| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
হযরত মুহাম্মাদ (সাঃ) কি নবুওয়াতি কাজ ঠিক মত আদায় করেন নি?
জামাতে ইসলামীর প্রতিষ্ঠাতা আবুল আ'লা মওদূদী সাহেব, সূরা নছর এর ৩নং আয়াতের "ইস্তেগফার" শব্দের তাফসীর করতে গিয়ে তাফহীমূল কুরআনে লেখেন যে- فسبح بحمد ربك واستغره انه كان توابا- এবং তাঁর কাছে মাগফিরাত চাও। অবশ্যি তিনি বড়ই তাওবা কবুলকারী। অর্থাত্ তোমার রবের কাছে দোয়া করো। তিনি তোমাকে যে কাজ করার দায়িত্ব দিয়েছিলেন তা করতে গিয়ে তোমার যে ভুল-ত্রুটি হয়েছে তা যেন তিনি মাফ করে দেন। --সূত্র তাফহীমূল কুরআন ১৯ নাম্বার খণ্ড ২৮৯নং পৃষ্ঠা। আধুনিক প্রকাশনী, ৯ম সংস্করণ।
প্রথম কথা-------- মওদূদী সাহেব এই থিওরী কোথায় পেলেন যে, ইস্তেগফার টা গোনাহের সাথে সম্পৃক্ত বা বান্দা গোনাহ করলেই ইস্তেগফার পড়বে অন্যথায় পড়বে না ?
আর তাছাড়া রাসূল (সাঃ) এর যুগে ছিলো সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ)। রাসূল (সাঃ) নবুওয়াতি কাজ করছেন এই সাহাবাদের মাঝেই। আর সাহাবায়ে কেরামগণ (রাঃ) এক বাক্যে স্বীকার করেছেন এবং সাক্ষ্য দিয়েছেন যে, রাসূল (সাঃ) আল্লাহর কালাম পৌছানো ও আমানত পূরিপূর্ণ ভাবে আদায় করেছেন।
বিদায় হজ্জের ভাষণে রাসূল (সাঃ) সাহাবায়ে কেরাম (রাঃ) কে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, কিয়ামতের দিন আমার ব্যাপারে তোমাদেরকে জিজ্ঞাসা করা হবে, বল তোমরা তখন কি উত্তর দিবে? সাহাবায়ে কেরামগণ (রাঃ) বললেন, আমরা এই সাক্ষ্য দিবো যে, আপনি আমাদের নিকট আল্লাহর কালাম পৌছিয়ে দিয়েছেন, আল্লাহর আমানত আদায় করেছেন এবং উম্মতের জন্য ভালো কামনা করেছেন।
তখন হুজুর (সাঃ) তিনবার শাহাদাত আঙ্গুলি দ্বারা আসমানের দিকে ইশারা করে বললেন, اللهم اشهد হে আল্লাহ তুমি সাক্ষ্য থাকো।
এবং আল্লাহর পক্ষ্য থেকে আয়াতও নাযিল হয়েছে যে, اليوم اكملت لكم دينكم واتممت عليكم نعمتي ورضيت لكم الاسلام دينا- "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম, তোমাদের প্রতি আমার অবদান সম্পূর্ণ করে দিলাম এবং ইসলামকে তোমাদের জন্য দ্বীন হিসেবে পছন্দ করলাম"।
উপরোল্লেখিত কুরআনের আয়াত এবং সাহাবায়ে কেরামগণের কথার দ্বারা স্পষ্ট ভাবেই বুঝা যাচ্ছে যে, রাসূল (সাঃ) নবুওয়াতি কাজ অর্থাত্ তিনার উপর অর্পিত দায়িত্ব পরিপূর্ণ ভাবে আদায় করেছেন।
রাসূল (সাঃ) যদি নিজের উপর সোপর্দকৃত দায়িত্ব আদায় নাই করে থাকতেন, তাহলে সাহাবাগণ কখনোই এই ধরণের সাক্ষ্য দিতেন না যে, আপনি আল্লাহর আমানত আদায় করেছেন। আর সাহাবাগণ সাক্ষ্য দিলেও আল্লাহ কখনোই এই আয়াত নাযিল করতেন না যে, "আজ আমি তোমাদের জন্য তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম"। কেননা রাসূলের কাজে বা দ্বীনের কাজে যদি ত্রুটিযুক্ত হয়েই থাকে তাহলে তো তা কখনোই পরিপূর্ণ হত না।
আর যেহেতু আল্লাহ নিজেই ঘোষণা করেছেন যে, "তোমাদের দ্বীনকে পূর্ণাঙ্গ করে দিলাম" এর দ্বারা এটাই বুঝে আসে যে, রাসূল নিজের দায়িত্ব পূর্ণাঙ্গ ভাবেই পালন করেছেন।
