন্ত কমিটি বলছে, "এসি বন্ধ থাকায় অক্সিজেনের ঘাটতি হয়েছিল।"
কিন্তু প্রশ্ন হলো—হাসপাতালের ওই কক্ষে তো স্প্লিট এসি ছিল! স্প্লিট এসিতে কোনো ভেন্টিলেশন (বাতাস চলাচলের) ব্যবস্থা থাকে না। তাহলে এসি বন্ধ করলে কি করে শিশু মৃত্যু হবে?
স্প্লিট এসি কীভাবে কাজ করে?
স্প্লিট এসির মূল কাজ হলো ঘরের ভেতরের বাতাসকে ঠান্ডা করা। এটি ঘরের ভেতরের গরম বাতাস টেনে নেয়, তার মধ্য থেকে তাপ বের করে দিয়ে ঠান্ডা বাতাস আবার ঘরে ছেড়ে দেয়।
অর্থাৎ, স্প্লিট এসি একই বাতাসকে ঘুরিয়ে-ফিরিয়ে ঠান্ডা করে। এটি বাইরে থেকে নতুন বাতাস (অক্সিজেন) ভেতরে আনে না।
তাই একে বলা হয় রিসার্কুলেশন সিস্টেম (পুনঃসঞ্চালন পদ্ধতি)।
ভেন্টিলেশন বলতে কী বোঝায়?
ভেন্টিলেশন মানে হলো বাইরের তাজা বাতাস ঘরের ভেতরে আনা এবং ভেতরের বাসি বাতাস বাইরে বের করে দেওয়া।
হাসপাতালের নবজাতক কক্ষ, অপারেশন থিয়েটার বা আইসিইউতে অবশ্যই ভেন্টিলেশন ব্যবস্থা থাকতে হয়। কারণ এসব জায়গায় রোগী ও নবজাতকদের পর্যাপ্ত অক্সিজেন ও স্বাস্থ্যকর বায়ুপ্রবাহ দরকার।
স্প্লিট এসিতে ভেন্টিলেশন থাকে না কেন?
স্প্লিট এসির ডিজাইনই তৈরি হয়েছে শুধু ঘরের ভেতরের বাতাস ঠান্ডা রাখার জন্য, বাতাস চলাচলের জন্য নয়।
এতে বাইরের সঙ্গে বায়ু বিনিময়ের কোনো পথ বা ফিল্টারেশন ব্যবস্থা নেই।
স্প্লিট এসি বন্ধ থাকলে যেমন অক্সিজেন কমে না, তেমনি চালু থাকলেও তা বাইরে থেকে অক্সিজেন এনে দিতে পারে না। এটি কেবল বাতাসের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ করে।
তাহলে আসলে কী হতে পারে?
স্প্লিট এসি বন্ধ থাকলে অক্সিজেন কমে না, কিন্তু বদ্ধ ঘরে অনেক মানুষ একসঙ্গে থাকলে এবং বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা না থাকলে কার্বন-ডাই-অক্সাইড বেড়ে যায়। সেই বদ্ধ ঘর যদি স্প্লিট এসি দিয়ে ঠান্ডা করা হয়, তাতেও বাইরের অক্সিজেন আসে না।
আরও বড় প্রশ্ন: তদন্ত কমিটির গঠন নিয়েই সন্দেহ জাগে।
তথ্য অনুযায়ী, তদন্ত কমিটিতে সম্ভবত কেবল ডাক্তারি পেশার লোক ছিলেন। এসি বা ভেন্টিলেশন বিশেষজ্ঞ (এইচভিএসি ইঞ্জিনিয়ার) কেউ ছিলেন না। ডাক্তার যেমন রোগী দেখেন, তেমনি এসি ও বায়ুপ্রবাহের জটিলতা বোঝার জন্য প্রয়োজন মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ার বা এইচভিএসি বিশেষজ্ঞের।
যেখানে মৃত্যুর কারণ হিসেবে এসি ও অক্সিজেনের ঘাটতিকে দায়ী করা হচ্ছে, সেখানে একজন বিশেষজ্ঞ ইঞ্জিনিয়ার না থাকা কি যথাযথ তদন্তে বাধা সৃষ্টি করেনি? এসি বন্ধ থাকলে স্প্লিট এসিতে অক্সিজেন কমে—এটি একটি প্রযুক্তিগত ভুল ধারণা। কোনো প্রকৌশলী থাকলে হয়তো কমিটি এ ভুলটা করত না।
একটি হাসপাতালের নবজাতক কক্ষে তো ভেন্টিলেশন ও ফিল্টারযুক্ত সেন্ট্রাল এসি বা পৃথক ভেন্টিলেশন সিস্টেম ব্যবহার করতে হয়। স্প্লিট এসি দিয়ে ওই কাজ চালানো যায় না।
তাহলে তদন্ত রিপোর্ট কেন "এসি বন্ধ থাকায় অক্সিজেন কমেছে" বলছে? এটি কি প্রযুক্তিগত ভুল বোঝাবুঝি? নাকি হাসপাতালের অবকাঠামোই ছিল অনুপযোগী?
