নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

সত্যের জয় অনিবার্য

সত্যকে খুঁজি সব সময়

অপ্রিয় হলেও সত্য

নাথিং

অপ্রিয় হলেও সত্য › বিস্তারিত পোস্টঃ

¤ হযরত আমীরে মোআবিয়া (রা.) এর উপর উত্থাপিত অভিযোগের জবাব-পর্ব-- ১

১৯ শে জুন, ২০১৪ রাত ৮:২৮

১. সাহাবায়ে কেরামগণের ফজিলত, নৈতিক গুণাবলী, মহত্‍ কার্যাবলী ও কৃতিত্বসমূহ কুরআন এবং হাদীসে সম্পষ্ট ভাবে বর্ণিত আছে। আর তাদের মধ্যে হযরত আমীরে মোআবিয়া (রা.) শামীল।



২. হযরত আদম (আ.) থেকে নিয়ে কিয়ামত পর্যন্ত লক্ষ্য কোটি ওলী আউলিয়াগণের মর্যাদা রাসূল (সা.) এর একজন সাহাবার মর্যাদার চেয়ে অনেক কম।



৩. হযরত আমীরে মোআবিয়া (রা.) হুজুর (সা.) এর একজন জলীলুল ক্বদর সাহাবী এবং অত্যন্ত নিকটতম আত্মীয় অর্থাত্‍ শ্যালক ছিলেন। আর তাছাড়া কাতেবে ওহী ও ছিলেন।



৪. হুজুর (সা.) নিজের সাহাবায়ে কেরামগণের ব্যাপারে ধৃষ্টতা করা থেকে নিষেধ করেছেন এবং সাহাবা বিদ্বেষীদেরকে ভীতি প্রদর্শন করেছেন।



৫. প্রত্যেক রাষ্ট্রেই জনসাধারণ উপর আবশ্যক থাকে, তারা যেন রাষ্ট্রের বিষেশ ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কোন কথা না বলে।



৬. হযরত আমীরে মোআবিয়া (রা.) খান্দানে নবুওয়াতের বিষেশ ব্যক্তি ছিলেন।



৭. প্রত্যেক ব্যক্তির নিকটেই তার বন্ধু-বান্ধব এবং আত্মীয় স্বজনরা প্রিয় হয়ে থাকে। আমাদের প্রিয় নবী হুজুর (সা.) এর নিকট কি সাহাবায়ে কেরামগণ (রা.) প্রিয় ছিলেন না?



-----ফাযায়েলে হযরত আমীরে মোআবিয়া (রা.)------------------কুরআন মাজিদ ও হাদীস শরীফে সমষ্টিগত ভাবে আহলে বাইয়াত এবং সাহাবায়ে কেরামের ফজিলত ও বুযুর্গী স্পষ্টভাবে বর্ণনা হওয়া সত্তেও, রাসূল (সা.) প্রসিদ্ধ কিছু ব্যক্তিদের ফজিলত বিষেশ ভাবে বর্ণনা করেছেন।

ঐ সকল বিশেষ ব্যক্তিদের মধ্যে হযরত আমীরে মোআবিয়া (রা.) শামীল।



এক.------------

ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﺮﺣﻤﻦ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﻋﻤﻴﺮﺓ ﻭﻛﺎﻥ ﻣﻦ ﺃﺻﺤﺎﺏ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﻋﻦ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ ﺃﻧﻪ ﻗﺎﻝ ﻟﻤﻌﺎﻭﻳﺔ ﺍﻟﻠﻬﻢ ﺍﺟﻌﻠﻪ ﻫﺎﺩﻳﺎ

ﻣﻬﺪﻳﺎ ﻭﺃﻫﺪ ﺑﻪ ﻗﺎﻝ ﺃﺑﻮ ﻋﻴﺴﻰ ﻫﺬﺍ ﺣﺪﻳﺚ ﺣﺴﻦ ﻏﺮﻳﺐ، ﺻﺤﻴﺢ



অর্থাত্‍ আব্দুর রহমান ইবনে আবী উমায়রাহ রাসূল সা. থেকে বর্ণনা করেন যে, রাসূল (সা.) মোআবিয়া সম্পর্কে বলেছেন, হে আল্লাহ মোআবিয়াকে পথ প্রদর্শক এবং পথ প্রাপ্ত বানিয়ে দিন এবং হেদায়াতের উপর অটল রাখুন।

(এই হাদীসটি হাসান গরীব, সহীহ, তিরমিজী)



ইমাম আহমদ রহ. এর বর্ণনায় আছে-

ﺍﻟﻠﻬﻢ ﻋﻠﻢ ﻣﻌﺎﻭﻳﺔ ﺍﻟﻜﺘﺎﺏ

ﻭﺍﻟﺤﺴﺎﺏ

অর্থাত্‍ হে আল্লাহ মোআবিয়াকে হিসাব ও কিতাবের আলেম বানিয়ে দিন এবং তাকে আযাব থেকে হেফাজত করুন।



ফায়েদা--

যেহেতু রাসূল (সা.) এর সাহাবাগণের গোনাহ ও মা'সিয়াত থেকে মাহফুজ থাকা বা বিরত থাকা এবং মানুয্যত্ব বিপরিত কাজ থেকে বেচে থাকা মাযহাবী আকীদা, তাই উলামায়ে মুহাদ্দিসীন এ ব্যাপারে ঐক্যমত পোষণ করেছেন যে,

ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ ﻛﻠﻬﻢ ﻋﺪﻭﻝ ﺻﻐﺎﺭﻫﻢ ﻭﻛﺒﺎﺭﻫﻢ

অর্থাত্‍ ছোট বা বড় প্রত্যেক সাহাবীই আদেল বা ইনসাফগার এবং সেক্বাহ। তাই তো হাদীসের সনদে সাহাবায়ে কেরামের ব্যাপারে জরাহ ও তা'দীল নেই এবং রিজালে সনদ তাবেঈদের থেকে শুরু হয়েছে।

সাহাবায়ে কেরামগণ (রা.) ন্যায়বিচারক, বিশ্বস্ত আস্থাভাজন হওয়ার কারণে জরাহ থেকে খারেজ। তাই তো হাদীস যাচাইকারীদের সামনে শুধু

ﺭﺟﻞ ﻣﻦ ﺃﺻﺤﺎﺏ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ

বলেই দিলে যথেষ্ট। নাম উল্লেখ করার প্রয়োজন নেই।



মোটকথা কুরআন-হাদীস এবং আক্বওয়ালে উলামায়ে কেরামগণের আলোকে এই বিষয়টা স্পষ্ট হয়ে গেছে যে, প্রত্যেক সাহাবাকেই সম্মান প্রদর্শন করা ওয়াজিব এবং সাহাবায়ে কেরামগণের ন্যায় হযরত মোআবিয়াকেও সম্মান প্রদর্শন করা ওয়াজিব। তিনার শানে গোস্তাখি করা এবং বিস্বাদ ও অশ্লীল কথা বলা কঠিন গোনাহ।

এবং কতক ইমামের নিকট তার তওবা যদিও আখেরাতের জন্য উত্তম কিন্তু দুনিয়াবী আহকাম জারী করার ক্ষেত্রে কোন বাধা নেই। আর এমন ব্যক্তিকে হত্যা করা ওয়াজিব