অথচ তেরশত বছর পর এসে আবুল আ'লা মওদূদী বলতেছে যে, রাসূল নিজের দায়িত্ব পালনে ত্রুটি করেছেন। (নাউযুবিল্লাহ)
আর তাছাড়া রাসূল (সাঃ) নিজের দায়িত্ব অর্থাত্ নবুওয়াতি কাজে ত্রুটি করেছেন, এটা মওদূদী কিভাবে বুঝলেন ? কারণ তখন তো মওদূদী ছিলো না। নাকি আবার মওদূদীর উপরে ওহী নাযিল হতো ? (নাউযুবিল্লাহ)
দ্বিতীয় কথা-------- এখন আসুন দেখা যাক এ আয়াতের তাফসীরের ক্ষেত্রে উলামায়ে কেরামগণ কি বলেছেন।
"বয়ানুল কুরআনে" এই আয়াতের তাফসীরের ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে, (ইস্তেগফার দ্বারা উদ্দেশ্য হলো) "অনুউত্তম যে কাজ গুলো সংঘটিত হয়েছে, তা থেকে তাওবা করা"।
(অর্থাত্ কিছু কাজ আছে উত্তম, আর কিছু আছে অনুউত্তম। এখন কারো দ্বারা যদি কোন অনুউত্তম কাজ সংঘটিত হয়ে যায়, তার মানে এই নয় যে, সে গোনাহ করে ফেলেছে। যেমন- নামাযে রফয়ে ইয়াদাঈন করা না করা উভয়টাই জায়েয। তবে এই দু'টোর মধ্য থেকে একটি উত্তম আর অপরটি অনুউত্তম। এখন যদি উনুউত্তম কাজটি করে, তার মানে কিন্তু এই নয় যে, তার নামায হবে না বা সে গোনাহগার। বরং তার নামাযও হয়ে যাবে এবং কোন গুনাহও হবে না।
ঠিক তেমনি এখানে "ইস্তেগফার" দ্বারা উদ্দেশ্য হলো, রাসূল (সাঃ) থেকে যে সকল অনুউত্তম কাজ সংঘটিত হয়েছে, সে গুলো থেকে তাওবা করা। যা মূলত কোন গোনাহ না।
কিন্তু তারপরেও তাওবার কথা বলা হয়েছে তার কারণ হলো, রাসূল (সাঃ)-এর সম্মান আল্লাহর নিকট অনেক উর্ধে এবং আল্লাহর প্রিয় একজন বান্দা। আর আল্লাহ তা'য়ালা যেহেতু তাঁর প্রিয় বান্দাদের থেকে অনুউত্তম কাজ সংঘটিত হওয়াটাও অপছন্দ করেন না, তাই রাসূল (সাঃ) কে তাওবা করার জন্য বলেছেন।)
এবং বয়ানুল কুরআনে "সূরায়ে নাছর" এর এই আয়াতের ব্যাখ্যার ক্ষেত্রে বলা হয়েছে যে, "ইস্তেগফার" এর ব্যাখ্যা সূরা মুহাম্মাদ এর ১৯নং আয়াতে করা হয়েছে।
আর সূরা মুহাম্মাদের ১৯নং আয়াতে "ইস্তেগফার" এর ব্যাখ্যা বলা হয়েছে যে, "যদি কখনো ঘটনাক্রমে কোন ভুল হয়ে যায়, তাহলে তা "ভুল" হবে না বরং মুবাহ হবে। কেননা আপনি নিষ্পাপ। এবং কখনো তা (ভুলটা) ইবাদত হিসেবে গণ্য হবে। কেননা তা ইজতেহাদের কারণে সংঘটিত হয়েছে। যা মূলত একটি ইবাদ এবং সওয়াবের কাজ। কিন্তু যেহেতু এই ইজতেহাদী ভুলটা উত্তম আমলের জন্য ত্রুটি স্বরুপ এবং উত্তম আমল ছুটে যাওয়া আপনার শানের বিরুধী তাই তা সুরতান খত্বা হবে। আর এই সুরতান খত্বার জন্যই আপনি ইস্তেগফার করতে থাকুন।
আর যেহেতু এই ধরণে খত্বা বা ভুল পরিপূর্ণ দ্বীনের জন্য ত্রুটি স্বরুপ এবং তা আপনার উম্মতের পুরুষ বা নারীদের থেকে প্রকাশ হতে পারে তাই তাদের জন্যও ইস্তেগফার করতে থাকুন। যাতে করে আপনার শান অনুযায়ী যে পরিপূর্ণ দ্বীন এবং আপনার উম্মতের শান অনুযায়ী যে পরিপূর্ণ দ্বীন আছে, তাতে যে ত্রুটি হয়, ইস্তেগফারটা যেন সে ত্রুটির ক্ষতিপূরণ স্বরুপ হয়ে যায় এবং তারা অর্থাত্ আপনার উম্মতগণ নিরাপদ বা হেফাজত থেকে"।
