নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস

Al Firdaws

Al Firdaws

সত্যবাদিতায় আপোষহীন

Al Firdaws › বিস্তারিত পোস্টঃ

নতুন বিচারিক নীতিমালা নিয়ে বিভ্রান্তির অবকাশ নেই: মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ

০২ রা ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১১:১৬

ইমারাতে ইসলামিয়া আফগানিস্তানের বিচারিক নীতিমালা সম্পর্কিত নতুন নির্দেশনা নিয়ে দেশ-বিদেশে চলমান আলোচনা ও সমালোচনার প্রেক্ষাপটে এ বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইমারাতে ইসলামিয়ার মুখপাত্র জাবিহুল্লাহ মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ। তিনি স্পষ্ট করেছেন, আলোচিত দলিলটি কোনো সংবিধান নয়; বরং এটি আদালতের এখতিয়ার ও বিচারিক কাঠামো পরিচালনার একটি নির্বাহী নীতিমালা, যা ধর্মীয় মূলনীতির আলোকে যুগোপযোগী করে হালনাগাদ করা হয়েছে।

মুজাহিদ হাফিযাহুল্লাহ জানান, পূর্ববর্তী সময় ছিল যুদ্ধকালীন বাস্তবতা নির্ভর, যেখানে বিচারিক কার্যক্রম সীমিত পরিসরে পরিচালিত হতো। বর্তমানে পুরো দেশ একক প্রশাসনের অধীনে আসায় বিচারব্যবস্থার পরিধি ও দায়িত্ব বহুগুণে বেড়েছে। এ কারণেই ধর্মীয় বিধানের ভিত্তিতে বিদ্যমান নীতিমালাকে পর্যালোচনা ও উন্নত করা হয়েছে। এতে নাগরিকদের মধ্যে বৈষম্য সৃষ্টির কোনো উদ্দেশ্য নেই।

তিনি ব্যাখ্যা করেন, ধর্মীয় আইনে বিচার ও শাস্তির বিষয়গুলো তিনটি মূল স্তরে বিভক্ত। প্রথমত, হুদুদ—আল্লাহ নির্ধারিত সীমা, যা স্পষ্ট ও নির্দিষ্ট। এখানে সবাই আইনের দৃষ্টিতে সমান। শর্ত ও প্রমাণ পূরণ হলে সবার ওপর সমানভাবে শাস্তি কার্যকর হয়।

দ্বিতীয়ত, হুকুকুল ইবাদ—মানুষের পারস্পরিক অধিকার, যেখানে একজন আরেকজনের বিরুদ্ধে দাবি করতে পারে। এখানেও কেউ কারও চেয়ে ঊর্ধ্বে নয়। এমনকি যদি আমীরুল মু’মিনীনের বিরুদ্ধেও কেউ মামলা করে, আদালত নীতিমালা অনুযায়ীই রায় দিবে।

তৃতীয়ত, তা‘জির—বিবেচনাধীনে প্রদত্ত শাস্তি। যারা বিচারিক বিষয় বোঝেন তারা জানেন, তা‘জির এমন একটি ক্ষেত্র যা আমীরুল মু’মিনীনের এখতিয়ারে ন্যস্ত, এবং তিনি তা বিচারকের কাছে অর্পণ করতে পারেন। তা‘জিরের উদ্দেশ্য কেবল শাস্তি নয়, বরং শৃঙ্খলা বজায় রাখা ও অপরাধের পুনরাবৃত্তি রোধ করা।

সমাজে কিছু মানুষ একবারের সতর্কবার্তাতেই বিরত হয়ে যায়। কারণ, তাদের মর্যাদা ও শক্ত আত্মসম্মানবোধ রয়েছে। কিন্তু কিছু মানুষ বারবার অপরাধ করতে থাকে এবং তাদের ক্ষেত্রে শারীরিক শাস্তির প্রয়োজন হয়। আবার এমন লোকও আছে, যাদের কেবল আদালতে তলব করলেই সতর্ক হয়ে যায় এবং আর সেই কাজের পুনরাবৃত্তি করে না। যাদের আত্মসম্মানবোধ আছে, তারা একবার আদালতে হাজির হলেই আর সেই অপরাধে ফিরে যায় না। এতে বোঝা যায় যে, সমাজ বৈচিত্র্যময় এবং মানুষের অবস্থা ও পরিস্থিতি অনুযায়ী আইন ভিন্নভাবে প্রয়োগ করা দরকার।

তিনি আরও বলেন, যাদের ‘নিম্নশ্রেণী’ বলা হয়, তাদের মধ্যেও যদি কেউ উপদেশ মেনে চলে ও অপরাধ থেকে বিরত থাকে, তবে তাকে আর নিম্নশ্রেণীর অন্তর্ভুক্ত করা হয় না। বরং ‘নিম্ন’ বলতে বোঝানো হয় এমন ব্যক্তিকে, যে বারবার অপরাধ করে এবং সংশোধিত হয় না।

ধর্মীয় বিশ্বাস সংক্রান্ত ধারার ব্যাখ্যায় তিনি বলেন, ভিন্ন ধর্মাবলম্বী বা ভিন্ন মাজহাব অনুসারীদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ নেই। কেবলমাত্র ধর্মীয় কাঠামোর ভেতরে থেকেও যারা বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে, তাদের ক্ষেত্রে শৃঙ্খলা রক্ষার বিধান প্রযোজ্য হয়।

নারী সংক্রান্ত সমালোচনার বিষয়ে মুখপাত্র বলেন, পরিবার সমাজের মৌলিক ভিত্তি। বৈধ বৈবাহিক সম্পর্ক বজায় থাকা অবস্থায় দায়িত্ব ও অধিকার পরিত্যাগ করলে তা সামাজিক ভারসাম্য নষ্ট করে। তবে ধর্মীয় নিয়মে সমাধানের পথ সবসময় উন্মুক্ত রয়েছে, এবং যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করলেই আইনগত জটিলতা এড়ানো সম্ভব।

সমালোচনা ও সংশোধনের প্রশ্নে তিনি বলেন, ধর্মীয় মূলনীতি নিয়ে জনসমক্ষে আপত্তি তোলার পরিবর্তে জ্ঞানার্জনের পথে অগ্রসর হওয়াই শ্রেয়। ধর্মীয় গ্রন্থ, আলেম সমাজ এবং শিক্ষার মাধ্যম উন্মুক্ত রয়েছে। ইমারাতে ইসলামিয়া কোনো নতুন বিধান সংযোজন করেনি; বরং ফিকহে হানাফীর শতাব্দীপ্রাচীন ধর্মীয় ব্যাখ্যার আলোকে বিচারব্যবস্থাকে পরিচালিত করছে।

তিনি আরও বলেন, গঠনমূলক ও জ্ঞানভিত্তিক আলোচনার জন্য ইমারাতে ইসলামিয়া সর্বদা প্রস্তুত। এই ব্যাখ্যামূলক অবস্থানই প্রমাণ করে যে জনগণকে অবহিত করা এবং ভুল বোঝাবুঝি দূর করাই আমাদের মূল উদ্দেশ্য।

মন্তব্য ০ টি রেটিং +০/-০

মন্তব্য (০) মন্তব্য লিখুন

আপনার মন্তব্য লিখুনঃ

মন্তব্য করতে লগ ইন করুন

আলোচিত ব্লগ


full version

©somewhere in net ltd.