প্রথম আলোর প্রতিবেদনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন, ভবনটি হাসপাতাল পরিচালনার জন্য উপযুক্ত নয়। তাহলে মূল দোষ কাদের? হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের, যারা স্প্লিট এসিতে নবজাতক রেখেছে? নাকি লাইসেন্স দেওয়া কর্তৃপক্ষের? আর তদন্ত কমিটি কি সঠিক বিশেষজ্ঞদের নিয়েই গঠিত হয়েছিল?
আমরা সঠিক তদন্ত চাই, যেন দোষী চিহ্নিত হয় এবং ভবিষ্যতে এমন দুর্ঘটনা না ঘটে।
এসিতে হয়ত গ্যাস লিক ছিল, আর এসির গ্যাস (রেফ্রিজারেন্ট) বাতাসের চেয়ে ভারী ফলে এসির গ্যাস রুমের বায়ু্স্তরের নীচে জমা হওয়ায় অক্সিজেন/বাতাস উপরের স্তরে স্থানান্তরিত হয় বলে আমার ধারনা যার এফেক্টে নীচু বিছানায় শায়িত বাচ্চগুলো অক্সিজেনের অভাব অনুভব করে এবং শেষ পর্যন্ত মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে। আরেকটি কারণ হতে পারে ভেজাল ওষুধ। সঠিক তদন্ত করলেই আসল কারণ বের হবে।
আদ-দীনের সেই ওয়ার্ডের স্প্লিট এসি
সূত্র:
প্রথম আলো (৪ জুন ২০২৬)
দ্য ডেইলি ক্যাম্পাস (২ জুন ২০২৬)
০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১০:১৬
আলামিন১০৪ বলেছেন: ভাই, এসি ছাড়া কি নবজাতক মারা যায়? তদন্ত রিপোর্ট বলছে, ওয়ার্ডে কোন বাতাস যাওয়া আসার ব্যবস্থা ছিল না। মানে হলো দরজা খোলা বন্ধ করার সময় যতটুকু চলাচল করে ঠিক ততটুকু। তদন্ত কমিটির উজবুক ডাক্তারগুলো মনে করেছে, এসি দিয়ে বাইরের বাতাস ঢুকে। ফলে এসি বন্ধ করার কারণে বাইরের বাতাস ভেতরে ঢুকতে পারে নাই আর অনেক মানুষ ভিতরে থাকাতে সব মানুষের শ্বাস-প্রশ্বাসে অক্সিজেন কমে গিয়ে কার্বণ ডাই অক্সাইড বেড়ে গিয়ে দুর্বল শিশুরাই আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে।
আদ-দীন এ অল্প খরচে ভালো চিকিৎসা হয়- আমিও মানি । তাই বলে অন্যায়ের বিচার হবে না- তা তো হতে পারে না।
©somewhere in net ltd.
১|
০৪ ঠা জুন, ২০২৬ রাত ১০:০৪
স্বপ্নের শঙ্খচিল বলেছেন: স্প্লিট এসি বন্ধ থাকলে যেমন অক্সিজেন কমে না,
...........................................................................
এসি চালু থাকলে অনেকে বলে শ্বাসপ্রশ্বাস নিতে সুবিধা হয়
বা শ্বাস গ্রহনকারীর ভালো লাগে । এর সাথে নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা
মিলায়ে ফেল্লে ঠিক হবেনা । এই হাসপাতালটি অনেক দিন থেকে আছে
এবং অনেক মিতব্যায়ি হাসপাতাল হিসেবে পরিচিতি আছে বিধায় স্বল্প
আয়ের রোগীর ভিড় থাকে । আমি হাসপাতালটিতে অনেকবার গিয়েছি ।
মূল কথা হলো বর্তমান প্রেক্ষাপটে হাপাতালটির সেবার মান কমে গিয়েছে কিনা
এবং ঊক্ত কক্ষটি নবজাতক পালনের জন্য উপযুক্ত ছিল কিনা তা তদন্ত করা ।
এছাড়াও ডাক্তার নার্স এর ভূমিকা কি ছিল নিরপেক্ষ তদন্ত করা ।