(ﺷﺮﺡ ﺍﻟﺸﻔﺎﺀ ﻭ ﻣﺮﻗﺎﺕ، ﺷﺮﺡ ﻣﺸﻜﻮﺓ، ﻟﻠﻌﻼﻣﺔ ﻋﻠﻲ ﺍﻟﻘﺎﺭﻱ ﻋﻠﻴﻪ ﺭﺣﻤﺔ ﺍﻟﺒﺎﺭﻱ)



দুই------------

হযরত আমীরে মোআবিয়া (রা.) একজন ইসলামী আমীর এবং বাদশাহ হওয়ার কারণে সম্মানের উপযুক্ত। কেননা আল্লাহ তা'য়ালা বলেছেন-

ﻳَﺎ ﺃَﻳُّﻬَﺎ ﺍﻟَّﺬِﻳﻦَ ﺁﻣَﻨُﻮﺍ ﺃَﻃِﻴﻌُﻮﺍ ﺍﻟﻠَّﻪَ ﻭَﺃَﻃِﻴﻌُﻮﺍ ﺍﻟﺮَّﺳُﻮﻝَ ﻭَﺃُﻭﻟِﻲ ﺍﻟْﺄَﻣْﺮِ ﻣِﻨْﻜﻢ

অর্থাত্‍ হে মু'মিনগণ! তোমরা আল্লাহ ও তাঁর রাসূলের আনুগত্য কর এবং তোমাদের মধ্যে যারা ক্ষমতার অধিকারী।

(সূরায়ে নিসাঃ আয়াত নং ৫৯)



তিন------------

হযরত আমীরে মোআবিয়ার দ্বীনি খেদমত এবং তিনার হুকুমতের যুগে দ্বীন ইসলাম প্রচার প্রসারে পরিশ্রমী ও উত্‍সাহী হওয়াটা তিনার মর্যাদাকে আরো বৃদ্ধি ও সুস্পষ্ট করে দেয়। এবং তিনার কারণে ইসলামী রাষ্ট্রে যথেষ্ট বৃদ্ধি পেয়েছে।



চার------------

আহলে বায়আতগণের সাথে মুহাব্ত এবং তাঁদের ইজ্জত সম্মান করা তিনার আখলাক্বে হাসানার একটি সুস্পষ্ট রীতি ছিল। যদিও উমাইয়া বংশ এবং হাসেমী বংশে বংশগত মনোকষ্ট চলে আসছিল তা সত্বেও তিনি হাসেমী বংশের প্রত্যেকের সাথেই অত্যান্ত প্রফুল্ল ও হাস্য মুখে নম্র ব্যবহার করতেন। কখনো কখনো হাসেমী বংশের কেউ কটু ব্যবহার করলে তিনি অত্যান্ত বিনয়ের সাথে তা হেসে উড়িয়ে দিতেন। তিনি কখনোই তাদেরকে অর্থাত্‍ হাসেমী বংশের লোকদেরকে কর্তৃত্ব ও আভিজাত্যসম্পন্ন ভাব নিয়ে সম্বোধন করেন নি।



একটি সন্দেহ নিরসন----------

বাইয়াত এবং খেলাফতের ধারাবাহিকতায় হযরত আলী (রা.) থেকে যে সকল অপ্রিতিকর ঘটনা সংগঠিত হয়েছে এবং সময়ে সময়ে আলী (রা.) ও মোআবিয়া (রা.) এর মাঝে যেই ঝগড়া চলে আসছিলো, যার ফলে জঙ্গে সিফ্ফীন ও জঙ্গে জামাল সংগঠিত হয়, এর ফলে মোআবিয়া (রা.) কে শরয়ী ভাবে পাকড়াও করা হবে না। এবং এর ফলে তিনাকে তিরষ্কার বা ভর্ত্‍সনাও করা জায়েয হবে না। কেননা এ সকল যা কিছুই হয়েছে, তা ইজতেহাদী ভুলের উপর বর্তাবে।

আর ইজতেহাদী ভুলের কারণে শরয়ী ভাবে পাকড়াও করা হয় না। আর এটা ইসলামী শরীয়তের একটি প্রসিদ্ধ নিয়ম বা ক্বানুন।



আমীরে মোআবিয়া আশেক্বে রাসূল (সা.) ছিলেন-----------

হযরত আমীরে মোআবিয়ার বিশেষ একটি বৈশিষ্ট এই ছিল যে, হুজুর (সা.) পবিত্র চাদর, জামা, নখ এবং চুল মুবারক তিনার কাছে ছিল। এবং তিনার ওসিয়ত অনুযায়ী রাসূল (সা.) এর চাদর ও জামার দ্বারা তিনাকে কাফন দেওয়া হয়। চুল ও নখগুলো তিনার সেজদার অঙ্গ প্রতঙ্গে রেখে দেওয়া হয়ে ছিল।



সাবধানতা---------------

জ্ঞানী ব্যক্তিগণ একটু চিন্তা করে জবাব দিন যে, যেই আশেক্ব মৃত্যুর সময় এই তামান্না বা আকাংখা করে যে, "কবরে আমার মাহবুবের নখ, চুল আমার সাথে থাকবে" এই ধরণের আশেক্ব কি তার মাহবুবের আত্মীয় স্বজনের সাথে দুশমনি বা শত্রুতা রাখতে পারে ?



ঐতিহাসিক কাহীনি----------

স্বাধীন মেজাজের অনেক ব্যক্তি এমন আছে, যারা রাওয়াফেজ ও শীআ কর্তৃক দেওয়া অপবাদে কান দিয়ে মোআবিয়া (রা.) সম্পর্কে বেয়াদবি মূলক শব্দ ব্যবহার করা শুরু করে দেয়। ইতিহাসের কিছু বই পড়া-শোনা করে নিজেকে ঐতিহাসিক ভেবে বক বক করা শুরু করে দেয়। এমন ব্যক্তিদের জন্য উচিত সর্ব প্রথম নিজেদের উসৃংখল, অভদ্র, দুর্বিনীত জীবনের পরিক্ষা নেওয়া।

কেননা আমাদের পূর্ণ বিশ্বাস আছে যে, এ সকল ঐতিহাসিক কিতাবগুলো শুধু মাত্র কাহীনি।



হুজুর (সা.) এর বাণী,

ﻋﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻠﻪ ﺑﻦ ﻣﻌﻘﻞ ﺍﻟﻤﺰﻧﻲ ﻗﺎﻝ ﻗﺎﻝ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭ ﺳﻠﻢ : ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻟﻠﻪ ﻓﻲ ﺃﺻﺤﺎﺑﻲ ﻻ ﺗﺘﺨﺬﻭﻫﻢ ﻏﺮﺿﺎ ﻣﻦ ﺑﻌﺪﻱ ﻓﻤﻦ ﺃﺣﺒﻬﻢ ﻓﺒﺤﺒﻲ ﺃﺣﺒﻬﻢ ﻭ ﻣﻦ ﺃﺑﻐﻀﻬﻢ ﻓﺒﺒﻐﻀﻲ ﺃﺑﻐﻀﻬﻢ ﻭ ﻣﻦ ﺁﺫﺍﻫﻢ ﻓﻘﺪ ﺁﺫﺍﻧﻲ ﻭ ﻣﻦ ﺁﺫﺍﻧﻲ ﻓﻘﺪ ﺁﺫﻯ ﺍﻟﻠﻪ ﻭ ﻣﻦ ﺁﺫﻯ ﺍﻟﻠﻪ ﻳﻮﺷﻚ ﺃﻥ ﻳﺄﺧﺬﻩ ﻭ ﻗﺪ ﺫﻛﺮﻧﺎ ﺷﻮﺍﻫﺪﻩ ﻓﻲ ﻛﺘﺎﺏ ﺍﻟﻔﻀﺎﺋﻞ ﺷﻌﺐ ﺍﻹﻳﻤﺎﻥ –

