নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

Al Firdaws

Al Firdaws

সত্যবাদিতায় আপোষহীন

Al Firdaws › বিস্তারিত পোস্টঃ

তীব্র শীত ও অবরোধে গাজায় মানবিক সংকট আরও ভয়াবহ

২৪ শে জানুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:৩১

শীতের তীব্রতা আর ঝড়ো হাওয়ার মধ্যে গাজা উপত্যকা এখন এক গভীর মানবিক বিপর্যয়ের মুখোমুখি। এরই মধ্যে নতুন করে আরেকটি শক্তিশালী ঝড় আঘাত হানার পূর্বাভাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে লক্ষ লক্ষ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনির মাঝে, যারা ছেঁড়া তাঁবু ও অস্থায়ী আশ্রয়ে খোলা আকাশের নিচে জীবনযাপন করতে বাধ্য হচ্ছেন।

দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলমান ইসরায়েলি গণহত্যামূলক যুদ্ধ গাজার প্রায় পুরো জনসংখ্যাকে নিজ ঘরবাড়ি থেকে উৎখাত করেছে, আর কঠোর শীত ও অবরোধের মধ্যে এই মানুষগুলো এখন বেঁচে থাকার ন্যূনতম নিরাপত্তাটুকুও হারাতে বসেছে।

গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর জানিয়েছে, বাস্তুচ্যুতি শিবিরে থাকা এক লক্ষ পঁয়ত্রিশ হাজার তাঁবুর মধ্যে এক লক্ষ সাতাশ হাজার তাঁবুই সাম্প্রতিক চরম আবহাওয়ার কারণে সম্পূর্ণভাবে নষ্ট হয়ে গেছে। গাজা শহর থেকে আল জাজিরার প্রতিবেদক তারেক আবু আজজুম জানান, বাস্তবতা অত্যন্ত ভয়াবহ। ছেঁড়া তাঁবু ও ছাদহীন ঘরে বসবাস করতে বাধ্য হওয়া শত শত হাজার পরিবার ঠান্ডা, বৃষ্টি ও হিমশীতল রাতের মুখোমুখি হচ্ছে।

তারেক আবু আজজুম বলেন, এই দুর্ভোগ সরাসরি ইসরায়েলি বিধিনিষেধের ফল। শীত মোকাবিলার জন্য প্রয়োজনীয় প্রিফ্যাব্রিকেটেড ঘর, নির্মাণসামগ্রী ও জরুরি মানবিক সহায়তা গাজায় প্রবেশে কঠোর বাধা দেওয়া হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গত ১০ অক্টোবর কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির আওতায় প্রতিদিন অন্তত ছয় শত ট্রাক ত্রাণ প্রবেশের কথা থাকলেও, গাজার সরকারি গণমাধ্যম দপ্তরের তথ্যমতে বাস্তবে গড়ে মাত্র একশ পঁয়তাল্লিশটি ট্রাকই গাজায় ঢুকছে, তাও যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল প্রায় প্রতিদিনই তা লঙ্ঘন করেছে।

চরম দুর্দশা লাঘবের জন্য বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা নিজেদের মতো করে টিকে থাকার চেষ্টা করছেন। ছেঁড়া তাঁবুতে প্লাস্টিকের চাদর জুড়ে দেওয়া, জ্বালানির অভাবে কাপড় পরেই রাত কাটানো এবং গরমের জন্য ঝুঁকিপূর্ণভাবে আবর্জনা জ্বালানোর মতো পদ্ধতির আশ্রয় নিতে হচ্ছে তাদের। তারেক আবু আজজুম জানান, ফিলিস্তিনের শীত স্বাভাবিকভাবেই তীব্র, এর উপর আবার দীর্ঘ বাস্তুচ্যুতি, ক্ষুধা ও ক্লান্তির ওপর এ শীত মানুষের সহনশীলতার শেষ সীমায় পৌঁছেছে।

অবিরাম বোমাবর্ষণে ক্ষতিগ্রস্ত ভবনগুলোও তীব্র শীত ও ঝড়ের কারণে ধসে পড়ছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত ডিসেম্বরের মাঝামাঝি সময় থেকে এ ধরনের দুর্ঘটনায় অন্তত পঁচিশ জনের মৃত্যু হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ মানুষরা। সরকারি গণমাধ্যম দপ্তর জানিয়েছে, ঠান্ডাজনিত কারণে মৃতের সংখ্যা বেড়ে চব্বিশে দাঁড়িয়েছে, যার মধ্যে একুশ জনই শিশু। এদের সবাই বাস্তুচ্যুতি শিবিরে বসবাসরত ফিলিস্তিনি।

গাজার বেসামরিক প্রতিরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, শীতজনিত অসুস্থতায় বিশেষ করে শিশুদের হাসপাতালে ভর্তি বাড়ছে এবং প্রচণ্ড ঠান্ডার কারণে শত শত জরুরি সহায়তার আবেদন এসেছে। এদিকে ফিলিস্তিনি আবহাওয়া অধিদপ্তর সতর্ক করেছে যে, মঙ্গলবার রাত ও বুধবার ভোরে গাজাসহ ফিলিস্তিনের বিস্তীর্ণ এলাকায় মেরু অঞ্চলের শীতল বায়ু প্রবাহের প্রভাবে তীব্র তুষার ও হিমাঙ্কের নিচে তাপমাত্রা নেমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.