| নির্বাচিত পোস্ট | লগইন | রেজিস্ট্রেশন করুন | রিফ্রেস |
ইমারাতে ইসলামিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের পরিসংখ্যান অনুসারে, অপারেশন রাদ্দুয-জুলম শুরু হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৪০টি সামরিক পোস্ট ও ৪টি সামরিক ঘাঁটি দখল করেছে ইমারাতে ইসলামিয়ার মুজাহিদিনগণ। প্রায় ১৫০ জন পাকিস্তানি সন্ত্রাসী সামরিক কর্মী নিহত হয়েছে, এছাড়া আরও ২০০ এরও অধিক শত্রুসেনা আহত হয়েছে।
৩ মার্চ সরকারি মিডিয়া ও তথ্যকেন্দ্রে চলমান যুদ্ধের হালনাগাদ তথ্য উপস্থাপন করেছেন ইমারাতে ইসলামিয়ার উপমুখপাত্র মৌলভী হামদুল্লাহ ফিতরাত হাফিযাহুল্লাহ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এনায়েতুল্লাহ খোয়ারেজিমি হাফিযাহুল্লাহ।
সংবাদ সম্মেলনে তাঁরা বিগত ২৪ ঘণ্টা ধরে রাদ্দুয-জুলম এর প্রতিশোধমূলক অভিযানের চিত্র তুলে ধরেছেন।
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র এনায়েতুল্লাহ খোয়ারেজিমি হাফিযাহুল্লাহ জানান, বিগত ২৪ ঘণ্টা ধরে কাল্পনিক ডুরাণ্ড লাইনের নিকটে এবং কান্দাহার, নানগারহার, কুনার, নুরিস্তান, খোস্ত, পাকতিয়া ও পাকতিকা প্রদেশে শত্রু বাহিনীর বিরুদ্ধে ব্যাপক আক্রমণাত্মক ও প্রতিশোধমূলক হামলা পরিচালনা করেছে ইমারাতে ইসলামিয়ার সেনাবাহিনী। এই সময়ে ইমারাতে ইসলামিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনীর মুজাহিদিনগণ শক্তিশালী সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছেন।
এই ২৪ ঘণ্টায় শত্রুবাহিনীর ১৩টি সামরিক আউটপোস্ট ইমারাতে ইসলামিয়ার মুজাহিদিনদের নিয়ন্ত্রণে এসেছে।
তিনি আরও যোগ করেন, প্রবল আক্রমনাত্নক হামলায় ১০টি পাকিস্তানি সামরিক চৌকি দখল করেছেন ইমারাতে ইসলামিয়ার ২০৫ তম আল-বদর কোরের মুজাহিদিনগণ। এছাড়া আরও ৩ টি সামরিক চৌকি জয় করেছেন ২০৩ তম মনসুরি কোরের মুজাহিদিনগণ।
বিগত ২৪ ঘণ্টায় দেশের নানগারহার, পারওয়ান ও লোগার প্রদেশে শত্রুবাহিনীর ৩টি ড্রোন ও ২টি সামরিক পর্যবেক্ষণ বিমান ভূপাতিত করেছে ইমারাতে ইসলামিয়ার প্রতিরক্ষা বাহিনী। এই সকল অভিযানে ৩ জন মুজাহিদ শহীদ হয়েছেন এবং আরও ৭ জন আহত হয়েছেন।
সংবাদ সম্মেলনে ইমারাতে ইসলামিয়ার উপমুখপাত্র মৌলভী হামদুল্লাহ ফিতরাত হাফিযাহুল্লাহ বলেন, গত কয়েকদিন ধরে পাকিস্তান সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানের আকাশসীমা লঙ্ঘন করেছে। তারা কাবুল, লাঘমান, নানগারহার, কুনার, খোস্ত, পাকতিকা, কান্দাহার এবং অন্যান্য প্রদেশে আগ্রাসন অব্যাহত রেখেছে।
এছাড়া বেসামরিক নাগরিকদের ঘরবাড়ি, মসজিদ, স্কুল, জনকল্যাণমূলক অবকাঠামো, শরণার্থী ক্যাম্পগুলোকে টার্গেট করে তাঁরা হামলা চালাচ্ছে।
তিনি যোগ করেন, সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী পাকিস্তানি সেনাবাহিনীর বিমান ও স্থল হামলার ফলে ৬৫ জন নারীসহ ১১০ জন বেসামরিক নাগরিক শহীদ হয়েছেন এবং আরও ১২৩ জন আহত হয়েছেন, যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর হামলায় সাধারণ মানুষের ব্যাপক আর্থিক ক্ষতি হয়েছে। শত্রু বাহিনীর হামলায় ৩৭টি আবাসিক ঘরবাড়ি সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস হয়ে গেছে এবং ৩১৬টি আবাসিক বাড়ি আংশিকভাবে ধ্বংস হয়েছে। এছাড়া ১২টি দোকান, ১৯টি মসজিদ, ১টি হাসপাতাল ও ১টি স্কুল ধ্বংস হয়েছে।
পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর নৃশংস হামলার ফলে এখন পর্যন্ত ৮৪০০ পরিবার তাদের আবাসস্থল ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছেন, তারা বর্তমানে বাস্তুচ্যুত অবস্থায় বসবাস করছেন।
©somewhere in net ltd.