ﺍﻟﺒﻴﻬﻘﻲ

অর্থাত্‍ "যে ব্যক্তি তাদেরকে ভালোবাসে সে যেন আমাকেই ভালোবাসলো, আর যে ব্যক্তি তাদেরকে কষ্ট দেয় সে যেন আমাকেই কষ্ট দিলো, আর যে আমাকে কষ্ট দিলো সে যেন আল্লাহকে কষ্ট দিলো" রাসূল (সা.) এর এই ভর্ত্‍সনার ব্যাপারে ভয় থাকা উচিত। কেননা অসমোচিন বা কটু বাক্য ব্যবহার করার কারণে স্বয়ং আমীরে মোআবিয়া যে কষ্ট পেয়ে থাকেন তা তো স্পষ্ট, কিন্তু সাথে সাথে সরওয়ারে কায়েনাত (সা.) ও আল্লাহকেও কষ্ট দেওয়া হয়ে থাকে। যার ফলাফল অত্যান্ত ভয়ানক হবে। অপরিণাম চিন্তা ভাবনা দ্বারা নিজের ঈমানকে নষ্ট করা কেমন দূরদর্শিতা?

যদি বাস্তবেই ইতিহাস পঠন আপনাকে অল্প সময়ের জন্য সন্দেহে নিক্ষেপ করে, তাহলে সঠিক পথ নির্দেশন শুধু মাত্র ইতিহাসের দ্বারায় হবে না।

কেননা ইসলামী ইতিহাসের কিতাবের ঐ অবস্থায়, যা আমাদের যুগে পত্রিকাগুলোর অবস্থা। ক্ষমতায় থাকলে এক রকম আর ক্ষমতাহীন অবস্থায় আরেক রকম।



ফয়সালা---------

বুযুর্গদের ব্যাপারে নিজের যবানকে কাবু রাখায় ইসলামের শিক্ষা। ছোট মুখে বড় কথা বলা অত্যান্ত অপছন্দনীয় কাজ।

ﺧﻄﺎﺋﮯ ﺑﺰﺭﮔﺎﮞ ﮔﺮﻓﺘﻦ ﺧﻄﺎﺳﺖ-

অর্থাত্‍ "বুযুর্গদের ভুল ধরাও ভুল" এটা অভিজ্ঞ ব্যক্তিদের কথা।



হুজুর (সা.) বলেন

ﻋَﻦْ ﺃَﺑِﻰ ﺳَﻌِﻴﺪٍ ﻗَﺎﻝَ ﻗَﺎﻝَ ﺭَﺳُﻮﻝُ ﺍﻟﻠَّﻪِ -ﺻﻠﻰ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ- » ﻻَ ﺗَﺴُﺒُّﻮﺍ ﺃَﺻْﺤَﺎﺑِﻰ ﻓَﻮَﺍﻟَّﺬِﻯ ﻧَﻔْﺴِﻰ ﺑِﻴَﺪِﻩِ ﻟَﻮْ ﺃَﻧْﻔَﻖَ ﺃَﺣَﺪُﻛُﻢْ ﻣِﺜْﻞَ ﺃُﺣُﺪٍ ﺫَﻫَﺒًﺎ ﻣَﺎ ﺑَﻠَﻎَ ﻣُﺪَّ ﺃَﺣَﺪِﻫِﻢْ ﻭَﻻَ ﻧَﺼِﻴﻔَﻪُ».

অর্থাত্‍ তোমরা আমার সাহাবাদেরকে গালি দিয়োনা। কেননা সত্তার কসম যার কুদরতি হাতে আমার প্রাণ, তোমাদের মধ্য থেকে কেউ যদি উহুদ পাহাড় পরিমাণ স্বর্ণও দান করে, তবু তা তাদের সমপরিমাণে পৌছবে না।



আমীরে মোআবিয়া (রা.) এর ইসলাম গ্রহণ করা স্বীকৃত। ইতিহাসে আছে যে

ﻣﻌﺎﻭﻳﺔ ﺑﻦ ﺃﺑﻲ ﺳﻔﻴﺎﻥ ﺻﺤﺎﺑﻲ ، ﺃﺳﻠﻢ ﻗﺒﻞ ﺍﻟﻔﺘﺢ ، ﻭﻛﺘﺐ ﺍﻟﻮﺣﻲ ، ﻭﻣﺎﺕ ﻓﻲ ﺭﺟﺐ ﺳﻨﺔ ﺳﺘﻴﻦ، ﻭﻗﺪﺭ

ﻗﺎﺭﺏ ﺍﻟﺘﻤﺎﻧﻴﻦ

অর্থাত্‍ মোআবিয়া ইবনে সুফিয়ান (রা.) সাহাবী। ফাতহে মক্কার পূর্বে ইসলাম গ্রহণ করেন। কাতেবে ওহী ছিলেন এবং রজব মাসে মৃত্যু বরণ করেন। এবং রাসূল (সা.) এর প্রাইভেট স্যাকরেটারী ছিলেন।

(তাক্বরিবুত তাহযিব)



বংশীয় সম্পর্ক---------

ইসলামী নিয়ম কানুন এবং ঐতিহাসিক বাস্তবতা হলো এই যে, হযরত আমীরে মোআবিয়াও হযরত আলী (রা.) ও রাসূল (সা.) এর নিকটতম নসব হওয়ার কারণে আহলে বাইয়াতদের মধ্যে শামীল ছিলেন। শীআদের অনেক বর্ণনা দ্বারাও তা প্রমাণিত। ইমাম যাফর বলেন

ﻗﺎﻝ ﺃﻧﺎ ﻭﺁﻝ ﺃﺑﻲ ﺳﻔﻴﺎﻥ ﺃﻫﻞ ﺑﻴﺘﻴﻦ : ﻣﻌﺎﻧﻲ ﺍﻷﺧﺒﺎﺭ ﺻـــــ 89 ﻣﻄﺒﻮﻋﺔ ﺇﻳﺮﺍﻧﻲ

অর্থাত্‍ আমি এবং আবু সুফিয়ান ওয়ালারা উভয়েই আহলে বাইয়াতের মধ্য থেকে ৷

মোআবিয়া (রা.) কুরাইশ বংশ থেকে ছিলেন। আব্দে মানাফের দুই ছেলে হাশেম ও উমাইয়া। হাশেমের বংশ থেকে হুজুর (সা.) ও আলী (রা.) ছিলেন আর উমাইয়া বংশ থেকে আবু সুফিয়ান ও আমীরে মোআবিয়া (রা.) ছিলেন।