অনুউত্তম কাজ সংঘটিত হয়ে যাওয়ার একটি দৃষ্টান্ত হলো- একদিন হুজুর (সাঃ) জনৈক কাফিরকে ধর্মের মৌলিক বিষয়গুলো সম্বন্ধে উপদেশ দিচ্ছিলেন, এমন সময়ে হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উম্মে মাকতুম (রাঃ) এসে হুজুর (সাঃ) এর কথা কেটে মাঝখানে কোন একটি শাখা বিষয়ে জিজ্ঞাসা করলেন, এতে হুজুর (সাঃ) অসন্তুষ্ট হলেন। এখানে যেহেতু মুসলমানের শাখ-বিধান সম্পর্কিত প্রশ্ন মুলতবী রেখে কাফিরকে মৌলিক বিষয় শিক্ষা দেওয়াই ইবাদত। কাজেই রাসূল (সাঃ) তাই করেছিলেন। কিন্তু অত্র ঘটনায় মুসলমান ব্যক্তির উপকার হওয়া সুনিশ্চিত এবং কাফির ব্যক্তির উপকার সন্দেহজনক ছিলো। সুতরাং মুসলমানের প্রশ্নের জবাব দেওয়াই অধিক ইবাদত ছিলো। তাই একারণেই আয়াত নাযিল হয়েছে যে, فاعلم انه لا اله الا الله واستغر لذنبك وللمؤمنين والمؤمنت والله يعلم متقلبكم و مثواكم- অতএব আপনি জেনে রাখুন, আল্লাহ ব্যতিত কোন মাবুদ নেই। আপনি ক্ষমা প্রার্থনা করুন আপনার ত্রুটির জন্য এবং সকল মুমিন নর-নারীর জন্যও। আল্লাহ তোমাদের গতিবিধি ও অবস্থান সম্পর্কে সম্পূর্ণ অবহিত আছেন।
মোটকথা রাসূল (সাঃ) কে এই জাতীয় ত্রুটি থেকেই ক্ষমা প্রার্থনা বা "ইস্তেগফার" করতে বলেছেন, কোন প্রকৃত পাপ থেকে নয়। (বয়ানুল কুরআন) --------------------
তাফসীরে হাক্কানীতে বলা হয়েছে যে---- বান্দা ইবাদতের ক্ষেত্রে যতই চেষ্টা করুক না, যে ভাবে আদেশ দেওয়া হয়েছে, ঠিক হুবাহু তেমনি আদায় করা অনেক কঠিন। আর এ জন্যই অপূর্ণতা স্বীকার করাও ইবাদতের শান এবং আল্লাহর দরবারে বান্দার অসহায়তা, মিনতি অনেক পছন্দ। আর এ জন্য আল্লাহ তা'য়ালা "ইস্তেগফার" শব্দ উল্লেখ্য করেছেন। অর্থাত্ আপনার প্রভুর কাছে ক্ষমা ও মাফ চান। আর তাছাড়া "তাসবিহ ও তাহমীদ" -এর পরে বান্দার অসহায়তা প্রকাশ করা, মিনতি করা এবং নিজে নিজেকে গোনাহগার ভেব ক্ষমা চাওয়াটাও ইবাদ। তাই তো রাসূল (সাঃ) বলেন- আমি দিনে ৭০ বার ইস্তেগফার পড়ি। --------------------
উলামায়ে কেরামগণের তাফসীরই সবচেয়ে বেশী গ্রহণযোগ্য। কেননা সকল নবীগণ (আঃ) নিষ্পাপ ছিলেন। যা কুরআনের অনেক আয়াত দ্বারা প্রমাণিত। এ ব্যাপারে জানতে নিচের লিংকটা দেখুনঃhttps://m.facebook.com/notes/অপ্রিয়-হলেও-সত্য/নবীগণ-কি-নিষ্পাপ-নন-/212060429004289/?ref=bookmark
-------------------
মোটকথা---- মওদূদী সাহেব যে তাফসীর করেছেন তা সম্পূর্ণ ভুল। যদি উনার মেনে হয়, তাহলে এ অবস্থায় দ্বীন পরিপূর্ণ হওয়া সাব্যস্ত হয় না। অথচ স্বয়ং আল্লাহ তায়ালা বলেছেন যে, তিনি দ্বীনকে পরিপূর্ণ করে দিয়েছেন এবং মওদূদীর তাফসীর মেনে নিলে রাসূল (সাঃ) ও নিষ্পাপ থাকেন না। অথচ উপরে লিংকে কুরআনের আয়াতে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে নবীগণ নিষ্পাপ।
তাই আবুল আলা মওদূদীর তাফসীর বাতিল।
আর উলামায়ে কেরামগণ যে তাফসীর করেছেন সেটাই সঠিক এবং গ্রহণযোগ্য তাফসীর ৷
©somewhere in net ltd.