| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের পশ্চিমাঞ্চলীয় হেরাত প্রদেশের চিকিৎসা সেবায় যুগান্তকারী সাফল্য অর্জিত হয়েছে। পাকিস্তানের সীমান্ত বন্ধ থাকায় সৃষ্ট চ্যালেঞ্জকে সুযোগে রূপান্তরিত করে প্রদেশের হাসপাতালগুলোতে এবার প্রথমবারের মতো অত্যন্ত জটিল ও উন্নত মানের অস্ত্রোপচার শুরু হয়েছে। মস্তিষ্ক, মেরুদণ্ড, পাকস্থলী, ফুসফুস ও যকৃতের ক্যান্সারসহ নানা ধরনের জটিল অপারেশন স্থানীয়ভাবে সফলতার সাথে সম্পাদিত হচ্ছে, যা আফগান রোগীদের জন্য বিদেশ ভ্রমণের প্রয়োজনীয়তা ক্রমশই কমিয়ে আনছে।
হেরাত প্রাদেশিক জনস্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, সম্প্রতি পাকিস্তানের সীমান্ত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর থেকে হেরাতের হাসপাতালগুলোতে এমন কিছু অত্যন্ত উন্নত ও জটিল অস্ত্রোপচার সফলভাবে সম্পন্ন করা সম্ভব হয়েছে, যা এখানে ইতোপূর্বে কখনও করা হয়নি। এসব অস্ত্রোপচারের মধ্যে রয়েছে মস্তিষ্ক ও মেরুদণ্ডের টিউমার অপসারণ, খাদ্যনালী ও পাকস্থলীর ক্যান্সার সার্জারি, ফুসফুস ও যকৃতের ক্যান্সারের চিকিৎসা এবং থাইরয়েড ও চোয়ালের ক্যান্সারজনিত টিউমার অপসারণ।
হেরাত প্রাদেশিক জনস্বাস্থ্য বিভাগের উপ-পরিচালক গোলাম মুহাম্মদ হানিফি বলেন, “যেসব অস্ত্রোপচারের জন্য আফগানরা পূর্বে বিদেশে যেত, সেগুলো এখন হেরাতেই করা হচ্ছে। বর্তমানে খুব কম সংখ্যক রোগীকে চিকিৎসার জন্য বিদেশ যেতে হচ্ছে।”
নিউরো সার্জন ডাক্তার মুহাম্মদ ইউনুস ইকবাল বলেন, “এই ধরনের অস্ত্রোপচার বিশ্বব্যাপীই বিরল এবং সাধারণত ইউরোপীয় দেশ বা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে করা হয়। প্রতিবেশী দেশগুলোতে এমন অপারেশন অত্যন্ত অস্বাভাবিক।”
শুকুফা নামে একজন রোগী জানান, তিনি পাকিস্তানে চিকিৎসার জন্য যাওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন, কিন্তু সীমান্ত বন্ধ থাকায় তিনি হেরাতের একটি হাসপাতালেই অস্ত্রোপচার করান। শুকুফা বলেন, “আমি চিন্তিত ছিলাম যে আমার রোগের চিকিৎসা কীভাবে হবে, কিন্তু আল্লাহ তায়ালার মেহেরবানীতে অস্ত্রোপচারটি সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন আমি সুস্থ হয়ে উঠেছি, ভালো আছি। আমার সব অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ নড়াচড়া করতে পারছে, আমি খুব খুশি।”
হেরাত জনস্বাস্থ্য বিভাগ আরও জানায়, গত কয়েক মাসে বিদেশ থেকে কয়েক ডজন আফগান বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দেশে ফিরে এসেছেন। হেরাতের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় সাম্প্রতিক উন্নতির ফলে এখন অনেক রোগীকে আর প্রতিবেশী দেশগুলোতে যাওয়ার প্রয়োজন হচ্ছে না।
হেরাত প্রদেশের চিকিৎসা খাতের এই যুগান্তকারী অগ্রগতি ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানে স্থানীয় দক্ষতা ও পরিকাঠামো উন্নয়নের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। পাকিস্তান সীমান্ত বন্ধের মতো একটি বাহ্যিক চ্যালেঞ্জকে দেশীয় চিকিৎসকদের প্রতিভা ও দৃঢ় প্রত্যয়ের মাধ্যমে অভূতপূর্ব সাফল্যে রূপান্তরিত করা হয়েছে। এটি কেবল হেরাতের স্বাস্থ্যসেবার মানকে নতুন উচ্চতায়ই নিয়ে যায়নি, বরং সার্বিকভাবে জাতীয় পর্যায়ে চিকিৎসা ক্ষেত্রে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জনের পথকেও সুগম করেছে। বিদেশি নির্ভরতা কমিয়ে এনে ও দেশের মেধাবী চিকিৎসকদের জন্য কাজের পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে ইমারাতে ইসলামিয়ার স্বাস্থ্যখাত একটি নতুন দিগন্তের সূচনা করেছে।
©somewhere in net ltd.