"শীআ আয়েনায়ে হক্ব" নামক কিতাবের ১০৯ পৃষ্ঠায় আছে যে, ইমাম হাসান (রা.) বলেন, আল্লাহর কসম, আমীরে মোআবিয়া আমার জন্য অনেক উত্তম ঐ সকল ব্যক্তিদের থেকে, যারা নিজেদেরকে শীআ মনে করে।



এবং "ইলালুশ শারায়েআ" নামক কিতাবে ৮৩ পৃষ্টায় আছে যে,

ﺑﺎﻳﻊ ﺍﻟﺤﺴﻦ ﺑﻦ ﻋﻠﻰ ﺻﻠﻮﺓﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻣﻌﺎﻭﻳﺔ

অর্থাত্‍ "হযরত ইমাম হাসান ইবনে আলী (রা.) মোআবিয়ার হাতে বায়আত গ্রহণ করেন"।

এবং শীআদের ইমাম আল্লামা মাজলিসী তিনার কিতাব "জাআল উয়ুনে" এমনটিই লিখেছেন।



মোটকথা---------

এ সকল দলীল দ্বারা এটাই বুঝে আসে যে, হযরত আমীরে মোআবিয়া (রা.) শীআনে আলীর নিকট বড় মুত্তাকি, ঈমানদার, ইনসাফগার এবং মাহেরে কুরআন ছিলেন। অন্যথায় ইমাম হাসান (রা.) তিনাকে মানতেন না এবং বাইয়াতও গ্রহণ করতেন না। বরং নিজের ভাই ইমাম হুসাইন (রা.) এর মত লড়াই করে শহীদ হয়ে যেতেন এবং হযরত আলীও (রা.) হযরত মোআবিয়াকে ইমান ও ইসলামে নিজের সমকক্ষ্যও মনে করতেন না।



কাতেবে ওহী---------------

হুজুর (সা.) এর জন্য কিছু কাতেব বা লেখক ছিলেন যারা রাসূল (সা.) চিঠি পত্র লেখা লেখা করার পাশা পাশি ওহীও লেখতেন। তাদের মধ্যে জান্নাতের সু সংবাদ প্রাপ্ত দশ সাহাবীর মধ্য থেকে আবু বকর ও উমর (রা.)সহ অনেক জলীলুল ক্বদর সাহাবাগণ ছিলেন। তাদের মধ্য থেকে বিশেষ ভাবে আমীরে মোআবিয়া (রা.) সকল চিঠি পত্র লেখার সাথে সাথে ওহী লেখার মর্যাদাও ছিল।



ﻭﻛﺎﻥ ﻣﻌﺎﻭﻳﺔ ﻭ ﺯﻳﺪﺍ ﻟﺰﻣﻬﻢ ﻟﺬﻟﻚ ﻭ ﺍﺧﺼﻬﻢ ﺑﻪ-(ﺍﻟﻨﺎﻫﻴﺔ ﺹ·15),

অর্থাত্‍ মোআবিয়া ও যায়েদ (রা.) অন্যান্য কাতেবে ওহীদের তুলনায় তারা ওহী লেখার কাজে বেশী খাছ ছিলেন।



ﻗﺪ ﻛﺎﻥ ﻛﺎﺗﺐ ﻭﺣﻴﻪ ﻭ ﺍﻣﻴﻨﺔ

ﺳﻨﺪ ﺍﻻﻣﺎﻧﺔ ﺣﺎﺻﻞ ﻟﻤﻌﺎﻭﻳﺔ-

অর্থাত্‍ হযরত আমীরে মোআবিয়া (রা.) কাতেব ওহী ছিলেন। যার কারণে আমীন বা বিশ্বস্ততার সনদ তিনার অর্জন হয়ে ছিল। কেননা ওহীর মত গুরুত্বপূর্ণ কাজের দায়িত্ব তিনার উপর অর্পিত ছিল।



হযরত মোআবিয়া (রা.) বিশ্বস্ত হাদীস বর্ণনাকারী ছিলেন--------------------ইমাম যাহাবী (রাহ.) লিখেন যে, হযরত মোআবিয়া (রা.) রাসূল (সা.), আবু বকর সিদ্দীক, হযরতে উমর এবং নিজের বোন হযরতে হাবীবা (রা.) থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন।

আর মোআবিয়া (রা.) থেকে আবু যর গেফারী (রা.), হযরত ইবনে আব্বাস, হযরত আবু সাঈদ, হযরতে জারীর (রা.) এবং অন্যান্য সাহাবাদের এক জামাত হাদীস বর্ণনা করেছেন এবং তাবেঈনদের মধ্য থেকে যুবাইর, আবু ইদ্রিস খাওলানী, সাঈদ ইবনে মুসাইয়িব, খালেদ ইবনে মা'দান, আবু সালেহ সাম্মান, সাঈদ, হুমাম ইবনে মানবাহ এবং অন্যান্য আরো অনেকেই হাদীস বর্ণনা করেছেন।

ইমাম বুখারী (রাহ.) সহীহ বুখারীতে আটটি এবং মুসলিম (রাহ.)ও সহীহ মুসলিমে মোআবিয়া থেকে হাদীস বর্ণনা করেছেন। অথচ এই দুই জনের শর্তগুলো অনেক কঠিন এবং গায়রে সেক্বাহ, গায়রে যবেত্বাহ এবং কাজ্জাব রাবী থেকে কোন কিছু রেওয়াত করেন না।

(নেহায়া ১৭ নং পৃষ্ঠা)



হযরত মোআবিয়া (রা.) মুজতাহিদ ফক্বিহ ছিলেন-------

------ইমাম মুহাম্মাদ ইবনে ইসমাঈল বুখারী (রাহ.) ইবনে আবী মুলায়কা থেকে বর্ণনা করেন যে, তিনি হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আব্বাস (রা.) কে জিজ্ঞাসা করেন যে, মোআবিয়ার উপর এই কারণে কোন অভিযোগ আছে কি যে তিনি বেতর এক রাকাত পড়েন?

