| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
আফগানিস্তানকে কেন্দ্র করে আঞ্চলিক বাণিজ্য ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন মাত্রা যোগ করার পরিকল্পনা করছে ইরান। বিশ্লেষণধর্মী প্রকাশনা ইউরেশিয়া রিভিউ–এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান আফগানিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে চীনের সঙ্গে সরাসরি স্থলভিত্তিক রেল যোগাযোগ স্থাপনের একটি বৃহৎ ট্রানজিট প্রকল্প নিয়ে পরিকল্পনা করছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আফগানিস্তানের মধ্য দিয়েই তেহরান থেকে বেইজিং পর্যন্ত একটি নতুন রেল করিডোর গড়ে উঠবে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রস্তাবিত এই করিডোরের ভিত্তি হিসেবে ব্যবহৃত হবে খাফ–হেরাত রেলপথ। বর্তমানে বিদ্যমান এই রেললাইনকে প্রথমে বালখ প্রদেশ পর্যন্ত এবং পরবর্তীতে বাদাখশান প্রদেশের ওয়াখান অঞ্চলের দিকে সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে আফগানিস্তানের বিস্তীর্ণ ভূখণ্ড অতিক্রম করে ইরান ও চীনের মধ্যে একটি সরাসরি রেল সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
ইউরেশিয়া রিভিউ উল্লেখ করেছে, বর্তমানে ইরান ও চীনের মধ্যে অধিকাংশ বাণিজ্য সমুদ্রপথে পরিচালিত হয়, যা সময়সাপেক্ষ এবং ব্যয়বহুল। এই বাস্তবতায় আফগানিস্তানের ভৌগোলিক অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে সবচেয়ে সংক্ষিপ্ত ও কম ব্যয়ের স্থলপথ তৈরির চেষ্টা করছে ইরান। প্রায় দুইশ পঁচিশ কিলোমিটার দীর্ঘ খাফ–হেরাত রেলপথকে এই বৃহত্তর পরিকল্পনার প্রাথমিক অবকাঠামো হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এই উদ্যোগ আফগানিস্তানকে আবারও একটি প্রাকৃতিক সেতু হিসেবে তুলে ধরেছে, যা মধ্য এশিয়া, দক্ষিণ এশিয়া ও ইরানের মধ্যে সংযোগ স্থাপন করে। TAPI, CASA-1000 এবং ট্রান্স-আফগান রেলপথের মতো প্রকল্পগুলোর পাশাপাশি এই রেল করিডোর পরিকল্পনা আফগানিস্তানকে একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক ট্রানজিট করিডোরে পরিণত করছে।
ইউরেশিয়া রিভিউয়ের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হলে আফগানিস্তান উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক সুফল পেতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে ট্রানজিট ফি থেকে আয় বৃদ্ধি, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং চীনা বাজারে সরাসরি প্রবেশের সুযোগ।
প্রতিবেদনের উপসংহারে বলা হয়েছে, যদি এই রেল করিডোর পরিকল্পনাটি চীনের বৃহত্তর আঞ্চলিক সংযোগ উদ্যোগের সঙ্গে যুক্ত করা যায়, তবে এর বাস্তবায়নের সম্ভাবনা আরও জোরদার হবে। ইরান–আফগানিস্তান–চীন রেল করিডোর কেবল একটি পরিবহন প্রকল্প নয়; বরং এটি আঞ্চলিক সহযোগিতা, অর্থনৈতিক সংযোগ এবং স্থিতিশীলতার ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে, যেখানে আফগানিস্তান একটি কেন্দ্রীয় ভূমিকা পালন করবে।
©somewhere in net ltd.