ইবনে আব্বাস (রা.) উত্তরে বলেন-

ﺍﺻﺎﺏ ﺍﻧﻪ ﻓﻘﻴﻪ-

অর্থাত্‍ তিনি ঠিকই করেছেন। কেননা তিনি ফক্বিহ মুজতাহিদ।

অন্য রেওয়াতে আছে-

ﺩﻋﻪ ﻓﺎﻧﻪ ﺻﺤﺐ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ-

অর্থাত্‍ "তিনাকে ছেড়ে দাও (অর্থাত্‍ কোন মন্তব্য করো না)। কেননা তিনি রাসূল (সা.) এর সাহচর্যে ছিলেন"।

আর ফুকাহায়ে কেরামগণ মোআবিয়ার ইজতেহাদে ভরসা করেছেন। তাই তো যখন সাহাবাদের ইজতেহাদের কথা উল্লেখ করা হয় তখন হযরত আমীরে মোআবিয়ার ইজতেহাদও উল্লেখ করা হয়।

আল্লামা ইবনে হাজর (রাহ.) লিখেন-

ﻭﻣﻦ ﺍﻋﺘﻘﺎﺩ ﺍﻫﻞ ﺍﻟﺴﻨﺔ ﻭ

ﺍﻟﺠﻤﺎﻋﺖ ﺍﻥ ﻣﻌﺎﻭﻳﺔ ﻟﻢ ﺑﻜﻦ ﻓﻲ ﺍﻳﺎﻡ ﻋﻠﻲ ﺧﻠﻴﻔﺔ ﻭ ﺍﻧﻤﺎ ﻛﺎﻥ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﻠﻮﻙ ﻭ ﻏﺎﻳﺔ ﺍﺟﺘﻬﺎﺩﻩ ﺍﻳﻀﺎ ﺍﻧﻪ

ﻛﺎﻥ ﻟﻪ ﺍﺟﺮﺍ ﻭﺍﺣﺪ ﻋﻠﻲ ﺍﺟﺘﻬﺎﺩﻩ- -(ﺍﻟﺼﻮﺍﻋﻖ ﺍﻟﻤﺤﺮﻗﺔ، ﺹ217)

অর্থাত্‍ আহলে সুন্নাত ওয়াল জামাতের আকীদা হলো যে, আমীরে মোআবিয়া (রা.) হযরত আলী (রা.) এর খেলাফত কালে একজন বাদশাহ ছিলেন এবং নিজের অবস্থান থেকে ইজতেহাদ করেছেন। যদিও তা ভুল হয়েছিল কিন্তু তা সত্বেও তিনি এক নেকী পেয়ে যাবেন। (কেননা মুজতাহিদের ইজতেহাদ সঠিক হলে দুই নেই আর ভুল হলেও তার আমল নামায় এক নেকী লেখা হয়ে থাকে।)



প্রত্যেক সাহাবী বিশেষ করে আমীরে মোআবিয়া (রা.) এর দোষধরা নিষেধ----------



সলফে সালেহীনগণ সাহাবাদের দোষধরলে কঠিন গোস্সা করতেন। কোন এক ব্যক্তি হযরত মা'ফী ইবনে ইমরানকে জিজ্ঞাসা করলেন যে, উমর ইবনে আব্দুল আজীজ এবং আমীরে মোআবিয়ার মধ্যে কে উত্তম?

তিনি রাগান্নিত হয়ে বললে-

ﻻﻳﻘﺎﺱ ﺍﺣﺪ ﺑﺎﺻﺤﺎﺏ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻣﻌﺎﻭﻳﺔ ﺻﺎﺣﺒﻪ ﻭ ﺻﻬﺮﻩ ﻭ ﻛﺎﺗﺒﻪ ﻭ ﺍﻣﻴﻨﻪ ﻋﻠﻲ ﻭﺣﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﺰﻭﺟﻞ-

ﺷﻔﺎﺀ ﺷﺮﻳﻒ؛ 2/43

অর্থাত্‍ কোন ব্যক্তিকে রাসূলের সাহাবার উপর তুলনা করো না। মোআবিয়া রাসূলের সাহাবী, শশুর বংশীয় আত্মীয় এবং রাসূলের কাতেব ও আল্লাহর ওহীর বিশ্বস্ত ব্যক্তি ছিলেন।



হযরত মোআবিয়া (রা.) রাসূল (সা.) এর শ্যালক ছিলেন----------

হযরত মোআবিয়া (রা.) এর বোন হযরত উম্মে হাবীবা বিনতে আবী সুফিয়ান (রা.) রাসূল (সা.) এর মুহতারামা স্ত্রী ছিলেন। এই জন্যই মোআবিয়া রাসূলের শ্যালক ছিলেন। আর রাসূল (সা.) নিজের শশুরালয় আত্মীয়দের ক্ষেত্রে বলেছেন, নিঃসন্দেহে আল্লাহ তা'য়ালা আমাকে নির্বাচিত করেছেন এবং আমার সাহাবাদেরকেও নির্বাচিত করেছেন। সুতরাং তারা আমার সাথি। আমার শশুরালয়ের আত্মীয়গণকে সাহায্যকারী বানিয়েছেন। অচিরেই তাদের পরে একটি জাতির আবির্ভাব হবে যারা তাদেরকে গালি দিবে। তোমরা তাদের সাথে (গোস্তাখদের সাথে) বসিয়ো না এবং তাদের সাথে বসে খাবার খেয়ো না না। তাদের আত্মীয় করিয়ো না, তাদের জানাযা পড়িয়ো না এবং তাদের সাথে নামাযও পড়িয়ো না।

(নুযহাতুন নাযিরীন ৩৬নং পৃষ্ঠা)



ইশক্বে রাসূল (সা.)-----------

ক্বাযী ইয়াজ মালেকী লিখেন যে, হযরত মোআবিয়া (রা.) ক্বাবেস ইবনে রবিয়ার ব্যাপারে শুনলেন যে, তিনি রাসূল (সা.) এর সাথে সাদৃশ্য রাখেন। অতঃপর যখন সে তিনার ঘরে প্রবেশ করেন, তখন তার সম্মানার্থে খাট, পালঙ্ক থেকে দাড়িয়ে যান এবং তার সাথে সাক্ষাত করেন এবং তার চোখে চুমা দেন। এবং মোআবিয়া (রা.) তার জন্য মরগাব নামক এলাকা জায়গীর হিসেবে ওয়াকফ করে দেন শুধু মাত্র এই কারণেই যে, তার সাথে রাসূল (রা.) এর মিল ছিল। (শীফা শরীফ ২/৪০)



হযরত মোআবিয়া (রা.) সুন্নাতের অনুসারী ছিলেন-------------



ইমাম বাগভী রহ. ﺷﺮﺡ ﺍﻟﺴﻨﺔ-



কিতাবে বর্ণনা করেন যে, একবার হযরত আমীরে মোআবিয়া (রা.) বের হলেন, এমন অবস্থায় হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) এবং আব্দুল্লাহ ইবনে যুবায়ের (রা.) বসা ছিলেন। মোআবিয়াকে দেখে ইবনে আমের দাড়ালেন ঠিক, কিন্তু ইবনে যুবায়ের বসেই রইলেন। ইহা দেখে হযরত মোআবিয়া (রা.) বললেন, নিঃসন্দেহ রাসূল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি ইচ্ছা করে যে লোকেরা যেন তার সামনে দাড়িয়ে যায়, তাহলে সে যেন নিজের ঠিকানা জাহান্নামে বানিয়ে নিলো।

(ﺍﻟﻨﺎﻫﻴﺔ পৃষ্ঠা নং ৩০)



এখানে চিন্তার বিষয় হলো, মোআবিয়া (রা.) কিন্তু নিজের জন্য ক্বিয়ামে তা'যিমকে পছন্দ করেননি। আর এটা শুধু মাত্র সুন্নাতের অনুসরণ এবং হাদীসের উপর আমালের কারণেই হয়েছিল।



"সর্ব প্রথম যে ব্যক্তি আমার সুন্নাতকে পরিবর্তন করবে সে বনি উমাইয়ার যায়েদ নামক ব্যক্তি হবে" এই হাদীস দ্বারা এটাই বুঝে আসে যে, হযরত আমীরে মোআবিয়া (রা.) সুন্নাতের আমেল ছিলেন।

(কিতাব ﺍﻟﻨﺎﻫﻴﺔ পৃঃ ৩০)



হযরত মোআবিয়া (রা.) ইনসাফকারী সাহাবী ছিলেন-----

ইমাম ক্বাসত্বলানী রহ. শরহে বুখারিতে লিখেছেন যে, মোআবিয়া (রাঃ) অনেক গুণাবলীর অধিকারী ছিলেন।



ইমাম নবওয়ী রহ. শরহে মুসলিম শরীফে লিখেন যে,

ﻫﻮ ﻣﻦ ﻋﺪﻭﻝ ﺍﻟﻔﻀﻼ ﻭﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ ﺍﻟﺨﻴﺎﺭ-

অর্থাত্‍ হযরত মোআবিয়া (রা.) ইনসাফগার এবং উত্তম সাহাবীদের মধ্য থেকে ছিলেন।



এবং নাবরাস লিখেন যে,

ﻳﻜﺘﺐ ﺍﻟﻤﺤﺪﺛﻮﻥ ﺑﻌﺪ ﺍﺳﻤﻪ

"ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ" ﻛﺴﺎﺋﺮ ﺍﻟﺼﺤﺎﺑﺔ ﺑﻼ ﻓﺮﻕ-



অর্থাত্‍ মুহাদ্দেসীনে কেরামগণ মোআবিয়া (রা.) এর শেষে সব সাহাবাদের মত

"ﺭﺿﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻨﻪ"

লেখেন। এতে কোন পার্থক্য করেন না।

(সূত্র ﺍﻟﻨﺎﻫﻴﺔ পৃঃ ১৭)



হযরত মোআবিয়া (রা.) কে ক্ষমা করে দেওয়া হয়েছে------------------------ মুহাদ্দিস ইবনে আসাকীর হযরত ইবনে আব্বাস থেকে বর্ণনা করেন যে-

ﻛﻨﺖ ﻋﻨﺪ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻣﺴﻠﻢ ﻭ ﻋﻨﺪﻩ ﺍﺑﻮﺑﻜﺮ ﻭ ﻋﻤﺮ ﻭ ﻋﺜﻤﺎﻥ ﻭ ﻋﻠﻲ ﻓﻘﺎﻝ ﺍﻟﻨﺒﻲ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﻟﻤﻌﺎﻭﻳﺔ ﺍﺗﺤﺐ ﻋﻠﻴﺎ؟ ﻗﺎﻝ ﻧﻌﻢ ﻗﺎﻝ ﺍﻧﻬﺎ ﺳﺘﻜﻮﻥ

ﺑﻴﻨﻜﻢ ﻫﻨﻴﺔ ﻗﺎﻝ ﻣﻌﺎﻭﻳﺔ ﻓﻤﺎ ﺑﻌﺪ ﺫﻟﻚ ﻳﺎ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﻗﺎﻝ ﻋﻔﻮﺍﻟﻠﻪ ﻭ ﺭﺿﻮﺍﻧﻪ ﻗﺎﻝ ﺭﺿﻴﻨﺎ ﺑﻘﻀﺎﺀ ﺍﻟﻠﻪ-

অর্থাত্‍ আমি এবং আবু বকর ও উসমান (রা.) রাসূল (সা.) এর খেদমতে উপস্থিত ছিলাম। হঠাত্‍ হযরত আলী (রা.) আগমন করেন। তখন রাসূল (সা.) মোআবিয়াকে জিজ্ঞাসা করলেন, তুমি কী আলীকে ভালোবাসো?

মোআবিয়া বললে, হ্যাঁ।

রাসূল (সা.) বললেন, তোমাদের মধ্যে যুদ্ধ হবে। মোআবিয়া আরয করেন অতঃপর কী হবে ইয়া রাসূল আল্লাহ?

রাসূল (সা.) বললেন, আল্লাহর ক্ষমা ও সন্তুষ্টি।

মোআবিয়া (রা.) বলেন, আমরা আল্লাহর ফায়সালার উপর সন্তুষ্ট।



বাদশাহীর ব্যাপারে সুসংবাদ---------- হাদীসে আছে, কা'বুল আহবার হযরত মোআবিয়া (রা.) কে অনুসরণ করার পূর্বে তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন যে, এই উম্মতের কোন ব্যক্তিই মোআবিয়ার মত রাজত্বের বাদশাহ হতে পারবে না।

(তারিখুল খুলাফা ১৪৯নং পৃঃ)



আক্বায়েদে মোআবিয়া (রা.)-------------

হযরত মোআবিয়া (রা.) নিজেই বর্ণনা করেন যে, যখন আমি রাসূল (সা.) কে এই কথা বলতে শুনলাম যে, "হে মোআবিয়া! যখন তুমি বাদশাহ হবে, তখন মানুষদের সাথে ভালো ব্যবহার করিয়ো"।

তখন থেকেই আমার বাদশাহী পাওয়ার আকাংখ্যা হয়।

(তারিখুল খুলাফা ২/৪১৬, ইমাম রব্বানী প্রকাশনী)



আমীরে মোআবিয়ার সুলতানাত প্রকৃত পক্ষে নবভী সুলতানাত ছিল-----------আমীরে মোআবিয়া প্রথম ইসলামী বাদশাহ।

তিনার সম্পর্কেই তাওরাতে আছে যে,

ﻣﻮﻟﺪﻩ ﺍﻟﻤﻜﺔ ﻭ ﻣﻬﺎﺟﺮﻩ ﺍﻟﻄﻴﺒﺔ ﻭ ﻣﻠﻜﻪ ﺑﺎﻟﺸﺎﻡ ﻧﺒﻲ ﺁﺧﺮ ﺍﻟﺰﻣﺎﻥ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ



অর্থাত্‍ শেষ নবীর জামানায় একজন ব্যক্তি মক্কায় জন্ম গ্রহণ করবে, মদিনায় হিজরত করবে এবং শামে তার বাদশাহী হবে।



ইমাম হাসান (রা.) এর পক্ষ্য থেকে সন্ধি------------

যুদ্ধের ময়দানে হযরত ইমাম হাসান (রা.) জান উত্‍স্বর্গকারী এক বাহিনী নিয়ে আমিরে মোআবিয়ার নিকট সন্ধির ইচ্ছায় হাতিয়ার রেখে দিয়ে ছিলেন। এবং খেলাফত আমীরে মোআবিয়ার নিকট অর্পন করে দেন ও মোআবিয়ার হাতে বাইয়াত গ্রহণ করেন।

হুজুর (সা.) এই সন্ধিকে পছন করে ছিলেন এবং সুসংবাদ দিয়ে ছিলেন এবং ইমাম হাসান সম্পর্কে বলেছিলেন-

ﺍﻥ ﺍﺑﻨﻲ ﻫﺬﺍ ﺳﻴﺪ ﻟﻌﻞ ﺍﻟﻠﻪ ﺍﻥ ﻳﺼﻠﺢ ﺑﻪ ﺑﻴﻦ ﻓﺌﺘﻴﻦ ﻋﻈﻴﻤﺘﻴﻦ ﻣﻦ ﺍﻟﻤﺴﻠﻤﻴﻦ-

অর্থাত্‍ আমার বেটা সাঈয়িদ এবং আশা পোষণ করি যে, আল্লাহ তাঁর মধ্যমে দুইটি বড় ইসলামী দলের মধ্য সন্ধি কায়েম হবে।



সুতরাং যারা মোআবিয়ার ব্যাপারে (নাউযুবিল্লাহ) অবাধ্যতা, পাপ, নাফরমানীর অপবাদ দেয়, প্রকৃত পক্ষে তারা ইমাম হাসান (রা.) বরং রাসূল (সা.) বরং আল্লাহর উপরেই অপবাদ দেয়।

(বাহারে শরিয়ত ১/৭৫)



হযরত মোআবিয়া (রা.) সফল রাষ্ট নায়ক ছিলেন-----------



হযরত মোআবিয়ার সব চেয়ে বড় সৌন্দর্য এই ছিল যে, তিনি সাহাবাদের যুগে ৪০ বছর সফলতার সাথে রাষ্ট্র পরিচালনা করেন। তিনাকে হযরত উমরে ফারুক্ব (রা.) শামের গভর্নর বানিয়ে ছিলেন। অতঃপর উসমানও (রা.) মোআবিয়াকে তিনার হুকুমতেই বহাল রাখেন।

(সূত্র ﺍﻟﻨﺎﻫﻴﺔ- পৃঃ ২৬)



হযরত মোআবিয়া (রা.) আদেল বাদশাহ ছিলেন---------

হযরত মুজাদ্দেদে আলফে সানী বলেন-

ﻛﻴﻒ ﻳﻜﻮﻥ ﺟﺎﺋﺮ ﺍﻭ ﻗﺪ ﺻﺢ ﺍﻧﻪ ﻛﺎﻥ ﺍﻣﺎﻣﺎ ﻋﺎﺩ ﻻ ﻓﻲ ﺣﻘﻮﻕ ﺍﻟﻠﻪ ﺳﺒﺤﺎﻧﻪ ﻭﻓﻲ ﺣﻘﻮﻕ ﺍﻟﻤﺴﻠﻤﻴﻦ

ﻛﻤﺎ ﻓﻲ ﺍﻟﺼﻮﺍﻋﻖ-



অর্থাত্‍ হযরত মোআবিয়া (রা.) কিভাবে পাপাচার ও নাফরমান হতে পারে? যখন এটা প্রমাণিত যে, তিনি আল্লাহ ও মুসলমানদের হক্বে ইনসাফগার ছিলেন। (অর্থাত্‍ আল্লাহ এবং মুসলামনদের হক্ব আদায় করেছেন) যেমনটা ইমাম ইবনে হাজার "সওয়ায়েক্বে মুহরিক্বা" নামক লিখেছেন।

(মাকতুবাতে ইমাম রব্বানি ১/৪১৫)



পরিশিষ্ট---------

যদি কোন সাহাবীর ব্যাপারে ফজিলতের কোন হাদীস পাওয়া না যায় তবুও তাদের মর্যাদা কমবে না। তাদের ফজিলতের জন্য এতটুকুই যথেষ্ট যে, তাঁরা রাসূল (সা.) এর সাহাবী।

হযরত মোআবিয়া (রা.) এমনি একজন সৌভাগ্যবান সাহাবী যে, রাসূল সা. তাঁর ফজিলত বর্ণনা করেছেন এবং নিজের কবুলকৃত দোয়ার দ্বারা অলংকৃত করেছেন।

যা পূর্বে কিছু বর্ণনা করা হয়েছে।



একদা হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে মুবারক রহ. কে জিজ্ঞাসা করা হলো, ওমর ইবনে আব্দুল আজিজ রহ. উত্তম নাকি আমীরে মোআবিয়া (রা.) ?

তিনি বললেন-

ﻏﺒﺎﺭ ﺩﺧﻞ ﻓﻲ ﺍﻧﻒ ﻓﺮﺱ ﻣﻌﺎﻭﻳﺔ ﺣﻴﻦ ﻓﻲ ﺭﻛﺎﺏ ﺭﺳﻮﻝ ﺍﻟﻠﻪ ﺻﻠﻲ ﺍﻟﻠﻪ ﻋﻠﻴﻪ ﻭﺳﻠﻢ ﺍﻓﻀﻞ ﻣﻦ ﻛﺬﺍ ﻣﻦ ﻋﻤﺮ ﺑﻦ ﻋﺒﺪ ﺍﻟﻌﺰﻳﺰ ﺍﻟﻤﺤﺎﻳﺔ ﻟﻼﻣﻴﺮ ﻣﻌﺎﻭﻳﺔ -

অর্থাত্‍ আমীরে মোআবিয়া (রা.) যেই ঘোড়ায় সওয়ার হয়ে হুজুর (সা.) এর সাথে যুদ্ধ শরীক হয়েছেন ঐ ঘোড়ার নাকে সকল ধুলা-বালি প্রবেশ করেছে তাও উমর ইবনে আব্দুল আজিজ থেকে উত্তম।

(শরহে মেশকাত)

(উমর ইবনে আব্দুল আজিজকে পঞ্চম খলিফা বলা হয়ে থাকে এবং তিনার কথাকে দলীল হিসেবে গ্রহণ করা হয়। হযরত খিজির (আ.) তিনার সাথে সাক্ষাত্‍ করার জন্য আসতেন। তিনিই সর্ব প্রথম হাদীস একত্রিত করার আদেশ দেন।)



সাহাবায়ে কেরামগণ এবং মুহাদ্দিসীনে কেরামগণ আমীরে মোআবিয়ার প্রসংশা করতেন। অথচ ইনারা আমীরে মোআবিয়া এবং আলী (রা.) মাঝে যুদ্ধ সংগঠিত হওয়ার ব্যাপারে খুব ভালো ভাবেই অবগত ছিলেন।



হেকমত--------------

হযরত আমীরে মোআবিয়া (রা.) কে লানত দেওয়ার মধ্য সব চেয়ে বড় একটি হেকমত এই হতে পারে যে, হযর তিনার থেকে এমন কোন একটি বিষয় সংগঠিত হয়ে গেছে, যার বদলায় আল্লাহর ইচ্ছা যে তাঁর জন্য কিয়ামত পর্যন্ত আমলে সালেহ জারী থাকবে।



আর যেহেতু শীআরা মুরতাদ, তাদের কোন সওয়াব নেই, তাই সুন্নীদের মধ্য থেকে এক দল মোআবিয়া তিরস্কার শুরু করেছে, আর তাদের নেকগুলো মোআবিয়া (রা.) এর জন্য জমা হতে থাকে।



মোকাদ্দামাহ বা ভূমিকা--------------প্রশ্ন-উত্তরে যাওয়ার পূর্বে কয়েকটা বিষয় জেনে রাখা খুবই জরুরী।

১. ইবনু আরবী "আরিযাতু আহওয়াযি" নামক কিতাবে লিখেছেন যে, হযরত মোআবিয়া (রা.) সম্পর্কে দুশমনেরা মন গড়া গল্প কাহীনি তৈরি করেছে।



এবং তিনাকে রাসূল (সা.) এর দিকে সম্বন্ধযুক্ত করে যা বলেছে সবই ভুল। আর কিছু হাদীস আছে যা গ্রহণযোগ, তবে সে হাদীসের প্রয়োগের স্থান ভুল। যাদের কাছ থেকে এ ধরণের কথা বর্ণনা হয়েছে তারা নিজেরাই পথভ্রষ্ট এবং আহলে সুন্নাহ ওয়াল জামাতের আকীদা থেকে অনেক দূরে তাদের অবস্থান। তাই তাদের কথার উপর ভরসা করা যাবে না।



২. পবিত্র কুরআনে সাহাবায়ে কেরামের বার বার প্রসংশা করা হয়েছে, আর প্রসংশা মূলক হাদীস তো অগনিত।

যে ব্যক্তি আল্লাহ এবং তাঁর রাসূলকে মানে, অথচ তাঁদের কথার প্রতি ভ্রুক্ষেপ না করে, কিছু ইতিহাসের উপর নির্ভর করে সাহাবাদের সাথে দুশমনি করে। তাহলে সে যেন নিশ্চিত ভাবে জেনে নেয় যে, সে জীবিত জাহান্নামী।



৩. হযরত মোআবিয়া (রা.) এর যে সকল অভিযোগ করা হয়েছে, তার অধিকাংশই মনগড়া। যদি কিছু রেওয়াতে কিছু থেকেই থাকে, তাহলে তাতে তা'বীল করা আবশ্যক। এই জন্যই যে ক্বায়েদা হলো, সম্মানিত হযরতগণের ভুল ধরাও ভুল। তাই তো শেখ সাদী রহ. বলেন-

ﺧﻄﺎﺋﮯ ﺑﺰﺭﮔﺎﮞ ﮔﺮﻓﺘﻦ ﺧﻄﺎﺳﺖ-

অর্থাত্‍ "বুযুর্গদের ভুল ধরাও ভুল"।



এক নং প্রশ্ন ও তার জবাব--------------

কতক মুহাদ্দেসীনগণ যাদের মধ্যে মাজদুদ্দীন সিরাজীও শামীল, তারা বলে থাকে যে, মোআবিয়ার ফজিলত সম্পর্কে কোন সহীহ হাদীস বর্ণনিত হয়নি। এমনি ভাবে ইমাম বুখারী রহ. ইবনে আবী মুলাইকাহ এর হাদীসের উপর "বাবে জিকরে মোআবিয়া" উনওয়ান কায়েম করেছেন। অন্যান্য সাহাবীদের ন্যায় ফজিলতের উনওয়ান রাখা হয়নি।



এক নং জবাব--------------

এর পূর্বে দুইটি হাদীস বর্ণনা করা হয়েছে ১টি মুসনাদে আহমদের ২য় টি তিরমিজী শরীফের। সুতরাং যদি সহীহ দ্বারা নেতিবাচক সাব্যস্ত করা উদ্দেশ্য হয় অর্থাত্‍ কোন হাদীস নেই এটা বলার উদ্দেশ্য হয়ে থাকে, তবে তাদের কথাটি অগ্রহণযোগ। আর যদি সহীহ দ্বারা মুহাদ্দেসীনদের পরিভাষার সহীহ উদ্দেশ্য হয়, তাহলে কোন সমস্যা নেই। কেননা সহীহ হাদীসের সংখ্যা অনেক কম হওয়ার কারণে অধিকাংশ মানাক্বেবের হাদীসগুলো হাসান দ্বারাই প্রমাণিত।



দুই নং জবাব--------------

মুসনাদ এবং সুনানের হাদীসের দরযাহ বা স্থান হাসানের চেয়ে কম নয়। এবং ফন্নে হাদীসে সাব্যস্ত হয়েছে যে, যয়ীফ হাদীসের উপরও আমল করা যায়। আর হাসান হাদীসের তো কথা নেই।



তিন নং জবাব--------------

শায়খ মাজদুদ্দিন হোক বা অন্য যে কোন মুহাদ্দিসই হোক না কেন তাদের কথাটা তাদের মুতালাআ বা জানার মধ্যেই সিমাব্ধ থাকবে এবং আসলকে অস্বিকার করা হবে না। যেমন- ইমাম মালেক রহ. ওয়ায়েস করনীর অস্থিত্ত অস্বিকার করেছেন। এটা তিনার মালুমাতের সাথে সম্পৃক্ত। এর দ্বারা কিন্তু ওয়ায়েস করনীর অস্থিত্তকে অস্বীকার করা হবে না।



চার নং জবাব-------------

ইমামের বুখারী রহ. এর তরজের উত্তর দেওয়া হবে যে, এটা উনার তাফান্নুন ফীল কালাম অর্থাত্‍ তিনি একই কথাকে বিভিন্ন পদ্ধতি বলে থাকেন। যেমন তিনি উসামা ইবন যুবায়ের, আব্দুল্লাহ ইবনে সালেম, যুবায়ের ইবনে মুত'য়িম ইবনে আব্দুল্লাহ (রা.) সাহাবাদের বর্ণনা ঐ উনওয়ানেই কায়েম করেছেন।



পাঁচ নং জবাব--------------

কারো যিকির করা তার মুহাব্বতের বর্হিপ্রকাশ। হাদীসে আছে-

ﻣﻦ ﺍﺣﺐ ﺷﻴﺌﺎ ﺍﻛﺜﺮ ﺫﻛﺮﻩ

অর্থাত্‍ যে যাকে মুহাব্বত করে তাকে বেশী বেশী স্বরণ করে থাকে।



তাই জিকিরটাও মদাহ বা প্রসংশা।



হুজুর (সা.) বলেছেন-

ﺫﻛﺮ ﺍﻻﻧﺒﻴﺎﺀ ﻋﺒﺎﺩﺓ ﻭ ﺫﻛﺮ ﺍﻻﻭﻟﻴﺎﺀ ﻛﻔﺎﺭﺓ ﻟﻠﺬﻧﻮﺏ

অর্থাত্‍ নবীদের স্বরণ করা ইবাদত এবং আওলিয়াগণের স্বরণ করা গোনাহের কাফ্ফারা।



এবং প্রসিদ্ধ আছে যে-

ﺗﻨﺰﻝ ﺍﻟﺮﺣﻤﺔ ﻋﻨﺪ ﺫﻛﺮ ﺍﻟﺼﺎﻟﺤﻴﻦ-

আল্লাহ ওয়ালাদের স্বরণ করলে রহমত নাযিল হয়।



তাই ইমাম বুখারি রহ. এর মোআবিয়া (রা.) এর উনুওয়ান কায়েম করার দ্বারা মানাক্বে এবং ফজিলতের দলীল হবে না তো কিসের দলিল হবে?



চলবে ইনশাআল্লাহ





মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.